সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

যাত্রীশূন্য গাবতলী-কল্যাণপুর ফাঁকা সিটেই ছাড়ছে বাস


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ : ২০ মার্চ ২০২৬

যাত্রীশূন্য গাবতলী-কল্যাণপুর ফাঁকা সিটেই ছাড়ছে বাস
গাবতলী ও কল্যাণপুর টার্মিনালের অনেক কাউন্টারের সামনে শ্রমিকরা হাঁকডাক দিলেও যাত্রীর সাড়া মিলছে না

ঈদের আগের দিন গাবতলী ও কল্যাণপুর বাস টার্মিনালে নেই যাত্রীর ভিড়। উল্টো যাত্রী খরায় অনেকটা বিপাকে পড়েছে বাস কাউন্টারগুলো। ঈদযাত্রার প্রথম তিন দিনের চাপ শেষে শুক্রবার (২০ মার্চ) অনেক কাউন্টারের ঝাঁপ নামিয়ে দেওয়া হয়েছে। আর যেসব কাউন্টার খোলা আছে, সেখানেও হাতেগোনা কিছু যাত্রীর জন্য বসে সময় কাটাচ্ছেন পরিবহন কর্মীরা।

শুক্রবার দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত গাবতলী ও কল্যাণপুর টার্মিনালের অনেক কাউন্টারের সামনে শ্রমিকরা হাঁকডাক দিলেও যাত্রীর সাড়া মিলছে না। কেউ কেউ অলস সময় কাটাচ্ছেন। কেউ আবার আশপাশে দাঁড়িয়ে খোশগল্পে মেতে উঠেছেন। যাত্রীদের অভাবে ফাঁকা সিট নিয়েই ছেড়ে যেতে হচ্ছে বাস।

উত্তরবঙ্গের পাবনা, দিনাজপুর, গাইবান্ধা, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়গামী শ্যামলী পরিবহনের কাউন্টারের কর্মকর্তা বলেন, ‘যাত্রী নাই তাই বসে আছি। চাপ ছিল ১৭, ১৮, ১৯ তারিখ। এখন গাড়িও কম, যাত্রীও নাই। কেবল টানের গাড়ি আছে।' বগুড়ায় ট্রেন দুর্ঘটনার কারণে বাড়তি চাপ হয়েছিল কি না- জানতে চাইলে তিনি বলেন, 'ওই তিন দিন এমনিতেই চাপ ছিল। একসঙ্গে গার্মেন্ট ছুটি হইছে। সরকারি ছুটি। সব মিলিয়ে তিন দিন চাপ ছিল।'

কল্যাণপুরের হানিফ এন্টারপ্রাইজের কাউন্টারের এক কর্মকর্তা জানান, 'সকাল থেকেই যাত্রীর চাপ নেই। যাত্রীরা আগেই চলে গেছে। আসলে ২৯ রোজা হলে আজ ঈদ হওয়ার কথা। সেই হিসাবে মানুষ আগেই চলে গেছে। আমাদের ৪০ সিটের বাস, আমরা আজ সর্বনিম্ন ৩০ জন যাত্রী পেলেই বাস ছেড়ে দিচ্ছি। কারণ যাত্রীই পাওয়া যাচ্ছে না।'

অরিন ট্রাভেলসের কাউন্টারের কর্মকর্তা বলেন, '৩০ রোজা হওয়ার কারণে আজ যাত্রী কম। সাধারণত ৩০ রোজার দিন যাত্রীচাপ কমই থাকে। তারওপর এবার লম্বা ছুটি, মানুষ আগেই চলে গেছে।'

গাবতলীতে সোহাগ পরিবহনের কাউন্টারের কর্মকর্তা বলেন, ‘যাত্রীর চাপ একদমই নেই। সকাল থেকে সিডিউলের কয়েকটা গাড়ি সিট ফাঁকা নিয়ে কাউন্টার ছেড়ে গেছে। সারাদিনে আরও পাঁচটা গাড়ি ঢাকা ছেড়ে যাবে। অনেক গাড়ি টার্মিনালে বসে আছে, কিন্তু যাত্রী নেই।'

আরও কয়েকটি পরিবহনের কর্মকর্তারা বলেন, 'কাউন্টারে কোনো যাত্রী নেই, দেখাই যাচ্ছে। একদমই যাত্রী নেই। সকাল থেকে কোনো গাড়িই ছাড়তে পারিনি। এবারের ঈদে গাবতলীতে কোনো যাত্রীর চাপ নেই। বিশেষ করে পদ্মা সেতু হওয়ার পর থেকে এই রুটে কোনো যাত্রীর চাপ নেই।'

গাবতলী বাস টার্মিনালের কথা উঠলেই উঠে আসে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের যাত্রীদের পুরোনো দিনের কথা। পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া ঘাট পেরিয়ে যাতায়াতের স্বাচ্ছন্দ্যের কারণে এক সময় এই টার্মিনালে ছিল যাত্রীর ভিড়। তবে পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর থেকে সেই চিত্র বদলে গেছে। দক্ষিণাঞ্চলের যাত্রীরা এখন সরাসরি মাওয়া হয়ে যাতায়াত করছেন। ফলে গাবতলীতে চাপ আগের মতো নেই।

সাভারের একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করেন রাসেল শেখ। স্ত্রীকে নিয়ে বরিশালের বাড়ি যাওয়ার জন্য গাবতলীতে অপেক্ষা করছিলেন তিনি। তিন দিন আগে ছুটি পেলেও ভিড় কমার অপেক্ষায় ছিলেন। এখন যাত্রী কম দেখে ঈদের আগের দিন বাড়ি ফিরছেন। তিনি বলেন, '১০ দিনের ছুটি পাইছি তো। তাই একটু লেট করে যাচ্ছি। বৃষ্টির দিনে বিপদ। ঝড়ঝাপটা থাকে। আমরা নদীর মানুষ। এ বিপদ আমরা ছাড়া কেউ বুঝবে না। বাসেই ভালো। তাছাড়া নবীনগর থেকে মাওয়া হয়ে যেতে গেলে ভোর সাড়ে ৪টায় বাস। ওই সময় তো মুশকিল। তাই এখান দিয়ে যাচ্ছি।'

পাবনা যাওয়ার টিকিট কাটতে গিয়ে দাম নিয়ে কিছুটা অসন্তোষ দেখা গেছে একটি সিকিউরিটি কোম্পানির কর্মীর। তিনি ট্রেনে যাতায়াত করলেও এবার টিকিট পাননি। বাস কাউন্টারে গিয়ে ভাড়া শুনে দ্বিধায় পড়েন।'সাড়ে ৯০০ টাকা বলল। আমি ভালো বাস চাই। তাদের নাকি সিট নেই,' বলেন তিনি।

অন্যদিকে রাজবাড়ী-কুষ্টিয়া রুটের এক পরিবহনে কর্মকর্তা জানান, 'যাত্রীরা সৌখিন। একটা গেঞ্জি লাগলেও ঢাকায় আসে তারা। তাই এই রুটে সবসময়ই একটু চাপ থাকে। ঘাট পার হলেই রাজবাড়ী। দুই ঘণ্টা লাগে মাত্র।'তার কথায়, 'এই রুটে আরও চার-পাঁচটি বাস রয়েছে। ভরলেই ছেড়ে দিচ্ছি। যাত্রী বেশি থাকলে পাঁচ-সাতটাও ছাড়া যাবে।'

কাউন্টারে কোনো লোকজন নেই। ছবি: সংগৃহীত

এক যাত্রী জানান, 'কালুখালি পর্যন্ত ৫০০ টাকা, এমনিতে সাড়ে ৪০০। এখন ৫০০ করে নিচ্ছে।'

লম্বা ছুটি আর আগেভাগে বাড়ি ফেরার প্রবণতায় এবারের ঈদযাত্রার শেষ দিনটি যেন মোটেও যাত্রীচাপের দিন ছিল না। টার্মিনালগুলোতে যাত্রীর দেখা না পেয়ে ফাঁকা সিট নিয়েই ছেড়ে গেছে বাস।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

শুক্রবার, ২০ মার্চ ২০২৬


যাত্রীশূন্য গাবতলী-কল্যাণপুর ফাঁকা সিটেই ছাড়ছে বাস

প্রকাশের তারিখ : ২০ মার্চ ২০২৬

featured Image

ঈদের আগের দিন গাবতলী ও কল্যাণপুর বাস টার্মিনালে নেই যাত্রীর ভিড়। উল্টো যাত্রী খরায় অনেকটা বিপাকে পড়েছে বাস কাউন্টারগুলো। ঈদযাত্রার প্রথম তিন দিনের চাপ শেষে শুক্রবার (২০ মার্চ) অনেক কাউন্টারের ঝাঁপ নামিয়ে দেওয়া হয়েছে। আর যেসব কাউন্টার খোলা আছে, সেখানেও হাতেগোনা কিছু যাত্রীর জন্য বসে সময় কাটাচ্ছেন পরিবহন কর্মীরা।

শুক্রবার দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত গাবতলী ও কল্যাণপুর টার্মিনালের অনেক কাউন্টারের সামনে শ্রমিকরা হাঁকডাক দিলেও যাত্রীর সাড়া মিলছে না। কেউ কেউ অলস সময় কাটাচ্ছেন। কেউ আবার আশপাশে দাঁড়িয়ে খোশগল্পে মেতে উঠেছেন। যাত্রীদের অভাবে ফাঁকা সিট নিয়েই ছেড়ে যেতে হচ্ছে বাস।

উত্তরবঙ্গের পাবনা, দিনাজপুর, গাইবান্ধা, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়গামী শ্যামলী পরিবহনের কাউন্টারের কর্মকর্তা বলেন, ‘যাত্রী নাই তাই বসে আছি। চাপ ছিল ১৭, ১৮, ১৯ তারিখ। এখন গাড়িও কম, যাত্রীও নাই। কেবল টানের গাড়ি আছে।' বগুড়ায় ট্রেন দুর্ঘটনার কারণে বাড়তি চাপ হয়েছিল কি না- জানতে চাইলে তিনি বলেন, 'ওই তিন দিন এমনিতেই চাপ ছিল। একসঙ্গে গার্মেন্ট ছুটি হইছে। সরকারি ছুটি। সব মিলিয়ে তিন দিন চাপ ছিল।'

কল্যাণপুরের হানিফ এন্টারপ্রাইজের কাউন্টারের এক কর্মকর্তা জানান, 'সকাল থেকেই যাত্রীর চাপ নেই। যাত্রীরা আগেই চলে গেছে। আসলে ২৯ রোজা হলে আজ ঈদ হওয়ার কথা। সেই হিসাবে মানুষ আগেই চলে গেছে। আমাদের ৪০ সিটের বাস, আমরা আজ সর্বনিম্ন ৩০ জন যাত্রী পেলেই বাস ছেড়ে দিচ্ছি। কারণ যাত্রীই পাওয়া যাচ্ছে না।'

অরিন ট্রাভেলসের কাউন্টারের কর্মকর্তা বলেন, '৩০ রোজা হওয়ার কারণে আজ যাত্রী কম। সাধারণত ৩০ রোজার দিন যাত্রীচাপ কমই থাকে। তারওপর এবার লম্বা ছুটি, মানুষ আগেই চলে গেছে।'

গাবতলীতে সোহাগ পরিবহনের কাউন্টারের কর্মকর্তা বলেন, ‘যাত্রীর চাপ একদমই নেই। সকাল থেকে সিডিউলের কয়েকটা গাড়ি সিট ফাঁকা নিয়ে কাউন্টার ছেড়ে গেছে। সারাদিনে আরও পাঁচটা গাড়ি ঢাকা ছেড়ে যাবে। অনেক গাড়ি টার্মিনালে বসে আছে, কিন্তু যাত্রী নেই।'

আরও কয়েকটি পরিবহনের কর্মকর্তারা বলেন, 'কাউন্টারে কোনো যাত্রী নেই, দেখাই যাচ্ছে। একদমই যাত্রী নেই। সকাল থেকে কোনো গাড়িই ছাড়তে পারিনি। এবারের ঈদে গাবতলীতে কোনো যাত্রীর চাপ নেই। বিশেষ করে পদ্মা সেতু হওয়ার পর থেকে এই রুটে কোনো যাত্রীর চাপ নেই।'

গাবতলী বাস টার্মিনালের কথা উঠলেই উঠে আসে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের যাত্রীদের পুরোনো দিনের কথা। পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া ঘাট পেরিয়ে যাতায়াতের স্বাচ্ছন্দ্যের কারণে এক সময় এই টার্মিনালে ছিল যাত্রীর ভিড়। তবে পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর থেকে সেই চিত্র বদলে গেছে। দক্ষিণাঞ্চলের যাত্রীরা এখন সরাসরি মাওয়া হয়ে যাতায়াত করছেন। ফলে গাবতলীতে চাপ আগের মতো নেই।

সাভারের একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করেন রাসেল শেখ। স্ত্রীকে নিয়ে বরিশালের বাড়ি যাওয়ার জন্য গাবতলীতে অপেক্ষা করছিলেন তিনি। তিন দিন আগে ছুটি পেলেও ভিড় কমার অপেক্ষায় ছিলেন। এখন যাত্রী কম দেখে ঈদের আগের দিন বাড়ি ফিরছেন। তিনি বলেন, '১০ দিনের ছুটি পাইছি তো। তাই একটু লেট করে যাচ্ছি। বৃষ্টির দিনে বিপদ। ঝড়ঝাপটা থাকে। আমরা নদীর মানুষ। এ বিপদ আমরা ছাড়া কেউ বুঝবে না। বাসেই ভালো। তাছাড়া নবীনগর থেকে মাওয়া হয়ে যেতে গেলে ভোর সাড়ে ৪টায় বাস। ওই সময় তো মুশকিল। তাই এখান দিয়ে যাচ্ছি।'

পাবনা যাওয়ার টিকিট কাটতে গিয়ে দাম নিয়ে কিছুটা অসন্তোষ দেখা গেছে একটি সিকিউরিটি কোম্পানির কর্মীর। তিনি ট্রেনে যাতায়াত করলেও এবার টিকিট পাননি। বাস কাউন্টারে গিয়ে ভাড়া শুনে দ্বিধায় পড়েন।'সাড়ে ৯০০ টাকা বলল। আমি ভালো বাস চাই। তাদের নাকি সিট নেই,' বলেন তিনি।

অন্যদিকে রাজবাড়ী-কুষ্টিয়া রুটের এক পরিবহনে কর্মকর্তা জানান, 'যাত্রীরা সৌখিন। একটা গেঞ্জি লাগলেও ঢাকায় আসে তারা। তাই এই রুটে সবসময়ই একটু চাপ থাকে। ঘাট পার হলেই রাজবাড়ী। দুই ঘণ্টা লাগে মাত্র।'তার কথায়, 'এই রুটে আরও চার-পাঁচটি বাস রয়েছে। ভরলেই ছেড়ে দিচ্ছি। যাত্রী বেশি থাকলে পাঁচ-সাতটাও ছাড়া যাবে।'

কাউন্টারে কোনো লোকজন নেই। ছবি: সংগৃহীত

এক যাত্রী জানান, 'কালুখালি পর্যন্ত ৫০০ টাকা, এমনিতে সাড়ে ৪০০। এখন ৫০০ করে নিচ্ছে।'

লম্বা ছুটি আর আগেভাগে বাড়ি ফেরার প্রবণতায় এবারের ঈদযাত্রার শেষ দিনটি যেন মোটেও যাত্রীচাপের দিন ছিল না। টার্মিনালগুলোতে যাত্রীর দেখা না পেয়ে ফাঁকা সিট নিয়েই ছেড়ে গেছে বাস।


সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত