আমরা লড়ছি সত্যের
ও ন্যায়ের জন্য, এই সংগ্রামে আমরাই জয়ী হবই
১৪ হাজার পুলিশ
কর্মস্থল ত্যাগ করে যোগ দেয় মুক্তিযুদ্ধে
একাত্তরের অগ্নিঝরা দিনগুলোতে মহান মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশ পুলিশের ভূমিকা ছিল অনন্য। ২৫ মার্চ রাতে রাজারবাগে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তোলার পর সারা দেশের পুলিশ সদস্যরা দেশমাতৃকার টানে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন।
সেই
উত্তাল সময়ে তৎকালীন পুলিশের
ডিআইজি আব্দুল খালেক সারদা পুলিশ একাডেমির প্রিন্সিপাল হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পাকিস্তানি সেনাবাহিনী সারদা একাডেমি আক্রমণ করলে তিনি অত্যন্ত
কৌশলে ছদ্মবেশ ধারণ করে পদ্মা
নদী পাড়ি দিয়ে ভারতে
প্রবেশ করেন। পরবর্তীতে তিনি কলকাতায় প্রতিষ্ঠিত
স্বাধীন বাংলাদেশ সরকারের প্রথম ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ বা
আইজিপি হিসেবে নিযুক্ত হন। একই সাথে
তিনি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রথম সচিবের দায়িত্বও পালন করেন।
মুক্তিযুদ্ধ
জাদুঘর ও তৎকালীন মুজিবনগর
সরকারের ঐতিহাসিক নথিপত্র পর্যালোচনা করে দেখা যায়,
একাত্তরে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে কর্মরত পুলিশ সদস্যদের মধ্যে প্রায় ১৪ হাজার সদস্য
পাকিস্তানি পক্ষ ত্যাগ করে
সরাসরি মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন। এই
বিশাল সংখ্যক পুলিশ সদস্য কেবল নিজেরাই যুদ্ধ
করেননি, বরং তারা সাধারণ
মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ প্রদান, যোদ্ধা সংগ্রহ এবং যুদ্ধের ময়দানে
সংগঠিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা
পালন করেন। তাদের অদম্য মনোবল ও রণকৌশল মুক্তিযুদ্ধের
গতিকে বেগবান করেছিলো।
যুদ্ধের
সেই সংকটকালীন সময়ে পাকিস্তানি দখলদার
সরকার পুলিশ সদস্যদের নিজ স্বার্থে ব্যবহারের
উদ্দেশ্যে কর্মস্থলে যোগদানের ঘোষণা দেয়। তৎকালীন পাকিস্তান
সরকারের সেই অপকৌশল নস্যাৎ
করে দিয়ে আইজিপি আব্দুল
খালেক এক চিঠির মাধ্যমে
সকল বাঙালি পুলিশ সদস্যকে কর্মস্থলে না ফেরার নির্দেশ
দেন।
চিঠিতে
তিনি পুলিশ বাহিনীকে উদ্বুদ্ধ করে বলেন, সাড়ে
৭ কোটি বাঙালি আজ
ইয়াহিয়া খানের সশস্ত্র বাহিনীর বিরুদ্ধে মরণপণ সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়েছে। আমরা বাংলাদেশের সন্তান,
আমরা বাঙালি এবং আমরাই বাংলাদেশের
পুলিশ। সুতরাং বাংলাদেশের স্বাধীনতা রক্ষা করার মহান দায়িত্ব
এখন আমাদেরই কাঁধে।
আইজিপি
আব্দুল খালেকের হাতে লেখা সেই
ঐতিহাসিক চিঠিটি ছিল তিন পৃষ্ঠার।
চিঠির শেষাংশে তিনি অত্যন্ত দৃঢ়তার
সাথে উল্লেখ করেছিলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতার সংগ্রাম মূলত বাঁচার সংগ্রাম।
সত্য ও ন্যায়ের এই
লড়াইয়ে বিজয় সুনিশ্চিত। ২৫
মার্চের পর থেকে পাকিস্তানি
বাহিনী যে বর্বরতা ও
নিধনযজ্ঞ চালিয়েছে, তার বিরুদ্ধে পুলিশ
বাহিনীকে শেষ পর্যন্ত লড়াই
চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন তিনি।
দেশপ্রেমের
এক অনন্য দলিল হিসেবে আইজিপি
আব্দুল খালেকের সেই মূল চিঠিটি
বর্তমানে পুলিশ মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে সংরক্ষিত রয়েছে।

বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৬ মার্চ ২০২৬
আমরা লড়ছি সত্যের
ও ন্যায়ের জন্য, এই সংগ্রামে আমরাই জয়ী হবই
১৪ হাজার পুলিশ
কর্মস্থল ত্যাগ করে যোগ দেয় মুক্তিযুদ্ধে
একাত্তরের অগ্নিঝরা দিনগুলোতে মহান মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশ পুলিশের ভূমিকা ছিল অনন্য। ২৫ মার্চ রাতে রাজারবাগে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তোলার পর সারা দেশের পুলিশ সদস্যরা দেশমাতৃকার টানে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন।
সেই
উত্তাল সময়ে তৎকালীন পুলিশের
ডিআইজি আব্দুল খালেক সারদা পুলিশ একাডেমির প্রিন্সিপাল হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পাকিস্তানি সেনাবাহিনী সারদা একাডেমি আক্রমণ করলে তিনি অত্যন্ত
কৌশলে ছদ্মবেশ ধারণ করে পদ্মা
নদী পাড়ি দিয়ে ভারতে
প্রবেশ করেন। পরবর্তীতে তিনি কলকাতায় প্রতিষ্ঠিত
স্বাধীন বাংলাদেশ সরকারের প্রথম ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ বা
আইজিপি হিসেবে নিযুক্ত হন। একই সাথে
তিনি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রথম সচিবের দায়িত্বও পালন করেন।
মুক্তিযুদ্ধ
জাদুঘর ও তৎকালীন মুজিবনগর
সরকারের ঐতিহাসিক নথিপত্র পর্যালোচনা করে দেখা যায়,
একাত্তরে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে কর্মরত পুলিশ সদস্যদের মধ্যে প্রায় ১৪ হাজার সদস্য
পাকিস্তানি পক্ষ ত্যাগ করে
সরাসরি মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন। এই
বিশাল সংখ্যক পুলিশ সদস্য কেবল নিজেরাই যুদ্ধ
করেননি, বরং তারা সাধারণ
মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ প্রদান, যোদ্ধা সংগ্রহ এবং যুদ্ধের ময়দানে
সংগঠিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা
পালন করেন। তাদের অদম্য মনোবল ও রণকৌশল মুক্তিযুদ্ধের
গতিকে বেগবান করেছিলো।
যুদ্ধের
সেই সংকটকালীন সময়ে পাকিস্তানি দখলদার
সরকার পুলিশ সদস্যদের নিজ স্বার্থে ব্যবহারের
উদ্দেশ্যে কর্মস্থলে যোগদানের ঘোষণা দেয়। তৎকালীন পাকিস্তান
সরকারের সেই অপকৌশল নস্যাৎ
করে দিয়ে আইজিপি আব্দুল
খালেক এক চিঠির মাধ্যমে
সকল বাঙালি পুলিশ সদস্যকে কর্মস্থলে না ফেরার নির্দেশ
দেন।
চিঠিতে
তিনি পুলিশ বাহিনীকে উদ্বুদ্ধ করে বলেন, সাড়ে
৭ কোটি বাঙালি আজ
ইয়াহিয়া খানের সশস্ত্র বাহিনীর বিরুদ্ধে মরণপণ সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়েছে। আমরা বাংলাদেশের সন্তান,
আমরা বাঙালি এবং আমরাই বাংলাদেশের
পুলিশ। সুতরাং বাংলাদেশের স্বাধীনতা রক্ষা করার মহান দায়িত্ব
এখন আমাদেরই কাঁধে।
আইজিপি
আব্দুল খালেকের হাতে লেখা সেই
ঐতিহাসিক চিঠিটি ছিল তিন পৃষ্ঠার।
চিঠির শেষাংশে তিনি অত্যন্ত দৃঢ়তার
সাথে উল্লেখ করেছিলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতার সংগ্রাম মূলত বাঁচার সংগ্রাম।
সত্য ও ন্যায়ের এই
লড়াইয়ে বিজয় সুনিশ্চিত। ২৫
মার্চের পর থেকে পাকিস্তানি
বাহিনী যে বর্বরতা ও
নিধনযজ্ঞ চালিয়েছে, তার বিরুদ্ধে পুলিশ
বাহিনীকে শেষ পর্যন্ত লড়াই
চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন তিনি।
দেশপ্রেমের
এক অনন্য দলিল হিসেবে আইজিপি
আব্দুল খালেকের সেই মূল চিঠিটি
বর্তমানে পুলিশ মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে সংরক্ষিত রয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন