মানুষের মৌলিক চাহিদা ৫টি এগুলো হলো— খাদ্য, বস্ত্র, শিক্ষা, বাসস্থান, চিকিৎসা। এই পাঁচটি চাহিদা পূরণ হলেই একজন মানুষ স্বাভাবিক ও সুন্দরভাবে জীবনযাপন করতে পারে। এর মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ হলো খাদ্য। বেঁচে থাকার জন্য খাদ্য গ্রহণ প্রয়োজন হয়। সুস্বাস্থ্যের জন্য প্রতিটি মানুষের প্রয়োজন বিশুদ্ধ ও পুষ্টিকর খাবার। কিন্তু আমরা প্রতিনিয়ত যে খাদ্য গ্রহণ করি তাতে রয়েছে ভেজাল। ভেজাল খাদ্য তৈরিতে রাসায়নিক থেকে শুরু করে ভারী ধাতব পদার্থের মতো এমন উপাদান মেশানো হচ্ছে, যা মানবস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। এক ধরনের অসাধু ব্যবসায়ী ভোক্তা সাধারণের চোখে ফাঁকি দিয়ে কীভাবে খাদ্য ভেজাল মেশানো যায় সেই দিকে বেশি নজর রাখছেন।
এ ভেজাল রয়েছে কয়েক ধরনের। খাদ্যভেদে ভেজাল মেশানো প্রক্রিয়াও ভিন্ন সেদিকে সজাগ অসাধু ব্যবসায়ীরা। খাদ্যকে আকর্ষণীয় করার জন্য বিভিন্ন ধরনের রঙ মিশানো, খাদ্যকে আরো ঘন করার জন্য এমাইলামের ব্যবহার, মধুতে কেইন সুগারের ব্যবহার, চাল ও মুড়িকে উজ্জ্বল এবং মাছ, মাংস ও সবজির রক্ষণাবেক্ষণে এবং পশুকে মোটা তাজা করণে ইউরিয়ার ব্যবহার, পচনরোধে ফল-মূল ও শাক-সবজি এবং মাছ-মাংসে ফরমালিনের ব্যবহার, ফল পাকানোর কাজে কেলসিয়াম কার্বাইডের ব্যবহার করা হয়। এ সমস্ত কেমিক্যাল অত্যন্ত বিষাক্ত। এগুলো মানুষের শরীরের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকারক। এমনকি এগুলো ক্যানসারের মতো মরণব্যাধিকেও ডেকে আনতে পারে। দেশজুড়ে ভেজালের জাল যেভাবে বিস্তৃত, তাতে যেকোনো প্রকারের খাদ্য, ফলমূল-শাক-সবজি-মাছ কেনার ক্ষেত্রে ক্রেতার নিজের সাবধানতা জরুরি। তবে অবিরাম এই মনুষ্যত্বহীন অত্যাচার সহ্য করার ক্ষমতাও রয়েছে বাঙালির। উদাসীন হবার কারণে বিষ খেয়েও কেউ কারো অত্যাচারের প্রতিবাদ করতে তেমন একটা দেখা যায় না। সবাই যেন জেনে-শুনেই বিষ পান করে আত্মাহুতি দিয়ে যাচ্ছে। এ যেন রবি ঠাকুরের বিখ্যাত গানের বাস্তব রূপ—
‘আমি জেনে-শুনে বিষ করেছি পান,
প্রাণেরও আশা ছেড়ে সঁপেছি প্রাণ।’
দুঃখজনক হলেও সত্য, অসাধু ব্যবসায়ীরা এসব আইনের তোয়াক্কা না করে খাবারে অবাধে মিশিয়ে যাচ্ছে ক্ষতিকারক রাসায়নিক পদার্থ। এইসব ক্ষতিকারক রাসায়নিক পদার্থ মিশ্রণে ধরা পড়লে জেল জরিমানাও করা হচ্ছে, কিন্তু তবুও থেমে নেই অসাধু ব্যবসায়ীরা। এমনকি জীবন রক্ষাকারী ওষুধেও নকল তৈরি হচ্ছে— যা জীবন রক্ষার বিপরীতে জীবননাশের কাজ করছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আইন থাকা সত্ত্বেও প্রয়োগে দুর্বলতা, নিয়মিত তদারকির অভাব এবং অসাধু ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্য সমস্যাকে জিইয়ে রেখেছে। কঠোর নজরদারি, আধুনিক পরীক্ষাগার সম্প্রসারণ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধি ছাড়া এ সংকট থেকে উত্তরণ সম্ভব নয়।
খাদ্যে ভেজাল রোধে সামাজিক আন্দোলনও গড়ে তুলতে হবে। পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও গণমাধ্যমের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের মধ্যে সততা, মানবতা ও দায়িত্ববোধের শিক্ষা জাগ্রত করতে হবে। কবির ভাষায়, কথায় নয় কাজে বড় হওয়ার যে আহ্বান, সেটিই হতে পারে এই সংকট উত্তরণের মূল চাবিকাঠি।
নিরাপদ খাদ্য কোনো বিলাসিতা নয়; এটি নাগরিকের মৌলিক অধিকার। সেই অধিকার নিশ্চিত করতে সরকার, ব্যবসায়ী ও জনগণ সবার সম্মিলিত ও আন্তরিক প্রচেষ্টাই পারে একটি সুস্থ, নিরাপদ ও ভেজালমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে।
ফাহিমা আক্তার
শিক্ষার্থী, বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ, ঢাকা

রোববার, ২৯ মার্চ ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৯ মার্চ ২০২৬
মানুষের মৌলিক চাহিদা ৫টি এগুলো হলো— খাদ্য, বস্ত্র, শিক্ষা, বাসস্থান, চিকিৎসা। এই পাঁচটি চাহিদা পূরণ হলেই একজন মানুষ স্বাভাবিক ও সুন্দরভাবে জীবনযাপন করতে পারে। এর মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ হলো খাদ্য। বেঁচে থাকার জন্য খাদ্য গ্রহণ প্রয়োজন হয়। সুস্বাস্থ্যের জন্য প্রতিটি মানুষের প্রয়োজন বিশুদ্ধ ও পুষ্টিকর খাবার। কিন্তু আমরা প্রতিনিয়ত যে খাদ্য গ্রহণ করি তাতে রয়েছে ভেজাল। ভেজাল খাদ্য তৈরিতে রাসায়নিক থেকে শুরু করে ভারী ধাতব পদার্থের মতো এমন উপাদান মেশানো হচ্ছে, যা মানবস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। এক ধরনের অসাধু ব্যবসায়ী ভোক্তা সাধারণের চোখে ফাঁকি দিয়ে কীভাবে খাদ্য ভেজাল মেশানো যায় সেই দিকে বেশি নজর রাখছেন।
এ ভেজাল রয়েছে কয়েক ধরনের। খাদ্যভেদে ভেজাল মেশানো প্রক্রিয়াও ভিন্ন সেদিকে সজাগ অসাধু ব্যবসায়ীরা। খাদ্যকে আকর্ষণীয় করার জন্য বিভিন্ন ধরনের রঙ মিশানো, খাদ্যকে আরো ঘন করার জন্য এমাইলামের ব্যবহার, মধুতে কেইন সুগারের ব্যবহার, চাল ও মুড়িকে উজ্জ্বল এবং মাছ, মাংস ও সবজির রক্ষণাবেক্ষণে এবং পশুকে মোটা তাজা করণে ইউরিয়ার ব্যবহার, পচনরোধে ফল-মূল ও শাক-সবজি এবং মাছ-মাংসে ফরমালিনের ব্যবহার, ফল পাকানোর কাজে কেলসিয়াম কার্বাইডের ব্যবহার করা হয়। এ সমস্ত কেমিক্যাল অত্যন্ত বিষাক্ত। এগুলো মানুষের শরীরের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকারক। এমনকি এগুলো ক্যানসারের মতো মরণব্যাধিকেও ডেকে আনতে পারে। দেশজুড়ে ভেজালের জাল যেভাবে বিস্তৃত, তাতে যেকোনো প্রকারের খাদ্য, ফলমূল-শাক-সবজি-মাছ কেনার ক্ষেত্রে ক্রেতার নিজের সাবধানতা জরুরি। তবে অবিরাম এই মনুষ্যত্বহীন অত্যাচার সহ্য করার ক্ষমতাও রয়েছে বাঙালির। উদাসীন হবার কারণে বিষ খেয়েও কেউ কারো অত্যাচারের প্রতিবাদ করতে তেমন একটা দেখা যায় না। সবাই যেন জেনে-শুনেই বিষ পান করে আত্মাহুতি দিয়ে যাচ্ছে। এ যেন রবি ঠাকুরের বিখ্যাত গানের বাস্তব রূপ—
‘আমি জেনে-শুনে বিষ করেছি পান,
প্রাণেরও আশা ছেড়ে সঁপেছি প্রাণ।’
দুঃখজনক হলেও সত্য, অসাধু ব্যবসায়ীরা এসব আইনের তোয়াক্কা না করে খাবারে অবাধে মিশিয়ে যাচ্ছে ক্ষতিকারক রাসায়নিক পদার্থ। এইসব ক্ষতিকারক রাসায়নিক পদার্থ মিশ্রণে ধরা পড়লে জেল জরিমানাও করা হচ্ছে, কিন্তু তবুও থেমে নেই অসাধু ব্যবসায়ীরা। এমনকি জীবন রক্ষাকারী ওষুধেও নকল তৈরি হচ্ছে— যা জীবন রক্ষার বিপরীতে জীবননাশের কাজ করছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আইন থাকা সত্ত্বেও প্রয়োগে দুর্বলতা, নিয়মিত তদারকির অভাব এবং অসাধু ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্য সমস্যাকে জিইয়ে রেখেছে। কঠোর নজরদারি, আধুনিক পরীক্ষাগার সম্প্রসারণ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধি ছাড়া এ সংকট থেকে উত্তরণ সম্ভব নয়।
খাদ্যে ভেজাল রোধে সামাজিক আন্দোলনও গড়ে তুলতে হবে। পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও গণমাধ্যমের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের মধ্যে সততা, মানবতা ও দায়িত্ববোধের শিক্ষা জাগ্রত করতে হবে। কবির ভাষায়, কথায় নয় কাজে বড় হওয়ার যে আহ্বান, সেটিই হতে পারে এই সংকট উত্তরণের মূল চাবিকাঠি।
নিরাপদ খাদ্য কোনো বিলাসিতা নয়; এটি নাগরিকের মৌলিক অধিকার। সেই অধিকার নিশ্চিত করতে সরকার, ব্যবসায়ী ও জনগণ সবার সম্মিলিত ও আন্তরিক প্রচেষ্টাই পারে একটি সুস্থ, নিরাপদ ও ভেজালমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে।
ফাহিমা আক্তার
শিক্ষার্থী, বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ, ঢাকা

আপনার মতামত লিখুন