সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

চুয়াডাঙ্গায় ৩৬-এ গলছে রাস্তার পিচ, ৪২ ডিগ্রিতে কী ঘটবে?


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ১ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:৩১ পিএম

চুয়াডাঙ্গায় ৩৬-এ গলছে রাস্তার পিচ, ৪২ ডিগ্রিতে কী ঘটবে?
মৌসুমের শুরুতেই যখন ৩৬ ডিগ্রি তাপমাত্রা, তখনই গলতে শুরু করেছে রাস্তার পিচ।

গরমের মৌসুম এখনও পুরোপুরি আসেনি। অথচ জেলার রাস্তার পিচ গলে যাওয়ার মতো অবস্থা। বুধবার (১ এপ্রিল) বিকেলে চুয়াডাঙ্গায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৬ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আর এই তাপমাত্রায় গলে যাচ্ছে পিচঢালা সড়ক।

প্রশ্নটা হচ্ছে, মৌসুমের শুরুতেই যখন ৩৬ ডিগ্রিতে পিচ গলছে, তখন আগের বছরের মতো তাপমাত্রা যদি ৪২ ডিগ্রি ছাড়িয়ে যায়, তাহলে কী ঘটবে? উত্তর খুঁজতে গিয়ে শঙ্কা বাড়ছে।

তাপমাত্রার সঙ্গে ‘আর্দ্রতার থাবা’

বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৩৮ শতাংশ। যা গরমের তীব্রতা আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। পৌরসভা এলাকার সড়কে থোক থোক গলে যাওয়া পিচ, যানবাহনের টায়ারে লেপ্টে যাওয়ার দৃশ্য যেন আগামী দিনের ভয়ঙ্কর ইঙ্গিত দিয়ে যাচ্ছে।

আবহাওয়া অফিস বলছে, চলতি মৌসুমে প্রথমবারের মতো তাপমাত্রা ৩৬ ডিগ্রি ছাড়িয়েছে। জেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে মৃদু তাপপ্রবাহ। আগামী কয়েক দিন এ অবস্থা অব্যাহত থাকতে পারে।

৪২ ডিগ্রিতে কী ঘটবে

চুয়াডাঙ্গার মানুষ গরমের প্রকোপ ভালো করেই জানেন। গত বছর ১০ মে মৌসুমের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সে সময় রাস্তাঘাট জনশূন্য হয়ে পড়েছিল। জনজীবন ছিল বিপর্যস্ত।

তখনকার সেই ৪২ ডিগ্রির সঙ্গে এখনকার ৩৬ ডিগ্রির ব্যবধান মাত্র ৬ ডিগ্রি। কিন্তু এখনই যদি সড়কপথের পিচ গলে যায়, তাহলে আগামী মাসে তাপমাত্রা ৪০ ছাড়ালে বা ৪২ ডিগ্রিতে পৌঁছালে কী অবস্থা হবে?

শহরের একটি ডাবের দোকানে বসা রোহান রায়হান বলেন, “আমরা চুয়াডাঙ্গার মানুষ জানি, এ জেলায় শীতের সময় শীত বেশি, গরমের সময় গরম বেশি। এখনো গরমের মৌসুম সেভাবে আসে নাই, এখনিই দেখছি রাস্তার পিচ গলে যাচ্ছে। রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় তাপ এত বেশি অনুভূত হচ্ছে যে অসহনীয় লাগছে।”

খেটে খাওয়া মানুষদের দুর্ভোগ চরমে

হঠাৎ তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষ ও মোটরসাইকেল চালকরা। ইজিবাইক চালক থেকে দিনমজুর- সবার অবস্থা করুণ। এক ইজিবাইক চালক বললেন, “রোদের তাপে গাড়ি চালানোই কষ্ট হচ্ছে।”

মোটরসাইকেল চালক সোহেল রানা বললেন, “গরমে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা খুব কষ্টকর। মাথা ঘুরে যায়। তেল নিতেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে।এর মধ্যে গরমে শরীর একেবারে ক্লান্ত হয়ে যাচ্ছে।”

বেশি তাপে গলছে পিচ

আরেক বাইকচালক হাফিজুর রহমান তেলের সংকট ও গরম দুইয়ের চাপে দিশেহারা। তিনি বলেন, “সকাল থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। রোদে দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে শরীর খারাপ হয়ে যাচ্ছে। তেলের জন্য যেমন কষ্ট, তার ওপর এই গরম দুটো মিলে অবস্থা খুব খারাপ।”

প্রশাসনের পদক্ষেপ

গত বছর ৪২ ডিগ্রিতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে চুয়াডাঙ্গার মানুষকে। এবার গরমের শুরুতে ৩৬ ডিগ্রিতেই পিচ গলে যাচ্ছে। প্রশ্ন উঠছে, অবকাঠামো কি তাপমাত্রার এই ঊর্ধ্বগতি সহ্য করতে পারছে?

শহরের পিচঢালা সড়কের মান নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তাপমাত্রার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে পিচের মান ঠিক না করলে প্রতিবছরই এ সমস্যা দেখা দেবে। আর গরমের মৌসুম শেষ হতে না হতেই পুরো সড়ক ব্যবস্থা সংকটের মুখে পড়তে পারে।

আবহাওয়া অফিস বলছে, চলতি মৌসুমে তাপমাত্রা আরও বাড়তে পারে। সেক্ষেত্রে আগাম প্রস্তুতি না নিলে ৪২ ডিগ্রিতে শুধু পিচ নয়, জনজীবনের চিত্র হয়ে উঠতে পারে আরও ভয়াবহ।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

বুধবার, ০১ এপ্রিল ২০২৬


চুয়াডাঙ্গায় ৩৬-এ গলছে রাস্তার পিচ, ৪২ ডিগ্রিতে কী ঘটবে?

প্রকাশের তারিখ : ০১ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

গরমের মৌসুম এখনও পুরোপুরি আসেনি। অথচ জেলার রাস্তার পিচ গলে যাওয়ার মতো অবস্থা। বুধবার (১ এপ্রিল) বিকেলে চুয়াডাঙ্গায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৬ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আর এই তাপমাত্রায় গলে যাচ্ছে পিচঢালা সড়ক।

প্রশ্নটা হচ্ছে, মৌসুমের শুরুতেই যখন ৩৬ ডিগ্রিতে পিচ গলছে, তখন আগের বছরের মতো তাপমাত্রা যদি ৪২ ডিগ্রি ছাড়িয়ে যায়, তাহলে কী ঘটবে? উত্তর খুঁজতে গিয়ে শঙ্কা বাড়ছে।

তাপমাত্রার সঙ্গে ‘আর্দ্রতার থাবা’

বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৩৮ শতাংশ। যা গরমের তীব্রতা আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। পৌরসভা এলাকার সড়কে থোক থোক গলে যাওয়া পিচ, যানবাহনের টায়ারে লেপ্টে যাওয়ার দৃশ্য যেন আগামী দিনের ভয়ঙ্কর ইঙ্গিত দিয়ে যাচ্ছে।

আবহাওয়া অফিস বলছে, চলতি মৌসুমে প্রথমবারের মতো তাপমাত্রা ৩৬ ডিগ্রি ছাড়িয়েছে। জেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে মৃদু তাপপ্রবাহ। আগামী কয়েক দিন এ অবস্থা অব্যাহত থাকতে পারে।

৪২ ডিগ্রিতে কী ঘটবে

চুয়াডাঙ্গার মানুষ গরমের প্রকোপ ভালো করেই জানেন। গত বছর ১০ মে মৌসুমের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সে সময় রাস্তাঘাট জনশূন্য হয়ে পড়েছিল। জনজীবন ছিল বিপর্যস্ত।

তখনকার সেই ৪২ ডিগ্রির সঙ্গে এখনকার ৩৬ ডিগ্রির ব্যবধান মাত্র ৬ ডিগ্রি। কিন্তু এখনই যদি সড়কপথের পিচ গলে যায়, তাহলে আগামী মাসে তাপমাত্রা ৪০ ছাড়ালে বা ৪২ ডিগ্রিতে পৌঁছালে কী অবস্থা হবে?

শহরের একটি ডাবের দোকানে বসা রোহান রায়হান বলেন, “আমরা চুয়াডাঙ্গার মানুষ জানি, এ জেলায় শীতের সময় শীত বেশি, গরমের সময় গরম বেশি। এখনো গরমের মৌসুম সেভাবে আসে নাই, এখনিই দেখছি রাস্তার পিচ গলে যাচ্ছে। রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় তাপ এত বেশি অনুভূত হচ্ছে যে অসহনীয় লাগছে।”

খেটে খাওয়া মানুষদের দুর্ভোগ চরমে

হঠাৎ তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষ ও মোটরসাইকেল চালকরা। ইজিবাইক চালক থেকে দিনমজুর- সবার অবস্থা করুণ। এক ইজিবাইক চালক বললেন, “রোদের তাপে গাড়ি চালানোই কষ্ট হচ্ছে।”

মোটরসাইকেল চালক সোহেল রানা বললেন, “গরমে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা খুব কষ্টকর। মাথা ঘুরে যায়। তেল নিতেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে।এর মধ্যে গরমে শরীর একেবারে ক্লান্ত হয়ে যাচ্ছে।”

বেশি তাপে গলছে পিচ

আরেক বাইকচালক হাফিজুর রহমান তেলের সংকট ও গরম দুইয়ের চাপে দিশেহারা। তিনি বলেন, “সকাল থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। রোদে দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে শরীর খারাপ হয়ে যাচ্ছে। তেলের জন্য যেমন কষ্ট, তার ওপর এই গরম দুটো মিলে অবস্থা খুব খারাপ।”

প্রশাসনের পদক্ষেপ

গত বছর ৪২ ডিগ্রিতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে চুয়াডাঙ্গার মানুষকে। এবার গরমের শুরুতে ৩৬ ডিগ্রিতেই পিচ গলে যাচ্ছে। প্রশ্ন উঠছে, অবকাঠামো কি তাপমাত্রার এই ঊর্ধ্বগতি সহ্য করতে পারছে?

শহরের পিচঢালা সড়কের মান নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তাপমাত্রার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে পিচের মান ঠিক না করলে প্রতিবছরই এ সমস্যা দেখা দেবে। আর গরমের মৌসুম শেষ হতে না হতেই পুরো সড়ক ব্যবস্থা সংকটের মুখে পড়তে পারে।

আবহাওয়া অফিস বলছে, চলতি মৌসুমে তাপমাত্রা আরও বাড়তে পারে। সেক্ষেত্রে আগাম প্রস্তুতি না নিলে ৪২ ডিগ্রিতে শুধু পিচ নয়, জনজীবনের চিত্র হয়ে উঠতে পারে আরও ভয়াবহ।


সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত