ডাচ্-বাংলা ব্যাংক পিএলসি ২০২৫ সালে ব্যবসায়িক সাফল্যে বড় ধরনের চমক দেখিয়েছে। গত ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত বছরের আর্থিক ফলাফল পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ব্যাংকটি ৯৬৫ কোটি টাকা নিট মুনাফা অর্জন করেছে। আগের বছরের তুলনায় এই মুনাফার পরিমাণ প্রায় ১০৪ শতাংশ বা ২.০৪ গুণ বেশি। ২৮ এপ্রিল অনুষ্ঠিত ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের ৩০৭তম সভায় এই আর্থিক প্রতিবেদন অনুমোদন করা হয়। পর্ষদ সভায় সভাপতিত্ব করেন ব্যাংকের চেয়ারম্যান মিস সাদিয়া রইয়ান। আর্থিক সূচকে অভাবনীয় এই উন্নতির প্রেক্ষিতে পরিচালনা পর্ষদ ২০২৫ সালের জন্য বিনিয়োগকারীদের জন্য মোট ৩০ শতাংশ লভ্যাংশ দেওয়ার সুপারিশ করেছে। এর মধ্যে ২৫ শতাংশ নগদ (ক্যাশ) এবং ৫ শতাংশ বোনাস (স্টক) লভ্যাংশ হিসেবে দেওয়া হবে। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে ব্যাংকটি ১০ শতাংশ নগদ ও ১০ শতাংশ বোনাস মিলিয়ে মোট ২০ শতাংশ লভ্যাংশ প্রদান করেছিল। আর্থিক প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী, ২০২৫ সালে ব্যাংকটির শেয়ার প্রতি আয় বা ইপিএস উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে ৯.৯৮ টাকায় দাঁড়িয়েছে, যা আগের বছর ছিল মাত্র ৪.৯০ টাকা। একইসাথে শেয়ার প্রতি নিট সম্পদ মূল্যও (এনএভি) বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালে এনএভি যেখানে ৫৩.৩৯ টাকা ছিল, ২০২৫ সাল শেষে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬২.১৪ টাকায়। মুনাফা ও আয়ের পাশাপাশি ব্যাংকটি আর্থিক স্থিতিশীলতা ও ঝুঁকির মোকাবিলার সক্ষমতা বৃদ্ধিতেও সফল হয়েছে। নিয়ন্ত্রক সংস্থার নির্ধারিত হারের তুলনায় ব্যাংকের মূলধন পর্যাপ্ততা বা ক্যাপিটাল টু রিস্ক ওয়েটেড অ্যাসেট রেশিও (সিআরএআর) বেশ শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। ২০২৪ সালে এই অনুপাত ১৩.৮৩ শতাংশ থাকলেও ২০২৫ সালে তা বেড়ে ১৭.১৩ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। চেয়ারম্যান মিস সাদিয়া রইয়ানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই পর্ষদ সভায় ব্যাংকের সার্বিক উন্নতির চিত্রটি আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন পায়।