মহান স্বাধীনতা দিবসের ভোরে যখন পুরো দেশ উৎসবে মেতে ওঠার কথা, তখন রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকায় বইছে শোকের মাতম।
বুধবার (২৫ মার্চ) বিকেলে ৩ নম্বর ফেরিঘাটে সৌহার্দ্য পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উত্তাল পদ্মায় তলিয়ে যাওয়ার ঘটনায় বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) ভোর পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০ জনে। এর মধ্যে মহিলা ১৪ জন ও পুরুষ ৬ জন। সকল মরদেহ রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে দুজন হাসপাতালে মারা গেছেন, যাদের আহত অবস্থায় সেখানে নেওয়া হয়েছিলো। আরও কয়েকজন হাসপাতালে রয়েছেন।
ভোররাত সাড়ে ৪টার দিকে রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক সুলতানা আক্তার নিশ্চিত করেছেন, নদীর তলদেশ থেকে একে একে ২০টি নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারদের অধিকাংশের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে এবং মরদেহগুলো হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।
ফায়ার সার্ভিস ও বিআইডব্লিউটিএ এর উদ্ধারকারী দল জানায়, বাসটি নদীর প্রায় ৮০ থেকে ৯০ ফুট গভীরে পন্টুনের নিচে আটকে গিয়েছিল, যা উদ্ধারকাজকে অত্যন্ত জটিল করে তোলে। উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হামজা’র সহায়তায় দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর বাসটিকে উপরে টেনে তোলা সম্ভব হয়। প্রায় ৫০ জন যাত্রী নিয়ে বাসটি যখন পানিতে তলিয়ে যায়, তখন ভাগ্যক্রমে ১১ জন জানালা দিয়ে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হলেও বাকিরা আটকা পড়েন।
এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় নিহতদের মধ্যে এক জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর মা রয়েছেন এবং ওই শিক্ষার্থী নিজে এখনো নিখোঁজ বলে জানা গেছে। ফায়ার সার্ভিস, নৌ-বাহিনী, সেনাবাহিনী এবং স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বিত এই উদ্ধার অভিযানে স্থানীয় ডুবুরিরাও প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে অংশ নেন।
নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসান এই হৃদয়বিদারক ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তে দুটি পৃথক কমিটি গঠন করেছেন। অতিরিক্ত সচিব মহিদুল ইসলাম এবং অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট উছেন মে এর নেতৃত্বে গঠিত এই কমিটিগুলো আগামী ৩ থেকে ৪ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেবেন।
সরকারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক সহায়তার অংশ হিসেবে নিহত প্রতিটি পরিবারকে ২৫ হাজার টাকা এবং আহতদের ১৫ হাজার টাকা করে প্রদানের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
যান্ত্রিক ত্রুটি নাকি চালকের অসাবধানতায় এই ভয়াবহ বিপর্যয়, তা খতিয়ে দেখতে প্রশাসন কঠোর অবস্থান নিয়েছে।

বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৬ মার্চ ২০২৬
মহান স্বাধীনতা দিবসের ভোরে যখন পুরো দেশ উৎসবে মেতে ওঠার কথা, তখন রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকায় বইছে শোকের মাতম।
বুধবার (২৫ মার্চ) বিকেলে ৩ নম্বর ফেরিঘাটে সৌহার্দ্য পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উত্তাল পদ্মায় তলিয়ে যাওয়ার ঘটনায় বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) ভোর পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০ জনে। এর মধ্যে মহিলা ১৪ জন ও পুরুষ ৬ জন। সকল মরদেহ রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে দুজন হাসপাতালে মারা গেছেন, যাদের আহত অবস্থায় সেখানে নেওয়া হয়েছিলো। আরও কয়েকজন হাসপাতালে রয়েছেন।
ভোররাত সাড়ে ৪টার দিকে রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক সুলতানা আক্তার নিশ্চিত করেছেন, নদীর তলদেশ থেকে একে একে ২০টি নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারদের অধিকাংশের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে এবং মরদেহগুলো হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।
ফায়ার সার্ভিস ও বিআইডব্লিউটিএ এর উদ্ধারকারী দল জানায়, বাসটি নদীর প্রায় ৮০ থেকে ৯০ ফুট গভীরে পন্টুনের নিচে আটকে গিয়েছিল, যা উদ্ধারকাজকে অত্যন্ত জটিল করে তোলে। উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হামজা’র সহায়তায় দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর বাসটিকে উপরে টেনে তোলা সম্ভব হয়। প্রায় ৫০ জন যাত্রী নিয়ে বাসটি যখন পানিতে তলিয়ে যায়, তখন ভাগ্যক্রমে ১১ জন জানালা দিয়ে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হলেও বাকিরা আটকা পড়েন।
এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় নিহতদের মধ্যে এক জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর মা রয়েছেন এবং ওই শিক্ষার্থী নিজে এখনো নিখোঁজ বলে জানা গেছে। ফায়ার সার্ভিস, নৌ-বাহিনী, সেনাবাহিনী এবং স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বিত এই উদ্ধার অভিযানে স্থানীয় ডুবুরিরাও প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে অংশ নেন।
নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসান এই হৃদয়বিদারক ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তে দুটি পৃথক কমিটি গঠন করেছেন। অতিরিক্ত সচিব মহিদুল ইসলাম এবং অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট উছেন মে এর নেতৃত্বে গঠিত এই কমিটিগুলো আগামী ৩ থেকে ৪ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেবেন।
সরকারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক সহায়তার অংশ হিসেবে নিহত প্রতিটি পরিবারকে ২৫ হাজার টাকা এবং আহতদের ১৫ হাজার টাকা করে প্রদানের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
যান্ত্রিক ত্রুটি নাকি চালকের অসাবধানতায় এই ভয়াবহ বিপর্যয়, তা খতিয়ে দেখতে প্রশাসন কঠোর অবস্থান নিয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন