সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

নাসার দ্বিতীয় আর্টেমিস মিশন

৫৪ বছর পর আরেক মহাজাগতিক অভিযাত্রা


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ২ এপ্রিল ২০২৬, ১২:৫৫ পিএম

৫৪ বছর পর আরেক মহাজাগতিক অভিযাত্রা
কেনেডি স্পেস সেন্টারের লঞ্চ প্যাড ৩৯বি-তে ওরিয়ন স্পেসক্রাফট নিয়ে স্পেস লঞ্চ সিস্টেম রকেট

মহাকাশ গবেষণার ইতিহাসে আরেকটি স্মরণীয় দিন। ৫৪ বছর পর আবারও চাঁদের পথে যাত্রা শুরু করলেন মানব সন্তান। বুধবার (২ এপ্রিল) স্থানীয় সময় সকালে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে সফলভাবে উৎক্ষেপণ করা হয়েছে নাসার উচ্চাভিলাষী ‘আর্টেমিস দ্বিতীয়’ মিশন। 

৩২ তলা উঁচু ‘স্পেস লঞ্চ সিস্টেম (এসএলএস)’ রকেটটি তার বুকে চারজন নভোচারীকে নিয়ে মেঘ ফুঁড়ে ওপরের দিকে উড়ে যায়। আর তাতেই স্তম্ভিত দর্শকেরা। উৎক্ষেপণ কেন্দ্রের চারপাশে জড়ো হওয়া হাজার হাজার মানুষ নিজেদের চোখকে বিশ্বাস করতে পারছিলেন না।

মিশনের মাধ্যমেই প্রথমবারের মতো গত অর্ধশতাব্দীরও বেশি সময় পর মানুষ নিম্ন-পৃথিবী কক্ষপথের বাইরে গিয়ে চাঁদকে প্রদক্ষিণ করবেন। এই চার নভোচারীর যাত্রা শুরু হলো প্রায় ১০ দিনের এক অভিযানে। তারা চাঁদকে প্রদক্ষিণ করে আবার পৃথিবীতে ফিরে আসবেন। 

নাসার পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই মিশন ভবিষ্যতে আবারও মানুষকে চাঁদে পা রাখানোর ও শেষ পর্যন্ত মঙ্গল গ্রহে পাঠানোর পথ তৈরি করছে।

আর্টেমিস দ্বিতীয় মিশনের ক্রু সদস্যরা হলেন- নাসার নভোচারী রেইড ওয়াইজম্যান, ভিক্টর গ্লোভার, ক্রিস্টিনা কচ এবং কানাডিয়ান স্পেস এজেন্সির নভোচারী জেরেমি হ্যানসেন। উৎক্ষেপণের পাঁচ মিনিটের মাথায় মিশন কমান্ডার ওয়াইজম্যান ক্যাপসুল থেকে রেডিওতে জানান, “আমরা একটি সুন্দর চন্দ্রোদয় দেখতে পাচ্ছি। আমরা সেটার দিকেই এগোচ্ছি।”

উৎক্ষেপণ ঘিরে ছিল প্রচণ্ড উত্তেজনা ও টেনশন। কারণ হাইড্রোজেন জ্বালানি রকেটে ভরার সময় গত কয়েক মাস আগে এক পরীক্ষায় বিপজ্জনক ফুটো ধরা পড়েছিল, যা উৎক্ষেপণ স্থগিত করতে বাধ্য করেছিল। তবে প্রযুক্তিবিদদের নিরলস প্রচেষ্টায় সেই জটিলতা কাটিয়ে সব প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে অবশেষে সফল হয়েছে নাসা।

সফল উৎক্ষেপণ

উৎক্ষেপণ পরিচালক চার্লি ব্ল্যাকওয়েল-থম্পসন আবেগাপ্লুত কণ্ঠে ক্রুদের উদ্দেশে বলেন, “এই ঐতিহাসিক অভিযানে আপনারা সঙ্গে নিয়ে যাচ্ছেন সমগ্র আর্টেমিস দলের হৃদয়, আমেরিকান জনগণের সাহসী চেতনা, বিশ্বব্যাপী আমাদের সব অংশীদারের সৌহার্দ্য আর একটি নতুন প্রজন্মের স্বপ্ন ও আশা। শুভকামনা।”

এই মিশনের সাফল্য শুধু বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির জয় নয়; এটি মানবজাতির অদম্য কৌতূহল ও জয়ের আরেকটি চিরায়ত উদাহরণ। ১৯৭২ সালে অ্যাপোলো ১৭ মিশনের পর এই প্রথম মানব সন্তান আবার চাঁদের এত কাছে পৌঁছাতে চলেছে। আগামী বছরগুলোতে চাঁদে আবার মানুষ পা রাখার সেই স্বপ্নের দরজা উন্মোচিত হলো। সূত্র: নাসা।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

বৃহস্পতিবার, ০২ এপ্রিল ২০২৬


৫৪ বছর পর আরেক মহাজাগতিক অভিযাত্রা

প্রকাশের তারিখ : ০২ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

মহাকাশ গবেষণার ইতিহাসে আরেকটি স্মরণীয় দিন। ৫৪ বছর পর আবারও চাঁদের পথে যাত্রা শুরু করলেন মানব সন্তান। বুধবার (২ এপ্রিল) স্থানীয় সময় সকালে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে সফলভাবে উৎক্ষেপণ করা হয়েছে নাসার উচ্চাভিলাষী ‘আর্টেমিস দ্বিতীয়’ মিশন। 

৩২ তলা উঁচু ‘স্পেস লঞ্চ সিস্টেম (এসএলএস)’ রকেটটি তার বুকে চারজন নভোচারীকে নিয়ে মেঘ ফুঁড়ে ওপরের দিকে উড়ে যায়। আর তাতেই স্তম্ভিত দর্শকেরা। উৎক্ষেপণ কেন্দ্রের চারপাশে জড়ো হওয়া হাজার হাজার মানুষ নিজেদের চোখকে বিশ্বাস করতে পারছিলেন না।

মিশনের মাধ্যমেই প্রথমবারের মতো গত অর্ধশতাব্দীরও বেশি সময় পর মানুষ নিম্ন-পৃথিবী কক্ষপথের বাইরে গিয়ে চাঁদকে প্রদক্ষিণ করবেন। এই চার নভোচারীর যাত্রা শুরু হলো প্রায় ১০ দিনের এক অভিযানে। তারা চাঁদকে প্রদক্ষিণ করে আবার পৃথিবীতে ফিরে আসবেন। 

নাসার পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই মিশন ভবিষ্যতে আবারও মানুষকে চাঁদে পা রাখানোর ও শেষ পর্যন্ত মঙ্গল গ্রহে পাঠানোর পথ তৈরি করছে।

আর্টেমিস দ্বিতীয় মিশনের ক্রু সদস্যরা হলেন- নাসার নভোচারী রেইড ওয়াইজম্যান, ভিক্টর গ্লোভার, ক্রিস্টিনা কচ এবং কানাডিয়ান স্পেস এজেন্সির নভোচারী জেরেমি হ্যানসেন। উৎক্ষেপণের পাঁচ মিনিটের মাথায় মিশন কমান্ডার ওয়াইজম্যান ক্যাপসুল থেকে রেডিওতে জানান, “আমরা একটি সুন্দর চন্দ্রোদয় দেখতে পাচ্ছি। আমরা সেটার দিকেই এগোচ্ছি।”

উৎক্ষেপণ ঘিরে ছিল প্রচণ্ড উত্তেজনা ও টেনশন। কারণ হাইড্রোজেন জ্বালানি রকেটে ভরার সময় গত কয়েক মাস আগে এক পরীক্ষায় বিপজ্জনক ফুটো ধরা পড়েছিল, যা উৎক্ষেপণ স্থগিত করতে বাধ্য করেছিল। তবে প্রযুক্তিবিদদের নিরলস প্রচেষ্টায় সেই জটিলতা কাটিয়ে সব প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে অবশেষে সফল হয়েছে নাসা।

সফল উৎক্ষেপণ

উৎক্ষেপণ পরিচালক চার্লি ব্ল্যাকওয়েল-থম্পসন আবেগাপ্লুত কণ্ঠে ক্রুদের উদ্দেশে বলেন, “এই ঐতিহাসিক অভিযানে আপনারা সঙ্গে নিয়ে যাচ্ছেন সমগ্র আর্টেমিস দলের হৃদয়, আমেরিকান জনগণের সাহসী চেতনা, বিশ্বব্যাপী আমাদের সব অংশীদারের সৌহার্দ্য আর একটি নতুন প্রজন্মের স্বপ্ন ও আশা। শুভকামনা।”

এই মিশনের সাফল্য শুধু বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির জয় নয়; এটি মানবজাতির অদম্য কৌতূহল ও জয়ের আরেকটি চিরায়ত উদাহরণ। ১৯৭২ সালে অ্যাপোলো ১৭ মিশনের পর এই প্রথম মানব সন্তান আবার চাঁদের এত কাছে পৌঁছাতে চলেছে। আগামী বছরগুলোতে চাঁদে আবার মানুষ পা রাখার সেই স্বপ্নের দরজা উন্মোচিত হলো। সূত্র: নাসা।



সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত