সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

হৃদয়ছোঁয়া কালজয়ী গান

‘আগে জানি না রে দয়াল’ গানের শিল্পী মাহবুবা রহমান


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ : ২৭ মার্চ ২০২৬

‘আগে জানি না রে দয়াল’ গানের শিল্পী মাহবুবা রহমান
একুশে পদকপ্রাপ্ত সংগীতশিল্পী মাহবুবা রহমান

কণ্ঠটা নীরব হয়েছে আজ। কিন্তু যে কণ্ঠ একসময় বলেছিল ‘আগে জানি না রে দয়াল, তুমি যে এমন দয়াল হবে’- সেই কণ্ঠ এখনও বাজছে অগণিত শ্রোতার মনে। একুশে পদকপ্রাপ্ত সংগীতশিল্পী মাহবুবা রহমান চলে গেলেন, কিন্তু রেখে গেলেন এক অমূল্য ভাণ্ডার। গানেই তিনি বেঁচে থাকবেন। 

মাহবুবা রহমানের কণ্ঠে ‘তুমি দাও দেখা দরদী’ গানটি যখন প্রথম বাজত, তখন রেডিওর সামনে জড়ো হতো পরিবার। কালো কালো গ্রামোফোন রেকর্ডে কণ্ঠ ভেসে আসত, আর মায়েরা শুনতে শুনতে ভিজিয়ে দিতেন চোখ। 

এই গান শুধু গান ছিল না, ছিল দরদী মানুষের হৃদয়ের ভাষ্য। গানটি আজও রেখে দেয় শ্রোতাকে ভাবনার জলে। কারণ মাহবুবা রহমানের কণ্ঠে ছিল এক অপার্থিব মায়া- যেন কেউ বলছে নিজের ভেতরের কথা, যেন শুধু আমার জন্যই গাইছেন তিনি।

মাহবুবা রহমানের গাওয়া ‘আমার বন্ধু বিনোদিয়া’ গানটি আজও বন্ধুদের আড্ডায় উঠে আসে। এই গান গাওয়ার সময় তার কণ্ঠে ছিল এক অন্যরকম চপলতা। যেন বন্ধুর সঙ্গে গল্প করছেন, যেন হাত ধরে হেঁটে বেড়াচ্ছেন কোনও অজানা পথে। 

ঢাকাই চলচ্চিত্রের শুরুর দিনগুলোতে এই গান ছিল আলাদা এক স্বাদ। সিনেমার গান বলতে যা বোঝানো হতো, ‘আমার বন্ধু বিনোদিয়া’ সেটাকে ছাপিয়ে গিয়েছিল- এটি হয়ে উঠেছিল যৌবনের উচ্ছ্বাসের প্রতীক।

‘আজকে আমার মালঞ্চে ফুল ফোটে নাই’- এই গানের কথা যেন মাহবুবা রহমানের শেষ দিনগুলোর সঙ্গে মিলে যায়। কণ্ঠশিল্পী যিনি একসময় হাজারো গানে ফুল ফুটিয়েছেন, সেই মালঞ্চে আজ নেই কোনো ফুল। কিন্তু এই গানটিই এখন শ্রোতাদের জন্য এক আশ্চর্য উপমা। ‘ফুল ফোটে নাই’ বলে ব্যথা পেলেও, গানটির ভেতর দিয়ে তিনি জানান দিয়েছিলেন- ফুল না ফুটলেও মালঞ্চ তো রয়েই যায়। ঠিক তেমনই, তিনি না থাকলেও তার গানগুলো রয়ে যায়।

মাহবুবা রহমানের সব গানের মধ্যে ‘আগে জানি না রে দয়াল’ গানটির অবস্থান একটু আলাদা। এই গান যেন তার পুরো জীবনকে আয়নার মতো দেখায়। সংগীতশিল্পী হিসেবে তিনি পেয়েছিলেন বিপুল জনপ্রিয়তা, কিন্তু নিভৃতেই কেটেছে তাঁর শেষ জীবন। 

যেন তিনি বলতে চেয়েছেন, ‘আগে জানি না রে দয়াল, তুমি যে এমন দয়াল হবে’- জীবনের শেষ প্রহরে এসে হয়তো তিনি বুঝতে পেরেছিলেন, সংগীতই ছিল তাঁর সবচেয়ে বড় দয়াল বন্ধু। সেই সংগীতই তাঁকে ভরিয়ে রেখেছিল, সেই সংগীতই তাঁকে বাঁচিয়ে রাখবে।

গানের ভেতর দিয়ে মাহবুবা রহমান বলেছিলেন, ‘আমার যদি থাকত পাখির ডানা’- সে পাখির ডানা আজ আর নেই। কিন্তু তার গাওয়া গানগুলো যেন পাখির মতোই উড়ে বেড়ায় শ্রোতার মনে। মাহবুবা রহমান আর নেই, কিন্তু তার কণ্ঠে গাওয়া ‘আগে জানি না রে দয়াল’ আজও অমর বাংলার ঘরে ঘরে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬


‘আগে জানি না রে দয়াল’ গানের শিল্পী মাহবুবা রহমান

প্রকাশের তারিখ : ২৭ মার্চ ২০২৬

featured Image

কণ্ঠটা নীরব হয়েছে আজ। কিন্তু যে কণ্ঠ একসময় বলেছিল ‘আগে জানি না রে দয়াল, তুমি যে এমন দয়াল হবে’- সেই কণ্ঠ এখনও বাজছে অগণিত শ্রোতার মনে। একুশে পদকপ্রাপ্ত সংগীতশিল্পী মাহবুবা রহমান চলে গেলেন, কিন্তু রেখে গেলেন এক অমূল্য ভাণ্ডার। গানেই তিনি বেঁচে থাকবেন। 

মাহবুবা রহমানের কণ্ঠে ‘তুমি দাও দেখা দরদী’ গানটি যখন প্রথম বাজত, তখন রেডিওর সামনে জড়ো হতো পরিবার। কালো কালো গ্রামোফোন রেকর্ডে কণ্ঠ ভেসে আসত, আর মায়েরা শুনতে শুনতে ভিজিয়ে দিতেন চোখ। 

এই গান শুধু গান ছিল না, ছিল দরদী মানুষের হৃদয়ের ভাষ্য। গানটি আজও রেখে দেয় শ্রোতাকে ভাবনার জলে। কারণ মাহবুবা রহমানের কণ্ঠে ছিল এক অপার্থিব মায়া- যেন কেউ বলছে নিজের ভেতরের কথা, যেন শুধু আমার জন্যই গাইছেন তিনি।

মাহবুবা রহমানের গাওয়া ‘আমার বন্ধু বিনোদিয়া’ গানটি আজও বন্ধুদের আড্ডায় উঠে আসে। এই গান গাওয়ার সময় তার কণ্ঠে ছিল এক অন্যরকম চপলতা। যেন বন্ধুর সঙ্গে গল্প করছেন, যেন হাত ধরে হেঁটে বেড়াচ্ছেন কোনও অজানা পথে। 

ঢাকাই চলচ্চিত্রের শুরুর দিনগুলোতে এই গান ছিল আলাদা এক স্বাদ। সিনেমার গান বলতে যা বোঝানো হতো, ‘আমার বন্ধু বিনোদিয়া’ সেটাকে ছাপিয়ে গিয়েছিল- এটি হয়ে উঠেছিল যৌবনের উচ্ছ্বাসের প্রতীক।

‘আজকে আমার মালঞ্চে ফুল ফোটে নাই’- এই গানের কথা যেন মাহবুবা রহমানের শেষ দিনগুলোর সঙ্গে মিলে যায়। কণ্ঠশিল্পী যিনি একসময় হাজারো গানে ফুল ফুটিয়েছেন, সেই মালঞ্চে আজ নেই কোনো ফুল। কিন্তু এই গানটিই এখন শ্রোতাদের জন্য এক আশ্চর্য উপমা। ‘ফুল ফোটে নাই’ বলে ব্যথা পেলেও, গানটির ভেতর দিয়ে তিনি জানান দিয়েছিলেন- ফুল না ফুটলেও মালঞ্চ তো রয়েই যায়। ঠিক তেমনই, তিনি না থাকলেও তার গানগুলো রয়ে যায়।

মাহবুবা রহমানের সব গানের মধ্যে ‘আগে জানি না রে দয়াল’ গানটির অবস্থান একটু আলাদা। এই গান যেন তার পুরো জীবনকে আয়নার মতো দেখায়। সংগীতশিল্পী হিসেবে তিনি পেয়েছিলেন বিপুল জনপ্রিয়তা, কিন্তু নিভৃতেই কেটেছে তাঁর শেষ জীবন। 

যেন তিনি বলতে চেয়েছেন, ‘আগে জানি না রে দয়াল, তুমি যে এমন দয়াল হবে’- জীবনের শেষ প্রহরে এসে হয়তো তিনি বুঝতে পেরেছিলেন, সংগীতই ছিল তাঁর সবচেয়ে বড় দয়াল বন্ধু। সেই সংগীতই তাঁকে ভরিয়ে রেখেছিল, সেই সংগীতই তাঁকে বাঁচিয়ে রাখবে।

গানের ভেতর দিয়ে মাহবুবা রহমান বলেছিলেন, ‘আমার যদি থাকত পাখির ডানা’- সে পাখির ডানা আজ আর নেই। কিন্তু তার গাওয়া গানগুলো যেন পাখির মতোই উড়ে বেড়ায় শ্রোতার মনে। মাহবুবা রহমান আর নেই, কিন্তু তার কণ্ঠে গাওয়া ‘আগে জানি না রে দয়াল’ আজও অমর বাংলার ঘরে ঘরে।


সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত