সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

মনজুরুলের স্ত্রীর কান্না থামল, এতিমরা পেল ভরসা


আশরাফুল ইসলাম, তারাগঞ্জ (রংপুর)
আশরাফুল ইসলাম, তারাগঞ্জ (রংপুর)
প্রকাশ : ১৯ মার্চ ২০২৬

মনজুরুলের স্ত্রীর কান্না থামল, এতিমরা পেল ভরসা
পরিবারটির পাশে সব সময় থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন এমপি আজহারুল ইসলাম। ছবি প্রতিনিধি

হঠাৎ করে স্বামীহারা এক সংসার। জীবন থেকে চলে গেলেন অভিভাবক। তিনটি এতিম সন্তান নিয়ে পথ হারানো এক মা। কোথায় যাবেন, কার কাছে যাবেন- কোনো ঠিকানাই ছিল না। কিন্তু এই অন্ধকার সময়ে হঠাৎ করেই যেন আলো ফুটল তারাগঞ্জের একটি গ্রামে।

রংপুরের তারাগঞ্জে নিহত ইলেকট্রিশিয়ান মনজুরুল ইসলামের বাড়িতে বুধবার বিকেলে এলেন এক জনপ্রতিনিধি। রংপুর-২ (তারাগঞ্জ-বদরগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির এটিএম আজহারুল ইসলাম এসে দাঁড়ালেন সেই শোকাতুর পরিবারটির পাশে।

দুদিন আগেও বাড়ি ফিরবেন বলে বেরিয়েছিলেন মনজুরুল। কিন্তু নিয়তি ফের বাড়ি ফিরিয়ে আনল না তাকে। বাবার চলে যাওয়া এখন শুধুই শূন্যতা তিন সন্তানের মনে। কিন্তু বাবার অনুপস্থিতিতে কে সামলাবে সংসারের হাল? কে দেখবে ছোট ছোট সন্তানদের লেখাপড়ার খরচ?

মনজুরুলের স্ত্রীর চোখের পানি যখন থামছিল না, তখনই এসে দাঁড়ালেন এমপি আজহারুল ইসলাম। শোকাতুর পরিবারটির পাশে বসে তিনি শোনালেন এক আবেগঘন কথা, 'আমি নিজেও একজন এতিম। তাই এতিম হওয়ার কষ্ট আমি অন্তর দিয়ে অনুভব করি। মনজুরুলের এই সন্তানদের পাশে আমার সাধ্যমতো আমি থাকব ইনশাআল্লাহ।'

শুধু কথা নয়, সঙ্গে সঙ্গে তিনি নিহতের স্ত্রীর হাতে তুলে দিলেন নগদ আর্থিক সহায়তা। শুধু তা-ই নয়, পরিবারটিকে স্বাবলম্বী করে তুলতে একটি সেলাই মেশিন দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেন। আর সবচেয়ে বড় আশ্বাস- মনজুরুলের এতিম সন্তানদের লেখাপড়ার সম্পূর্ণ দায়িত্ব তিনি নিজে নিচ্ছেন।

স্বামীকে হারানোর পর প্রথমবারের মতো যেন বেঁচে থাকার একটা পথ দেখতে পেলেন মনজুরুলের স্ত্রী। কান্নামাখা কণ্ঠে তিনি বললেন, 'স্বামীকে হারানোর পর সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছিলাম। আজ এমপি সাহেব আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন, এটাই এখন আমাদের সবচেয়ে বড় ভরসা।'

এমপির প্রতিনিধি প্রভাষক আমিনুল ইসলাম জানান, শুধু আজ নয়, এই পরিবারটির পাশে সব সময় থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন এমপি আজহারুল ইসলাম। তাঁর এই মানবিক দায়িত্ববোধ উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

একজন জনপ্রতিনিধি যখন শুধু উন্নয়নের ফাইল না ধরে শোকাতুর পরিবারের পাশে গিয়ে দাঁড়ান, তখন সেই নিছক সহযোগিতা নয়- বিশ্বাসের দেয়াল হয়ে ওঠে। তারাগঞ্জের এই পরিবারটি হয়তো সেই বিশ্বাসই খুঁজে পেয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ ২০২৬


মনজুরুলের স্ত্রীর কান্না থামল, এতিমরা পেল ভরসা

প্রকাশের তারিখ : ১৯ মার্চ ২০২৬

featured Image

হঠাৎ করে স্বামীহারা এক সংসার। জীবন থেকে চলে গেলেন অভিভাবক। তিনটি এতিম সন্তান নিয়ে পথ হারানো এক মা। কোথায় যাবেন, কার কাছে যাবেন- কোনো ঠিকানাই ছিল না। কিন্তু এই অন্ধকার সময়ে হঠাৎ করেই যেন আলো ফুটল তারাগঞ্জের একটি গ্রামে।

রংপুরের তারাগঞ্জে নিহত ইলেকট্রিশিয়ান মনজুরুল ইসলামের বাড়িতে বুধবার বিকেলে এলেন এক জনপ্রতিনিধি। রংপুর-২ (তারাগঞ্জ-বদরগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির এটিএম আজহারুল ইসলাম এসে দাঁড়ালেন সেই শোকাতুর পরিবারটির পাশে।

দুদিন আগেও বাড়ি ফিরবেন বলে বেরিয়েছিলেন মনজুরুল। কিন্তু নিয়তি ফের বাড়ি ফিরিয়ে আনল না তাকে। বাবার চলে যাওয়া এখন শুধুই শূন্যতা তিন সন্তানের মনে। কিন্তু বাবার অনুপস্থিতিতে কে সামলাবে সংসারের হাল? কে দেখবে ছোট ছোট সন্তানদের লেখাপড়ার খরচ?

মনজুরুলের স্ত্রীর চোখের পানি যখন থামছিল না, তখনই এসে দাঁড়ালেন এমপি আজহারুল ইসলাম। শোকাতুর পরিবারটির পাশে বসে তিনি শোনালেন এক আবেগঘন কথা, 'আমি নিজেও একজন এতিম। তাই এতিম হওয়ার কষ্ট আমি অন্তর দিয়ে অনুভব করি। মনজুরুলের এই সন্তানদের পাশে আমার সাধ্যমতো আমি থাকব ইনশাআল্লাহ।'

শুধু কথা নয়, সঙ্গে সঙ্গে তিনি নিহতের স্ত্রীর হাতে তুলে দিলেন নগদ আর্থিক সহায়তা। শুধু তা-ই নয়, পরিবারটিকে স্বাবলম্বী করে তুলতে একটি সেলাই মেশিন দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেন। আর সবচেয়ে বড় আশ্বাস- মনজুরুলের এতিম সন্তানদের লেখাপড়ার সম্পূর্ণ দায়িত্ব তিনি নিজে নিচ্ছেন।

স্বামীকে হারানোর পর প্রথমবারের মতো যেন বেঁচে থাকার একটা পথ দেখতে পেলেন মনজুরুলের স্ত্রী। কান্নামাখা কণ্ঠে তিনি বললেন, 'স্বামীকে হারানোর পর সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছিলাম। আজ এমপি সাহেব আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন, এটাই এখন আমাদের সবচেয়ে বড় ভরসা।'

এমপির প্রতিনিধি প্রভাষক আমিনুল ইসলাম জানান, শুধু আজ নয়, এই পরিবারটির পাশে সব সময় থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন এমপি আজহারুল ইসলাম। তাঁর এই মানবিক দায়িত্ববোধ উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

একজন জনপ্রতিনিধি যখন শুধু উন্নয়নের ফাইল না ধরে শোকাতুর পরিবারের পাশে গিয়ে দাঁড়ান, তখন সেই নিছক সহযোগিতা নয়- বিশ্বাসের দেয়াল হয়ে ওঠে। তারাগঞ্জের এই পরিবারটি হয়তো সেই বিশ্বাসই খুঁজে পেয়েছে।



সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত