ইরানের বিপ্লবী গার্ড (আইআরজিসি) যুদ্ধের প্রয়োজনে সহায়ক ভূমিকায় নিয়োগের বয়সসীমা ১২ বছরে নামিয়ে এনেছে। তেহরানের চেকপয়েন্ট ও টহল কার্যক্রমে শিশুদের অংশ নেওয়ার এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা ও উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।
গত কয়েকদিন ধরে ইসরায়েল হায়োম, দ্য নিউ আরব, এনডিটিভি, টাইমস নাউ ও ভ্যানগার্ড নিউজসহ একাধিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম এই খবর নিশ্চিত করেছে।
আইআরজিসির তেহরান শাখার সাংস্কৃতিক কর্মকর্তা রহিম নাদালি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে বলেন, ‘ফর ইরান’ শীর্ষক উদ্যোগের আওতায় স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে শিশুরা অংশ নিচ্ছে। তিনি বলেন, আমরা সর্বনিম্ন বয়সসীমা ১২-এ নামিয়ে এনেছি। কারণ ১২-১৩ বছর বয়সীরা অংশ নিতে চায় ।
শিশুদের মূলত বাসিজ মিলিশিয়ার অধীনে তেহরানের বিভিন্ন চেকপয়েন্টে টহল, নজরদারি ও রসদ সরবরাহের কাজে নিযুক্ত করা হচ্ছে। তেহরানের বাসিন্দারা এএফপিকে জানিয়েছেন, ভারী অস্ত্রসজ্জিত ট্রাক ও প্রাইভেট গাড়িতে করে শিশুরা সাবমেশিনগান ও কালাশনিকভ নিয়ে টহল দিচ্ছে।
এক বাসিন্দা জানান, ‘মিসাইল আঘাত হানার পরপরই পুরো এলাকা সিল করে দেওয়া হয়। অপ্রশিক্ষিত কিশোররা তখন অস্ত্র হাতে মানুষের ওপর চিৎকার করে নির্দেশ দেয়’।
এই পদক্ষেপ জাতিসংঘের শিশু অধিকার সনদের স্পষ্ট লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করেছে একাধিক সংবাদমাধ্যম। সনদে ১৫ বছরের নিচে কাউকে সামরিক কার্যক্রমে নিয়োগ না দেওয়ার কথা রয়েছে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের রোম সংবিধিও ১৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের সংঘাতে ব্যবহার করাকে যুদ্ধাপরাধ হিসেবে গণ্য করে ।
বিশ্লেষকরা বলছেন, যুদ্ধের তীব্রতায় বাসিজ বাহিনীতে প্রাপ্তবয়স্ক স্বেচ্ছাসেবকের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। যার জেরেই এই সিদ্ধান্ত।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলায় বাসিজ বাহিনীর ব্যাপক হতাহতের ঘটনায় তাদের মনোবলও ভেঙে পড়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যেই এই ঘটনা নতুন করে মানবাধিকার উদ্বেগ তৈরি করেছে। সূত্র: ইসরায়েল হায়োম, দ্য নিউ আরব, এনডিটিভি, এএফপি

শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৭ মার্চ ২০২৬
ইরানের বিপ্লবী গার্ড (আইআরজিসি) যুদ্ধের প্রয়োজনে সহায়ক ভূমিকায় নিয়োগের বয়সসীমা ১২ বছরে নামিয়ে এনেছে। তেহরানের চেকপয়েন্ট ও টহল কার্যক্রমে শিশুদের অংশ নেওয়ার এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা ও উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।
গত কয়েকদিন ধরে ইসরায়েল হায়োম, দ্য নিউ আরব, এনডিটিভি, টাইমস নাউ ও ভ্যানগার্ড নিউজসহ একাধিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম এই খবর নিশ্চিত করেছে।
আইআরজিসির তেহরান শাখার সাংস্কৃতিক কর্মকর্তা রহিম নাদালি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে বলেন, ‘ফর ইরান’ শীর্ষক উদ্যোগের আওতায় স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে শিশুরা অংশ নিচ্ছে। তিনি বলেন, আমরা সর্বনিম্ন বয়সসীমা ১২-এ নামিয়ে এনেছি। কারণ ১২-১৩ বছর বয়সীরা অংশ নিতে চায় ।
শিশুদের মূলত বাসিজ মিলিশিয়ার অধীনে তেহরানের বিভিন্ন চেকপয়েন্টে টহল, নজরদারি ও রসদ সরবরাহের কাজে নিযুক্ত করা হচ্ছে। তেহরানের বাসিন্দারা এএফপিকে জানিয়েছেন, ভারী অস্ত্রসজ্জিত ট্রাক ও প্রাইভেট গাড়িতে করে শিশুরা সাবমেশিনগান ও কালাশনিকভ নিয়ে টহল দিচ্ছে।
এক বাসিন্দা জানান, ‘মিসাইল আঘাত হানার পরপরই পুরো এলাকা সিল করে দেওয়া হয়। অপ্রশিক্ষিত কিশোররা তখন অস্ত্র হাতে মানুষের ওপর চিৎকার করে নির্দেশ দেয়’।
এই পদক্ষেপ জাতিসংঘের শিশু অধিকার সনদের স্পষ্ট লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করেছে একাধিক সংবাদমাধ্যম। সনদে ১৫ বছরের নিচে কাউকে সামরিক কার্যক্রমে নিয়োগ না দেওয়ার কথা রয়েছে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের রোম সংবিধিও ১৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের সংঘাতে ব্যবহার করাকে যুদ্ধাপরাধ হিসেবে গণ্য করে ।
বিশ্লেষকরা বলছেন, যুদ্ধের তীব্রতায় বাসিজ বাহিনীতে প্রাপ্তবয়স্ক স্বেচ্ছাসেবকের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। যার জেরেই এই সিদ্ধান্ত।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলায় বাসিজ বাহিনীর ব্যাপক হতাহতের ঘটনায় তাদের মনোবলও ভেঙে পড়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যেই এই ঘটনা নতুন করে মানবাধিকার উদ্বেগ তৈরি করেছে। সূত্র: ইসরায়েল হায়োম, দ্য নিউ আরব, এনডিটিভি, এএফপি

আপনার মতামত লিখুন