আজ ২৫ মার্চ। ১৯৭১ সালে এই রাতে আধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ঘুমন্ত বাঙালির ওপর নির্বিচারে হামলা চালায়। অনেক নিরপরাধ মানুষকে নির্বিচারে হত্যা করা হয়। ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেয়া হয়, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করা হয়।
একাত্তরের মার্চ থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত পাকিস্তানি সেনাবাহিনী পরিকল্পিতভাবে হত্যা, নির্যাতন ও ধ্বংসযজ্ঞ চালায়। অসংখ্য নারী নির্যাতনের শিকার হন, বহু মানুষ প্রাণ হারান, শিশুদেরও রেহাই মেলেনি। বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করা হয়। সেই হত্যাযজ্ঞের পূর্ণ হিসাব আজও নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি।
আন্তর্জাতিক আইনের আলোকে এসবই গণহত্যার অন্তর্ভুক্ত। পাকিস্তানের নিজস্ব তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদনেও এ হত্যাযজ্ঞের প্রমাণ পাওয়া যায়। ১৯৭৪ সালের ত্রিপক্ষীয় চুক্তিতেও এ ধরনের বর্বরতার উল্লেখ আছে।
জাতিসংঘ ১৯৪৬ সালে গণহত্যাকে আন্তর্জাতিক অপরাধ হিসেবে ঘোষণা করে। দুঃখজনক বিষয় হচ্ছে, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশে সংঘটিত গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির প্রশ্নটি দীর্ঘদিন ধরেই অমীমাংসিত। আশার কথা, একাত্তরে বাংলাদেশে সংঘটিত গণহত্যার স্বীকৃতির দাবিতে গত শুক্রবার মার্কিন প্রতিনিধি সভায় একটি প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়েছে।
এ ধরনের প্রস্তাব উত্থাপন হলেই যে গণহত্যার স্বীকৃতি মিলবে তা নয়। এটা দীর্ঘ একটি প্রক্রিয়ার শুরু। অতীতে বিভিন্ন দেশে সংঘটিত গণহত্যার স্বীকৃতি পেতে দীর্ঘ পথ পারি দিতে হয়েছে। আমরা আশা করতে চাই, মার্কিন প্রতিনিধি সভায় বাংলাদেশে সংঘটিত গণহত্যার স্বীকৃতির দাবিতে প্রস্তাব উত্থাপনে মধ্য দিয়ে একটি দ্বার উন্মোচন হয়েছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এ নিয়ে আলোচনার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
বাংলাদেশের সরকারকে এই সুযোগটি গ্রহণ করতে হবে। এজন্য প্রয়োজন সুসংগঠিত কূটনৈতিক উদ্যোগ। বিভিন্ন দেশের নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে যোগাযোগ জোরদার করা যেতে পারে। একাত্তরের গণহত্যার গবেষণাভিত্তিক প্রমাণ তুলে ধরা এবং আন্তর্জাতিক ফোরামে ধারাবাহিকভাবে বিষয়টি উত্থাপন করা জরুরি। একাত্তরের ঘটনাবলির নির্ভরযোগ্য দলিলের ভিত্তিতে প্রচার চালাতে হবে।
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে বোঝাতে হবে যে, একাত্তরের গণহত্যার স্বীকৃতি দেয়া মানে একটি দেশ বা জাতির সঙ্গে অতীতে হওয়া জঘন্য অপরাধের বিপক্ষে শান্তি ও মানবতার দৃঢ় অবস্থান। এই পদক্ষেপ ভবিষ্যতের জন্যও বিশ্ববাসীর প্রতি একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা। মানবতাবিরোধী অপরাধের বিরুদ্ধে বৈশ্বিক অবস্থানকে শক্তিশালী করতে এ ধরনের স্বীকৃতি ভূমিকা রাখে।

বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৫ মার্চ ২০২৬
আজ ২৫ মার্চ। ১৯৭১ সালে এই রাতে আধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ঘুমন্ত বাঙালির ওপর নির্বিচারে হামলা চালায়। অনেক নিরপরাধ মানুষকে নির্বিচারে হত্যা করা হয়। ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেয়া হয়, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করা হয়।
একাত্তরের মার্চ থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত পাকিস্তানি সেনাবাহিনী পরিকল্পিতভাবে হত্যা, নির্যাতন ও ধ্বংসযজ্ঞ চালায়। অসংখ্য নারী নির্যাতনের শিকার হন, বহু মানুষ প্রাণ হারান, শিশুদেরও রেহাই মেলেনি। বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করা হয়। সেই হত্যাযজ্ঞের পূর্ণ হিসাব আজও নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি।
আন্তর্জাতিক আইনের আলোকে এসবই গণহত্যার অন্তর্ভুক্ত। পাকিস্তানের নিজস্ব তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদনেও এ হত্যাযজ্ঞের প্রমাণ পাওয়া যায়। ১৯৭৪ সালের ত্রিপক্ষীয় চুক্তিতেও এ ধরনের বর্বরতার উল্লেখ আছে।
জাতিসংঘ ১৯৪৬ সালে গণহত্যাকে আন্তর্জাতিক অপরাধ হিসেবে ঘোষণা করে। দুঃখজনক বিষয় হচ্ছে, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশে সংঘটিত গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির প্রশ্নটি দীর্ঘদিন ধরেই অমীমাংসিত। আশার কথা, একাত্তরে বাংলাদেশে সংঘটিত গণহত্যার স্বীকৃতির দাবিতে গত শুক্রবার মার্কিন প্রতিনিধি সভায় একটি প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়েছে।
এ ধরনের প্রস্তাব উত্থাপন হলেই যে গণহত্যার স্বীকৃতি মিলবে তা নয়। এটা দীর্ঘ একটি প্রক্রিয়ার শুরু। অতীতে বিভিন্ন দেশে সংঘটিত গণহত্যার স্বীকৃতি পেতে দীর্ঘ পথ পারি দিতে হয়েছে। আমরা আশা করতে চাই, মার্কিন প্রতিনিধি সভায় বাংলাদেশে সংঘটিত গণহত্যার স্বীকৃতির দাবিতে প্রস্তাব উত্থাপনে মধ্য দিয়ে একটি দ্বার উন্মোচন হয়েছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এ নিয়ে আলোচনার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
বাংলাদেশের সরকারকে এই সুযোগটি গ্রহণ করতে হবে। এজন্য প্রয়োজন সুসংগঠিত কূটনৈতিক উদ্যোগ। বিভিন্ন দেশের নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে যোগাযোগ জোরদার করা যেতে পারে। একাত্তরের গণহত্যার গবেষণাভিত্তিক প্রমাণ তুলে ধরা এবং আন্তর্জাতিক ফোরামে ধারাবাহিকভাবে বিষয়টি উত্থাপন করা জরুরি। একাত্তরের ঘটনাবলির নির্ভরযোগ্য দলিলের ভিত্তিতে প্রচার চালাতে হবে।
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে বোঝাতে হবে যে, একাত্তরের গণহত্যার স্বীকৃতি দেয়া মানে একটি দেশ বা জাতির সঙ্গে অতীতে হওয়া জঘন্য অপরাধের বিপক্ষে শান্তি ও মানবতার দৃঢ় অবস্থান। এই পদক্ষেপ ভবিষ্যতের জন্যও বিশ্ববাসীর প্রতি একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা। মানবতাবিরোধী অপরাধের বিরুদ্ধে বৈশ্বিক অবস্থানকে শক্তিশালী করতে এ ধরনের স্বীকৃতি ভূমিকা রাখে।

আপনার মতামত লিখুন