সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

দৌলতদিয়া ট্র্যাজেডি : কালুখালীর ৮ জনের দাফন সম্পন্ন


সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক
প্রকাশ : ২৬ মার্চ ২০২৬

দৌলতদিয়া ট্র্যাজেডি : কালুখালীর ৮ জনের দাফন সম্পন্ন
ছবি : সংবাদ

রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ঘাটে ফেরিতে ওঠার সময় পদ্মা নদীতে যাত্রীবাহী বাস ডুবে যাওয়ার ঘটনায় কালুখালী উপজেলার নিহত ৮ জনের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) তাদের দাফন সম্পন্ন হয়। স্বজনদের আহাজারিতে এখনো ভারী হয়ে আছে পুরো এলাকা।

কালুখালী উপজেলার রতনদিয়া ইউনিয়নের মহেন্দ্রপুর গ্রামে গিয়ে দেখা যায় বুকফাটা কান্না আর আহাজারি। একই পরিবারের একাধিক স্বজন হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন মো. আব্দুল আজিজ।

তিনি বেঁচে ফিরলেও হারিয়েছেন তার ৬ মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী নাজমীর খাতুন জেসমিন (৩০), আদরের সন্তান আব্দুর রহমান অমীত (১১) এবং খালা শাশুড়ি নাসিমা বেগমকে। বাড়ির আঙিনায় এখন শুধুই স্তব্ধতা—যেখানে কিছুদিন আগেও ছিল ঈদের আনন্দের প্রস্তুতি, সেখানে আজ শোকের মাতম।

প্রতিবেশীরা জানান, একসঙ্গে এতগুলো লাশ কোনোভাবেই সহ্য করার মতো নয়। মায়ের কান্না, স্বজনদের আহাজারি আর ছোট ছোট শিশুদের বোবা দৃষ্টিতে পুরো গ্রাম যেন স্তব্ধ হয়ে গেছে।

বোয়ালিয়া ইউনিয়নেও একই চিত্র। উন্নত চিকিৎসার আশায় ঢাকা যাওয়ার পথে প্রাণ হারিয়েছেন স্বামী মো. জাহাঙ্গীর আলম (৪৫) ও মুক্তা খানম (৩৮)। স্ত্রীর জানাজা সম্পন্ন হওয়ার পর স্বামীর লাশের সন্ধানে স্বজনদের কান্নায় আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে ওঠে।

ভবানীপুর গ্রামের ছোট্ট ফাইজ শাহনূর (১১) ঈদের আনন্দে বাড়ি ফিরছিল। কিন্তু তার সেই ফেরা আর হলো না। তার নিথর দেহ দেখে বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন স্বজনরা।

অন্যদিকে মদাপুর ইউনিয়নের তরুণ আশরাফুল ইসলাম (২৪) জীবিকার তাগিদে ঢাকায় ফিরছিলেন। কিন্তু ফিরে এলেন লাশ হয়ে। তাঁর মায়ের আর্তনাদে উপস্থিত সবাই অশ্রুসিক্ত হয়ে পড়েন।

উল্লেখ্য, বুধবার (২৫ মার্চ) বিকেলে দৌলতদিয়া ঘাটের ৩ নম্বর পন্টুনে সৌহার্দ্য পরিবহনের একটি বাস ফেরিতে ওঠার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে পড়ে যায়। দীর্ঘ ছয় ঘণ্টা পর উদ্ধারকারী জাহাজ হামজার মাধ্যমে বাসটি উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় ২৬ জন নিহত হয়েছেন।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬


দৌলতদিয়া ট্র্যাজেডি : কালুখালীর ৮ জনের দাফন সম্পন্ন

প্রকাশের তারিখ : ২৬ মার্চ ২০২৬

featured Image

রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ঘাটে ফেরিতে ওঠার সময় পদ্মা নদীতে যাত্রীবাহী বাস ডুবে যাওয়ার ঘটনায় কালুখালী উপজেলার নিহত ৮ জনের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) তাদের দাফন সম্পন্ন হয়। স্বজনদের আহাজারিতে এখনো ভারী হয়ে আছে পুরো এলাকা।

কালুখালী উপজেলার রতনদিয়া ইউনিয়নের মহেন্দ্রপুর গ্রামে গিয়ে দেখা যায় বুকফাটা কান্না আর আহাজারি। একই পরিবারের একাধিক স্বজন হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন মো. আব্দুল আজিজ।

তিনি বেঁচে ফিরলেও হারিয়েছেন তার ৬ মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী নাজমীর খাতুন জেসমিন (৩০), আদরের সন্তান আব্দুর রহমান অমীত (১১) এবং খালা শাশুড়ি নাসিমা বেগমকে। বাড়ির আঙিনায় এখন শুধুই স্তব্ধতা—যেখানে কিছুদিন আগেও ছিল ঈদের আনন্দের প্রস্তুতি, সেখানে আজ শোকের মাতম।

প্রতিবেশীরা জানান, একসঙ্গে এতগুলো লাশ কোনোভাবেই সহ্য করার মতো নয়। মায়ের কান্না, স্বজনদের আহাজারি আর ছোট ছোট শিশুদের বোবা দৃষ্টিতে পুরো গ্রাম যেন স্তব্ধ হয়ে গেছে।

বোয়ালিয়া ইউনিয়নেও একই চিত্র। উন্নত চিকিৎসার আশায় ঢাকা যাওয়ার পথে প্রাণ হারিয়েছেন স্বামী মো. জাহাঙ্গীর আলম (৪৫) ও মুক্তা খানম (৩৮)। স্ত্রীর জানাজা সম্পন্ন হওয়ার পর স্বামীর লাশের সন্ধানে স্বজনদের কান্নায় আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে ওঠে।

ভবানীপুর গ্রামের ছোট্ট ফাইজ শাহনূর (১১) ঈদের আনন্দে বাড়ি ফিরছিল। কিন্তু তার সেই ফেরা আর হলো না। তার নিথর দেহ দেখে বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন স্বজনরা।

অন্যদিকে মদাপুর ইউনিয়নের তরুণ আশরাফুল ইসলাম (২৪) জীবিকার তাগিদে ঢাকায় ফিরছিলেন। কিন্তু ফিরে এলেন লাশ হয়ে। তাঁর মায়ের আর্তনাদে উপস্থিত সবাই অশ্রুসিক্ত হয়ে পড়েন।

উল্লেখ্য, বুধবার (২৫ মার্চ) বিকেলে দৌলতদিয়া ঘাটের ৩ নম্বর পন্টুনে সৌহার্দ্য পরিবহনের একটি বাস ফেরিতে ওঠার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে পড়ে যায়। দীর্ঘ ছয় ঘণ্টা পর উদ্ধারকারী জাহাজ হামজার মাধ্যমে বাসটি উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় ২৬ জন নিহত হয়েছেন।


সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত