সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

চোখের সামনে বাস ডুবে গেল, কিছুই করতে পারলাম না


প্রকাশ : ২৫ মার্চ ২০২৬

চোখের সামনে বাস ডুবে গেল, কিছুই করতে পারলাম না

দৌলতদিয়া ঘাটে ফেরির অপেক্ষায় থাকা বাসের চালক থেকে শুরু করে চায়ের দোকানি, সবাই ব্যস্ত ছিল নিজ নিজ কাজে। হঠাৎ করেই সবকিছু যেন থমকে গেল।

“বাসের ভেতর থেকে মানুষ চিৎকার করছে, আর আমরা কিছুই করতে পারছি না। নদীর স্রোত অনেক। বাসটা তলিয়ে যেতে লাগল।” চোখ মুছতে মুছতে বলছিলেন ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী মো. রফিকুল ইসলাম। তিনি চায়ের দোকান করেন ঘাটের পাশেই।

ঘাটে দায়িত্বরত পরিবহনের তত্ত্বাবধায়ক মো. মনির হোসেনের কণ্ঠে ছিল শোকের মাতম। তিনি বললেন, “চোখের সামনে বাসটি পন্টুন থেকে পদ্মা নদীতে পড়ে গেল, অথচ আমরা কিছুই করতে পারছিলাম না। বাসে নারী-শিশুসহ অন্তত ৪০ জন যাত্রী ছিল। কয়েকজন যাত্রী সাঁতরে আত্মরক্ষা করতে পারলেও অধিকাংশ বাসের ভেতর আটকা পড়েছে। তাদের চিৎকার এখনো কানে বাজে।”

ঘাটের শ্রমিক জামাল মোল্লা জানান, বাসটি উল্টে যাওয়ার পর কিছু যাত্রী ভেসে ওঠেন। তাঁদের উদ্ধারে ছুটে যান স্থানীয় জেলেরা। আমরা দড়ি ফেলে কয়েকজনকে টেনে তুলতে পেরেছি। কিন্তু বাসের ভেতরে আরও অনেক মানুষ ছিল। নদীটা খুব স্রোতস্বিনী। বাসটাও ধীরে ধীরে তলিয়ে যাচ্ছিল।

ঘটনার পরপরই ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ও উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হামজা’ ঘটনাস্থলে পৌঁছে। কিন্তু স্রোতের তীব্রতা ও অন্ধকার নেমে আসায় উদ্ধারকাজ ব্যাহত হচ্ছে। এখনো অনেক যাত্রী নিখোঁজ। তাঁদের পরিবারের সদস্যরা কান্নায় ভেঙে পড়েছেন ঘাটের পাড়ে।

এক নিখোঁজ যাত্রীর স্বজন মো. আলমগীর হোসেন বলেন, “ভাইয়ের মোবাইল বন্ধ। কেউ কিছু জানাচ্ছে না। ঘাটে এসে শুনলাম বাস ডুবে গেছে। আল্লাহ যেন তাদের রহম করে।”

বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া কার্যালয়ের সহকারী মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন বলেন, “উদ্ধার কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। কিন্তু সময় যত যাচ্ছে, আশঙ্কা ততই বাড়ছে।”

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২৬


চোখের সামনে বাস ডুবে গেল, কিছুই করতে পারলাম না

প্রকাশের তারিখ : ২৫ মার্চ ২০২৬

featured Image

দৌলতদিয়া ঘাটে ফেরির অপেক্ষায় থাকা বাসের চালক থেকে শুরু করে চায়ের দোকানি, সবাই ব্যস্ত ছিল নিজ নিজ কাজে। হঠাৎ করেই সবকিছু যেন থমকে গেল।

“বাসের ভেতর থেকে মানুষ চিৎকার করছে, আর আমরা কিছুই করতে পারছি না। নদীর স্রোত অনেক। বাসটা তলিয়ে যেতে লাগল।” চোখ মুছতে মুছতে বলছিলেন ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী মো. রফিকুল ইসলাম। তিনি চায়ের দোকান করেন ঘাটের পাশেই।

ঘাটে দায়িত্বরত পরিবহনের তত্ত্বাবধায়ক মো. মনির হোসেনের কণ্ঠে ছিল শোকের মাতম। তিনি বললেন, “চোখের সামনে বাসটি পন্টুন থেকে পদ্মা নদীতে পড়ে গেল, অথচ আমরা কিছুই করতে পারছিলাম না। বাসে নারী-শিশুসহ অন্তত ৪০ জন যাত্রী ছিল। কয়েকজন যাত্রী সাঁতরে আত্মরক্ষা করতে পারলেও অধিকাংশ বাসের ভেতর আটকা পড়েছে। তাদের চিৎকার এখনো কানে বাজে।”

ঘাটের শ্রমিক জামাল মোল্লা জানান, বাসটি উল্টে যাওয়ার পর কিছু যাত্রী ভেসে ওঠেন। তাঁদের উদ্ধারে ছুটে যান স্থানীয় জেলেরা। আমরা দড়ি ফেলে কয়েকজনকে টেনে তুলতে পেরেছি। কিন্তু বাসের ভেতরে আরও অনেক মানুষ ছিল। নদীটা খুব স্রোতস্বিনী। বাসটাও ধীরে ধীরে তলিয়ে যাচ্ছিল।

ঘটনার পরপরই ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ও উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হামজা’ ঘটনাস্থলে পৌঁছে। কিন্তু স্রোতের তীব্রতা ও অন্ধকার নেমে আসায় উদ্ধারকাজ ব্যাহত হচ্ছে। এখনো অনেক যাত্রী নিখোঁজ। তাঁদের পরিবারের সদস্যরা কান্নায় ভেঙে পড়েছেন ঘাটের পাড়ে।

এক নিখোঁজ যাত্রীর স্বজন মো. আলমগীর হোসেন বলেন, “ভাইয়ের মোবাইল বন্ধ। কেউ কিছু জানাচ্ছে না। ঘাটে এসে শুনলাম বাস ডুবে গেছে। আল্লাহ যেন তাদের রহম করে।”

বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া কার্যালয়ের সহকারী মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন বলেন, “উদ্ধার কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। কিন্তু সময় যত যাচ্ছে, আশঙ্কা ততই বাড়ছে।”


সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত