সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

সবুজ ঘাসে ঈদের আমেজ

রমনার চত্বরে শিশু-কিশোরদের উচ্ছ্বাস আর নাগরিক প্রশান্তি


প্রকাশ : ২১ মার্চ ২০২৬

রমনার চত্বরে শিশু-কিশোরদের উচ্ছ্বাস আর নাগরিক প্রশান্তি

রাজধানীর রমনা পার্কে ঢল নেমেছে সব বয়সী মানুষের। ঈদ মানেই শিশুদের বাধভাঙ্গা আনন্দ, আর সেই আনন্দের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে রমনা পার্কের শিশু চত্বর। হাজার হাজার মানুষের ভিড়ে মুখর এই উদ্যানে ছোটদের দৌড়ঝাঁপ, বল খেলা আর বাবা-মায়ের হাত ধরে ঘাসের ওপর লুটোপুটির দৃশ্য মনে করিয়ে দিচ্ছে যান্ত্রিক নগরীতে এক টুকরো গ্রামীণ উৎসবের আমেজ।


​ঈদের ছুটিতে নাড়ির টানে বিপুল সংখ্যক মানুষ ঢাকা ছেড়ে যাওয়ায় চিরচেনা যানজটের শহর এখন অনেকটাই শান্ত ও স্থবির। সেই সুযোগে যারা রাজধানীতে ঈদ উদযাপন করছেন, তারা যানজটহীন রাজপথ পাড়ি দিয়ে সকাল থেকেই ভিড় জমাচ্ছেন বিভিন্ন বিনোদনকেন্দ্রে।
শনিবার দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত রমনা পার্কের ভেতর ঘুরে দেখা গেছে এক অপূর্ব ভ্রাতৃত্বের মেলবন্ধন। অনেক পরিবার বাসা থেকে চাদর ও দুপুরের খাবার নিয়ে এসে পার্কের বিশাল বকুলতলায় বা মেহগনি গাছের ছায়ায় বসে আড্ডায় মেতেছেন।


কেউ কেউ লেকের রেলিং ধরে দাঁড়িয়ে শান্ত জলের আভা দেখছেন, আবার অনেককে দেখা গেছে বোট রাইডে চড়ে জলকেলিতে মেতে উঠতে। প্রিয়জনদের সঙ্গে সেলফি তোলা আর ভিডিও কলে দূরে থাকা স্বজনদের ঈদের শুভেচ্ছা জানানোর দৃশ্যে পুরো উদ্যান ছিল প্রাণবন্ত।


​বিকেলের দিকে দর্শনার্থীদের ভিড় আরও বাড়তে থাকে, বিশেষ করে কিশোর-কিশোরীদের দলবদ্ধ আড্ডা আর হাসাহাসিতে পার্কের প্রতিটি কোণ যেন নতুন করে প্রাণ ফিরে পায়।
দীর্ঘ ব্যস্ততার পর খোলা আকাশের নিচে প্রিয় মানুষের সঙ্গে কিছুটা সময় কাটাতে পেরে দর্শনার্থীদের চোখেমুখে ছিল তৃপ্তির আভা। রমনা পার্কের এই উৎসবমুখর পরিবেশ কেবল একটি বিনোদন কেন্দ্রের চিত্র নয়, বরং এটি ঘরবন্দী নাগরিক জীবনের এক পশলা স্বস্তির নিঃশ্বাস।


সন্ধ্যার আলো ম্লান হয়ে এলেও মানুষের এই স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ প্রমাণ করে যে, উৎসবের রঙে রঙিন হতে বাঙালির জন্য কেবল একটু খোলা জায়গাই যথেষ্ট।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

শনিবার, ২১ মার্চ ২০২৬


রমনার চত্বরে শিশু-কিশোরদের উচ্ছ্বাস আর নাগরিক প্রশান্তি

প্রকাশের তারিখ : ২১ মার্চ ২০২৬

featured Image

রাজধানীর রমনা পার্কে ঢল নেমেছে সব বয়সী মানুষের। ঈদ মানেই শিশুদের বাধভাঙ্গা আনন্দ, আর সেই আনন্দের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে রমনা পার্কের শিশু চত্বর। হাজার হাজার মানুষের ভিড়ে মুখর এই উদ্যানে ছোটদের দৌড়ঝাঁপ, বল খেলা আর বাবা-মায়ের হাত ধরে ঘাসের ওপর লুটোপুটির দৃশ্য মনে করিয়ে দিচ্ছে যান্ত্রিক নগরীতে এক টুকরো গ্রামীণ উৎসবের আমেজ।


​ঈদের ছুটিতে নাড়ির টানে বিপুল সংখ্যক মানুষ ঢাকা ছেড়ে যাওয়ায় চিরচেনা যানজটের শহর এখন অনেকটাই শান্ত ও স্থবির। সেই সুযোগে যারা রাজধানীতে ঈদ উদযাপন করছেন, তারা যানজটহীন রাজপথ পাড়ি দিয়ে সকাল থেকেই ভিড় জমাচ্ছেন বিভিন্ন বিনোদনকেন্দ্রে।
শনিবার দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত রমনা পার্কের ভেতর ঘুরে দেখা গেছে এক অপূর্ব ভ্রাতৃত্বের মেলবন্ধন। অনেক পরিবার বাসা থেকে চাদর ও দুপুরের খাবার নিয়ে এসে পার্কের বিশাল বকুলতলায় বা মেহগনি গাছের ছায়ায় বসে আড্ডায় মেতেছেন।


কেউ কেউ লেকের রেলিং ধরে দাঁড়িয়ে শান্ত জলের আভা দেখছেন, আবার অনেককে দেখা গেছে বোট রাইডে চড়ে জলকেলিতে মেতে উঠতে। প্রিয়জনদের সঙ্গে সেলফি তোলা আর ভিডিও কলে দূরে থাকা স্বজনদের ঈদের শুভেচ্ছা জানানোর দৃশ্যে পুরো উদ্যান ছিল প্রাণবন্ত।


​বিকেলের দিকে দর্শনার্থীদের ভিড় আরও বাড়তে থাকে, বিশেষ করে কিশোর-কিশোরীদের দলবদ্ধ আড্ডা আর হাসাহাসিতে পার্কের প্রতিটি কোণ যেন নতুন করে প্রাণ ফিরে পায়।
দীর্ঘ ব্যস্ততার পর খোলা আকাশের নিচে প্রিয় মানুষের সঙ্গে কিছুটা সময় কাটাতে পেরে দর্শনার্থীদের চোখেমুখে ছিল তৃপ্তির আভা। রমনা পার্কের এই উৎসবমুখর পরিবেশ কেবল একটি বিনোদন কেন্দ্রের চিত্র নয়, বরং এটি ঘরবন্দী নাগরিক জীবনের এক পশলা স্বস্তির নিঃশ্বাস।


সন্ধ্যার আলো ম্লান হয়ে এলেও মানুষের এই স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ প্রমাণ করে যে, উৎসবের রঙে রঙিন হতে বাঙালির জন্য কেবল একটু খোলা জায়গাই যথেষ্ট।


সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত