বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমেছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের জ্বালানি স্থাপনায় হামলা ১০ দিনের জন্য স্থগিতের ঘোষণা দেওয়ায় এই নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা দিয়েছে। পুরো সপ্তাহজুড়ে ওঠানামার পর শুক্রবার (২৭ মার্চ) দিনের শুরুতেই দরপতন শুরু হয় বলে জানিয়েছে রয়টার্স ।
শুক্রবার ভোরে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯০ সেন্ট বা ০.৮ শতাংশ কমে দাঁড়ায় ১০৭.১১ ডলারে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) তেলের দাম ৮৩ সেন্ট বা ০.৮৮ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৯৩.৬৫ ডলারে নেমে আসে।
ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তের ফলে বাজারে সাময়িক স্বস্তি ফিরলেও বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি স্থায়ী সমাধান নয় বরং ‘সময় কেনা’ মাত্র।
বিশ্ববাজারে দাম কমার এই খবর বাংলাদেশের জন্য স্বস্তির হলেও সাম্প্রতিক জ্বালানি পরিস্থিতি ভিন্ন চিত্র দেখাচ্ছে। গত ২৪ মার্চ বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের জেট ফুয়েলের দাম প্রায় ৮০ শতাংশ বাড়িয়েছে। এতে প্রতি লিটার জেট ফুয়েলের দাম ১১২ দশমিক ৪১ টাকা থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০২ দশমিক ২৯ টাকায়।
আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের ক্ষেত্রেও দাম বাড়ানো হয়েছে ০ দশমিক ৭৩৮৫ ডলার থেকে ১ দশমিক ৩২১৬ ডলারে । অ্যাভিয়েশন অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এওএবি) এই দামবৃদ্ধির তীব্র সমালোচনা করেছে। তারা বলেছে, দেশে জ্বালানি তেলের কোনো সংকট নেই, গত ২২ দিনে প্রায় ২৫টি তেলবাহী জাহাজ দেশে এসেছে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমছে।
এ অবস্থায় ভবিষ্যৎ অস্থিরতার আশঙ্কায় এত বড় দামবৃদ্ধি ‘অযৌক্তিক’। প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশের এই মূল্যবৃদ্ধি অনেক বেশি- ভারত ও নেপালে জেট ফুয়েলের দাম অপরিবর্তিত থাকলেও পাকিস্তানে বেড়েছে ২৪ দশমিক ৪৯ শতাংশ, মালদ্বেপে ১৮ দশমিক ৫৪ শতাংশ ।
অন্যদিকে, ডিজেলের দাম এখনো অপরিবর্তিত রয়েছে। সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতিতে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতে তিন লাখ টন ডিজেল কেনার অনুমোদন দিয়েছে সরকার, যা দেশের প্রায় ২৫ দিনের চাহিদা মেটাতে সক্ষম।
তবে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পাম্পে জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে- অনেক পাম্প অর্ধেকের কম সরবরাহ পাচ্ছে, ফলে স্টেশন খোলা-বন্ধ রাখার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে ।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ট্রাম্পের ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি ঘোষণায় বিশ্ববাজারে স্বস্তি এলেও মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক পরিস্থিতি এখনো অস্থিতিশীল। বাংলাদেশের জ্বালানি খাত আমদানিনির্ভর হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারের ওঠানামা এখানকার ভোক্তাদের ওপর প্রভাব ফেলবে।
আপাতত ডিজেলের দাম না বাড়ানোর সিদ্ধান্ত থাকলেও জ্বালানি বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। সূত্র: রয়টার্স, দ্য ফাইন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস, বিডিনিউজ২৪, ডেইলি অবজারভার।

শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৭ মার্চ ২০২৬
বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমেছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের জ্বালানি স্থাপনায় হামলা ১০ দিনের জন্য স্থগিতের ঘোষণা দেওয়ায় এই নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা দিয়েছে। পুরো সপ্তাহজুড়ে ওঠানামার পর শুক্রবার (২৭ মার্চ) দিনের শুরুতেই দরপতন শুরু হয় বলে জানিয়েছে রয়টার্স ।
শুক্রবার ভোরে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯০ সেন্ট বা ০.৮ শতাংশ কমে দাঁড়ায় ১০৭.১১ ডলারে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) তেলের দাম ৮৩ সেন্ট বা ০.৮৮ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৯৩.৬৫ ডলারে নেমে আসে।
ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তের ফলে বাজারে সাময়িক স্বস্তি ফিরলেও বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি স্থায়ী সমাধান নয় বরং ‘সময় কেনা’ মাত্র।
বিশ্ববাজারে দাম কমার এই খবর বাংলাদেশের জন্য স্বস্তির হলেও সাম্প্রতিক জ্বালানি পরিস্থিতি ভিন্ন চিত্র দেখাচ্ছে। গত ২৪ মার্চ বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের জেট ফুয়েলের দাম প্রায় ৮০ শতাংশ বাড়িয়েছে। এতে প্রতি লিটার জেট ফুয়েলের দাম ১১২ দশমিক ৪১ টাকা থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০২ দশমিক ২৯ টাকায়।
আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের ক্ষেত্রেও দাম বাড়ানো হয়েছে ০ দশমিক ৭৩৮৫ ডলার থেকে ১ দশমিক ৩২১৬ ডলারে । অ্যাভিয়েশন অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এওএবি) এই দামবৃদ্ধির তীব্র সমালোচনা করেছে। তারা বলেছে, দেশে জ্বালানি তেলের কোনো সংকট নেই, গত ২২ দিনে প্রায় ২৫টি তেলবাহী জাহাজ দেশে এসেছে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমছে।
এ অবস্থায় ভবিষ্যৎ অস্থিরতার আশঙ্কায় এত বড় দামবৃদ্ধি ‘অযৌক্তিক’। প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশের এই মূল্যবৃদ্ধি অনেক বেশি- ভারত ও নেপালে জেট ফুয়েলের দাম অপরিবর্তিত থাকলেও পাকিস্তানে বেড়েছে ২৪ দশমিক ৪৯ শতাংশ, মালদ্বেপে ১৮ দশমিক ৫৪ শতাংশ ।
অন্যদিকে, ডিজেলের দাম এখনো অপরিবর্তিত রয়েছে। সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতিতে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতে তিন লাখ টন ডিজেল কেনার অনুমোদন দিয়েছে সরকার, যা দেশের প্রায় ২৫ দিনের চাহিদা মেটাতে সক্ষম।
তবে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পাম্পে জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে- অনেক পাম্প অর্ধেকের কম সরবরাহ পাচ্ছে, ফলে স্টেশন খোলা-বন্ধ রাখার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে ।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ট্রাম্পের ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি ঘোষণায় বিশ্ববাজারে স্বস্তি এলেও মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক পরিস্থিতি এখনো অস্থিতিশীল। বাংলাদেশের জ্বালানি খাত আমদানিনির্ভর হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারের ওঠানামা এখানকার ভোক্তাদের ওপর প্রভাব ফেলবে।
আপাতত ডিজেলের দাম না বাড়ানোর সিদ্ধান্ত থাকলেও জ্বালানি বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। সূত্র: রয়টার্স, দ্য ফাইন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস, বিডিনিউজ২৪, ডেইলি অবজারভার।

আপনার মতামত লিখুন