নওগাঁর বদলগাছীতে ঘুষ বাণিজ্য নিয়ে খবর প্রকাশের জেরে মিঠু হাসান নামে এক সাংবাদিকের বিরুদ্ধে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন বদলগাছী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লুৎফর রহমান। ১৮ মার্চ দায়েরকৃত এই জিডিতে সংবাদটিকে উদ্দেশ্য প্রণোদিত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় সাংবাদিক ও সচেতন মহলে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।
এর আগে ‘৩ হাজারের ফোনে ঘুষ দাবি ৪ হাজার টাকা’ শিরোনামে বদলগাছী থানার পুলিশের এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঘুষ দাবির অভিযোগ তুলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশ করেন জেলা ও উপজেলার কয়েকজন সাংবাদিকের সঙ্গে ‘আজকের পত্রিকা’র প্রতিনিধি মিঠু হাসানও। তিনি ওই পত্রিকায় বদলগাছী উপজেলা প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত।
প্রকাশিত প্রতিবেদন ও ভুক্তভোগী সাংবাদিক সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ৭ এপ্রিল বিউটি বেগম নামে এক নারী একটি স্মার্টফোন হারানোর ঘটনায় বদলগাছী থানায় জিডি করেছিলেন। চলতি বছরের ১৫ মার্চ বিউটি বেগমের মুঠোফোনে কল করে তাকে থানায় ডেকে নেন আজিজার নামে এক উপ-পরিদর্শক (এসআই)। এরপর ফোনটির অবস্থান শনাক্ত হয়েছে জানিয়ে উদ্ধারের জন্য ৪ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেন তিনি।
বিষয়টি স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মীদের কাছে জানালে তা খবর হিসেবে প্রকাশিত হয়। খবর প্রকাশের পর দেশের বিভিন্ন প্রিন্ট ও অনলাইন নিউজপোর্টালসহ আজকের পত্রিকাতেও বিষয়টি আলোচিত হয়। পরে অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যকে থানার দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার (ক্লোজড) করে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়। ঘটনা খতিয়ে দেখার জন্য একটি তদন্ত কমিটিও গঠিত হয়।
বদলগাছী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা লুৎফর রহমান খবরটিকে উদ্দেশ্য প্রণোদিত হিসেবে উল্লেখ করে জিডিতে বলেন, “গত বছর নিহার চন্দ্র নামে এক এসআই মোবাইল হারানোর এই জিডিটি তদন্ত করেছিলেন। আজিজার রহমান নামে কোন এসআই বর্তমানে থানায় কর্মরত নেই। তবে এএম আজিজুর রহমান নামে এক পিএসআই থানায় কর্মরত আছেন। প্রাথমিক তদন্তে সংবাদটির কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি।”
জিডিতে আরও বলা হয়, “সাংবাদিক পরিচয়ধারী মিঠু হাসান খবরটি যাচাই না করেই ফেসবুকে পোস্ট করে পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করার চেষ্টা করেছেন। বিষয়টি ভবিষ্যতের জন্য ডায়েরীভুক্ত করা হলো।”
মিঠু হাসান বলেন, “একজন পেশাদার সাংবাদিক হিসেবে তথ্য ও প্রমাণ যাচাই করেই খবর প্রকাশ করেছি। জিডির মাধ্যমে আমাকে চাপে ফেলার চেষ্টা করা হচ্ছে। এটি স্পষ্টভাবে স্বাধীন সাংবাদিকতাকে ভয় দেখানোর এবং দমিয়ে রাখার একটি অপচেষ্টা। তবে কোনো চাপ বা ভয়ভীতি দেখিয়ে সত্য প্রকাশ থেকে বিরত রাখা যাবে না।”
বদলগাছী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) নজরুল ইসলাম বলেন, “সাংবাদিক মিঠুর বিরুদ্ধে একটি জিডি হয়েছে এমন কথা আমি শুনেছি। তবে ওসি নিজে দায়ের করেছেন কি না তা আমার জানা নেই।”
নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, “প্রয়োজনে পুলিশ যে কোনো ঘটনায় জিডি করতে পারে। তবে জিডিতে ভাষাগত ত্রুটি লক্ষ্য করা হয়েছে। ব্যক্তির বিরুদ্ধে জিডি করার সুযোগ নেই; ঘটনা সংক্রান্ত বিষয় উল্লেখ করে জিডি করতে হয়। প্রকাশিত খবর নজরে আসার পর অভিযুক্ত এসআইকে ক্লোজড করা হয়েছে। তদন্ত চলমান রয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৬ মার্চ ২০২৬
নওগাঁর বদলগাছীতে ঘুষ বাণিজ্য নিয়ে খবর প্রকাশের জেরে মিঠু হাসান নামে এক সাংবাদিকের বিরুদ্ধে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন বদলগাছী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লুৎফর রহমান। ১৮ মার্চ দায়েরকৃত এই জিডিতে সংবাদটিকে উদ্দেশ্য প্রণোদিত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় সাংবাদিক ও সচেতন মহলে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।
এর আগে ‘৩ হাজারের ফোনে ঘুষ দাবি ৪ হাজার টাকা’ শিরোনামে বদলগাছী থানার পুলিশের এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঘুষ দাবির অভিযোগ তুলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশ করেন জেলা ও উপজেলার কয়েকজন সাংবাদিকের সঙ্গে ‘আজকের পত্রিকা’র প্রতিনিধি মিঠু হাসানও। তিনি ওই পত্রিকায় বদলগাছী উপজেলা প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত।
প্রকাশিত প্রতিবেদন ও ভুক্তভোগী সাংবাদিক সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ৭ এপ্রিল বিউটি বেগম নামে এক নারী একটি স্মার্টফোন হারানোর ঘটনায় বদলগাছী থানায় জিডি করেছিলেন। চলতি বছরের ১৫ মার্চ বিউটি বেগমের মুঠোফোনে কল করে তাকে থানায় ডেকে নেন আজিজার নামে এক উপ-পরিদর্শক (এসআই)। এরপর ফোনটির অবস্থান শনাক্ত হয়েছে জানিয়ে উদ্ধারের জন্য ৪ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেন তিনি।
বিষয়টি স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মীদের কাছে জানালে তা খবর হিসেবে প্রকাশিত হয়। খবর প্রকাশের পর দেশের বিভিন্ন প্রিন্ট ও অনলাইন নিউজপোর্টালসহ আজকের পত্রিকাতেও বিষয়টি আলোচিত হয়। পরে অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যকে থানার দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার (ক্লোজড) করে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়। ঘটনা খতিয়ে দেখার জন্য একটি তদন্ত কমিটিও গঠিত হয়।
বদলগাছী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা লুৎফর রহমান খবরটিকে উদ্দেশ্য প্রণোদিত হিসেবে উল্লেখ করে জিডিতে বলেন, “গত বছর নিহার চন্দ্র নামে এক এসআই মোবাইল হারানোর এই জিডিটি তদন্ত করেছিলেন। আজিজার রহমান নামে কোন এসআই বর্তমানে থানায় কর্মরত নেই। তবে এএম আজিজুর রহমান নামে এক পিএসআই থানায় কর্মরত আছেন। প্রাথমিক তদন্তে সংবাদটির কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি।”
জিডিতে আরও বলা হয়, “সাংবাদিক পরিচয়ধারী মিঠু হাসান খবরটি যাচাই না করেই ফেসবুকে পোস্ট করে পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করার চেষ্টা করেছেন। বিষয়টি ভবিষ্যতের জন্য ডায়েরীভুক্ত করা হলো।”
মিঠু হাসান বলেন, “একজন পেশাদার সাংবাদিক হিসেবে তথ্য ও প্রমাণ যাচাই করেই খবর প্রকাশ করেছি। জিডির মাধ্যমে আমাকে চাপে ফেলার চেষ্টা করা হচ্ছে। এটি স্পষ্টভাবে স্বাধীন সাংবাদিকতাকে ভয় দেখানোর এবং দমিয়ে রাখার একটি অপচেষ্টা। তবে কোনো চাপ বা ভয়ভীতি দেখিয়ে সত্য প্রকাশ থেকে বিরত রাখা যাবে না।”
বদলগাছী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) নজরুল ইসলাম বলেন, “সাংবাদিক মিঠুর বিরুদ্ধে একটি জিডি হয়েছে এমন কথা আমি শুনেছি। তবে ওসি নিজে দায়ের করেছেন কি না তা আমার জানা নেই।”
নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, “প্রয়োজনে পুলিশ যে কোনো ঘটনায় জিডি করতে পারে। তবে জিডিতে ভাষাগত ত্রুটি লক্ষ্য করা হয়েছে। ব্যক্তির বিরুদ্ধে জিডি করার সুযোগ নেই; ঘটনা সংক্রান্ত বিষয় উল্লেখ করে জিডি করতে হয়। প্রকাশিত খবর নজরে আসার পর অভিযুক্ত এসআইকে ক্লোজড করা হয়েছে। তদন্ত চলমান রয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

আপনার মতামত লিখুন