মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে মেডিকেলে ভর্তি পরীক্ষায় অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে সোমবার (২০ জুলাই) রণক্ষেত্রে রূপ নেয় রাজপথ। ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) আয়োজিত ‘লং মার্চ টু পার্লামেন্ট’ কর্মসূচিকে ঘিরে হাজার হাজার শিক্ষার্থী ও তরুণ যন্তর মন্তরে জড়ো হলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পূর্বনির্ধারিত এই কর্মসূচি ঠেকাতে দিল্লি পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনী যন্তর মন্তরসহ পার্লামেন্ট অভিমুখে নিরাপত্তা বেষ্টনী গড়ে তোলে। বিক্ষোভকারীরা ব্যারিকেড ভেঙে পার্লামেন্টের দিকে এগোতে চাইলে পুলিশ লাঠিচার্জ ও কাঁদানেগ্যাস নিক্ষেপ করে। এই ঘটনায় বেশ কয়েকজন আন্দোলনকারী ও পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মধ্য দিল্লির একাংশে মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। বিক্ষোভের এই উত্তাল দিনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সিজেপি এক জরুরি বার্তায় সমর্থকদের শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেছে, আপনাদের যদি বিভিন্ন পয়েন্টে আটকে দেওয়া হয়, তবুও শান্ত থাকুন ও শান্তি বজায় রাখুন। আমরা কেবল শান্তি ও ভালোবাসার পথেই জয়ী হতে পারবো। এর আগে রবিবার (১৯ জুলাই) দিল্লি পুলিশ মিছিলের অনুমতি বাতিল করে এবং এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ পুলিশ জানায়, অনুমোদিত যন্তর মন্তর এলাকা ছাড়া কোথাও মিছিল বা বিক্ষোভ সমাবেশ নিষিদ্ধ এবং নির্দেশ অমান্য করলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এদিকে, আন্দোলনের মধ্যেই সিজেপি দাবি করেছে, তাদের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকেকে যন্তর মন্তর থেকে পুলিশ তুলে নিয়ে গেছে। মে মাসে ব্যঙ্গাত্মক আন্দোলনের মাধ্যমে যাত্রা শুরু করা সিজেপির এই লং মার্চকে ঘিরে গত রোববার রাত থেকেই যন্তর মন্তরে জড়ো হন হাজার হাজার শিক্ষার্থী। দূর-দূরান্ত থেকে আসা শিক্ষার্থীরা ত্রিপলের নিচে রাত কাটিয়ে সোমবার সকাল থেকে স্লোগান ও প্ল্যাকার্ড নিয়ে অবস্থান শুরু করেন। শিক্ষার্থীদের এই প্রস্তুতি ছিল বেশ সুসংগঠিত; মিউজিক ফেস্টিভ্যালের আদলে তারা খাবার, পানি ও জরুরি নিরাপত্তা টিপস নিয়ে মাঠে নামে। দলটির পক্ষ থেকে অংশগ্রহণকারীদের কঠোরভাবে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল যেন তারা শুধু ভারতের জাতীয় পতাকা বহন করেন এবং পুলিশের সঙ্গে কোনো প্রকার হাতাহাতি বা তর্কে না জড়ান। বিক্ষোভকারীরা যখন পার্লামেন্টের অদূরে রাস্তায় অবস্থান নিয়ে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন, ঠিক তখনই লোকসভায় তুমুল হট্টগোল দেখা দিয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ইস্যুতে আলোচনার দাবিতে বিরোধী দলীয় আইনপ্রণেতাদের প্রতিবাদের মুখে অধিবেশন দুপুর পর্যন্ত স্থগিত করতে হয়। অধিবেশন শুরুর আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী গণমাধ্যমের সামনে ভারতের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পের অগ্রগতির কথা তুলে ধরলেও, পার্লামেন্টের অদূরে চলা হাজার হাজার শিক্ষার্থীর এই আন্দোলন বা তাদের দাবির বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি। তিনি কেবল সংসদ সদস্যদের গঠনমূলক আলোচনায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান।