সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

চিতলমারীতে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বহন করছে হালদার বাড়ি


 প্রতিনিধি, চিতলমারী (বাগেরহাট)
প্রতিনিধি, চিতলমারী (বাগেরহাট)
প্রকাশ : ২৫ মার্চ ২০২৬

চিতলমারীতে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বহন করছে হালদার বাড়ি

বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলায় মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত হালদার বাড়ির একটি ভবন আজও কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে এ বাড়িটি মুক্তিযোদ্ধাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্যাম্প হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

উপজেলার খড়মখালী গ্রামের সমাজসেবক ষষ্টি চরণ হালদারের বাড়ি থেকে সে সময় স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের যুদ্ধকৌশল নির্ধারণ এবং বিভিন্ন প্রস্তুতির সিদ্ধান্ত নেওয়া হতো। বর্তমানে ঐতিহাসিক এ বাড়িটি স্মৃতিচিহ্ন হিসেবেই টিকে আছে।

স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ১৯৭১ সালে যুদ্ধ শুরু হলে এলাকায় বিভিন্ন গ্রামে কয়েকটি ক্যাম্প স্থাপন করা হয়। এসব ক্যাম্পের মধ্যে ছিল শিবপুর গ্রামের নিশি ডাক্তারের বাড়ি, সন্তোষপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় ভবন, রায় গ্রামের হালদার বাড়ি এবং খড়মখালী গ্রামের ষষ্টি চরণ হালদারের বাড়ি। এসব স্থান থেকেই মুক্তিযোদ্ধারা সংগঠিত হয়ে পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন।

মুক্তিযুদ্ধের সময় খড়মখালী গ্রামের হালদার বাড়ির এই ভবনটি প্রধান ক্যাম্প হিসেবে ব্যবহৃত হতো। এখান থেকেই যুদ্ধের পরিকল্পনা ও নির্দেশনা দেওয়া হতো।

স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৭১ সালের ২১ জুন চিতলমারীসহ আশপাশের এলাকায় পাকিস্তানি সেনা ও তাদের সহযোগীরা জল ও স্থলপথে আক্রমণ চালায়। এ সময় তারা বহু নিরীহ মানুষকে হত্যা করে এবং বিশেষ করে হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ করে।

সেদিন প্রাণ বাঁচাতে অনেক মানুষ খলিশাখালী গ্রামের একটি মাঠের পাটক্ষেত ও হোগলা বনে আশ্রয় নেন। পরে পাকিস্তানি বাহিনী সেখানে উপস্থিত লোকজনের ওপর নির্বিচারে গুলি চালিয়ে বহু মানুষকে হত্যা করে। স্থানটি বর্তমানে ‘খলিশাখালী বধ্যভূমি’ হিসেবে সংরক্ষিত আছে।

প্রয়াত ষষ্টি চরণ হালদারের ছোট ছেলে কালিদাস হালদার জানান, মুক্তিযুদ্ধের সময় তাদের দুইতলা বাড়িটি মুক্তিযোদ্ধাদের ক্যাম্প হিসেবে ব্যবহারের জন্য ছেড়ে দেওয়া হয়। শতবর্ষী এ বাড়িটি বর্তমানে জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি সংরক্ষণে ভবনটি দ্রুত সংস্কারের প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।

উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের যুগ্ম আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবুতালেব শেখ বলেন, যুদ্ধের সময় এলাকায় ৪ থেকে ৫টি ক্যাম্প গড়ে তোলা হয়েছিল, যার মধ্যে খড়মখালী হালদার বাড়ির ক্যাম্পটি অন্যতম ছিল। এই ক্যাম্পে মল্লিক শামছুল হক নেতৃত্ব দেন। এছাড়া ক্যাপ্টেন তাইজুল ইসলাম সন্তোষপুর ক্যাম্পের দায়িত্বে ছিলেন। হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে এ ভবনটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২৬


চিতলমারীতে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বহন করছে হালদার বাড়ি

প্রকাশের তারিখ : ২৫ মার্চ ২০২৬

featured Image

বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলায় মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত হালদার বাড়ির একটি ভবন আজও কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে এ বাড়িটি মুক্তিযোদ্ধাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্যাম্প হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

উপজেলার খড়মখালী গ্রামের সমাজসেবক ষষ্টি চরণ হালদারের বাড়ি থেকে সে সময় স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের যুদ্ধকৌশল নির্ধারণ এবং বিভিন্ন প্রস্তুতির সিদ্ধান্ত নেওয়া হতো। বর্তমানে ঐতিহাসিক এ বাড়িটি স্মৃতিচিহ্ন হিসেবেই টিকে আছে।

স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ১৯৭১ সালে যুদ্ধ শুরু হলে এলাকায় বিভিন্ন গ্রামে কয়েকটি ক্যাম্প স্থাপন করা হয়। এসব ক্যাম্পের মধ্যে ছিল শিবপুর গ্রামের নিশি ডাক্তারের বাড়ি, সন্তোষপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় ভবন, রায় গ্রামের হালদার বাড়ি এবং খড়মখালী গ্রামের ষষ্টি চরণ হালদারের বাড়ি। এসব স্থান থেকেই মুক্তিযোদ্ধারা সংগঠিত হয়ে পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন।

মুক্তিযুদ্ধের সময় খড়মখালী গ্রামের হালদার বাড়ির এই ভবনটি প্রধান ক্যাম্প হিসেবে ব্যবহৃত হতো। এখান থেকেই যুদ্ধের পরিকল্পনা ও নির্দেশনা দেওয়া হতো।

স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৭১ সালের ২১ জুন চিতলমারীসহ আশপাশের এলাকায় পাকিস্তানি সেনা ও তাদের সহযোগীরা জল ও স্থলপথে আক্রমণ চালায়। এ সময় তারা বহু নিরীহ মানুষকে হত্যা করে এবং বিশেষ করে হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ করে।

সেদিন প্রাণ বাঁচাতে অনেক মানুষ খলিশাখালী গ্রামের একটি মাঠের পাটক্ষেত ও হোগলা বনে আশ্রয় নেন। পরে পাকিস্তানি বাহিনী সেখানে উপস্থিত লোকজনের ওপর নির্বিচারে গুলি চালিয়ে বহু মানুষকে হত্যা করে। স্থানটি বর্তমানে ‘খলিশাখালী বধ্যভূমি’ হিসেবে সংরক্ষিত আছে।

প্রয়াত ষষ্টি চরণ হালদারের ছোট ছেলে কালিদাস হালদার জানান, মুক্তিযুদ্ধের সময় তাদের দুইতলা বাড়িটি মুক্তিযোদ্ধাদের ক্যাম্প হিসেবে ব্যবহারের জন্য ছেড়ে দেওয়া হয়। শতবর্ষী এ বাড়িটি বর্তমানে জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি সংরক্ষণে ভবনটি দ্রুত সংস্কারের প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।

উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের যুগ্ম আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবুতালেব শেখ বলেন, যুদ্ধের সময় এলাকায় ৪ থেকে ৫টি ক্যাম্প গড়ে তোলা হয়েছিল, যার মধ্যে খড়মখালী হালদার বাড়ির ক্যাম্পটি অন্যতম ছিল। এই ক্যাম্পে মল্লিক শামছুল হক নেতৃত্ব দেন। এছাড়া ক্যাপ্টেন তাইজুল ইসলাম সন্তোষপুর ক্যাম্পের দায়িত্বে ছিলেন। হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে এ ভবনটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।


সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত