পবিত্র ঈদুল ফিতরের আনন্দ যখন দুয়ারে কড়া নাড়ছে, ঠিক তখনই এক আকস্মিক রেল দুর্ঘটনায় উত্তরবঙ্গের ঘরমুখো হাজারো মানুষের ঈদযাত্রায় বিষাদের ছায়া নেমে এসেছে।
বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) বগুড়ার সান্তাহারে ঢাকাগামী নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনের ৯টি বগি লাইনচ্যুত হওয়ার ঘটনায় ঢাকা-উত্তরবঙ্গ রুটের ট্রেন চলাচলের সময়সূচিতে চরম বিপর্যয় দেখা দেয়।
ঈদ সামনে রেখে যখন রেলস্টেশনগুলোতে মানুষের উপচে পড়া ভিড়, ঠিক সেই সময়ে রেললাইনের এই ত্রুটি যাত্রীদের ভোগান্তিকে এক অসহনীয় পর্যায়ে নিয়ে ঠেকেছে।
যদিও রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ দ্রুত উদ্ধারকাজ চালিয়ে লাইন স্বাভাবিক করার দাবি করেছে, তবে সিডিউল বিপর্যয়ের রেশ কাটেনি দিনভর।
রাজধানীর কমলাপুর রেলস্টেশনে আজ দুপুর গড়াতেই দেখা যায় এক মানবেতর চিত্র। প্ল্যাটফর্মে তিল ধারণের জায়গা নেই; শত শত মানুষ তাদের পরিবার-পরিজন ও ব্যাগ নিয়ে অনিশ্চিত অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন। বিশেষ করে একতা এক্সপ্রেস ট্রেনটি সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে ছেড়ে যাওয়ার কথা থাকলেও বিকাল ৪টা গড়িয়ে ৫টা বাজলেও সেটি ছাড়ার কোনো নিশ্চয়তা মেলেনি।
স্টেশনের সিমেন্টের মেঝেতে মাহাবুব আলমের মতো অনেক যাত্রীকেই দেখা গেছে কপালে চিন্তার ভাঁজ নিয়ে বসে থাকতে। তিনি আক্ষেপ করে জানান, দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষায় কষ্ট হলেও যদি বিকাল ৫টার মধ্যে ট্রেনটি ছাড়ে, তবেই অন্তত ঈদের আগে পরিবারের মুখ দেখা সম্ভব হবে।
অনেক যাত্রী আবার দীর্ঘ অপেক্ষার ক্লান্তি সইতে না পেরে প্ল্যাটফর্মেই শুয়ে-বসে বিশ্রাম নিচ্ছেন, যেন বাড়ি ফেরার এই লড়াইয়ে তারা আজ বড়ই অসহায়।
যাত্রী আমিনের কণ্ঠেও ফুটে উঠেছে একই আর্তি; তিনি জানান, এই তপ্ত রোদে স্টেশনে বসে থাকার কষ্টকেও তারা কষ্ট বলে মানছেন না, যদি শেষ পর্যন্ত ট্রেনটি গন্তব্যে পৌঁছায়।
এদিকে রেলওয়ে সূত্র নিশ্চিত করেছে, সান্তাহারে লাইনচ্যুতির পর রেললাইন মেরামতের কাজ শেষ হয়েছে এবং ট্রেন চলাচল পুনরায় শুরু হয়েছে। তবে পেছনের ট্রেনগুলোর জট ছাড়িয়ে সময়সূচি স্বাভাবিক করতে আরও বেশ কিছুটা সময় লাগবে। ঈদযাত্রার এই মহাব্যস্ত সময়ে ভবিষ্যতে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা এড়াতে রেললাইনের কারিগরি নিরাপত্তা আরও জোরদার করার দাবি তুলেছেন ভুক্তভোগী সাধারণ যাত্রীরা।

বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৯ মার্চ ২০২৬
পবিত্র ঈদুল ফিতরের আনন্দ যখন দুয়ারে কড়া নাড়ছে, ঠিক তখনই এক আকস্মিক রেল দুর্ঘটনায় উত্তরবঙ্গের ঘরমুখো হাজারো মানুষের ঈদযাত্রায় বিষাদের ছায়া নেমে এসেছে।
বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) বগুড়ার সান্তাহারে ঢাকাগামী নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনের ৯টি বগি লাইনচ্যুত হওয়ার ঘটনায় ঢাকা-উত্তরবঙ্গ রুটের ট্রেন চলাচলের সময়সূচিতে চরম বিপর্যয় দেখা দেয়।
ঈদ সামনে রেখে যখন রেলস্টেশনগুলোতে মানুষের উপচে পড়া ভিড়, ঠিক সেই সময়ে রেললাইনের এই ত্রুটি যাত্রীদের ভোগান্তিকে এক অসহনীয় পর্যায়ে নিয়ে ঠেকেছে।
যদিও রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ দ্রুত উদ্ধারকাজ চালিয়ে লাইন স্বাভাবিক করার দাবি করেছে, তবে সিডিউল বিপর্যয়ের রেশ কাটেনি দিনভর।
রাজধানীর কমলাপুর রেলস্টেশনে আজ দুপুর গড়াতেই দেখা যায় এক মানবেতর চিত্র। প্ল্যাটফর্মে তিল ধারণের জায়গা নেই; শত শত মানুষ তাদের পরিবার-পরিজন ও ব্যাগ নিয়ে অনিশ্চিত অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন। বিশেষ করে একতা এক্সপ্রেস ট্রেনটি সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে ছেড়ে যাওয়ার কথা থাকলেও বিকাল ৪টা গড়িয়ে ৫টা বাজলেও সেটি ছাড়ার কোনো নিশ্চয়তা মেলেনি।
স্টেশনের সিমেন্টের মেঝেতে মাহাবুব আলমের মতো অনেক যাত্রীকেই দেখা গেছে কপালে চিন্তার ভাঁজ নিয়ে বসে থাকতে। তিনি আক্ষেপ করে জানান, দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষায় কষ্ট হলেও যদি বিকাল ৫টার মধ্যে ট্রেনটি ছাড়ে, তবেই অন্তত ঈদের আগে পরিবারের মুখ দেখা সম্ভব হবে।
অনেক যাত্রী আবার দীর্ঘ অপেক্ষার ক্লান্তি সইতে না পেরে প্ল্যাটফর্মেই শুয়ে-বসে বিশ্রাম নিচ্ছেন, যেন বাড়ি ফেরার এই লড়াইয়ে তারা আজ বড়ই অসহায়।
যাত্রী আমিনের কণ্ঠেও ফুটে উঠেছে একই আর্তি; তিনি জানান, এই তপ্ত রোদে স্টেশনে বসে থাকার কষ্টকেও তারা কষ্ট বলে মানছেন না, যদি শেষ পর্যন্ত ট্রেনটি গন্তব্যে পৌঁছায়।
এদিকে রেলওয়ে সূত্র নিশ্চিত করেছে, সান্তাহারে লাইনচ্যুতির পর রেললাইন মেরামতের কাজ শেষ হয়েছে এবং ট্রেন চলাচল পুনরায় শুরু হয়েছে। তবে পেছনের ট্রেনগুলোর জট ছাড়িয়ে সময়সূচি স্বাভাবিক করতে আরও বেশ কিছুটা সময় লাগবে। ঈদযাত্রার এই মহাব্যস্ত সময়ে ভবিষ্যতে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা এড়াতে রেললাইনের কারিগরি নিরাপত্তা আরও জোরদার করার দাবি তুলেছেন ভুক্তভোগী সাধারণ যাত্রীরা।

আপনার মতামত লিখুন