সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল শারা সোমবার এক রাষ্ট্রীয় সফরে জার্মানি পৌঁছাচ্ছেন। ২০২৪ সালের শেষ দিকে দীর্ঘদিনের শাসক বাশার আল আসাদকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর এটিই তার প্রথম জার্মানি সফর। সফরে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি, সিরিয়ার পুনর্গঠন এবং জার্মানিতে থাকা সিরীয় শরণার্থীদের প্রত্যাবাসন ইস্যুটি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাবে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।
সফরে প্রেসিডেন্ট শারা জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস এবং প্রেসিডেন্ট ফ্রাঙ্ক-ভাল্টার স্টাইনমায়ারের সঙ্গে পৃথক বৈঠকে মিলিত হবেন। জার্মান সরকারের মুখপাত্র স্টেফান কর্নেলিয়াস জানিয়েছেন, সিরিয়ার বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং দীর্ঘ ১৪ বছরের গৃহযুদ্ধ পরবর্তী অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে। এছাড়া বার্লিনে একটি বিশেষ রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ফোরামেও যোগ দেবেন শারা।
সাবেক বিদ্রোহী নেতা থেকে প্রেসিডেন্ট হওয়া শারা ইতোমধ্যে পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে ব্যাপক কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স ও রাশিয়াসহ বিভিন্ন দেশ সফর করার পর সিরিয়ার ওপর থেকে বেশ কিছু আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়েছে। এতে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া দেশটির পুনর্গঠনে নতুন আশার আলো দেখা দিচ্ছে।
জার্মানিতে বর্তমানে প্রায় ১০ লাখ সিরীয় শরণার্থী বসবাস করছেন। গত মে মাসে ক্ষমতায় আসা রক্ষণশীল চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস অনিয়মিত অভিবাসন কমাতে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। মের্ৎসের মতে, সিরিয়ায় গৃহযুদ্ধ শেষ হওয়ায় এখন নাগরিকদের সেখানে ফিরে যাওয়ার পরিবেশ তৈরি হয়েছে। যদিও মানবাধিকার সংগঠনগুলো দাবি করছে, সিরিয়ায় এখনো অস্থিরতা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঝুঁকি বিদ্যমান।
সফরটি ঘিরে বার্লিনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। জার্মানিতে বসবাসরত কুর্দি সম্প্রদায়ের সংগঠন ‘কেজিডি’ শারার বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে এই সফরের তীব্র বিরোধিতা করেছে। সংগঠনটির চেয়ারম্যান আলি এরটান টোপরাক এই আমন্ত্রণকে ‘ভুল পদক্ষেপ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। আজ সোমবার বার্লিনে ‘মানবাধিকার লঙ্ঘনকারীদের সঙ্গে কোনো প্রত্যাবাসন চুক্তি নয়’ স্লোগানে একটি বিক্ষোভের ডাকও দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, সিরিয়ার খ্রিস্টান আরামিয়ান সংখ্যালঘুরা একটি সমন্বিত রাজনৈতিক উদ্যোগের দাবি জানিয়েছে। আলোচনায় নিখোঁজ জার্মান সাংবাদিক এভা মারিয়া মিশেলমানের বিষয়টিও উঠতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
চলতি বছরের জানুয়ারিতে এই সফর হওয়ার কথা থাকলেও উত্তর সিরিয়ায় সরকারি বাহিনী ও কুর্দি নেতৃত্বাধীন সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্সেসের (এসডিএফ) সংঘাতের কারণে তা পিছিয়ে গিয়েছিল। বর্তমানে সিরিয়ায় ইসলামিক স্টেট (আইএস) এর মতো গোষ্ঠীর তৎপরতা দমনেও জার্মানির সহযোগিতা চাইতে পারেন শারা।

সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ৩০ মার্চ ২০২৬
সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল শারা সোমবার এক রাষ্ট্রীয় সফরে জার্মানি পৌঁছাচ্ছেন। ২০২৪ সালের শেষ দিকে দীর্ঘদিনের শাসক বাশার আল আসাদকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর এটিই তার প্রথম জার্মানি সফর। সফরে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি, সিরিয়ার পুনর্গঠন এবং জার্মানিতে থাকা সিরীয় শরণার্থীদের প্রত্যাবাসন ইস্যুটি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাবে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।
সফরে প্রেসিডেন্ট শারা জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস এবং প্রেসিডেন্ট ফ্রাঙ্ক-ভাল্টার স্টাইনমায়ারের সঙ্গে পৃথক বৈঠকে মিলিত হবেন। জার্মান সরকারের মুখপাত্র স্টেফান কর্নেলিয়াস জানিয়েছেন, সিরিয়ার বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং দীর্ঘ ১৪ বছরের গৃহযুদ্ধ পরবর্তী অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে। এছাড়া বার্লিনে একটি বিশেষ রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ফোরামেও যোগ দেবেন শারা।
সাবেক বিদ্রোহী নেতা থেকে প্রেসিডেন্ট হওয়া শারা ইতোমধ্যে পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে ব্যাপক কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স ও রাশিয়াসহ বিভিন্ন দেশ সফর করার পর সিরিয়ার ওপর থেকে বেশ কিছু আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়েছে। এতে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া দেশটির পুনর্গঠনে নতুন আশার আলো দেখা দিচ্ছে।
জার্মানিতে বর্তমানে প্রায় ১০ লাখ সিরীয় শরণার্থী বসবাস করছেন। গত মে মাসে ক্ষমতায় আসা রক্ষণশীল চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস অনিয়মিত অভিবাসন কমাতে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। মের্ৎসের মতে, সিরিয়ায় গৃহযুদ্ধ শেষ হওয়ায় এখন নাগরিকদের সেখানে ফিরে যাওয়ার পরিবেশ তৈরি হয়েছে। যদিও মানবাধিকার সংগঠনগুলো দাবি করছে, সিরিয়ায় এখনো অস্থিরতা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঝুঁকি বিদ্যমান।
সফরটি ঘিরে বার্লিনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। জার্মানিতে বসবাসরত কুর্দি সম্প্রদায়ের সংগঠন ‘কেজিডি’ শারার বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে এই সফরের তীব্র বিরোধিতা করেছে। সংগঠনটির চেয়ারম্যান আলি এরটান টোপরাক এই আমন্ত্রণকে ‘ভুল পদক্ষেপ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। আজ সোমবার বার্লিনে ‘মানবাধিকার লঙ্ঘনকারীদের সঙ্গে কোনো প্রত্যাবাসন চুক্তি নয়’ স্লোগানে একটি বিক্ষোভের ডাকও দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, সিরিয়ার খ্রিস্টান আরামিয়ান সংখ্যালঘুরা একটি সমন্বিত রাজনৈতিক উদ্যোগের দাবি জানিয়েছে। আলোচনায় নিখোঁজ জার্মান সাংবাদিক এভা মারিয়া মিশেলমানের বিষয়টিও উঠতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
চলতি বছরের জানুয়ারিতে এই সফর হওয়ার কথা থাকলেও উত্তর সিরিয়ায় সরকারি বাহিনী ও কুর্দি নেতৃত্বাধীন সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্সেসের (এসডিএফ) সংঘাতের কারণে তা পিছিয়ে গিয়েছিল। বর্তমানে সিরিয়ায় ইসলামিক স্টেট (আইএস) এর মতো গোষ্ঠীর তৎপরতা দমনেও জার্মানির সহযোগিতা চাইতে পারেন শারা।

আপনার মতামত লিখুন