পবিত্র হজের আর মাত্র মাস দুয়েক বাকি থাকতেই হজযাত্রীদের সহায়তায় বড় আকারের এক প্রশাসনিক দল গঠন করেছে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
সম্প্রতি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জারি করা এক বিশেষ আদেশে ৬৬ সদস্যের এই ‘হজ প্রশাসনিক সহায়তাকারী দল’ গঠনের চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
‘হজ ও ওমরাহ ব্যবস্থাপনা বিধিমালা, ২০২২’ (সংশোধিত) অনুযায়ী গঠিত এই দলটি সরকারি অর্থায়নে সৌদি আরব আসাযাওয়া করবেন।
সূত্রমতে, হজযাত্রীদের সেবা ও প্রশাসনিক কাজের নাম করে গঠিত এই সুবিশাল বহরে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের পাশাপাশি গাড়িচালক (ড্রাইভার), অফিস সহায়ক (পিওন), গানম্যান এবং ফটোকপি অপারেটরের মতো মাঠপর্যায়ের কর্মীদেরও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এই সহায়তাকারী দলে মন্ত্রীর দপ্তর থেকে শুরু করে ওয়াকফ প্রশাসন ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মোট ৯ জন গাড়িচালক এবং ২৫ জন অফিস সহায়ক রয়েছেন। এর বাইরে সচিব ও মন্ত্রীর দপ্তরের গানম্যান, ব্যক্তিগত কর্মকর্তা ও কম্পিউটার অপারেটরদেরও এই তালিকায় রাখা হয়েছে।
প্রতি বছরই রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করে এই বিশাল বহরকে সৌদি আরবে পাঠানো হয়, যাদের থাকা-খাওয়ার সমস্ত খরচ বহন করে সরকার। তবে এবারের এই ৬৬ সদস্যের দলের গঠন নিয়ে প্রশাসনের ভেতরে-বাইরে শুরু হয়েছে নানা গুঞ্জন। বিশেষ করে মক্কায় যেখানে বাংলাদেশ হজ অফিসের নিজস্ব পরিবহন ব্যবস্থা ও জনবল থাকে, সেখানে দেশ থেকে এত বিশাল সংখ্যক চালক ও পিয়ন পাঠানো হচ্ছে।
অতীতের অভিজ্ঞতা পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, এই ধরণের সহায়তাকারী দলের বিরুদ্ধে প্রায় প্রতি বছরই দায়িত্ব অবহেলার গুরুতর অভিযোগ ওঠে।
অভিযোগ রয়েছে যে, এই দলের অনেক সদস্যেরই হজ ব্যবস্থাপনা বিষয়ে কোনো পূর্ব অভিজ্ঞতা থাকে না এবং তারা হজযাত্রীদের সেবার চেয়ে ব্যক্তিগত কেনাকাটা বা ঘোরাঘুরিতেই বেশি ব্যস্ত থাকেন। গত কয়েক বছরে অবহেলার দায়ে বেশ কয়েকজন সদস্যের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হলেও এই ‘সরকারি সফরে’ যাওয়ার প্রবণতা কমেনি।
প্রসঙ্গত, চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ২৬ মে পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে এবং ১৮ এপ্রিল থেকে হজযাত্রীদের নিয়ে প্রথম ফ্লাইট সৌদি আরবের উদ্দেশ্যে রওনা হবে। এবার সরকারি ও বেসরকারি মিলিয়ে মোট ৭৮ হাজার ৫০০ জন বাংলাদেশি হজ পালনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন, যাদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার চ্যালেঞ্জ এখন এই ৬৬ সদস্যের দলের কাঁধে।

শুক্রবার, ২০ মার্চ ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২০ মার্চ ২০২৬
পবিত্র হজের আর মাত্র মাস দুয়েক বাকি থাকতেই হজযাত্রীদের সহায়তায় বড় আকারের এক প্রশাসনিক দল গঠন করেছে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
সম্প্রতি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জারি করা এক বিশেষ আদেশে ৬৬ সদস্যের এই ‘হজ প্রশাসনিক সহায়তাকারী দল’ গঠনের চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
‘হজ ও ওমরাহ ব্যবস্থাপনা বিধিমালা, ২০২২’ (সংশোধিত) অনুযায়ী গঠিত এই দলটি সরকারি অর্থায়নে সৌদি আরব আসাযাওয়া করবেন।
সূত্রমতে, হজযাত্রীদের সেবা ও প্রশাসনিক কাজের নাম করে গঠিত এই সুবিশাল বহরে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের পাশাপাশি গাড়িচালক (ড্রাইভার), অফিস সহায়ক (পিওন), গানম্যান এবং ফটোকপি অপারেটরের মতো মাঠপর্যায়ের কর্মীদেরও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এই সহায়তাকারী দলে মন্ত্রীর দপ্তর থেকে শুরু করে ওয়াকফ প্রশাসন ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মোট ৯ জন গাড়িচালক এবং ২৫ জন অফিস সহায়ক রয়েছেন। এর বাইরে সচিব ও মন্ত্রীর দপ্তরের গানম্যান, ব্যক্তিগত কর্মকর্তা ও কম্পিউটার অপারেটরদেরও এই তালিকায় রাখা হয়েছে।
প্রতি বছরই রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করে এই বিশাল বহরকে সৌদি আরবে পাঠানো হয়, যাদের থাকা-খাওয়ার সমস্ত খরচ বহন করে সরকার। তবে এবারের এই ৬৬ সদস্যের দলের গঠন নিয়ে প্রশাসনের ভেতরে-বাইরে শুরু হয়েছে নানা গুঞ্জন। বিশেষ করে মক্কায় যেখানে বাংলাদেশ হজ অফিসের নিজস্ব পরিবহন ব্যবস্থা ও জনবল থাকে, সেখানে দেশ থেকে এত বিশাল সংখ্যক চালক ও পিয়ন পাঠানো হচ্ছে।
অতীতের অভিজ্ঞতা পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, এই ধরণের সহায়তাকারী দলের বিরুদ্ধে প্রায় প্রতি বছরই দায়িত্ব অবহেলার গুরুতর অভিযোগ ওঠে।
অভিযোগ রয়েছে যে, এই দলের অনেক সদস্যেরই হজ ব্যবস্থাপনা বিষয়ে কোনো পূর্ব অভিজ্ঞতা থাকে না এবং তারা হজযাত্রীদের সেবার চেয়ে ব্যক্তিগত কেনাকাটা বা ঘোরাঘুরিতেই বেশি ব্যস্ত থাকেন। গত কয়েক বছরে অবহেলার দায়ে বেশ কয়েকজন সদস্যের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হলেও এই ‘সরকারি সফরে’ যাওয়ার প্রবণতা কমেনি।
প্রসঙ্গত, চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ২৬ মে পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে এবং ১৮ এপ্রিল থেকে হজযাত্রীদের নিয়ে প্রথম ফ্লাইট সৌদি আরবের উদ্দেশ্যে রওনা হবে। এবার সরকারি ও বেসরকারি মিলিয়ে মোট ৭৮ হাজার ৫০০ জন বাংলাদেশি হজ পালনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন, যাদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার চ্যালেঞ্জ এখন এই ৬৬ সদস্যের দলের কাঁধে।

আপনার মতামত লিখুন