রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে বাসডুবির ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৬ জনে। এর মধ্যে জেলা প্রশাসন ইতিমধ্যে ২৫ জনের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করেছে। এ ঘটনায় ১১ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এখনো কয়েকজন নিখোঁজ আছেন; তাদের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
উদ্ধার করা মরদেহগুলোর মধ্যে চারজন ছেলে শিশু, তিনজন কন্যাশিশু, ১১ জন নারী ও আটজন পুরুষ রয়েছেন। নিহতদের মধ্যে একই পরিবারের একাধিক সদস্য থাকায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
রাজবাড়ী শহরের লালমিয়া সড়ক, সজ্জনকান্দা ও দাদশী ইউনিয়নের কয়েকটি পরিবারে একাধিক প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে, যা দুর্ঘটনার বেদনা আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
নিহতরা হলেন : রাজবাড়ী পৌরসভার লালমিয়া সড়ক ভবানীপুর এলাকার মৃত ইসমাইল হোসেন খানের স্ত্রী রেহেনা আক্তার (৬১), কুষ্টিয়া পৌরসভার ১৮ নম্বর ওয়ার্ড মজমপুর এলাকার মো. আবু বক্কর সিদ্দিকের স্ত্রী মর্জিনা খাতুন (৫৬), কুষ্টিয়া সদর উপজেলার খাগড়বাড়ীয়া এলাকার হিমাংশু বিশ্বাসের ছেলে রাজীব বিশ্বাস (২৮), রাজবাড়ী পৌরসভার সজ্জনকান্দা এলাকার মৃত ডা. আবদুল আলীমের মেয়ে জহুরা অন্তি (২৭), একই এলাকার কাজী মুকুলের ছেলে কাজী সাইফ (৩০), গোয়ালন্দ উপজেলার ছোট ভাকলা ইউনিয়ন চর বারকিপাড়া এলাকার রেজাউল করিমের স্ত্রী মর্জিনা আক্তার (৩২), কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার দেলোয়ার হোসেনের ছেলে ইসরাফিল (৩), গোয়ালন্দ উপজেলার রেজাউল করিমের মেয়ে সাফিয়া আক্তার রিন্থি (১২), রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলার বিল্লাল হোসেনের ছেলে ফাইজ শাহানূর (১১), রাজবাড়ী পৌরসভার কেবিএম মুসাব্বিরের ছেলে তাজবিদ (৭), রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার আরব খানের ছেলে আরমান খান (৩১) (বাসচালক), রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলার আব্দুল আজিজের স্ত্রী নাজমিরা ওরফে জেসমিন (৩০), রাজবাড়ী সদর উপজেলার মিজানপুর এলাকার সোবাহান মন্ডলের মেয়ে লিমা আক্তার (২৬), একই এলাকার মান্নান মন্ডলের স্ত্রী জোস্না (৩৫), গোপালগঞ্জ জেলার মৃত জাহাঙ্গীর আলমের স্ত্রী মুক্তা খানম (৩৮), দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার মৃত নূর ইসলামের স্ত্রী নাছিমা (৪০), ঢাকার আশুলিয়া এলাকার মো. নুরুজ্জামানের স্ত্রী আয়েশা আক্তার সুমা (৩০), রাজবাড়ী পৌরসভার সোহেল মোল্লার মেয়ে সোহা আক্তার (১১), কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার গিয়াসউদ্দিন রিপনের মেয়ে আয়েশা সিদ্দিকা (১৩), ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার নুরুজ্জামানের ছেলে শিশু আরমান (৭ মাস), রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলার আব্দুল আজিজের ছেলে আব্দুর রহমান (৬), রাজবাড়ী সদর উপজেলার শরিফুল ইসলামের ছেলে সাবিত হাসান (৮), রাজবাড়ী সদর উপজেলার ইসমাইল হোসেন খানের ছেলে আহনাফ তাহমিদ খান (২৫), রাজবাড়ীর কালুখালীর মজনু শেখের ছেলে উজ্জ্বল শেখ (৫০), একই উপজেলার মদাপুর গ্রামের আফসার শেখের ছেলে আশরাফুল (২৪) এবং বোয়ালিয়া এলাকার মৃত সানাউল্লাহর ছেলে জাহাঙ্গীর (৫৫)।
এর আগে বুধবার (২৫ মার্চ) বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে ছেড়ে আসা ‘সৌহার্দ্য পরিবহনের’ একটি যাত্রীবাহী বাস দৌলতদিয়া ৩ নম্বর ফেরিঘাটে পন্টুন হয়ে ফেরিতে ওঠার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে পড়ে যায়। দুর্ঘটনাস্থলটি গভীর হওয়ায় উদ্ধারকাজে শুরু থেকেই জটিলতা দেখা দেয়।
ঘটনার পরপরই দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে অবস্থানরত উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হামজা’ ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। তবে রাত ৮টা ৪৫ মিনিটের দিকে ঝড়ো বৃষ্টির কারণে কিছু সময়ের জন্য উদ্ধার কার্যক্রম ব্যাহত হয়। পরে আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে পুনরায় অভিযান শুরু হয়। দীর্ঘ প্রায় সাত ঘণ্টার অভিযানে রাত সাড়ে ১২টার দিকে ডুবে যাওয়া বাসটি উদ্ধার করা হয়। ওই সময় নারী ও শিশুসহ ১৪ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) বেলা ২টা পর্যন্ত মোট ২৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহতদের স্বজনদের আহাজারিতে হাসপাতাল ও বাড়িঘরগুলোতে শোকাবহ পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। প্রিয়জন হারানোর বেদনায় ভেঙে পড়েছেন তারা। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাথী দাস, জেলা প্রশাসক সুলতানা আক্তার, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর মোরশেদ, রাজবাড়ী-২ আসনের সংসদ সদস্য হারুন অর রশিদ, সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম ও নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে ফেরা সাকিব হোসেন, আব্দুল আজিজ, দেলোয়ার হোসেন ও শিশু আলিফ জানান, বাসটিতে নারী-শিশুসহ প্রায় ৫৫ থেকে ৬০ জন যাত্রী ছিলেন। পন্টুনে ওঠার আগে কয়েকজন যাত্রী নেমে গেলেও অধিকাংশ যাত্রী বাসের মধ্যেই ছিলেন। দুর্ঘটনার পর স্থানীয়দের সহায়তায় আট থেকে ১০ জনকে জীবিত উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়।
স্থানীয়দের দাবি, এ ধরনের দুর্ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে ঘাট এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার ও যানবাহন নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
এ সময় নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান বলেন, ‘সহায়তা দিয়ে মানুষকে আর ফিরিয়ে আনা যায় না। যার যা অবস্থা, তিনি তা বুঝতে পারেন। আমরা লাশ দাফনের জন্য জেলা প্রশাসন থেকে প্রতিজনকে ২৫ হাজার টাকা করে এবং আহতদের প্রতিজনকে চিকিৎসার জন্য ১৫ হাজার টাকা করে সহায়তা প্রদান করব।
আর যারা মারা গেছেন, তাদের সংখ্যা পুরোপুরি নিরূপণের পর তাদের পরিবারকে স্থায়ী পুনর্বাসনের সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে। অভিযান রাতে তো চলবেই, দিনে আরও বেগবান হবে। অনেকখানি এলাকা জুড়ে আমরা খোঁজার চেষ্টা করব। যতক্ষণ পর্যন্ত একজন নিখোঁজ থাকবে, ততক্ষণ এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।’
জেলা প্রশাসক সুলতানা আক্তার বলেন, ‘অতিরিক্ত গতির কারণে বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে পড়ে যায় বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।’
তিনি জানান, ঘটনাস্থলে ডুবুরি দল ও উদ্ধারকারী জাহাজ কাজ করছে এবং ঢাকা থেকে আরও ডুবুরি দল আসছে। উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।
সর্বশেষ বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) দুপুর ২টায় ফরিদপুর ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের সহকারী পরিচালক মো. বেলাল উদ্দিন বলেন, ‘এখন পর্যন্ত মোট শিশু, নারী ও পুরুষ মিলিয়ে ২৬ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে ২৫ জনের মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে। যতক্ষণ নিখোঁজ কারও স্বজন মরদেহ খুঁজতে চাইবেন, ততক্ষণ আমাদের এ অভিযান অব্যাহত থাকবে। আমাদের পাঁচটি ইউনিট এ অভিযান পরিচালনা করছে।’

বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৬ মার্চ ২০২৬
রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে বাসডুবির ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৬ জনে। এর মধ্যে জেলা প্রশাসন ইতিমধ্যে ২৫ জনের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করেছে। এ ঘটনায় ১১ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এখনো কয়েকজন নিখোঁজ আছেন; তাদের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
উদ্ধার করা মরদেহগুলোর মধ্যে চারজন ছেলে শিশু, তিনজন কন্যাশিশু, ১১ জন নারী ও আটজন পুরুষ রয়েছেন। নিহতদের মধ্যে একই পরিবারের একাধিক সদস্য থাকায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
রাজবাড়ী শহরের লালমিয়া সড়ক, সজ্জনকান্দা ও দাদশী ইউনিয়নের কয়েকটি পরিবারে একাধিক প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে, যা দুর্ঘটনার বেদনা আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
নিহতরা হলেন : রাজবাড়ী পৌরসভার লালমিয়া সড়ক ভবানীপুর এলাকার মৃত ইসমাইল হোসেন খানের স্ত্রী রেহেনা আক্তার (৬১), কুষ্টিয়া পৌরসভার ১৮ নম্বর ওয়ার্ড মজমপুর এলাকার মো. আবু বক্কর সিদ্দিকের স্ত্রী মর্জিনা খাতুন (৫৬), কুষ্টিয়া সদর উপজেলার খাগড়বাড়ীয়া এলাকার হিমাংশু বিশ্বাসের ছেলে রাজীব বিশ্বাস (২৮), রাজবাড়ী পৌরসভার সজ্জনকান্দা এলাকার মৃত ডা. আবদুল আলীমের মেয়ে জহুরা অন্তি (২৭), একই এলাকার কাজী মুকুলের ছেলে কাজী সাইফ (৩০), গোয়ালন্দ উপজেলার ছোট ভাকলা ইউনিয়ন চর বারকিপাড়া এলাকার রেজাউল করিমের স্ত্রী মর্জিনা আক্তার (৩২), কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার দেলোয়ার হোসেনের ছেলে ইসরাফিল (৩), গোয়ালন্দ উপজেলার রেজাউল করিমের মেয়ে সাফিয়া আক্তার রিন্থি (১২), রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলার বিল্লাল হোসেনের ছেলে ফাইজ শাহানূর (১১), রাজবাড়ী পৌরসভার কেবিএম মুসাব্বিরের ছেলে তাজবিদ (৭), রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার আরব খানের ছেলে আরমান খান (৩১) (বাসচালক), রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলার আব্দুল আজিজের স্ত্রী নাজমিরা ওরফে জেসমিন (৩০), রাজবাড়ী সদর উপজেলার মিজানপুর এলাকার সোবাহান মন্ডলের মেয়ে লিমা আক্তার (২৬), একই এলাকার মান্নান মন্ডলের স্ত্রী জোস্না (৩৫), গোপালগঞ্জ জেলার মৃত জাহাঙ্গীর আলমের স্ত্রী মুক্তা খানম (৩৮), দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার মৃত নূর ইসলামের স্ত্রী নাছিমা (৪০), ঢাকার আশুলিয়া এলাকার মো. নুরুজ্জামানের স্ত্রী আয়েশা আক্তার সুমা (৩০), রাজবাড়ী পৌরসভার সোহেল মোল্লার মেয়ে সোহা আক্তার (১১), কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার গিয়াসউদ্দিন রিপনের মেয়ে আয়েশা সিদ্দিকা (১৩), ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার নুরুজ্জামানের ছেলে শিশু আরমান (৭ মাস), রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলার আব্দুল আজিজের ছেলে আব্দুর রহমান (৬), রাজবাড়ী সদর উপজেলার শরিফুল ইসলামের ছেলে সাবিত হাসান (৮), রাজবাড়ী সদর উপজেলার ইসমাইল হোসেন খানের ছেলে আহনাফ তাহমিদ খান (২৫), রাজবাড়ীর কালুখালীর মজনু শেখের ছেলে উজ্জ্বল শেখ (৫০), একই উপজেলার মদাপুর গ্রামের আফসার শেখের ছেলে আশরাফুল (২৪) এবং বোয়ালিয়া এলাকার মৃত সানাউল্লাহর ছেলে জাহাঙ্গীর (৫৫)।
এর আগে বুধবার (২৫ মার্চ) বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে ছেড়ে আসা ‘সৌহার্দ্য পরিবহনের’ একটি যাত্রীবাহী বাস দৌলতদিয়া ৩ নম্বর ফেরিঘাটে পন্টুন হয়ে ফেরিতে ওঠার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে পড়ে যায়। দুর্ঘটনাস্থলটি গভীর হওয়ায় উদ্ধারকাজে শুরু থেকেই জটিলতা দেখা দেয়।
ঘটনার পরপরই দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে অবস্থানরত উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হামজা’ ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। তবে রাত ৮টা ৪৫ মিনিটের দিকে ঝড়ো বৃষ্টির কারণে কিছু সময়ের জন্য উদ্ধার কার্যক্রম ব্যাহত হয়। পরে আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে পুনরায় অভিযান শুরু হয়। দীর্ঘ প্রায় সাত ঘণ্টার অভিযানে রাত সাড়ে ১২টার দিকে ডুবে যাওয়া বাসটি উদ্ধার করা হয়। ওই সময় নারী ও শিশুসহ ১৪ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) বেলা ২টা পর্যন্ত মোট ২৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহতদের স্বজনদের আহাজারিতে হাসপাতাল ও বাড়িঘরগুলোতে শোকাবহ পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। প্রিয়জন হারানোর বেদনায় ভেঙে পড়েছেন তারা। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাথী দাস, জেলা প্রশাসক সুলতানা আক্তার, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর মোরশেদ, রাজবাড়ী-২ আসনের সংসদ সদস্য হারুন অর রশিদ, সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম ও নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে ফেরা সাকিব হোসেন, আব্দুল আজিজ, দেলোয়ার হোসেন ও শিশু আলিফ জানান, বাসটিতে নারী-শিশুসহ প্রায় ৫৫ থেকে ৬০ জন যাত্রী ছিলেন। পন্টুনে ওঠার আগে কয়েকজন যাত্রী নেমে গেলেও অধিকাংশ যাত্রী বাসের মধ্যেই ছিলেন। দুর্ঘটনার পর স্থানীয়দের সহায়তায় আট থেকে ১০ জনকে জীবিত উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়।
স্থানীয়দের দাবি, এ ধরনের দুর্ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে ঘাট এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার ও যানবাহন নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
এ সময় নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান বলেন, ‘সহায়তা দিয়ে মানুষকে আর ফিরিয়ে আনা যায় না। যার যা অবস্থা, তিনি তা বুঝতে পারেন। আমরা লাশ দাফনের জন্য জেলা প্রশাসন থেকে প্রতিজনকে ২৫ হাজার টাকা করে এবং আহতদের প্রতিজনকে চিকিৎসার জন্য ১৫ হাজার টাকা করে সহায়তা প্রদান করব।
আর যারা মারা গেছেন, তাদের সংখ্যা পুরোপুরি নিরূপণের পর তাদের পরিবারকে স্থায়ী পুনর্বাসনের সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে। অভিযান রাতে তো চলবেই, দিনে আরও বেগবান হবে। অনেকখানি এলাকা জুড়ে আমরা খোঁজার চেষ্টা করব। যতক্ষণ পর্যন্ত একজন নিখোঁজ থাকবে, ততক্ষণ এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।’
জেলা প্রশাসক সুলতানা আক্তার বলেন, ‘অতিরিক্ত গতির কারণে বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে পড়ে যায় বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।’
তিনি জানান, ঘটনাস্থলে ডুবুরি দল ও উদ্ধারকারী জাহাজ কাজ করছে এবং ঢাকা থেকে আরও ডুবুরি দল আসছে। উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।
সর্বশেষ বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) দুপুর ২টায় ফরিদপুর ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের সহকারী পরিচালক মো. বেলাল উদ্দিন বলেন, ‘এখন পর্যন্ত মোট শিশু, নারী ও পুরুষ মিলিয়ে ২৬ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে ২৫ জনের মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে। যতক্ষণ নিখোঁজ কারও স্বজন মরদেহ খুঁজতে চাইবেন, ততক্ষণ আমাদের এ অভিযান অব্যাহত থাকবে। আমাদের পাঁচটি ইউনিট এ অভিযান পরিচালনা করছে।’

আপনার মতামত লিখুন