ঢাকার প্রথম সবাক চলচ্চিত্র ‘মুখ ও মুখোশ’-এর কিংবদন্তি কণ্ঠ শেষ শ্রদ্ধার অপেক্ষায়। একুশে পদকপ্রাপ্ত সংগীতশিল্পী মাহবুবা রহমানের মরদেহ মগবাজারের শ্রুতি স্টুডিওতে রাখা হয়েছে। শুক্রবার (২৭ মার্চ) বাদ জুমা মগবাজার ওয়্যারলেস জামে মসজিদে জানাজা শেষে মিরপুর বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত হবেন তিনি।
গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা ১৫ মিনিটে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এই কিংবদন্তি শিল্পী। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯১ বছর। খবরটি নিশ্চিত করেছেন তাঁর ছোট মেয়ে খ্যাতিমান সংগীতশিল্পী রুমানা ইসলাম।
রুমানা ইসলাম জানান, গত ৭ মার্চ বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতা নিয়ে মাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এর সঙ্গে যোগ হয় নিউমোনিয়া। শেষ পর্যন্ত সব চেষ্টার পরেও আর ফেরানো যায়নি তাঁকে। রুমানা ইসলাম বললেন, “আম্মু চলে গেলেন। কিন্তু তাঁর গানগুলো তো রেখে গেলেন। সেগুলো আমাদের সঙ্গে থাকবে।”
মাহবুবা রহমানের মরদেহ এখন মগবাজারের পুরোনো শ্রুতি স্টুডিওতে রাখা আছে। এই স্টুডিওটি ছিল তাঁর স্বামী খান আতাউর রহমানের সাংস্কৃতিক চর্চার কেন্দ্র। সেখানেই গড়ে উঠেছিল বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ও সংগীতের অনেক স্মৃতি।
শিল্পী, সংস্কৃতিকর্মী ও গুণীজনদের শেষ ঠিকানা মিরপুর বুদ্ধিজীবী কবরস্থানেই শায়িত হবেন মাহবুবা রহমান। শুক্রবার বাদ জুমা মগবাজার ওয়্যারলেস জামে মসজিদে প্রথম জানাজা হবে। পরে সেখানে দ্বিতীয় জানাজার পর তাঁকে বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে দাফন করা হবে।
এদিকে, মাহবুবা রহমানের মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে সংগীতাঙ্গনে। বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতি, বাংলাদেশ সংগীত শিল্পী সংসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন গভীর শোক প্রকাশ করেছে। সংগীতশিল্পীরা বলছেন, মাহবুবা রহমান ছিলেন ঢাকাই চলচ্চিত্রের প্রথম সারির সেই কণ্ঠশিল্পী, যিনি বাংলা গানের এক সোনালি অধ্যায় রচনা করে গেছেন।
১৯৫৬ সালে ‘মুখ ও মুখোশ’ ছবির ‘মনের বনে দোলা লাগে’ গান দিয়ে পথচলা শুরু। এরপর ‘আমার গলার হার খুলে নে ওগো ললিতে’- এই গানটি এনে দেয় অমরত্ব। ‘আমার যদি থাকত পাখির ডানা’, ‘সোনালি এই ধানের ক্ষেতে’, ‘আগে জানি না রে দয়াল’, ‘তুমি দাও দেখা দরদী’, ‘আমার বন্ধু বিনোদিয়া’- এসব গান আজও বাঙালির হৃদয়ে বাজে।
‘জাগো হুয়া সাভেরা’, ‘আসিয়া’, ‘এ দেশ তোমার আমার’, ‘যে নদী মরুপথে’, ‘নবাব সিরাজউদ্দৌলা’- ঢাকাই চলচ্চিত্রের প্রথম দিকের প্রায় সব ক’টি গুরুত্বপূর্ণ ছবিতেই ছিল তাঁর কণ্ঠ।
কয়েক দশক ধরেই সংগীতজগতের বাইরে নিভৃতেই কেটেছে মাহবুবা রহমানের সময়। ১৯৩৫ সালের ৩ মার্চ চট্টগ্রামে জন্ম নেওয়া এই শিল্পীর প্রকৃত নাম নিভা রানী রায়। মাত্র ১২ বছর বয়সে অল ইন্ডিয়া রেডিও ঢাকা কেন্দ্রে গান পরিবেশন করেছিলেন তিনি।
দুইবারের সংসার জীবনে তিনি সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব খান আতাউর রহমানের সঙ্গে পরিণয়সূত্রে আবদ্ধ হন। এর আগে আবুল হাসনাতকে বিয়ে করেছিলেন। খান আতাউর রহমানের ঘরে তাঁর দুই মেয়ে ও এক ছেলে। কন্যা রুমানা ইসলাম সংগীতশিল্পী হিসেবে পরিচিত।

শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৭ মার্চ ২০২৬
ঢাকার প্রথম সবাক চলচ্চিত্র ‘মুখ ও মুখোশ’-এর কিংবদন্তি কণ্ঠ শেষ শ্রদ্ধার অপেক্ষায়। একুশে পদকপ্রাপ্ত সংগীতশিল্পী মাহবুবা রহমানের মরদেহ মগবাজারের শ্রুতি স্টুডিওতে রাখা হয়েছে। শুক্রবার (২৭ মার্চ) বাদ জুমা মগবাজার ওয়্যারলেস জামে মসজিদে জানাজা শেষে মিরপুর বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত হবেন তিনি।
গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা ১৫ মিনিটে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এই কিংবদন্তি শিল্পী। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯১ বছর। খবরটি নিশ্চিত করেছেন তাঁর ছোট মেয়ে খ্যাতিমান সংগীতশিল্পী রুমানা ইসলাম।
রুমানা ইসলাম জানান, গত ৭ মার্চ বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতা নিয়ে মাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এর সঙ্গে যোগ হয় নিউমোনিয়া। শেষ পর্যন্ত সব চেষ্টার পরেও আর ফেরানো যায়নি তাঁকে। রুমানা ইসলাম বললেন, “আম্মু চলে গেলেন। কিন্তু তাঁর গানগুলো তো রেখে গেলেন। সেগুলো আমাদের সঙ্গে থাকবে।”
মাহবুবা রহমানের মরদেহ এখন মগবাজারের পুরোনো শ্রুতি স্টুডিওতে রাখা আছে। এই স্টুডিওটি ছিল তাঁর স্বামী খান আতাউর রহমানের সাংস্কৃতিক চর্চার কেন্দ্র। সেখানেই গড়ে উঠেছিল বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ও সংগীতের অনেক স্মৃতি।
শিল্পী, সংস্কৃতিকর্মী ও গুণীজনদের শেষ ঠিকানা মিরপুর বুদ্ধিজীবী কবরস্থানেই শায়িত হবেন মাহবুবা রহমান। শুক্রবার বাদ জুমা মগবাজার ওয়্যারলেস জামে মসজিদে প্রথম জানাজা হবে। পরে সেখানে দ্বিতীয় জানাজার পর তাঁকে বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে দাফন করা হবে।
এদিকে, মাহবুবা রহমানের মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে সংগীতাঙ্গনে। বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতি, বাংলাদেশ সংগীত শিল্পী সংসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন গভীর শোক প্রকাশ করেছে। সংগীতশিল্পীরা বলছেন, মাহবুবা রহমান ছিলেন ঢাকাই চলচ্চিত্রের প্রথম সারির সেই কণ্ঠশিল্পী, যিনি বাংলা গানের এক সোনালি অধ্যায় রচনা করে গেছেন।
১৯৫৬ সালে ‘মুখ ও মুখোশ’ ছবির ‘মনের বনে দোলা লাগে’ গান দিয়ে পথচলা শুরু। এরপর ‘আমার গলার হার খুলে নে ওগো ললিতে’- এই গানটি এনে দেয় অমরত্ব। ‘আমার যদি থাকত পাখির ডানা’, ‘সোনালি এই ধানের ক্ষেতে’, ‘আগে জানি না রে দয়াল’, ‘তুমি দাও দেখা দরদী’, ‘আমার বন্ধু বিনোদিয়া’- এসব গান আজও বাঙালির হৃদয়ে বাজে।
‘জাগো হুয়া সাভেরা’, ‘আসিয়া’, ‘এ দেশ তোমার আমার’, ‘যে নদী মরুপথে’, ‘নবাব সিরাজউদ্দৌলা’- ঢাকাই চলচ্চিত্রের প্রথম দিকের প্রায় সব ক’টি গুরুত্বপূর্ণ ছবিতেই ছিল তাঁর কণ্ঠ।
কয়েক দশক ধরেই সংগীতজগতের বাইরে নিভৃতেই কেটেছে মাহবুবা রহমানের সময়। ১৯৩৫ সালের ৩ মার্চ চট্টগ্রামে জন্ম নেওয়া এই শিল্পীর প্রকৃত নাম নিভা রানী রায়। মাত্র ১২ বছর বয়সে অল ইন্ডিয়া রেডিও ঢাকা কেন্দ্রে গান পরিবেশন করেছিলেন তিনি।
দুইবারের সংসার জীবনে তিনি সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব খান আতাউর রহমানের সঙ্গে পরিণয়সূত্রে আবদ্ধ হন। এর আগে আবুল হাসনাতকে বিয়ে করেছিলেন। খান আতাউর রহমানের ঘরে তাঁর দুই মেয়ে ও এক ছেলে। কন্যা রুমানা ইসলাম সংগীতশিল্পী হিসেবে পরিচিত।

আপনার মতামত লিখুন