বাংলাদেশের আর্থিক খাতের শৃঙ্খলা ফেরাতে পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনা এবং জনবান্ধব পুলিশ বাহিনী গঠনে বড় ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে সুইজারল্যান্ড।
বুধবার (২৫ মার্চ) বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশে নিযুক্ত সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত রেটো রেংগলি এই প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন। এই বৈঠকে দুই দেশের পারস্পরিক নিরাপত্তা, সন্ত্রাসবাদ দমন, সংসদীয় গণতন্ত্রের চর্চা এবং ডিজিটাল প্রতারণা রোধসহ দ্বিপাক্ষিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠকের শুরুতে রাষ্ট্রদূত নতুন সরকারের গুরুত্বপূর্ণ এই পোর্টফোলিও গ্রহণের জন্য মন্ত্রীকে অভিনন্দন জানান এবং বর্তমান সরকারের সংস্কার এজেন্ডা বাস্তবায়নে পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
বৈঠকে দেশের অভ্যন্তরীণ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আলোকপাত করতে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হচ্ছে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং প্রকৃত সংসদীয় গণতন্ত্রের চর্চা ফিরিয়ে আনা।
তিনি বিগত ফ্যাসিস্ট আমলের কঠোর সমালোচনা করে উল্লেখ করেন, অতীতে রাজনৈতিক দলগুলোর গণতান্ত্রিক অধিকার দমনে পুলিশকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিলো, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।
বর্তমান সরকার সকল রাজনৈতিক দলের সভা-সমাবেশ ও বাকস্বাধীনতায় বিশ্বাসী, তবে জনদুর্ভোগ এড়াতে সতর্কতার সাথে তা পালনের ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
রাষ্ট্রদূতের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী স্পষ্ট করেন, বাংলাদেশে উগ্রবাদের সামান্য উপস্থিতি থাকলেও তা কখনোই প্রাতিষ্ঠানিক সন্ত্রাসবাদে রূপ নেয়নি এবং পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিটগুলো অত্যন্ত দক্ষতার সাথে এটি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে।
আলোচনার একটি বড় অংশ জুড়ে ছিলো আর্থিক খাতের সংস্কার ও বিদেশে পাচার হওয়া সম্পদ পুনরুদ্ধার। রাষ্ট্রদূত রেটো রেংগলি মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ এবং পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনার প্রক্রিয়ায় কারিগরি সহযোগিতার বিষয়ে ইতিবাচক সাড়া দেন। তিনি মন্তব্য করেন, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাই একটি রাষ্ট্রের উন্নয়নের মূল চালিকাশক্তি।
একই সাথে তিনি বাংলাদেশের পুলিশ বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধিতে কৌশলগত সহায়তা দেওয়ারও আশ্বাস প্রদান করেন।
সংসদকে কার্যকর করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে রাষ্ট্রদূত বলেন, রাজনৈতিক ময়দানে শান্তিপূর্ণ বিতর্ক ও আলোচনা গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাকে আরও গ্রহণযোগ্য করে তোলে।
সম্প্রতি ভিয়েনায় অনুষ্ঠিত 'গ্লোবাল ফ্রড সামিট ২০২৬' এর অভিজ্ঞতা তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বর্তমানে বিশ্বজুড়ে মোট প্রতারণার প্রায় ৪০ শতাংশই ডিজিটাল মাধ্যমে সম্পন্ন হচ্ছে, যা একটি বৈশ্বিক সংকটে পরিণত হয়েছে।
এই স্ক্যাম বা ডিজিটাল জালিয়াতি আটকাতে আন্তঃদেশীয় সহযোগিতার বিকল্প নেই বলে তিনি মন্তব্য করেন।
রাষ্ট্রদূতও এ বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে অপরাধ দমনে সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন।
বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং সুইজারল্যান্ড দূতাবাসের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। পরবর্তীতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে 'ইউনাইটেড নেশনস অফিস অন ড্রাগস অ্যান্ড ক্রাইম' (UNODC) এর আঞ্চলিক পরিচালক ক্রিস্টিয়ান হোলজ এক পৃথক বৈঠকে মিলিত হয়ে মাদক ও অপরাধ দমনে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার বিষয়ে আলোচনা করেন।

বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৫ মার্চ ২০২৬
বাংলাদেশের আর্থিক খাতের শৃঙ্খলা ফেরাতে পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনা এবং জনবান্ধব পুলিশ বাহিনী গঠনে বড় ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে সুইজারল্যান্ড।
বুধবার (২৫ মার্চ) বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশে নিযুক্ত সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত রেটো রেংগলি এই প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন। এই বৈঠকে দুই দেশের পারস্পরিক নিরাপত্তা, সন্ত্রাসবাদ দমন, সংসদীয় গণতন্ত্রের চর্চা এবং ডিজিটাল প্রতারণা রোধসহ দ্বিপাক্ষিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠকের শুরুতে রাষ্ট্রদূত নতুন সরকারের গুরুত্বপূর্ণ এই পোর্টফোলিও গ্রহণের জন্য মন্ত্রীকে অভিনন্দন জানান এবং বর্তমান সরকারের সংস্কার এজেন্ডা বাস্তবায়নে পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
বৈঠকে দেশের অভ্যন্তরীণ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আলোকপাত করতে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হচ্ছে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং প্রকৃত সংসদীয় গণতন্ত্রের চর্চা ফিরিয়ে আনা।
তিনি বিগত ফ্যাসিস্ট আমলের কঠোর সমালোচনা করে উল্লেখ করেন, অতীতে রাজনৈতিক দলগুলোর গণতান্ত্রিক অধিকার দমনে পুলিশকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিলো, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।
বর্তমান সরকার সকল রাজনৈতিক দলের সভা-সমাবেশ ও বাকস্বাধীনতায় বিশ্বাসী, তবে জনদুর্ভোগ এড়াতে সতর্কতার সাথে তা পালনের ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
রাষ্ট্রদূতের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী স্পষ্ট করেন, বাংলাদেশে উগ্রবাদের সামান্য উপস্থিতি থাকলেও তা কখনোই প্রাতিষ্ঠানিক সন্ত্রাসবাদে রূপ নেয়নি এবং পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিটগুলো অত্যন্ত দক্ষতার সাথে এটি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে।
আলোচনার একটি বড় অংশ জুড়ে ছিলো আর্থিক খাতের সংস্কার ও বিদেশে পাচার হওয়া সম্পদ পুনরুদ্ধার। রাষ্ট্রদূত রেটো রেংগলি মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ এবং পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনার প্রক্রিয়ায় কারিগরি সহযোগিতার বিষয়ে ইতিবাচক সাড়া দেন। তিনি মন্তব্য করেন, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাই একটি রাষ্ট্রের উন্নয়নের মূল চালিকাশক্তি।
একই সাথে তিনি বাংলাদেশের পুলিশ বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধিতে কৌশলগত সহায়তা দেওয়ারও আশ্বাস প্রদান করেন।
সংসদকে কার্যকর করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে রাষ্ট্রদূত বলেন, রাজনৈতিক ময়দানে শান্তিপূর্ণ বিতর্ক ও আলোচনা গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাকে আরও গ্রহণযোগ্য করে তোলে।
সম্প্রতি ভিয়েনায় অনুষ্ঠিত 'গ্লোবাল ফ্রড সামিট ২০২৬' এর অভিজ্ঞতা তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বর্তমানে বিশ্বজুড়ে মোট প্রতারণার প্রায় ৪০ শতাংশই ডিজিটাল মাধ্যমে সম্পন্ন হচ্ছে, যা একটি বৈশ্বিক সংকটে পরিণত হয়েছে।
এই স্ক্যাম বা ডিজিটাল জালিয়াতি আটকাতে আন্তঃদেশীয় সহযোগিতার বিকল্প নেই বলে তিনি মন্তব্য করেন।
রাষ্ট্রদূতও এ বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে অপরাধ দমনে সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন।
বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং সুইজারল্যান্ড দূতাবাসের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। পরবর্তীতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে 'ইউনাইটেড নেশনস অফিস অন ড্রাগস অ্যান্ড ক্রাইম' (UNODC) এর আঞ্চলিক পরিচালক ক্রিস্টিয়ান হোলজ এক পৃথক বৈঠকে মিলিত হয়ে মাদক ও অপরাধ দমনে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার বিষয়ে আলোচনা করেন।

আপনার মতামত লিখুন