সারা দেশে যথাযোগ্য ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে উদযাপিত হয়েছে পবিত্র ঈদুল ফিতর। তবে বৈরী আবহাওয়ায় অনেক জায়গায় মুসল্লিরা বিপাকে পড়েন। কোথাও রাতভর বৃষ্টিতে কর্দমাক্ত হয়ে পড়ে ঈদগাহ মাঠ। উত্তরের বিভাগীয় নগরী রংপুরসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় খোলা মাঠের পরিবর্তে মসজিদে জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। অন্যদিকে পার্বত্য জেলা বান্দরবান থেকে শুরু করে ঐতিহ্যবাহী হরগজের ঈদগাহ মাঠেও উৎসবমুখর পরিবেশে নামাজ আদায় করেছেন ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা। প্রতিনিধিদের পাঠানো প্রতিবেদন।
রংপুরে মডেল মসজিদে জামাত
বিভাগীয় নগরী রংপুরে শুক্রবার রাতভর বৃষ্টি হওয়ায় ঈদগাহ মাঠ কর্দমাক্ত হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় রংপুর মডেল মসজিদে সকাল সাড়ে ৮টায় পবিত্র ঈদুল ফিতরের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়। জামাতে অংশ নেন রংপুর সদর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহবুবার রহমান বেলাল, রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজুন্নবী ডন, জেলা প্রশাসক এনামুল আহসানসহ প্রশাসন ও রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ। নামাজ শেষে দেশের সুখ-সমৃদ্ধি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি কামনায় মোনাজাত করা হয়। এছাড়া রংপুর মহানগরীর আড়াইশ’র অধিক ঈদগাহের পরিবর্তে মসজিদে জামাত অনুষ্ঠিত হয়।
ফরিদপুরে ছাতা-রেইনকোটে মুসল্লিরা
ফরিদপুরেও বৈরী আবহাওয়া উপেক্ষা করে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। জেলার প্রধান জামাত হয় সকাল ৮টায় শহরের চানমারি ঈদগা ময়দানে। জেলা প্রশাসক মো. কামরুল হাসান মোল্লা উপস্থিত থেকে সবাইকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, ‘আজকের আনন্দের দিনে আমার আহ্বান থাকবে, সকলে মিলে দেশের জন্য কাজ করব, দেশকে সমৃদ্ধশালী করার কাজে ভূমিকা রাখব।"
ফরিদপুরে ছাতা-রেইনকোটে মুসল্লিরা
গাজীপুরে রাজবাড়ি মাঠে প্রধান জামাত
গাজীপুরে ঈদুল ফিতরের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয় সকাল ৮টায় শহরের রাজবাড়ি মাঠ ঈদগাহ ময়দানে। জামাতে ইমামতি করেন মুফতি কামরুল ইসলাম নোমানী। এতে অংশ নেন গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. শওকত হোসেন সরকার, জেলা প্রশাসক মো. নুরুল করিম ভূঁইয়া, বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন স্তরের মানুষ।
মৌলভীবাজারে লক্ষাধিক মুসল্লির সমাগম
মৌলভীবাজার জেলার সর্ববৃহৎ ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে জেলা শহরের শাহ মোস্তফা (র.) মাজার সংলগ্ন পৌর ঈদগাহে। সকাল সাড়ে ৬টায় অনুষ্ঠিত প্রথম জামাতে প্রায় এক লক্ষাধিক মুসল্লি অংশ নেন। প্রায় অর্ধলক্ষ মুসল্লির ধারণক্ষমতার ঈদগাহ পূর্ণ হয়ে পাশের শাহ মোস্তফা সড়কের বহুদূর পর্যন্ত জায়নামাজ বিছিয়ে নামাজ আদায় করেন। পরে সকাল সাড়ে ৭টায় দ্বিতীয় ও সাড়ে ৮টায় তৃতীয় জামাত অনুষ্ঠিত হয়। জামাতে উপস্থিত থেকে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন মৌলভীবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য এম নাছের রহমান, জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেল ও জেলা পরিষদের প্রশাসক মিজানুর রহমান মিজান।
বান্দরবানে কেন্দ্রীয় ঈদগাহে দুই জামাত
পার্বত্য জেলা বান্দরবানেও যথাযোগ্য ধর্মীয় মর্যাদা ও উৎসবমুখর পরিবেশে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে সকাল সাড়ে ৭টায় প্রথম এবং সাড়ে ৮টায় দ্বিতীয় জামাত অনুষ্ঠিত হয়। জামাতে ইমামতি করেন বান্দরবান কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের পেশ ইমাম মুহাম্মদ মুজিবুল হক।
সকাল থেকেই শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা দলে দলে ঈদগাহ মাঠে সমবেত হন। নামাজ শেষে মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি ও দেশ-জাতির কল্যাণ কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়। জামাত শেষে একে অপরের সাথে কোলাকুলি ও শুভেচ্ছা বিনিময়ের মধ্য দিয়ে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করেন মুসল্লিরা। পুরো এলাকায় বিরাজ করে আনন্দঘন পরিবেশ। ঈদগাহ মাঠে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে নেওয়া হয় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
মানিকগঞ্জে হরগজের বৃহৎ জামাত
মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার ঐতিহ্যবাহী হরগজ ঈদগাহ মাঠে প্রতি বছরের ন্যায় এবারও জেলার অন্যতম বৃহৎ ও সুশৃঙ্খল ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। সকাল ৮টায় ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও ত্যাগের মহিমায় উদ্ভাসিত হয়ে এই জামাতে অংশ নিতে হরগজ ইউনিয়নসহ পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন গ্রাম ও উপজেলার হাজার হাজার মুসল্লি সমবেত হন। সকাল থেকেই সাদা পায়জামা-পাঞ্জাবি ও টুপি পরিহিত মুসল্লিদের স্রোত লক্ষ্য করা যায় হরগজ ঈদগাহ অভিমুখে। নির্ধারিত সময়ের আগেই বিশাল এই মাঠ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। শুধু স্থানীয় বাসিন্দারাই নন, এই ঐতিহ্যবাহী জামাতের অংশ হতে দূর-দূরান্ত থেকেও অনেক ধর্মপ্রাণ মানুষ এখানে উপস্থিত হন।
ঈদের বিশেষ খুতবায় ইমাম মাওলানা আব্দুল ওহাব ইসলামের সাম্য, ভ্রাতৃত্ব এবং ত্যাগের গুরুত্ব তুলে ধরেন। দেশের শান্তি, সমৃদ্ধি এবং মুসলিম উম্মাহর ঐক্য কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়। এছাড়া স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ের অগ্রগতি এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে মুক্তির জন্য মহান আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করা হয়।
বিশাল এই জনসমাগম সামাল দিতে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে ছিল নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা। নামাজ শেষে পরিচিত-অপরিচিত নির্বিশেষে সবাই একে অপরের সাথে কোলাকুলিতে মেতে ওঠেন। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণও সাধারণ মানুষের সাথে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। আগত মুসল্লিরা জানান, পূর্বপুরুষের সময় থেকেই হরগজের এই বড় জামাতে নামাজ পড়া তাদের একটি পারিবারিক ঐতিহ্যে পরিণত হয়েছে।
সারা দেশে ঈদগাহ ও মসজিদগুলোতে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা আল্লাহর কাছে দেশ ও জাতির কল্যাণ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনায় মোনাজাত করেন। বৈরী আবহাওয়াও যেন ঈদের আনন্দে ভাটা টানতে পারেনি। বরং, বৃষ্টি উপেক্ষা করে মুসল্লিদের নামাজ পড়ার মানসিকতা উৎসবের অন্য এক মাত্রা যোগ করেছে। পার্বত্য জেলা থেকে শুরু করে ঐতিহ্যবাহী ঈদগাহগুলোতে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের উপস্থিতি প্রমাণ করেছে, ঈদের আনন্দে মিশে যায় সব ভেদাভেদ।

শনিবার, ২১ মার্চ ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২১ মার্চ ২০২৬
সারা দেশে যথাযোগ্য ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে উদযাপিত হয়েছে পবিত্র ঈদুল ফিতর। তবে বৈরী আবহাওয়ায় অনেক জায়গায় মুসল্লিরা বিপাকে পড়েন। কোথাও রাতভর বৃষ্টিতে কর্দমাক্ত হয়ে পড়ে ঈদগাহ মাঠ। উত্তরের বিভাগীয় নগরী রংপুরসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় খোলা মাঠের পরিবর্তে মসজিদে জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। অন্যদিকে পার্বত্য জেলা বান্দরবান থেকে শুরু করে ঐতিহ্যবাহী হরগজের ঈদগাহ মাঠেও উৎসবমুখর পরিবেশে নামাজ আদায় করেছেন ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা। প্রতিনিধিদের পাঠানো প্রতিবেদন।
রংপুরে মডেল মসজিদে জামাত
বিভাগীয় নগরী রংপুরে শুক্রবার রাতভর বৃষ্টি হওয়ায় ঈদগাহ মাঠ কর্দমাক্ত হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় রংপুর মডেল মসজিদে সকাল সাড়ে ৮টায় পবিত্র ঈদুল ফিতরের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়। জামাতে অংশ নেন রংপুর সদর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহবুবার রহমান বেলাল, রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজুন্নবী ডন, জেলা প্রশাসক এনামুল আহসানসহ প্রশাসন ও রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ। নামাজ শেষে দেশের সুখ-সমৃদ্ধি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি কামনায় মোনাজাত করা হয়। এছাড়া রংপুর মহানগরীর আড়াইশ’র অধিক ঈদগাহের পরিবর্তে মসজিদে জামাত অনুষ্ঠিত হয়।
ফরিদপুরে ছাতা-রেইনকোটে মুসল্লিরা
ফরিদপুরেও বৈরী আবহাওয়া উপেক্ষা করে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। জেলার প্রধান জামাত হয় সকাল ৮টায় শহরের চানমারি ঈদগা ময়দানে। জেলা প্রশাসক মো. কামরুল হাসান মোল্লা উপস্থিত থেকে সবাইকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, ‘আজকের আনন্দের দিনে আমার আহ্বান থাকবে, সকলে মিলে দেশের জন্য কাজ করব, দেশকে সমৃদ্ধশালী করার কাজে ভূমিকা রাখব।"
ফরিদপুরে ছাতা-রেইনকোটে মুসল্লিরা
গাজীপুরে রাজবাড়ি মাঠে প্রধান জামাত
গাজীপুরে ঈদুল ফিতরের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয় সকাল ৮টায় শহরের রাজবাড়ি মাঠ ঈদগাহ ময়দানে। জামাতে ইমামতি করেন মুফতি কামরুল ইসলাম নোমানী। এতে অংশ নেন গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. শওকত হোসেন সরকার, জেলা প্রশাসক মো. নুরুল করিম ভূঁইয়া, বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন স্তরের মানুষ।
মৌলভীবাজারে লক্ষাধিক মুসল্লির সমাগম
মৌলভীবাজার জেলার সর্ববৃহৎ ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে জেলা শহরের শাহ মোস্তফা (র.) মাজার সংলগ্ন পৌর ঈদগাহে। সকাল সাড়ে ৬টায় অনুষ্ঠিত প্রথম জামাতে প্রায় এক লক্ষাধিক মুসল্লি অংশ নেন। প্রায় অর্ধলক্ষ মুসল্লির ধারণক্ষমতার ঈদগাহ পূর্ণ হয়ে পাশের শাহ মোস্তফা সড়কের বহুদূর পর্যন্ত জায়নামাজ বিছিয়ে নামাজ আদায় করেন। পরে সকাল সাড়ে ৭টায় দ্বিতীয় ও সাড়ে ৮টায় তৃতীয় জামাত অনুষ্ঠিত হয়। জামাতে উপস্থিত থেকে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন মৌলভীবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য এম নাছের রহমান, জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেল ও জেলা পরিষদের প্রশাসক মিজানুর রহমান মিজান।
বান্দরবানে কেন্দ্রীয় ঈদগাহে দুই জামাত
পার্বত্য জেলা বান্দরবানেও যথাযোগ্য ধর্মীয় মর্যাদা ও উৎসবমুখর পরিবেশে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে সকাল সাড়ে ৭টায় প্রথম এবং সাড়ে ৮টায় দ্বিতীয় জামাত অনুষ্ঠিত হয়। জামাতে ইমামতি করেন বান্দরবান কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের পেশ ইমাম মুহাম্মদ মুজিবুল হক।
সকাল থেকেই শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা দলে দলে ঈদগাহ মাঠে সমবেত হন। নামাজ শেষে মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি ও দেশ-জাতির কল্যাণ কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়। জামাত শেষে একে অপরের সাথে কোলাকুলি ও শুভেচ্ছা বিনিময়ের মধ্য দিয়ে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করেন মুসল্লিরা। পুরো এলাকায় বিরাজ করে আনন্দঘন পরিবেশ। ঈদগাহ মাঠে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে নেওয়া হয় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
মানিকগঞ্জে হরগজের বৃহৎ জামাত
মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার ঐতিহ্যবাহী হরগজ ঈদগাহ মাঠে প্রতি বছরের ন্যায় এবারও জেলার অন্যতম বৃহৎ ও সুশৃঙ্খল ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। সকাল ৮টায় ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও ত্যাগের মহিমায় উদ্ভাসিত হয়ে এই জামাতে অংশ নিতে হরগজ ইউনিয়নসহ পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন গ্রাম ও উপজেলার হাজার হাজার মুসল্লি সমবেত হন। সকাল থেকেই সাদা পায়জামা-পাঞ্জাবি ও টুপি পরিহিত মুসল্লিদের স্রোত লক্ষ্য করা যায় হরগজ ঈদগাহ অভিমুখে। নির্ধারিত সময়ের আগেই বিশাল এই মাঠ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। শুধু স্থানীয় বাসিন্দারাই নন, এই ঐতিহ্যবাহী জামাতের অংশ হতে দূর-দূরান্ত থেকেও অনেক ধর্মপ্রাণ মানুষ এখানে উপস্থিত হন।
ঈদের বিশেষ খুতবায় ইমাম মাওলানা আব্দুল ওহাব ইসলামের সাম্য, ভ্রাতৃত্ব এবং ত্যাগের গুরুত্ব তুলে ধরেন। দেশের শান্তি, সমৃদ্ধি এবং মুসলিম উম্মাহর ঐক্য কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়। এছাড়া স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ের অগ্রগতি এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে মুক্তির জন্য মহান আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করা হয়।
বিশাল এই জনসমাগম সামাল দিতে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে ছিল নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা। নামাজ শেষে পরিচিত-অপরিচিত নির্বিশেষে সবাই একে অপরের সাথে কোলাকুলিতে মেতে ওঠেন। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণও সাধারণ মানুষের সাথে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। আগত মুসল্লিরা জানান, পূর্বপুরুষের সময় থেকেই হরগজের এই বড় জামাতে নামাজ পড়া তাদের একটি পারিবারিক ঐতিহ্যে পরিণত হয়েছে।
সারা দেশে ঈদগাহ ও মসজিদগুলোতে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা আল্লাহর কাছে দেশ ও জাতির কল্যাণ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনায় মোনাজাত করেন। বৈরী আবহাওয়াও যেন ঈদের আনন্দে ভাটা টানতে পারেনি। বরং, বৃষ্টি উপেক্ষা করে মুসল্লিদের নামাজ পড়ার মানসিকতা উৎসবের অন্য এক মাত্রা যোগ করেছে। পার্বত্য জেলা থেকে শুরু করে ঐতিহ্যবাহী ঈদগাহগুলোতে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের উপস্থিতি প্রমাণ করেছে, ঈদের আনন্দে মিশে যায় সব ভেদাভেদ।

আপনার মতামত লিখুন