সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

হরমুজ প্রণালিতে সামরিক শক্তি প্রয়োগের প্রস্তাব: আজ জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে ভোট


সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক
প্রকাশ: ৩ এপ্রিল ২০২৬, ১২:৩০ পিএম

হরমুজ প্রণালিতে সামরিক শক্তি প্রয়োগের প্রস্তাব: আজ জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে ভোট

ইরানের অবরোধ থেকে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি মুক্ত করতে এবং জাহাজের সুরক্ষায় ‘প্রতিরক্ষামূলক’ সামরিক শক্তি প্রয়োগের একটি খসড়া প্রস্তাবের ওপর আজ শুক্রবার ভোট দেবে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ। বার্তা সংস্থা এএফপি এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

বাহরাইন কর্তৃক উত্থাপিত এই প্রস্তাবে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালি ও এর আশপাশের জলসীমায় আন্তর্জাতিক নৌ চলাচল স্বাভাবিক রাখতে সদস্য দেশগুলো এককভাবে বা বহুজাতিক নৌ জোট গঠন করে ‘প্রয়োজনীয় ও পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ সব ধরনের প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা’ নিতে পারবে। মূলত গত এক মাস ধরে মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের জেরে ইরান এই প্রণালিটি কার্যত বন্ধ করে দেওয়ায় বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।

প্রস্তাবটি পাস হওয়া নিয়ে এখনো গভীর সংশয় রয়েছে। কারণ:

  • রাশিয়া ও চীন: দুই দেশই এই প্রস্তাবের সমালোচনা করেছে। চীনের রাষ্ট্রদূত ফু কং জানিয়েছেন, এটি শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলতে পারে। রাশিয়ার মতে, প্রস্তাবটি একতরফা।
  • ফ্রান্সের অবস্থান: ফ্রান্স সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপের চেয়ে ‘প্রতিরক্ষামূলক’ ব্যবস্থার দিকে জোর দিচ্ছে। তাদের উদ্বেগ কমাতে খসড়ায় বেশ কিছু সংশোধন আনা হয়েছে।
  • যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা: প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, জ্বালানি সংকটে থাকা দেশগুলো যেন নিজ দায়িত্বে তেল সংগ্রহ করে; যুক্তরাষ্ট্র এতে সরাসরি কোনো সহায়তা দেবে না।

বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। এটি বন্ধ থাকায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেল, গ্যাস ও সারের দাম হু হু করে বাড়ছে। বাহরাইনের রাষ্ট্রদূত জামাল আলরোয়াইয়ি একে ‘অর্থনৈতিক সন্ত্রাসবাদ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

নিরাপত্তা পরিষদের মাধ্যমে সামরিক শক্তি ব্যবহারের অনুমতি দেওয়ার ঘটনা খুবই বিরল। এর আগে ১৯৯০ সালে কুয়েত আক্রমণের পর ইরাকে হস্তক্ষেপ এবং ২০১১ সালে লিবিয়ায় ন্যাটোর হস্তক্ষেপের সময় এমন অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল।

 

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

শুক্রবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৬


হরমুজ প্রণালিতে সামরিক শক্তি প্রয়োগের প্রস্তাব: আজ জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে ভোট

প্রকাশের তারিখ : ০৩ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

ইরানের অবরোধ থেকে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি মুক্ত করতে এবং জাহাজের সুরক্ষায় ‘প্রতিরক্ষামূলক’ সামরিক শক্তি প্রয়োগের একটি খসড়া প্রস্তাবের ওপর আজ শুক্রবার ভোট দেবে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ। বার্তা সংস্থা এএফপি এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

বাহরাইন কর্তৃক উত্থাপিত এই প্রস্তাবে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালি ও এর আশপাশের জলসীমায় আন্তর্জাতিক নৌ চলাচল স্বাভাবিক রাখতে সদস্য দেশগুলো এককভাবে বা বহুজাতিক নৌ জোট গঠন করে ‘প্রয়োজনীয় ও পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ সব ধরনের প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা’ নিতে পারবে। মূলত গত এক মাস ধরে মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের জেরে ইরান এই প্রণালিটি কার্যত বন্ধ করে দেওয়ায় বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।

প্রস্তাবটি পাস হওয়া নিয়ে এখনো গভীর সংশয় রয়েছে। কারণ:

  • রাশিয়া ও চীন: দুই দেশই এই প্রস্তাবের সমালোচনা করেছে। চীনের রাষ্ট্রদূত ফু কং জানিয়েছেন, এটি শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলতে পারে। রাশিয়ার মতে, প্রস্তাবটি একতরফা।
  • ফ্রান্সের অবস্থান: ফ্রান্স সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপের চেয়ে ‘প্রতিরক্ষামূলক’ ব্যবস্থার দিকে জোর দিচ্ছে। তাদের উদ্বেগ কমাতে খসড়ায় বেশ কিছু সংশোধন আনা হয়েছে।
  • যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা: প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, জ্বালানি সংকটে থাকা দেশগুলো যেন নিজ দায়িত্বে তেল সংগ্রহ করে; যুক্তরাষ্ট্র এতে সরাসরি কোনো সহায়তা দেবে না।

বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। এটি বন্ধ থাকায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেল, গ্যাস ও সারের দাম হু হু করে বাড়ছে। বাহরাইনের রাষ্ট্রদূত জামাল আলরোয়াইয়ি একে ‘অর্থনৈতিক সন্ত্রাসবাদ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

নিরাপত্তা পরিষদের মাধ্যমে সামরিক শক্তি ব্যবহারের অনুমতি দেওয়ার ঘটনা খুবই বিরল। এর আগে ১৯৯০ সালে কুয়েত আক্রমণের পর ইরাকে হস্তক্ষেপ এবং ২০১১ সালে লিবিয়ায় ন্যাটোর হস্তক্ষেপের সময় এমন অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল।

 


সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত