চাঁদপুর, কুড়িগ্রাম, ফরিদপুর, পটুয়াখালী, শরীয়তপুর, বরগুনা, সাতক্ষীরা ও পিরোজপুর, ঝিনাইদহ — দেশের এই ৯ জেলার দুই শতাধিক গ্রামে হাজারো মুসল্লি শুক্রবার (১৯ মার্চ) পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপন করেছেন। সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে মিল রেখে একদিন আগেই ঈদের নামাজের জামাতে মিলিত হন তারা।
চাঁদপুরের ৪০ গ্রামে ঈদ
হাজীগঞ্জ উপজেলার সাদ্রা দরবার শরীফের ঈদগাহ ময়দানে সকাল সাড়ে ৮টায় প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়। ইমামতি করেন পীর আল্লামা জাকারিয়া চৌধুরী আল মাদানী। নামাজ শেষে দেশ ও বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর শান্তি কামনায় দোয়া করা হয়। প্রায় অর্ধলক্ষাধিক মুসল্লি এদিন ঈদের নামাজ আদায় করেন।
১৯২৮ সালে মাওলানা ইছহাক চৌধুরীর প্রচলিত এ রীতি অনুসরণ করে বর্তমানে হাজীগঞ্জ, ফরিদগঞ্জ, শাহরাস্তি ও মতলব উপজেলার ৪০টি গ্রামে আগাম ঈদ পালিত হচ্ছে।
দরবার শরীফের পীর জানান, পৃথিবীর যেকোন স্থানে চাঁদ দেখার ভিত্তিতেই শরিয়তের বিধান অনুযায়ী এ ঈদ পালন করা হচ্ছে।
হাজীগঞ্জের সাদ্রা, সমেশপুর, অলিপুর, বলাখাল, মনিহার, জাকনী, প্রতাপপুর, বাসারা; ফরিদগঞ্জের লক্ষ্মীপুর, কামতা, গল্লাক, ভুলাচোঁ, সোনাচোঁ, উভারামপুর, উটতলি, মুন্সিরহাট, কাইতাড়া, মূলপাড়া, বদরপুর, আইটপাড়া, সুরঙ্গচাইল, বালিথুবা, পাইকপাড়া, নূরপুর, সাচনমেঘ, শোল্লা, হাঁসা ও গোবিন্দপুর— এই ৪০টি গ্রামে আজ ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়।
কুড়িগ্রামের ৬ গ্রামে ঈদ
সৌদি আরবের সাথে মিল রেখে কুড়িগ্রামের পাঁচটি উপজেলার ছয়টি গ্রামের প্রায় এক হাজার মুসল্লি শুক্রবার সকালে ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করেছেন। সকাল ৯টায় ভূরুঙ্গামারী উপজেলার পাইকডাঙা ও ছিট পাইকেরছড়া, ফুলবাড়ী উপজেলার জেলে পাড়া জামে মসজিদ, চিলমারী উপজেলার ডাটিয়ারচর, রৌমারী উপজেলার গয়টাপাড়া এবং চর রাজিবপুর উপজেলার করাতি পাড়ায় এই জামাতগুলো অনুষ্ঠিত হয়।
মুসল্লিরা জানান, তারা সৌদি আরবের সাথে মিল রেখেই রোজা পালন শেষে ঈদের নামাজ আদায় করেছেন। ফুলবাড়ী উপজেলার জেলে পাড়া জামে মসজিদের ইমাম আমিনুল ইসলাম বলেন, 'দীর্ঘদিন ধরে আমরা ইমাম আবু হানিফার (রহ.) মতাদর্শ অনুসরণ করে সৌদি আরবের সাথে মিল রেখে ৩০টি রোজা শেষে ঈদের নামাজ আদায় করে আসছি।'
ফরিদপুরের ১৩ গ্রামে ঈদ
ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার ১৩টি গ্রামে শুক্রবার ঈদুল ফিতর উদযাপন হয়েছে। সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে মিল রেখে রোজা ও ঈদ উদযাপন করেন তারা। শেখর ও রুপাপাত ইউনিয়নের সহস্রাইল, দড়ি সহস্রাইল, ভুলবাড়িয়া, বারাংকুলা, বড়গাঁ, মাইটকুমড়া, গঙ্গানন্দপুর, রাখালতলী, কাটাগড়, কলিমাঝি, বন্ডপাশা, জয়দেবপুর ও দিঘীরপাড়— এই ১৩টি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ আগাম রোজা পালন শেষে আজ ঈদ উদযাপন করেন।
পটুয়াখালীর ৩৫ গ্রামে ২৫ হাজার মানুষের ঈদ
পটুয়াখালীতে আজ ৩৫টি গ্রামের ২৫ হাজার মানুষ পবিত্র ঈদুল ফিতর পালন করছে। সকাল ৯টায় পটুয়াখালী সদর উপজেলার বদরপুর দরবার শরীফে ঈদের জামায়াত অনুষ্ঠিত হয়। সৌদি আরবের সাথে সংগতি রেখে ১৯২৮ সন থেকে এখানকার গ্রামবাসীরা একদিন আগে থেকে রোজা রাখা শুরু করে।
জেলার ৩৫টি গ্রামের মধ্যে রয়েছে গলাচিপার সেনের হাওলা, পশুরী বুনিয়া, নিজ হাওলা, কানকুনি পাড়া, মৌডুবি, বাউফলের মদনপুরা, রাজনগর, বগা, ধাউরাভাঙ্গা, সুরদি, চন্দ্রপাড়া, দ্বিপাশা, শাপলা খালী, কনকদিয়া, আমিরাবাদ, কলাপাড়ার নিশান বাড়িয়া, ইটবাড়ীয়া, শহরের নাঈয়া পট্টি, টিয়াখালী, তেগাছিয়া ও দক্ষিন দেবপুর।
শরীয়তপুরে ১৫০ বছরের ঐতিহ্য
শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার সুরেশ্বর দরবার শরিফসহ জেলার ৩০টি গ্রামের ২০ হাজার মানুষ আজ ঈদ পালন করছেন। সুরেশ্বর দরবার শরিফের গদিনসীন পীর সৈয়দ বেলাল নূরী জানান, ১৯২৮ সাল থেকে তারা মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে মিল রেখে রোজা ও ঈদ পালন করছেন। আজ সকালে দরবার শরিফ মাঠে ঈদের দুটি বড় জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। সুরেশ্বর, কেদারপুর, চাকধা ও চণ্ডীপুরসহ এই ৩০টি গ্রামে এখন ঈদের আমেজ।
বরগুনায় অর্ধশত গ্রামে ঈদ
বরগুনার ছয়টি উপজেলার প্রায় অর্ধশত গ্রামের অন্তত ২০ হাজার মানুষ আজ ঈদুল ফিতর উদযাপন করছেন। সকাল সাড়ে ৮টায় বেতাগী উপজেলার মধ্য বকুলতলী গ্রামের মল্লিক বাড়ি জামে মসজিদে প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল গণী মল্লিক জানান, প্রায় ২০০ বছর আগে চট্টগ্রামের মির্জাখিল দরবার শরিফের নির্দেশে এই এলাকায় এই রীতির প্রচলন হয়। বরগুনা সদর, পাথরঘাটা, আমতলী ও তালতলী উপজেলার প্রায় ৫০টি গ্রামের মানুষ এই জামাতে অংশ নেন।
সাতক্ষীরার ২৫ গ্রামে ঈদের আনন্দ
সাতক্ষীরার সদর উপজেলাসহ কলারোয়া ও পাইকগাছার প্রায় ২৫টি গ্রামের মানুষ আজ ঈদ পালন করছেন। সদর উপজেলার কুশখালী বাউকোলা মসজিদে প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়। নামাজে ইমামতি করেন মাওলানা মহব্বত আলী। মুসল্লিদের দাবি, বিশ্বজুড়ে চাঁদ একটাই, তাই বৈশ্বিক হিসাব অনুযায়ী একই দিনে ঈদ পালন করা যুক্তিযুক্ত। গত এক যুগ ধরে তারা এই নিয়ম অনুসরণ করছেন।
পিরোজপুরে ১০ গ্রামের ৮০০ পরিবারের ঈদ
পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া, কাউখালী ও নাজিরপুর উপজেলার ১০টি গ্রামের প্রায় ৮ শতাধিক পরিবার ঈদুল ফিতর উদযাপন করছে। মঠবাড়িয়ার ভাইজোড়া খন্দকার বাড়ি ও কাউখালীর শিয়ালকাঠী মোল্লাবাড়ি জামে মসজিদে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুরেশ্বর পীরের অনুসারী এসব পরিবার গত দেড়শ বছর ধরে এই রীতি পালন করে আসছে।
ঝিনাইদহে ২১তম বারের মতো আগাম ঈদের জামাত
মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে মিল রেখে ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডুতে ২১তম বারের মতো ঈদুল ফিতরের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার সকাল সাড়ে ৮টায় উপজেলা মোড় সংলগ্ন দুলদুলের চাতালে এ জামাত হয়। ইমামতি করেন স্থানীয় মাদ্রাসার ছাত্র হাবিবুল্লাহ।
এতে হরিণাকুণ্ডু ও ঝিনাইদহ সদর উপজেলার চোরকোল, শ্যামনগর, দখলপুর, নারায়ণকান্দি, বৈঠাপাড়া, চটকাবাড়ীয়া, পায়রাডাঙ্গাসহ চার উপজেলার শতাধিক মুসল্লি অংশ নেন। এ ছাড়া ভালকী ও নিত্যানন্দপুর স্কুল মাঠেও পৃথক দুটি জামাত হয়।
নামাজে অংশ নেওয়া মেহেদী হাসান জানান, ২০১৩ সাল থেকে তিনি সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে এখানে ঈদের নামাজ পড়ছেন। ইমাম হাবিবউল্লাহ বলেন, গত ২৩ বছর ধরে এ রীতি চলছে। এখন উপজেলার তিনটি স্থানে জামাত হওয়ায় মুসল্লিরা বিভক্ত হলেও ধর্মীয় অনুভূতি অটুট রয়েছে।
আয়োজক কমিটির সভাপতি বজলুর রহমান বলেন, বিশ্বের অধিকাংশ মুসলিম দেশের সঙ্গে মিল রেখে ধর্মীয় ঐক্যের খাতিরেই তারা এ ঈদ পালন করেন। নামাজ শেষে বিশ্বশান্তি কামনায় মোনাজাত করা হয়।

শুক্রবার, ২০ মার্চ ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২০ মার্চ ২০২৬
চাঁদপুর, কুড়িগ্রাম, ফরিদপুর, পটুয়াখালী, শরীয়তপুর, বরগুনা, সাতক্ষীরা ও পিরোজপুর, ঝিনাইদহ — দেশের এই ৯ জেলার দুই শতাধিক গ্রামে হাজারো মুসল্লি শুক্রবার (১৯ মার্চ) পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপন করেছেন। সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে মিল রেখে একদিন আগেই ঈদের নামাজের জামাতে মিলিত হন তারা।
চাঁদপুরের ৪০ গ্রামে ঈদ
হাজীগঞ্জ উপজেলার সাদ্রা দরবার শরীফের ঈদগাহ ময়দানে সকাল সাড়ে ৮টায় প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়। ইমামতি করেন পীর আল্লামা জাকারিয়া চৌধুরী আল মাদানী। নামাজ শেষে দেশ ও বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর শান্তি কামনায় দোয়া করা হয়। প্রায় অর্ধলক্ষাধিক মুসল্লি এদিন ঈদের নামাজ আদায় করেন।
১৯২৮ সালে মাওলানা ইছহাক চৌধুরীর প্রচলিত এ রীতি অনুসরণ করে বর্তমানে হাজীগঞ্জ, ফরিদগঞ্জ, শাহরাস্তি ও মতলব উপজেলার ৪০টি গ্রামে আগাম ঈদ পালিত হচ্ছে।
দরবার শরীফের পীর জানান, পৃথিবীর যেকোন স্থানে চাঁদ দেখার ভিত্তিতেই শরিয়তের বিধান অনুযায়ী এ ঈদ পালন করা হচ্ছে।
হাজীগঞ্জের সাদ্রা, সমেশপুর, অলিপুর, বলাখাল, মনিহার, জাকনী, প্রতাপপুর, বাসারা; ফরিদগঞ্জের লক্ষ্মীপুর, কামতা, গল্লাক, ভুলাচোঁ, সোনাচোঁ, উভারামপুর, উটতলি, মুন্সিরহাট, কাইতাড়া, মূলপাড়া, বদরপুর, আইটপাড়া, সুরঙ্গচাইল, বালিথুবা, পাইকপাড়া, নূরপুর, সাচনমেঘ, শোল্লা, হাঁসা ও গোবিন্দপুর— এই ৪০টি গ্রামে আজ ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়।
কুড়িগ্রামের ৬ গ্রামে ঈদ
সৌদি আরবের সাথে মিল রেখে কুড়িগ্রামের পাঁচটি উপজেলার ছয়টি গ্রামের প্রায় এক হাজার মুসল্লি শুক্রবার সকালে ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করেছেন। সকাল ৯টায় ভূরুঙ্গামারী উপজেলার পাইকডাঙা ও ছিট পাইকেরছড়া, ফুলবাড়ী উপজেলার জেলে পাড়া জামে মসজিদ, চিলমারী উপজেলার ডাটিয়ারচর, রৌমারী উপজেলার গয়টাপাড়া এবং চর রাজিবপুর উপজেলার করাতি পাড়ায় এই জামাতগুলো অনুষ্ঠিত হয়।
মুসল্লিরা জানান, তারা সৌদি আরবের সাথে মিল রেখেই রোজা পালন শেষে ঈদের নামাজ আদায় করেছেন। ফুলবাড়ী উপজেলার জেলে পাড়া জামে মসজিদের ইমাম আমিনুল ইসলাম বলেন, 'দীর্ঘদিন ধরে আমরা ইমাম আবু হানিফার (রহ.) মতাদর্শ অনুসরণ করে সৌদি আরবের সাথে মিল রেখে ৩০টি রোজা শেষে ঈদের নামাজ আদায় করে আসছি।'
ফরিদপুরের ১৩ গ্রামে ঈদ
ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার ১৩টি গ্রামে শুক্রবার ঈদুল ফিতর উদযাপন হয়েছে। সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে মিল রেখে রোজা ও ঈদ উদযাপন করেন তারা। শেখর ও রুপাপাত ইউনিয়নের সহস্রাইল, দড়ি সহস্রাইল, ভুলবাড়িয়া, বারাংকুলা, বড়গাঁ, মাইটকুমড়া, গঙ্গানন্দপুর, রাখালতলী, কাটাগড়, কলিমাঝি, বন্ডপাশা, জয়দেবপুর ও দিঘীরপাড়— এই ১৩টি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ আগাম রোজা পালন শেষে আজ ঈদ উদযাপন করেন।
পটুয়াখালীর ৩৫ গ্রামে ২৫ হাজার মানুষের ঈদ
পটুয়াখালীতে আজ ৩৫টি গ্রামের ২৫ হাজার মানুষ পবিত্র ঈদুল ফিতর পালন করছে। সকাল ৯টায় পটুয়াখালী সদর উপজেলার বদরপুর দরবার শরীফে ঈদের জামায়াত অনুষ্ঠিত হয়। সৌদি আরবের সাথে সংগতি রেখে ১৯২৮ সন থেকে এখানকার গ্রামবাসীরা একদিন আগে থেকে রোজা রাখা শুরু করে।
জেলার ৩৫টি গ্রামের মধ্যে রয়েছে গলাচিপার সেনের হাওলা, পশুরী বুনিয়া, নিজ হাওলা, কানকুনি পাড়া, মৌডুবি, বাউফলের মদনপুরা, রাজনগর, বগা, ধাউরাভাঙ্গা, সুরদি, চন্দ্রপাড়া, দ্বিপাশা, শাপলা খালী, কনকদিয়া, আমিরাবাদ, কলাপাড়ার নিশান বাড়িয়া, ইটবাড়ীয়া, শহরের নাঈয়া পট্টি, টিয়াখালী, তেগাছিয়া ও দক্ষিন দেবপুর।
শরীয়তপুরে ১৫০ বছরের ঐতিহ্য
শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার সুরেশ্বর দরবার শরিফসহ জেলার ৩০টি গ্রামের ২০ হাজার মানুষ আজ ঈদ পালন করছেন। সুরেশ্বর দরবার শরিফের গদিনসীন পীর সৈয়দ বেলাল নূরী জানান, ১৯২৮ সাল থেকে তারা মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে মিল রেখে রোজা ও ঈদ পালন করছেন। আজ সকালে দরবার শরিফ মাঠে ঈদের দুটি বড় জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। সুরেশ্বর, কেদারপুর, চাকধা ও চণ্ডীপুরসহ এই ৩০টি গ্রামে এখন ঈদের আমেজ।
বরগুনায় অর্ধশত গ্রামে ঈদ
বরগুনার ছয়টি উপজেলার প্রায় অর্ধশত গ্রামের অন্তত ২০ হাজার মানুষ আজ ঈদুল ফিতর উদযাপন করছেন। সকাল সাড়ে ৮টায় বেতাগী উপজেলার মধ্য বকুলতলী গ্রামের মল্লিক বাড়ি জামে মসজিদে প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল গণী মল্লিক জানান, প্রায় ২০০ বছর আগে চট্টগ্রামের মির্জাখিল দরবার শরিফের নির্দেশে এই এলাকায় এই রীতির প্রচলন হয়। বরগুনা সদর, পাথরঘাটা, আমতলী ও তালতলী উপজেলার প্রায় ৫০টি গ্রামের মানুষ এই জামাতে অংশ নেন।
সাতক্ষীরার ২৫ গ্রামে ঈদের আনন্দ
সাতক্ষীরার সদর উপজেলাসহ কলারোয়া ও পাইকগাছার প্রায় ২৫টি গ্রামের মানুষ আজ ঈদ পালন করছেন। সদর উপজেলার কুশখালী বাউকোলা মসজিদে প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়। নামাজে ইমামতি করেন মাওলানা মহব্বত আলী। মুসল্লিদের দাবি, বিশ্বজুড়ে চাঁদ একটাই, তাই বৈশ্বিক হিসাব অনুযায়ী একই দিনে ঈদ পালন করা যুক্তিযুক্ত। গত এক যুগ ধরে তারা এই নিয়ম অনুসরণ করছেন।
পিরোজপুরে ১০ গ্রামের ৮০০ পরিবারের ঈদ
পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া, কাউখালী ও নাজিরপুর উপজেলার ১০টি গ্রামের প্রায় ৮ শতাধিক পরিবার ঈদুল ফিতর উদযাপন করছে। মঠবাড়িয়ার ভাইজোড়া খন্দকার বাড়ি ও কাউখালীর শিয়ালকাঠী মোল্লাবাড়ি জামে মসজিদে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুরেশ্বর পীরের অনুসারী এসব পরিবার গত দেড়শ বছর ধরে এই রীতি পালন করে আসছে।
ঝিনাইদহে ২১তম বারের মতো আগাম ঈদের জামাত
মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে মিল রেখে ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডুতে ২১তম বারের মতো ঈদুল ফিতরের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার সকাল সাড়ে ৮টায় উপজেলা মোড় সংলগ্ন দুলদুলের চাতালে এ জামাত হয়। ইমামতি করেন স্থানীয় মাদ্রাসার ছাত্র হাবিবুল্লাহ।
এতে হরিণাকুণ্ডু ও ঝিনাইদহ সদর উপজেলার চোরকোল, শ্যামনগর, দখলপুর, নারায়ণকান্দি, বৈঠাপাড়া, চটকাবাড়ীয়া, পায়রাডাঙ্গাসহ চার উপজেলার শতাধিক মুসল্লি অংশ নেন। এ ছাড়া ভালকী ও নিত্যানন্দপুর স্কুল মাঠেও পৃথক দুটি জামাত হয়।
নামাজে অংশ নেওয়া মেহেদী হাসান জানান, ২০১৩ সাল থেকে তিনি সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে এখানে ঈদের নামাজ পড়ছেন। ইমাম হাবিবউল্লাহ বলেন, গত ২৩ বছর ধরে এ রীতি চলছে। এখন উপজেলার তিনটি স্থানে জামাত হওয়ায় মুসল্লিরা বিভক্ত হলেও ধর্মীয় অনুভূতি অটুট রয়েছে।
আয়োজক কমিটির সভাপতি বজলুর রহমান বলেন, বিশ্বের অধিকাংশ মুসলিম দেশের সঙ্গে মিল রেখে ধর্মীয় ঐক্যের খাতিরেই তারা এ ঈদ পালন করেন। নামাজ শেষে বিশ্বশান্তি কামনায় মোনাজাত করা হয়।

আপনার মতামত লিখুন