সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

শেখ রেজওয়ানের পদত্যাগে এনসিপিতে তোলপাড়


লিয়াকত আলী বাদল, রংপুর
লিয়াকত আলী বাদল, রংপুর
প্রকাশ : ২০ মার্চ ২০২৬

শেখ রেজওয়ানের পদত্যাগে এনসিপিতে তোলপাড়
রংপুর জেলা যুগ্ম সদস্য সচিব শেখ রেজওয়ান

বহুল আলোচিত জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) রংপুর জেলা যুগ্ম সদস্য সচিব শেখ রেজওয়ান পদত্যাগ করেছেন। দলের অভ্যন্তরীণ গ্রুপিং, নেতৃত্বে জুলাই আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত নয় এমন ব্যক্তি আসা ও জেলা কমিটির শীর্ষ পদে জটিলতার কারণ দেখিয়ে শুক্রবার (২০ মার্চ) সকালে ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি সব পদ ও দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন।

তার পদত্যাগের ঘোষণা ভাইরাল হলে দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে তোলপাড় শুরু হয়। এ ঘটনার পর দলের আরও কয়েকজন নেতা ঈদের পর পদত্যাগ করতে পারেন বলে গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে।

পদত্যাগের কারণ জানতে চাইলে শেখ রেজওয়ান সাংবাদিকদের বলেন, ‘জাতীয় নাগরিক পার্টির রংপুর জেলা ও মহানগর কমিটির নেতৃত্বে এমন ব্যক্তিদের দায়িত্বে আনা হয়েছে, যারা জুলাই আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন না। শুধু তাই নয়, যারা জাতীয় পার্টি ও আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিল, তাদের নেতৃত্বে নেওয়া হয়েছে।’

শেখ রেজওয়ান অভিযোগ করেন, ‘জুলাই আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া দল জাতীয় নাগরিক পার্টিতে যারা বিপ্লবের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিল না, তাদের মাধ্যমে নেতৃত্ব দেওয়া সম্ভব না।’

জেলা কমিটির সদস্যসচিব পদ নিয়েও জটিলতার কথা জানান তিনি। সদস্যসচিব এরশাদ হোসেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে কর্মরত থাকায় তাকে পদ থেকে সরানো হয়। নিয়ম অনুযায়ী সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব মনিরুজ্জামান মনির ওই পদে আসার কথা থাকলেও তিনি রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ান।

শেখ রেজওয়ান দাবি করেন, জেলা কমিটির ১ নম্বর যুগ্ম সদস্যসচিব হয়েও তাকে গ্রুপিংয়ের কারণে দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে না। দীর্ঘদিন ধরে পদটি শূন্য রেখে দল পরিচালনা করা হচ্ছে। দলের যুগ্ম মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সাদিয়া ফারজানা দিনা ও আসাদুল্লাহ আল গালিবের সঙ্গে তাঁর দ্বন্দ্বের কারণেও তাঁকে নেতৃত্ব থেকে সরানোর চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

জেলা কমিটির আহ্বায়ক আল মামুনের বিরুদ্ধেও অভিযোগ তোলেন শেখ রেজওয়ান। তিনি বলেন, ‘দলের মধ্যে গ্রুপিং ও বিভাজন চরম আকার ধারণ করেছে। রংপুরে এনসিপির মধ্যে দলীয় শৃঙ্খলা নেই। বিভিন্ন দলের লোক দলে ঢুকে পড়ায় সংকট তৈরি হয়েছে।’

উল্লেখ্য, গত বছরের ২ ডিসেম্বর জাতীয় পার্টির ছাত্র সংগঠন জাতীয় ছাত্র সমাজের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি আল মামুনকে সভাপতি ও এরশাদ হোসেনকে সদস্যসচিব করে রংপুর জেলা আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়। পরে ‘প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এনসিপির সদস্যসচিব’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশের পর এরশাদ হোসেনকে ওই পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে মিঠাপুকুর থানার এক কর্মকর্তাকে মোবাইল ফোনে শাসিয়ে আলোচনায় আসেন শেখ রেজওয়ান। গত অক্টোবরে তাঁর পাঁচ মিনিট ৪৩ সেকেন্ডের কথোপকথনের একটি অডিও রেকর্ড সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়। 

ওই রেকর্ডে পুলিশ কর্মকর্তাকে শাসিয়ে তিনি নিজেকে জামায়াতে ইসলামীর সহযোগী সংগঠন ডিপ্লোমা প্রকৌশলী সমিতির রংপুর জেলার সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দাবি করেন। যদিও জামায়াতের পক্ষ থেকে শেখ রেজওয়ান নামে কোনো নেতাকর্মী বা সংগঠক মিঠাপুকুরে নেই বলেও জানানো হয়েছিল।

এদিকে, এনসিপির রংপুর জেলা ও মহানগর কমিটির শীর্ষ পদ নিয়ে দলীয় গ্রুপিং চরম আকার ধারণ করেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুই নেতা জানান, রংপুরে এনসিপির কোনো অফিস নেই। দলীয় কর্মকাণ্ড চলছে নেতাদের মুখে মুখে।

তবে এ ব্যাপারে এনসিপির জেলা ও মহানগরের কোনো নেতা কথা বলতে রাজি হননি।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

শনিবার, ২১ মার্চ ২০২৬


শেখ রেজওয়ানের পদত্যাগে এনসিপিতে তোলপাড়

প্রকাশের তারিখ : ২০ মার্চ ২০২৬

featured Image

বহুল আলোচিত জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) রংপুর জেলা যুগ্ম সদস্য সচিব শেখ রেজওয়ান পদত্যাগ করেছেন। দলের অভ্যন্তরীণ গ্রুপিং, নেতৃত্বে জুলাই আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত নয় এমন ব্যক্তি আসা ও জেলা কমিটির শীর্ষ পদে জটিলতার কারণ দেখিয়ে শুক্রবার (২০ মার্চ) সকালে ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি সব পদ ও দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন।

তার পদত্যাগের ঘোষণা ভাইরাল হলে দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে তোলপাড় শুরু হয়। এ ঘটনার পর দলের আরও কয়েকজন নেতা ঈদের পর পদত্যাগ করতে পারেন বলে গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে।

পদত্যাগের কারণ জানতে চাইলে শেখ রেজওয়ান সাংবাদিকদের বলেন, ‘জাতীয় নাগরিক পার্টির রংপুর জেলা ও মহানগর কমিটির নেতৃত্বে এমন ব্যক্তিদের দায়িত্বে আনা হয়েছে, যারা জুলাই আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন না। শুধু তাই নয়, যারা জাতীয় পার্টি ও আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিল, তাদের নেতৃত্বে নেওয়া হয়েছে।’

শেখ রেজওয়ান অভিযোগ করেন, ‘জুলাই আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া দল জাতীয় নাগরিক পার্টিতে যারা বিপ্লবের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিল না, তাদের মাধ্যমে নেতৃত্ব দেওয়া সম্ভব না।’

জেলা কমিটির সদস্যসচিব পদ নিয়েও জটিলতার কথা জানান তিনি। সদস্যসচিব এরশাদ হোসেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে কর্মরত থাকায় তাকে পদ থেকে সরানো হয়। নিয়ম অনুযায়ী সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব মনিরুজ্জামান মনির ওই পদে আসার কথা থাকলেও তিনি রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ান।

শেখ রেজওয়ান দাবি করেন, জেলা কমিটির ১ নম্বর যুগ্ম সদস্যসচিব হয়েও তাকে গ্রুপিংয়ের কারণে দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে না। দীর্ঘদিন ধরে পদটি শূন্য রেখে দল পরিচালনা করা হচ্ছে। দলের যুগ্ম মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সাদিয়া ফারজানা দিনা ও আসাদুল্লাহ আল গালিবের সঙ্গে তাঁর দ্বন্দ্বের কারণেও তাঁকে নেতৃত্ব থেকে সরানোর চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

জেলা কমিটির আহ্বায়ক আল মামুনের বিরুদ্ধেও অভিযোগ তোলেন শেখ রেজওয়ান। তিনি বলেন, ‘দলের মধ্যে গ্রুপিং ও বিভাজন চরম আকার ধারণ করেছে। রংপুরে এনসিপির মধ্যে দলীয় শৃঙ্খলা নেই। বিভিন্ন দলের লোক দলে ঢুকে পড়ায় সংকট তৈরি হয়েছে।’

উল্লেখ্য, গত বছরের ২ ডিসেম্বর জাতীয় পার্টির ছাত্র সংগঠন জাতীয় ছাত্র সমাজের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি আল মামুনকে সভাপতি ও এরশাদ হোসেনকে সদস্যসচিব করে রংপুর জেলা আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়। পরে ‘প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এনসিপির সদস্যসচিব’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশের পর এরশাদ হোসেনকে ওই পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে মিঠাপুকুর থানার এক কর্মকর্তাকে মোবাইল ফোনে শাসিয়ে আলোচনায় আসেন শেখ রেজওয়ান। গত অক্টোবরে তাঁর পাঁচ মিনিট ৪৩ সেকেন্ডের কথোপকথনের একটি অডিও রেকর্ড সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়। 

ওই রেকর্ডে পুলিশ কর্মকর্তাকে শাসিয়ে তিনি নিজেকে জামায়াতে ইসলামীর সহযোগী সংগঠন ডিপ্লোমা প্রকৌশলী সমিতির রংপুর জেলার সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দাবি করেন। যদিও জামায়াতের পক্ষ থেকে শেখ রেজওয়ান নামে কোনো নেতাকর্মী বা সংগঠক মিঠাপুকুরে নেই বলেও জানানো হয়েছিল।

এদিকে, এনসিপির রংপুর জেলা ও মহানগর কমিটির শীর্ষ পদ নিয়ে দলীয় গ্রুপিং চরম আকার ধারণ করেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুই নেতা জানান, রংপুরে এনসিপির কোনো অফিস নেই। দলীয় কর্মকাণ্ড চলছে নেতাদের মুখে মুখে।

তবে এ ব্যাপারে এনসিপির জেলা ও মহানগরের কোনো নেতা কথা বলতে রাজি হননি।


সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত