সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

কিশোরগঞ্জের হাওরে শিলাবৃষ্টি ও কালবৈশাখীতে বোরো ফসলের ব্যাপক ক্ষতি


প্রতিনিধি, কিশোরগঞ্জ
প্রতিনিধি, কিশোরগঞ্জ
প্রকাশ : ২৫ মার্চ ২০২৬

কিশোরগঞ্জের হাওরে শিলাবৃষ্টি ও কালবৈশাখীতে বোরো ফসলের ব্যাপক ক্ষতি

শস্যভান্ডার হিসেবে পরিচিত কিশোরগঞ্জের হাওরাঞ্চলে দু’দফা শিলাবৃষ্টি ও কালবৈশাখী ঝড়ে বোরো ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ধানের শীষ বের হওয়ার সময় আকস্মিক এই দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. সাদিকুর রহমান জানান, প্রাথমিকভাবে ৩ হাজার ৮৬৪ হেক্টর বোরো জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে চূড়ান্ত হিসাব করলে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

জেলা কৃষি বিভাগ ও স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মঙ্গলবার বিকেল ও রাতে ইটনা, মিঠামইন, অষ্টগ্রাম, নিকলীসহ হাওর অঞ্চলের বিভিন্ন উপজেলায় শিলাবৃষ্টি ও ঝড় বয়ে যায়। এতে ধানের শীষ বের হওয়া জমিগুলোতে মারাত্মক ক্ষতি হয়।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে মিঠামইন উপজেলার ঢাকী ও কেওয়ারজোড় ইউনিয়নে। এছাড়া ইটনা উপজেলার সদর, এলংজুরী, ধনপুর, মৃগা ও বাদলা; অষ্টগ্রামের আদমপুর, আব্দুল্লাহপুর ও বাঙ্গালপাড়া; নিকলীর সিংপুর; পাকুন্দিয়ার সুখিয়া ও চরপলাশ; হোসেনপুরের সিদলা ও পুমদী; কুলিয়ারচরের ছয়সুতি এবং ভৈরবের শিমুলকান্দি, আগানগর, গজারিয়া, কালিকাপ্রসাদ, শিবপুর ও শ্রীনগর এলাকায় ফসলের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, গত ৩০ বছরের মধ্যে এমন ভয়াবহ শিলাবৃষ্টি তারা দেখেননি। অনেক এলাকায় শিলার স্তূপে জমি ঢেকে যায়, ফলে ধানের শীষ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়।

ইটনা উপজেলার নন্দী গ্রামের কৃষক গোলাম রহমান বলেন, “১১ একর জমিতে ভুট্টা ও ৩ একর জমিতে বোরো আবাদ করেছি। প্রায় চার লাখ টাকা খরচ হয়েছে। অন্তত ১০ লাখ টাকার ফসল পাওয়ার আশা ছিল। এখন খরচই উঠবে না।”

একই উপজেলার বলদা হাওরের কৃষক আব্দুর রহমান বলেন, “শিলাবৃষ্টিতে আমরা শেষ হয়ে গেছি। এখন পরিবার নিয়ে কীভাবে চলব বুঝতে পারছি না।”

কুলিয়ারচরের কৃষক রোমান আলী শাহ বলেন, “মাত্র ১০ মিনিটের ঝড় আর শিলাবৃষ্টিতে সব শেষ হয়ে গেছে।”

কৃষি বিভাগ জানায়, শিলাবৃষ্টি ও ঝড়ে মিঠামইনে ২,৫০০ হেক্টর, ইটনায় ৯৮৬ হেক্টর, অষ্টগ্রামে ১৪০ হেক্টর, নিকলীতে ১০০ হেক্টর, পাকুন্দিয়ায় ১২০ হেক্টর, হোসেনপুরে ১০ হেক্টর, কুলিয়ারচরে ৬ হেক্টর এবং ভৈরবে ২ হেক্টর জমির বোরো ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ড. সাদিকুর রহমান আরও জানান, চলতি মৌসুমে জেলায় মোট ১ লাখ ৬৮ হাজার ২৬২ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রস্তুত করে প্রয়োজনীয় সহায়তার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২৬


কিশোরগঞ্জের হাওরে শিলাবৃষ্টি ও কালবৈশাখীতে বোরো ফসলের ব্যাপক ক্ষতি

প্রকাশের তারিখ : ২৫ মার্চ ২০২৬

featured Image

শস্যভান্ডার হিসেবে পরিচিত কিশোরগঞ্জের হাওরাঞ্চলে দু’দফা শিলাবৃষ্টি ও কালবৈশাখী ঝড়ে বোরো ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ধানের শীষ বের হওয়ার সময় আকস্মিক এই দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. সাদিকুর রহমান জানান, প্রাথমিকভাবে ৩ হাজার ৮৬৪ হেক্টর বোরো জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে চূড়ান্ত হিসাব করলে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

জেলা কৃষি বিভাগ ও স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মঙ্গলবার বিকেল ও রাতে ইটনা, মিঠামইন, অষ্টগ্রাম, নিকলীসহ হাওর অঞ্চলের বিভিন্ন উপজেলায় শিলাবৃষ্টি ও ঝড় বয়ে যায়। এতে ধানের শীষ বের হওয়া জমিগুলোতে মারাত্মক ক্ষতি হয়।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে মিঠামইন উপজেলার ঢাকী ও কেওয়ারজোড় ইউনিয়নে। এছাড়া ইটনা উপজেলার সদর, এলংজুরী, ধনপুর, মৃগা ও বাদলা; অষ্টগ্রামের আদমপুর, আব্দুল্লাহপুর ও বাঙ্গালপাড়া; নিকলীর সিংপুর; পাকুন্দিয়ার সুখিয়া ও চরপলাশ; হোসেনপুরের সিদলা ও পুমদী; কুলিয়ারচরের ছয়সুতি এবং ভৈরবের শিমুলকান্দি, আগানগর, গজারিয়া, কালিকাপ্রসাদ, শিবপুর ও শ্রীনগর এলাকায় ফসলের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, গত ৩০ বছরের মধ্যে এমন ভয়াবহ শিলাবৃষ্টি তারা দেখেননি। অনেক এলাকায় শিলার স্তূপে জমি ঢেকে যায়, ফলে ধানের শীষ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়।

ইটনা উপজেলার নন্দী গ্রামের কৃষক গোলাম রহমান বলেন, “১১ একর জমিতে ভুট্টা ও ৩ একর জমিতে বোরো আবাদ করেছি। প্রায় চার লাখ টাকা খরচ হয়েছে। অন্তত ১০ লাখ টাকার ফসল পাওয়ার আশা ছিল। এখন খরচই উঠবে না।”

একই উপজেলার বলদা হাওরের কৃষক আব্দুর রহমান বলেন, “শিলাবৃষ্টিতে আমরা শেষ হয়ে গেছি। এখন পরিবার নিয়ে কীভাবে চলব বুঝতে পারছি না।”

কুলিয়ারচরের কৃষক রোমান আলী শাহ বলেন, “মাত্র ১০ মিনিটের ঝড় আর শিলাবৃষ্টিতে সব শেষ হয়ে গেছে।”

কৃষি বিভাগ জানায়, শিলাবৃষ্টি ও ঝড়ে মিঠামইনে ২,৫০০ হেক্টর, ইটনায় ৯৮৬ হেক্টর, অষ্টগ্রামে ১৪০ হেক্টর, নিকলীতে ১০০ হেক্টর, পাকুন্দিয়ায় ১২০ হেক্টর, হোসেনপুরে ১০ হেক্টর, কুলিয়ারচরে ৬ হেক্টর এবং ভৈরবে ২ হেক্টর জমির বোরো ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ড. সাদিকুর রহমান আরও জানান, চলতি মৌসুমে জেলায় মোট ১ লাখ ৬৮ হাজার ২৬২ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রস্তুত করে প্রয়োজনীয় সহায়তার উদ্যোগ নেওয়া হবে।


সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত