সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

ফুল দিয়ে স্বজন বরণ

রংপুরে ১২০০ বন্দির অন্যরকম ঈদ


লিয়াকত আলী বাদল, রংপুর
লিয়াকত আলী বাদল, রংপুর
প্রকাশ : ২১ মার্চ ২০২৬

রংপুরে ১২০০ বন্দির অন্যরকম ঈদ
কারাগারের চার দেয়াল যেন ঈদের আনন্দে রঙিন হয়ে উঠল।

রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে এ যেন এক অন্যরকম ঈদ। পায়েশ-মুড়ি দিয়ে শুরু, দুপুরে পোলাও-মুরগির রোস্ট, গরু-খাসির মাংস আর মিষ্টি। সঙ্গে কোল্ড ড্রিংকস আর পান-সুপারিও ছিল। শুধু খাবার নয়, স্বজনরা দেখতে এলে ফুল দিয়ে বরণ, সরবত আর বসার ব্যবস্থা। আর এ আয়োজনে ভীষণ খুশি কারাবন্দি ও তাদের স্বজনরা।

শনিবার (২১ মার্চ) সকাল সাড়ে ৮টায় কারাগারের অভ্যন্তরে ১২০০-র বেশি বন্দি নিয়ে অনুষ্ঠিত হয় ঈদের জামাত। নামাজ শেষে কোলাকুলি ও কুশল বিনিময় করেন তারা। অনেক বন্দিকে দেখা যায় নতুন পাঞ্জাবি-পায়জামা পরে জামাতে শরীক হতে।

স্বজনদের জন্য ছিল বিশেষ আয়োজন। কারাগারের প্রবেশপথে সামিয়ানা টাঙিয়ে বসার জন্য চেয়ারের ব্যবস্থা করা হয়। সিনিয়র জেল সুপার একেএম কামরুল হুদা নিজে ফুল দিয়ে স্বজনদের বরণ করে নেন ও সরবত পান করান।

নীলফামারী থেকে আসা আফরোজা ইসলাম বলছিলেন, “স্বামী সামসুলকে দেখতে মেয়ে রাইতাকে নিয়ে এসেছি। কারাগার কর্তৃপক্ষের আচরণ সত্যিই মুগ্ধ করার মতো।”

কারাগারের ভেতরে একসঙ্গে নামাজ আদায়। ছবি: প্রতিনিধি

পীরগঞ্জ থেকে রহিমা বেগম এসেছেন ১৩ মাস ধরে আটক থাকা একমাত্র ছেলেকে দেখতে। তিনি জানান, “ছেলের জন্য বিরিয়ানি রান্না করে এনেছিলাম। কিন্তু ছেলে বলল, এবার খুব ভালো খাবার দিয়েছে কারাগার থেকে।” কারাবন্দির স্বজন মোস্তফার ভাষ্য, “ভাতিজা দেড় বছর ধরে আটক। আগেও এসেছি, এবার ভিন্ন প্রেক্ষাপট দেখলাম। ফুল, সরবত, বসার ব্যবস্থা- সত্যিই ভালো আচরণ করেছে কর্তৃপক্ষ।”

কারাগার সূত্রে জানা গেছে, দুই শতজনের বেশি রাজনৈতিক বন্দিও আনন্দঘন পরিবেশে ঈদ উদযাপন করেছেন। ঈদের পরের দিন স্বজনরা বাড়িতে তৈরি পছন্দের খাবার দিতে পারবেন। বাড়তি সুযোগ হিসেবে মোবাইল ফোনে পাঁচ মিনিট অতিরিক্ত কথা বলার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

স্বজনদের ফুল দিয়ে বরণ করা হয়। ছবি: প্রতিনিধি

রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারের ভারপ্রাপ্ত জেলার সাখাওয়াত হোসেন জানান, কারা মহাপরিদর্শকের নির্দেশে এ বিশেষ আয়োজন করা হয়েছে। 

সিনিয়র জেল সুপার একেএম কামরুল হুদা বলেন, “সব বন্দি একসঙ্গে নামাজ আদায়, কুশল বিনিময়, উন্নতমানের খাবার ও স্বজনদের সম্মানের সঙ্গে গ্রহণ- সব মিলিয়ে ছিল নানামুখি আয়োজন।”

কারাগারের চার দেয়াল যেন ঈদের আনন্দে রঙিন হয়ে উঠল।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

শনিবার, ২১ মার্চ ২০২৬


রংপুরে ১২০০ বন্দির অন্যরকম ঈদ

প্রকাশের তারিখ : ২১ মার্চ ২০২৬

featured Image

রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে এ যেন এক অন্যরকম ঈদ। পায়েশ-মুড়ি দিয়ে শুরু, দুপুরে পোলাও-মুরগির রোস্ট, গরু-খাসির মাংস আর মিষ্টি। সঙ্গে কোল্ড ড্রিংকস আর পান-সুপারিও ছিল। শুধু খাবার নয়, স্বজনরা দেখতে এলে ফুল দিয়ে বরণ, সরবত আর বসার ব্যবস্থা। আর এ আয়োজনে ভীষণ খুশি কারাবন্দি ও তাদের স্বজনরা।

শনিবার (২১ মার্চ) সকাল সাড়ে ৮টায় কারাগারের অভ্যন্তরে ১২০০-র বেশি বন্দি নিয়ে অনুষ্ঠিত হয় ঈদের জামাত। নামাজ শেষে কোলাকুলি ও কুশল বিনিময় করেন তারা। অনেক বন্দিকে দেখা যায় নতুন পাঞ্জাবি-পায়জামা পরে জামাতে শরীক হতে।

স্বজনদের জন্য ছিল বিশেষ আয়োজন। কারাগারের প্রবেশপথে সামিয়ানা টাঙিয়ে বসার জন্য চেয়ারের ব্যবস্থা করা হয়। সিনিয়র জেল সুপার একেএম কামরুল হুদা নিজে ফুল দিয়ে স্বজনদের বরণ করে নেন ও সরবত পান করান।

নীলফামারী থেকে আসা আফরোজা ইসলাম বলছিলেন, “স্বামী সামসুলকে দেখতে মেয়ে রাইতাকে নিয়ে এসেছি। কারাগার কর্তৃপক্ষের আচরণ সত্যিই মুগ্ধ করার মতো।”

কারাগারের ভেতরে একসঙ্গে নামাজ আদায়। ছবি: প্রতিনিধি

পীরগঞ্জ থেকে রহিমা বেগম এসেছেন ১৩ মাস ধরে আটক থাকা একমাত্র ছেলেকে দেখতে। তিনি জানান, “ছেলের জন্য বিরিয়ানি রান্না করে এনেছিলাম। কিন্তু ছেলে বলল, এবার খুব ভালো খাবার দিয়েছে কারাগার থেকে।” কারাবন্দির স্বজন মোস্তফার ভাষ্য, “ভাতিজা দেড় বছর ধরে আটক। আগেও এসেছি, এবার ভিন্ন প্রেক্ষাপট দেখলাম। ফুল, সরবত, বসার ব্যবস্থা- সত্যিই ভালো আচরণ করেছে কর্তৃপক্ষ।”

কারাগার সূত্রে জানা গেছে, দুই শতজনের বেশি রাজনৈতিক বন্দিও আনন্দঘন পরিবেশে ঈদ উদযাপন করেছেন। ঈদের পরের দিন স্বজনরা বাড়িতে তৈরি পছন্দের খাবার দিতে পারবেন। বাড়তি সুযোগ হিসেবে মোবাইল ফোনে পাঁচ মিনিট অতিরিক্ত কথা বলার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

স্বজনদের ফুল দিয়ে বরণ করা হয়। ছবি: প্রতিনিধি

রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারের ভারপ্রাপ্ত জেলার সাখাওয়াত হোসেন জানান, কারা মহাপরিদর্শকের নির্দেশে এ বিশেষ আয়োজন করা হয়েছে। 

সিনিয়র জেল সুপার একেএম কামরুল হুদা বলেন, “সব বন্দি একসঙ্গে নামাজ আদায়, কুশল বিনিময়, উন্নতমানের খাবার ও স্বজনদের সম্মানের সঙ্গে গ্রহণ- সব মিলিয়ে ছিল নানামুখি আয়োজন।”

কারাগারের চার দেয়াল যেন ঈদের আনন্দে রঙিন হয়ে উঠল।


সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত