সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

স্বাধীনতা দিবস: অঙ্গীকার হোক বৈষম্যমুক্ত সমাজ গড়ার


প্রকাশ : ২৬ মার্চ ২০২৬

স্বাধীনতা দিবস: অঙ্গীকার হোক বৈষম্যমুক্ত সমাজ গড়ার

২৬ মার্চ আমাদের জাতীয় জীবনের এক অবিস্মরণীয় দিন। একাত্তরের এই দিনে স্বাধীনতার আনুষ্ঠানিক ঘোষণার মধ্য দিয়ে বাংলার মানুষ চূড়ান্তভাবে মুক্তির পথে যাত্রা শুরু করে। পাকিস্তান আমলের দীর্ঘ শোষণ, বঞ্চনা ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে একাত্তরে অস্তিত্ব রক্ষার সংগ্রামে অবতীর্ণ হয়েছিল বাংলার মানুষ। সেই সংগ্রামের ফলেই অর্জিত হয়েছে স্বাধীন বাংলাদেশে। একাত্তরের প্রাণ দিয়েছেন লাখো মানুষ। আত্মত্যাগ স্বীকার করেছেন লাখো নারী। আজকের দিনে আমরা তাদের আত্মত্যাগকে গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করি।

মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনায় বৈষম্যহীন সমাজ গঠনের অঙ্গীকার ছিল স্পষ্ট। অর্থনৈতিক উন্নয়ন, সামাজিক ন্যায়বিচার, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ছিল মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম আকাঙ্ক্ষা। প্রশ্ন হচ্ছে, স্বাধীনতার ৫৫ বছর পর আমরা মুক্তিযুদ্ধের আকাঙ্ক্ষা কতটা পূরণ করতে পেরেছি?

আজও সমাজে নানান মাত্রার জাতিগত বৈষম্য, লিঙ্গ বৈষম্য, অর্থনৈতিক বৈষম্য রয়েছে। চব্বিশে যে আন্দোলন হয়েছে সেখানে বৈষম্যমুক্ত, অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ প্রতিষ্ঠার কথা বলা হয়েছিল। বাস্তবতা হচ্ছে, চব্বিশের পর সমাজে অনেকক্ষেত্রে বৈষম্য বেড়েছে। চব্বিশের পর অনেক ক্ষেত্রে মনে হয়েছে, দেশ অন্ধকারের দিকে যাত্রা শুরু করেছে। সেসময় লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্য সবচেয়ে প্রকট আকার ধারণ করে। নারী সমাজের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি সংকীর্ণ হয়। চব্বিশের আন্দোলনে নারীরা ছিলেন সম্মুখ সারিতে। হতাশজনক বিষয় হচ্ছে, দেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তাদেরকে আড়াল করা হয়েছে বা তাদের অনেকেই উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে দৃশ্যপট থেকে সরে যেতে বাধ্য হয়েছেন।

জাতিগত বৈষম্য এবং অর্থনৈতিক বৈষম্যও সমান্তরালভাবে সমাজকে প্রভাবিত করছে। উন্নয়নের সুফল সবার কাছে সমানভাবে পৌঁছায়নি। ফলে সমাজের একটি অংশ ক্রমাগত এগিয়ে গেলেও উল্লেখযোগ্য অংশ পিছিয়ে থাকছে।

মানবাধিকার পরিস্থিতির ক্ষেত্রেও প্রশ্ন রয়ে গেছে। চব্বিশের আগে গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যার মতো গুরুতর অভিযোগ ছিল। দুঃখজনকভাবে চব্বিশের পরও এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে। অন্তর্বর্তী সরকার আমলে ইচ্ছামতো আটক বা ভিন্নমতের ওপর চাপ সৃষ্টির অভিযোগ উঠেছে। সে সময় বিশেষভাবে উদ্বেগের বিষয় হয়ে ওঠে মব সন্ত্রাস। রাষ্ট্রীয় আইনব্যবস্থার বাইরে গিয়ে শাস্তি দেয়ার প্রবণতার কারণে ন্যায়বিচারের ধারণাই তখন দুর্বল হয়ে পড়ে।

স্বাধীনতা দিবস আমাদের জন্য আত্মসমালোচনার দিনও। স্বাধীনতার চেতনা বাস্তবায়নের জন্য সব ধরনের বৈষম্য দূর করা, মানবাধিকার সুরক্ষা এবং আইনের শাসন নিশ্চিত করা জরুরি। স্বাধীনতা তখনই অর্থবহ হবে, যখন দেশের সব মানুষের জন্য সমান মর্যাদা, নিরাপত্তা ও সুযোগ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। বৈষম্যমুক্ত সমাজ গড়ে তোলাই হোক আজকের দিনের অঙ্গীকার।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬


স্বাধীনতা দিবস: অঙ্গীকার হোক বৈষম্যমুক্ত সমাজ গড়ার

প্রকাশের তারিখ : ২৬ মার্চ ২০২৬

featured Image

২৬ মার্চ আমাদের জাতীয় জীবনের এক অবিস্মরণীয় দিন। একাত্তরের এই দিনে স্বাধীনতার আনুষ্ঠানিক ঘোষণার মধ্য দিয়ে বাংলার মানুষ চূড়ান্তভাবে মুক্তির পথে যাত্রা শুরু করে। পাকিস্তান আমলের দীর্ঘ শোষণ, বঞ্চনা ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে একাত্তরে অস্তিত্ব রক্ষার সংগ্রামে অবতীর্ণ হয়েছিল বাংলার মানুষ। সেই সংগ্রামের ফলেই অর্জিত হয়েছে স্বাধীন বাংলাদেশে। একাত্তরের প্রাণ দিয়েছেন লাখো মানুষ। আত্মত্যাগ স্বীকার করেছেন লাখো নারী। আজকের দিনে আমরা তাদের আত্মত্যাগকে গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করি।

মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনায় বৈষম্যহীন সমাজ গঠনের অঙ্গীকার ছিল স্পষ্ট। অর্থনৈতিক উন্নয়ন, সামাজিক ন্যায়বিচার, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ছিল মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম আকাঙ্ক্ষা। প্রশ্ন হচ্ছে, স্বাধীনতার ৫৫ বছর পর আমরা মুক্তিযুদ্ধের আকাঙ্ক্ষা কতটা পূরণ করতে পেরেছি?

আজও সমাজে নানান মাত্রার জাতিগত বৈষম্য, লিঙ্গ বৈষম্য, অর্থনৈতিক বৈষম্য রয়েছে। চব্বিশে যে আন্দোলন হয়েছে সেখানে বৈষম্যমুক্ত, অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ প্রতিষ্ঠার কথা বলা হয়েছিল। বাস্তবতা হচ্ছে, চব্বিশের পর সমাজে অনেকক্ষেত্রে বৈষম্য বেড়েছে। চব্বিশের পর অনেক ক্ষেত্রে মনে হয়েছে, দেশ অন্ধকারের দিকে যাত্রা শুরু করেছে। সেসময় লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্য সবচেয়ে প্রকট আকার ধারণ করে। নারী সমাজের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি সংকীর্ণ হয়। চব্বিশের আন্দোলনে নারীরা ছিলেন সম্মুখ সারিতে। হতাশজনক বিষয় হচ্ছে, দেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তাদেরকে আড়াল করা হয়েছে বা তাদের অনেকেই উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে দৃশ্যপট থেকে সরে যেতে বাধ্য হয়েছেন।

জাতিগত বৈষম্য এবং অর্থনৈতিক বৈষম্যও সমান্তরালভাবে সমাজকে প্রভাবিত করছে। উন্নয়নের সুফল সবার কাছে সমানভাবে পৌঁছায়নি। ফলে সমাজের একটি অংশ ক্রমাগত এগিয়ে গেলেও উল্লেখযোগ্য অংশ পিছিয়ে থাকছে।

মানবাধিকার পরিস্থিতির ক্ষেত্রেও প্রশ্ন রয়ে গেছে। চব্বিশের আগে গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যার মতো গুরুতর অভিযোগ ছিল। দুঃখজনকভাবে চব্বিশের পরও এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে। অন্তর্বর্তী সরকার আমলে ইচ্ছামতো আটক বা ভিন্নমতের ওপর চাপ সৃষ্টির অভিযোগ উঠেছে। সে সময় বিশেষভাবে উদ্বেগের বিষয় হয়ে ওঠে মব সন্ত্রাস। রাষ্ট্রীয় আইনব্যবস্থার বাইরে গিয়ে শাস্তি দেয়ার প্রবণতার কারণে ন্যায়বিচারের ধারণাই তখন দুর্বল হয়ে পড়ে।

স্বাধীনতা দিবস আমাদের জন্য আত্মসমালোচনার দিনও। স্বাধীনতার চেতনা বাস্তবায়নের জন্য সব ধরনের বৈষম্য দূর করা, মানবাধিকার সুরক্ষা এবং আইনের শাসন নিশ্চিত করা জরুরি। স্বাধীনতা তখনই অর্থবহ হবে, যখন দেশের সব মানুষের জন্য সমান মর্যাদা, নিরাপত্তা ও সুযোগ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। বৈষম্যমুক্ত সমাজ গড়ে তোলাই হোক আজকের দিনের অঙ্গীকার।



সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত