সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

৭১-এর লাকুরতলা গণহত্যা: ৫৫ বছরেও থামেনি পরিবারের কান্না


প্রতিনিধি, শরণখোলা
প্রতিনিধি, শরণখোলা
প্রকাশ : ২৫ মার্চ ২০২৬

৭১-এর লাকুরতলা গণহত্যা: ৫৫ বছরেও থামেনি পরিবারের কান্না

শরণখোলা (বাগেরহাট) — ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস। স্বাধীনতার ৫৫ বছর পেরিয়েও ১৯৭১ সালের বর্বরতা ভুলতে পারেনি লাকুরতলা গ্রামের হিন্দু সম্প্রদায়। আজও সেইদিনের স্মৃতি তাদের কান্না থামতে দেয়নি।

গ্রামের বিরলা রানী (৮৫), শোভারানী (৭০) ও ঊষা রানী (৭৫) সেদিনের তাণ্ডবের কথা মনে করে ডুকরে কাঁদেন। তারা বলেন, “রাজাকাররা আমাদের গ্রামে ঢুকে প্রথমে সব বাড়ি আগুনে ভস্ম করেছিল। আগুনের শিখায় আমরা ঝোপঝাড় আর বাগানের মধ্যে লুকিয়ে পড়ি। পুরুষদের খুঁজে বের করে নির্মমভাবে হত্যা করেছিল।”

সেদিন লাকুরতলা গ্রামের মহানন্দ সমাদ্দার, মনিন্দ্র সাধক, বিমল সাধক, অটল কুলু, মনোরঞ্জন কুলু, গোপাল চন্দ্র হালদারসহ আরও বহু মানুষ বেয়নেটে খুঁচিয়ে হত্যা করা হয়। বিরলা রানী বলেন, “রাজাকাররা আমাকে ধরে মাথায় রাইফেল দিয়ে আঘাত করেছিল, আমার সিঁথি থেকে সিঁদুর মুছে ফেলে। সেই আতঙ্ক এখনও মনে আছে।”

শোভারানী জানান, তার বাবা মহানন্দ সমাদ্দার ও স্বামী মনিন্দ্র সাধককে হত্যার পর একই দিনে তার মা ও নিজেও বিধবা হন। দুই বছরের মেয়ে সুরবালাকে নিয়ে পরিবার নৌকায় ভারতে পাড়ি জমান। খাবারের অভাবে ভাসতে ভাসতে অনেক কষ্ট সইতে হয়েছে।

নিহতদের পরিবার বলছেন, ৫৫ বছর ধরে তারা জীবনের সাথে যুদ্ধ করে যাচ্ছেন। সন্তানদের পিতৃস্নেহ বা অভাব-অনটনের মধ্যে বড় করেছেন। পিতা হারানো সুরবালার চার সন্তানের মধ্যে তিন মেয়ে বিয়ে গেছে, একমাত্র ছেলে পলাশ দিনমজুর। দুই ভাই দেশ ছেড়েছে, বাকি দুই ভাই এখনো জীবনের সংগ্রামে রয়েছেন।

শরণখোলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার এম. আফজাল হোসাইন, এম. এ. খালেক খান ও যুদ্ধকালীন ইয়ং অফিসার হেমায়েত উদ্দিন বাদশা বলেন, “মুক্তিযুদ্ধে যারা শহীদ হয়েছেন বা গৃহহীন, বিধবা ও বীভৎসতা ভোগ করেছেন তাদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আবশ্যক।”

গ্রামের অনেক বাসিন্দা দাবি করেন, গণহত্যার শিকার পরিবারগুলোর আর্থিক ও সামাজিক সহায়তা দেওয়া এখন সময়ের দাবি। ৩০ লাখ শহীদের রক্তের দায় মনে রেখে এসব পরিবারকে সহায়তা দিতে হবে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২৬


৭১-এর লাকুরতলা গণহত্যা: ৫৫ বছরেও থামেনি পরিবারের কান্না

প্রকাশের তারিখ : ২৫ মার্চ ২০২৬

featured Image

শরণখোলা (বাগেরহাট) — ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস। স্বাধীনতার ৫৫ বছর পেরিয়েও ১৯৭১ সালের বর্বরতা ভুলতে পারেনি লাকুরতলা গ্রামের হিন্দু সম্প্রদায়। আজও সেইদিনের স্মৃতি তাদের কান্না থামতে দেয়নি।

গ্রামের বিরলা রানী (৮৫), শোভারানী (৭০) ও ঊষা রানী (৭৫) সেদিনের তাণ্ডবের কথা মনে করে ডুকরে কাঁদেন। তারা বলেন, “রাজাকাররা আমাদের গ্রামে ঢুকে প্রথমে সব বাড়ি আগুনে ভস্ম করেছিল। আগুনের শিখায় আমরা ঝোপঝাড় আর বাগানের মধ্যে লুকিয়ে পড়ি। পুরুষদের খুঁজে বের করে নির্মমভাবে হত্যা করেছিল।”

সেদিন লাকুরতলা গ্রামের মহানন্দ সমাদ্দার, মনিন্দ্র সাধক, বিমল সাধক, অটল কুলু, মনোরঞ্জন কুলু, গোপাল চন্দ্র হালদারসহ আরও বহু মানুষ বেয়নেটে খুঁচিয়ে হত্যা করা হয়। বিরলা রানী বলেন, “রাজাকাররা আমাকে ধরে মাথায় রাইফেল দিয়ে আঘাত করেছিল, আমার সিঁথি থেকে সিঁদুর মুছে ফেলে। সেই আতঙ্ক এখনও মনে আছে।”

শোভারানী জানান, তার বাবা মহানন্দ সমাদ্দার ও স্বামী মনিন্দ্র সাধককে হত্যার পর একই দিনে তার মা ও নিজেও বিধবা হন। দুই বছরের মেয়ে সুরবালাকে নিয়ে পরিবার নৌকায় ভারতে পাড়ি জমান। খাবারের অভাবে ভাসতে ভাসতে অনেক কষ্ট সইতে হয়েছে।

নিহতদের পরিবার বলছেন, ৫৫ বছর ধরে তারা জীবনের সাথে যুদ্ধ করে যাচ্ছেন। সন্তানদের পিতৃস্নেহ বা অভাব-অনটনের মধ্যে বড় করেছেন। পিতা হারানো সুরবালার চার সন্তানের মধ্যে তিন মেয়ে বিয়ে গেছে, একমাত্র ছেলে পলাশ দিনমজুর। দুই ভাই দেশ ছেড়েছে, বাকি দুই ভাই এখনো জীবনের সংগ্রামে রয়েছেন।

শরণখোলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার এম. আফজাল হোসাইন, এম. এ. খালেক খান ও যুদ্ধকালীন ইয়ং অফিসার হেমায়েত উদ্দিন বাদশা বলেন, “মুক্তিযুদ্ধে যারা শহীদ হয়েছেন বা গৃহহীন, বিধবা ও বীভৎসতা ভোগ করেছেন তাদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আবশ্যক।”

গ্রামের অনেক বাসিন্দা দাবি করেন, গণহত্যার শিকার পরিবারগুলোর আর্থিক ও সামাজিক সহায়তা দেওয়া এখন সময়ের দাবি। ৩০ লাখ শহীদের রক্তের দায় মনে রেখে এসব পরিবারকে সহায়তা দিতে হবে।


সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত