রাজধানীর জ্বালানি তেলের বাজারে চরম অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। সরবরাহ সংকটের কারণে বৃহস্পতিবার রাত থেকে হঠাৎ করেই ঢাকার প্রায় সব ফিলিং স্টেশনে পেট্রোল ও অকটেন বিক্রি বন্ধ হয়ে গেছে। পাম্পগুলোর প্রবেশপথে ‘তেল নেই’ লেখা সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দেওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন ব্যক্তিগত গাড়ি ও মোটরসাইকেল চালকরা।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) রাত থেকেই রাজধানীর চিরচেনা ব্যস্ত
সড়কগুলোতে ভিন্ন এক চিত্র দেখা যাচ্ছে। একের পর এক ফিলিং স্টেশন ঘুরেও তেলের দেখা মিলছে
না। মালিবাগ, হাজীপাড়া, গুলিস্তান ও রমনা এলাকার অধিকাংশ পাম্পে আড়াআড়িভাবে রশি বেঁধে
রাখা হয়েছে। পাম্প কর্মীদের হ্যান্ডমাইকে ঘোষণা দিতে দেখা গেছে যে, ডিপো থেকে সরবরাহ
না আসা পর্যন্ত তেল বিক্রি সম্ভব নয়।
গুলিস্তানের রমনা ফিলিং স্টেশনের এক কর্মকর্তা জানান, বর্তমানে
তাদের কাছে কোনো অকটেন বা পেট্রোল মজুত নেই। সামান্য যা ডিজেল আছে, তা কেবল জরুরি প্রয়োজনে
বিক্রি করা হচ্ছে। আগামী রবিবারের আগে নতুন সরবরাহ পাওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ বলেও জানান
তিনি।
হঠাৎ এই সংকটে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন মোটরসাইকেল চালকরা।
এক পাম্পে তেল না পেয়ে অন্য পাম্পে যাওয়ার পথে অনেকেরই গাড়ির সঞ্চিত তেলটুকুও ফুরিয়ে
যাচ্ছে। ফলে মাঝরাস্তায় গাড়ি ঠেলে নিয়ে যেতে দেখা গেছে অনেককে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে
দাঁড়িয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে গ্রাহকদের।
ক্ষুব্ধ এক মোটরসাইকেল চালক বলেন, "শহরের ৫টা পাম্প
ঘুরলাম, কোথাও তেল নেই। সরকার বলছে পর্যাপ্ত তেল আছে, কিন্তু পাম্পে আসলে পাওয়া যাচ্ছে
না। এই বিভ্রান্তিতে সাধারণ মানুষ বিপদে পড়ছে।"
রাজধানীর অধিকাংশ পাম্প বন্ধ থাকলেও পরীবাগ এলাকার ফিলিং
স্টেশনে কিছুটা ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। সেখানে পেট্রোল ও অকটেন সরবরাহ করা হচ্ছে। তবে
এই খবর ছড়িয়ে পড়ায় সেখানে যানবাহনের উপচে পড়া ভিড় তৈরি হয়েছে। বিশাল লাইনের কারণে ওই
এলাকায় যানজটের সৃষ্টি হয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খাচ্ছে পাম্প কর্তৃপক্ষ।
সেখানে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা চালকদের অভিযোগ, তেল থাকা সত্ত্বেও
অনেক পাম্প ইচ্ছাকৃতভাবে সরবরাহ করছে না বা বিক্রিতে গড়িমসি করছে।
জ্বালানি সংকটের কারণে শুক্রবার বিকেল থেকেই ঢাকার সড়কে যানবাহনের
সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে কমে গেছে। ব্যক্তিগত গাড়ি ও মোটরসাইকেল চলাচল সীমিত হয়ে পড়ায়
অ্যাপভিত্তিক রাইড শেয়ারিং সেবাও ব্যাহত হচ্ছে। ভুক্তভোগীরা আশঙ্কা করছেন, দ্রুত এই
সংকট নিরসন না হলে রাজধানীর গণপরিবহন ও পণ্যবাহী ট্রাক চলাচলও স্থবির হয়ে পড়বে, যা
পুরো পরিবহন ব্যবস্থাকে ভেঙে ফেলতে পারে।
পাম্প মালিকদের দাবি, আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা ও দেশীয়
সরবরাহ লাইনে সমস্যার কারণে ডিপো থেকে পর্যাপ্ত তেল পাওয়া যাচ্ছে না। আজ শুক্রবার কিছু
তেল পৌঁছানোর কথা থাকলেও তা চাহিদার তুলনায় অত্যন্ত সামান্য।

শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৭ মার্চ ২০২৬
রাজধানীর জ্বালানি তেলের বাজারে চরম অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। সরবরাহ সংকটের কারণে বৃহস্পতিবার রাত থেকে হঠাৎ করেই ঢাকার প্রায় সব ফিলিং স্টেশনে পেট্রোল ও অকটেন বিক্রি বন্ধ হয়ে গেছে। পাম্পগুলোর প্রবেশপথে ‘তেল নেই’ লেখা সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দেওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন ব্যক্তিগত গাড়ি ও মোটরসাইকেল চালকরা।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) রাত থেকেই রাজধানীর চিরচেনা ব্যস্ত
সড়কগুলোতে ভিন্ন এক চিত্র দেখা যাচ্ছে। একের পর এক ফিলিং স্টেশন ঘুরেও তেলের দেখা মিলছে
না। মালিবাগ, হাজীপাড়া, গুলিস্তান ও রমনা এলাকার অধিকাংশ পাম্পে আড়াআড়িভাবে রশি বেঁধে
রাখা হয়েছে। পাম্প কর্মীদের হ্যান্ডমাইকে ঘোষণা দিতে দেখা গেছে যে, ডিপো থেকে সরবরাহ
না আসা পর্যন্ত তেল বিক্রি সম্ভব নয়।
গুলিস্তানের রমনা ফিলিং স্টেশনের এক কর্মকর্তা জানান, বর্তমানে
তাদের কাছে কোনো অকটেন বা পেট্রোল মজুত নেই। সামান্য যা ডিজেল আছে, তা কেবল জরুরি প্রয়োজনে
বিক্রি করা হচ্ছে। আগামী রবিবারের আগে নতুন সরবরাহ পাওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ বলেও জানান
তিনি।
হঠাৎ এই সংকটে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন মোটরসাইকেল চালকরা।
এক পাম্পে তেল না পেয়ে অন্য পাম্পে যাওয়ার পথে অনেকেরই গাড়ির সঞ্চিত তেলটুকুও ফুরিয়ে
যাচ্ছে। ফলে মাঝরাস্তায় গাড়ি ঠেলে নিয়ে যেতে দেখা গেছে অনেককে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে
দাঁড়িয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে গ্রাহকদের।
ক্ষুব্ধ এক মোটরসাইকেল চালক বলেন, "শহরের ৫টা পাম্প
ঘুরলাম, কোথাও তেল নেই। সরকার বলছে পর্যাপ্ত তেল আছে, কিন্তু পাম্পে আসলে পাওয়া যাচ্ছে
না। এই বিভ্রান্তিতে সাধারণ মানুষ বিপদে পড়ছে।"
রাজধানীর অধিকাংশ পাম্প বন্ধ থাকলেও পরীবাগ এলাকার ফিলিং
স্টেশনে কিছুটা ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। সেখানে পেট্রোল ও অকটেন সরবরাহ করা হচ্ছে। তবে
এই খবর ছড়িয়ে পড়ায় সেখানে যানবাহনের উপচে পড়া ভিড় তৈরি হয়েছে। বিশাল লাইনের কারণে ওই
এলাকায় যানজটের সৃষ্টি হয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খাচ্ছে পাম্প কর্তৃপক্ষ।
সেখানে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা চালকদের অভিযোগ, তেল থাকা সত্ত্বেও
অনেক পাম্প ইচ্ছাকৃতভাবে সরবরাহ করছে না বা বিক্রিতে গড়িমসি করছে।
জ্বালানি সংকটের কারণে শুক্রবার বিকেল থেকেই ঢাকার সড়কে যানবাহনের
সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে কমে গেছে। ব্যক্তিগত গাড়ি ও মোটরসাইকেল চলাচল সীমিত হয়ে পড়ায়
অ্যাপভিত্তিক রাইড শেয়ারিং সেবাও ব্যাহত হচ্ছে। ভুক্তভোগীরা আশঙ্কা করছেন, দ্রুত এই
সংকট নিরসন না হলে রাজধানীর গণপরিবহন ও পণ্যবাহী ট্রাক চলাচলও স্থবির হয়ে পড়বে, যা
পুরো পরিবহন ব্যবস্থাকে ভেঙে ফেলতে পারে।
পাম্প মালিকদের দাবি, আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা ও দেশীয়
সরবরাহ লাইনে সমস্যার কারণে ডিপো থেকে পর্যাপ্ত তেল পাওয়া যাচ্ছে না। আজ শুক্রবার কিছু
তেল পৌঁছানোর কথা থাকলেও তা চাহিদার তুলনায় অত্যন্ত সামান্য।

আপনার মতামত লিখুন