সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

মোশারফের লাশ পেয়ে কান্নার রোল, পরে দাফন


প্রতিনিধি, সখীপুর (টাঙ্গাইল)
প্রতিনিধি, সখীপুর (টাঙ্গাইল)
প্রকাশ : ২০ মার্চ ২০২৬

মোশারফের লাশ পেয়ে কান্নার রোল, পরে দাফন

সৌদি আরবে ইরানের মিসাইল হামলায় নিহত টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার প্রবাসী মোশারফ হোসেনের (৩৮) মরদেহ ১২ দিন পর শুক্রবার (২০ মার্চ) দেশে পৌঁছেছে। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ঢাকার হযরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাঁর মরদেহ এসে পৌঁছে। 

আনুষ্ঠানিকতা শেষে বেলা দেড়টার দিকে অ্যাম্বুলেন্সে করে মরদেহ নিজ বাড়ি সখীপুর উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়নের কীর্তনখোলা মধ্যপাড়া গ্রামে নেওয়া হয়।

মরদেহ বাড়িতে পৌঁছালে সেখানে হৃদয়বিদারক দৃশ্যের সৃষ্টি হয়। স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ। বিকেল চারটার দিকে কফিন খোলা হলে পরিবারের সদস্য ও স্বজনেরা শেষবারের মতো তাঁর মুখ দেখেন। মরদেহ দগ্ধ হওয়ায় মুখমণ্ডল সাদা টেপ দিয়ে মোড়ানো ছিল। এ সময় স্ত্রী, মা ও বোন বার বার জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন।

মোশারফের লাশ রাখা হয়েছে তার গ্রামে। ছবি: প্রতিনিধি

পরে বিকেল পাঁচটার দিকে কীর্তনখোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়।

মোশারফ হোসেন উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা। তাঁর বাবার নাম মো. সুজাত আলী। তিনি জীবিকার সন্ধানে প্রায় আট বছর আগে সৌদি আরব যান। সর্বশেষ দুই বছর আগে দেশে এসেছিলেন।

উল্লেখ্য, গত ৮ মার্চ বাংলাদেশ সময় রাত নয়টার দিকে সৌদি আরবের আল-খার্জ গভর্নরেটের একটি আবাসিক কম্পাউন্ডে মিসাইল হামলার ঘটনা ঘটে। ইফতারের সময় ওই হামলায় মোশারফ হোসেন নিহত হন। 

মোশারফের বাবা সুজাত আলী বলেন, “আমার ছেলেকে তো আর জীবিত ফিরে পাব না। তবে শেষবারের মতো তাকে নিজের মাটিতে কবর দিতে পেরেছি।”

গজারিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন বলেন, বিশেষ ফ্লাইটে মরদেহ দেশে আনার পর অ্যাম্বুলেন্সে করে তা সখীপুরে পৌঁছানো হয় এবং আসরের নামাজের পর জানাজা শেষে দাফন করা হয়।

সখীপুর উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সিকদার মো. সবুর রেজা বলেন, নিহতের মরদেহ গ্রহণে তাঁরা ঢাকায় যান। তিনি বলেন, নিহত মোশারফের দুই ছেলের লেখাপড়ার দায়িত্ব টাঙ্গাইল-৮ (সখীপুর-বাসাইল) আসনের সংসদ সদস্য ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান নিয়েছেন। এছাড়া মন্ত্রী মহোদয়ও লাশ গ্রহনের সময় বিমানবন্দর উপস্থিত ছিলেন। 

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল্লাহ আল রনী বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে দাফনের জন্য আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও পরিবারটির পাশে থাকার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

শনিবার, ২১ মার্চ ২০২৬


মোশারফের লাশ পেয়ে কান্নার রোল, পরে দাফন

প্রকাশের তারিখ : ২০ মার্চ ২০২৬

featured Image

সৌদি আরবে ইরানের মিসাইল হামলায় নিহত টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার প্রবাসী মোশারফ হোসেনের (৩৮) মরদেহ ১২ দিন পর শুক্রবার (২০ মার্চ) দেশে পৌঁছেছে। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ঢাকার হযরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাঁর মরদেহ এসে পৌঁছে। 

আনুষ্ঠানিকতা শেষে বেলা দেড়টার দিকে অ্যাম্বুলেন্সে করে মরদেহ নিজ বাড়ি সখীপুর উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়নের কীর্তনখোলা মধ্যপাড়া গ্রামে নেওয়া হয়।

মরদেহ বাড়িতে পৌঁছালে সেখানে হৃদয়বিদারক দৃশ্যের সৃষ্টি হয়। স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ। বিকেল চারটার দিকে কফিন খোলা হলে পরিবারের সদস্য ও স্বজনেরা শেষবারের মতো তাঁর মুখ দেখেন। মরদেহ দগ্ধ হওয়ায় মুখমণ্ডল সাদা টেপ দিয়ে মোড়ানো ছিল। এ সময় স্ত্রী, মা ও বোন বার বার জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন।

মোশারফের লাশ রাখা হয়েছে তার গ্রামে। ছবি: প্রতিনিধি

পরে বিকেল পাঁচটার দিকে কীর্তনখোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়।

মোশারফ হোসেন উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা। তাঁর বাবার নাম মো. সুজাত আলী। তিনি জীবিকার সন্ধানে প্রায় আট বছর আগে সৌদি আরব যান। সর্বশেষ দুই বছর আগে দেশে এসেছিলেন।

উল্লেখ্য, গত ৮ মার্চ বাংলাদেশ সময় রাত নয়টার দিকে সৌদি আরবের আল-খার্জ গভর্নরেটের একটি আবাসিক কম্পাউন্ডে মিসাইল হামলার ঘটনা ঘটে। ইফতারের সময় ওই হামলায় মোশারফ হোসেন নিহত হন। 

মোশারফের বাবা সুজাত আলী বলেন, “আমার ছেলেকে তো আর জীবিত ফিরে পাব না। তবে শেষবারের মতো তাকে নিজের মাটিতে কবর দিতে পেরেছি।”

গজারিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন বলেন, বিশেষ ফ্লাইটে মরদেহ দেশে আনার পর অ্যাম্বুলেন্সে করে তা সখীপুরে পৌঁছানো হয় এবং আসরের নামাজের পর জানাজা শেষে দাফন করা হয়।

সখীপুর উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সিকদার মো. সবুর রেজা বলেন, নিহতের মরদেহ গ্রহণে তাঁরা ঢাকায় যান। তিনি বলেন, নিহত মোশারফের দুই ছেলের লেখাপড়ার দায়িত্ব টাঙ্গাইল-৮ (সখীপুর-বাসাইল) আসনের সংসদ সদস্য ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান নিয়েছেন। এছাড়া মন্ত্রী মহোদয়ও লাশ গ্রহনের সময় বিমানবন্দর উপস্থিত ছিলেন। 

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল্লাহ আল রনী বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে দাফনের জন্য আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও পরিবারটির পাশে থাকার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।


সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত