নতুন দিগন্তের নতুন সংখ্যায় মুক্তিযুদ্ধকে অগ্রাধিকার
বিশিষ্ট লেখক, বুদ্ধিজীবী, শিক্ষাবিদ, অধ্যাপক (ইমেরিটাস) সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী সম্পাদিত ত্রৈমাসিক পত্রিকা ‘নতুন দিগন্ত’কে এখন আর কারো কাছে পরিচয় করিয়ে দিতে হয় না। পত্রিকাটি খ্যাত তার নিজ গুণেই। আমাদের প্রতিদিনের রাজনৈতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক, সাহিত্যিক ও শৈল্পিক ভাবনাগুলোর সঙ্কলনই নতুন দিগন্ত। দীর্ঘ চব্বিশ বছর ধরে পত্রিকাটি আমাদের এইসব বিবিধ চাহিদা পূরণ করে আসছে। আমাদের তৃষিত মনের প্রাত্যহিক ক্ষুধা মেটানোর এই মুখপত্র সব সময় সমকালীন কণ্ঠস্বরকে ধারণ করে। যেমন এই স্বাধীনতার মাস, উত্তাল মার্চের কথা বিবেচনা করে এই মাসে প্রকাশিত সংখ্যাটিতে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে ছাব্বিশে মার্চ স্বাধীনতা দিবসের প্রতি। মুক্তিযুদ্ধের সময় ত্রিপুরার ভূমিকা কতটা অনিবার্য ছিল, তা আমাদের সকলের জানা। ‘একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে ত্রিপুরা’ শিরোনামের লেখাটিতে ত্রিপুরার লেখক/সাংবাদিক তাপস দেবনাথ এ বিষয়ে আলোকপাত করেছেন। এ বিষয়ে যাদের ধারণা সীমিত, তাদের জন্য লেখাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ‘মুক্তিযুদ্ধের ভিতর বাহির’ শিরোনামের প্রবন্ধ লিখেছেন লেখক সিরাজ উদ্দিন সাথী। এটিও অত্যন্ত সমৃদ্ধ ও সুলিখিত প্রবন্ধ। আরও বিভিন্ন বিয়য়ে প্রবন্ধ লিখেছেন— কাকলী সাহা, দীপা দত্ত, আহমদ বশীর ও গওহার নঈম ওয়ারা। এ সংখ্যার আর একটি গুরুত্বপূর্ণ রচনা লিখেছেন সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী নিজেই। ‘আত্মজৈবনিক রচনা’ শিরোনামের লেখাটি থেকে লেখকের জবানীতে অনেক অজানা তথ্য জানা যাবে। এ সংখ্যায় গল্প লিখেছেন হরিপদ দত্ত ও মঞ্জু সরকার। নূরুদ্দিন জাহাঙ্গীরের অনুবাদে রয়েছে ‘উত্তরে অভিবাসনের মওসুম’ ধারাবাহিক উপন্যাস।কবিতা লিখেছেন কবি ফারুক আলমগীর, নাসির আহমেদ, মাহমুদ কামাল, জাহিদ হায়দার ও আইউব সৈয়দ। চিন্তা অধ্যায়ে লিখেছেন এ.এস.এম. কামাল উদ্দিন, একেএম শামসুদ্দিন ও হারুন-অর-রশিদ। স্মরণ অধ্যায়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়েছে বদরুদ্দীন উমর ও আহমদ রফিককে। এ দুজনকে নিয়ে লিখেছেন যথাক্রমে চৌধুরী মুফাদ আহমদ ও ইসমাইল সাদী।‘ধর্ম ও শ্রেণী-সংগ্রামের মাঝখানে পূর্ব বাংলার এক কৃষক নেতা: তাঁর মাঠের গল্প’ লিখেছেন আহমদ বশীর। সুসম্পাদিত ও বিভিন্ন বিষয়ের মানসমৃদ্ধ লেখায় এ সংখ্যাটিও পাঠকের চাহিদা মেটাবে বলে বিশ্বাস। নতুন দিগন্ত। বর্ষ ২৪। সংখ্যা ২। জানুয়ারি-মার্চ ২০২৬ সংখ্যা। সম্পাদক: সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী। নির্বাহী সম্পাদক: মযহারুল ইসলাম বাবলা। প্রচ্ছদ: মুহাম্মদ আলম। লোগো: চারু মাহবুব। মূল্য ৮০ টাকা।