তারিখটা গেল ১ এপ্রিল, ২০২৬। ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টারে তখন সন্ধ্যা। আকাশে মেঘ নেই। হঠাৎ বাজলো ঘড়ি। বিকেল ৬টা ৩৫ মিনিট। দূর থেকে শোনা গেল এক বিকট শব্দ। যেন সিংহ গর্জন করছে। নাসার অরিয়ন মহাকাশযানটি ধীরে ধীরে মাটি ছেড়ে উপরে উঠতে লাগল। তার বুকে চার জন যাত্রী– রেইড, ভিক্টর, ক্রিস্টিনা আর জেরেমি।
তারা পেছনে ফেলে আসছেন এই পৃথিবীকে। যেখানে নীল সাগর, সবুজ বন, আর অসংখ্য মানুষের স্বপ্ন। ক্রিস্টিনা জানালা দিয়ে তাকিয়ে মুচকি হাসলেন। বললেন, “এখনো দেখতে পাচ্ছি আমাদের বাড়ি। খুব ছোট দেখাচ্ছে, কিন্তু কতো সুন্দর।”
আর্টেমিস ২-এর কমান্ডার রেইড ওয়াজম্যানের তোলা পৃথিবীর একটি দৃশ্য
দুটো অরোরা। একটু ডান দিকে। একটু বাঁ দিকে। নেচে উঠেছে আকাশে। আর তার নিচে, এক ঝলক ধোঁয়াটে আলো- রাশিচক্রের আলো। রেইড দ্রুত ছবি তুলে ফেললেন। ভিতরে সবাই একসঙ্গে বলে উঠলেন, “বাহ! পৃথিবী তো আজ সাজগোজ করে বসেছে!”
ভিক্টর গ্লোভার একটু অন্য জানালায় তাকিয়ে বললেন, “ওদিকে তো পুরো অন্ধকার। পৃথিবীর পিঠের দিকটা। সেখানে আলো নেই। কিন্তু এই অন্ধকারের জন্যই আমরা এতদূর এসেছি- জানতে, দেখতে, বুঝতে।”তৃতীয় দিন। ৩ এপ্রিল। সকালে জেরেমি হ্যানসেন চিৎকার করে উঠলেন, “ওরে বাবা! চাঁদ!”
সবাই জানালার দিকে ছুটলেন। দূর আকাশে, অরিয়নের সোলার অ্যারের ডগায় লাগানো ক্যামেরা ধীরে ধীরে চাঁদকে ফ্রেমে বন্দী করলো। সাদা-কালো পাথরের সেই দানবটি যেন হাতছানি দিচ্ছে।
ক্রিস্টিনা কক গম্ভীর হয়ে গেলেন। “আমাদের আগে অনেকেই চাঁদ দেখেছে, কিন্তু এত কাছে থেকে কয়জন দেখেছে? এবার আমরা ইতিহাস গড়ব। শুধু পৌঁছনো না, ফিরেও আসব।”
মহাকাশযানের জানালা থেকে পৃথিবী
তখন মহাকাশে অরিয়ন উড়ে চলেছে। চাঁদ যেন ক্রমশ বড় হয়ে আসছে। আর পৃথিবী যেন ক্রমশ ছোট হয়ে যাচ্ছে– এক টুকরো নীল আলো। এই নীল আলোর জন্যই এই অভিযান। এই নীল আলো ফিরিয়ে আনার জন্যই রেইড, ভিক্টর, ক্রিস্টিনা আর জেরেমির এই যাত্রা।
প্রথম ছবি নেমে এসেছে পৃথিবীতে। আর সেটা দেখে গোটা বিশ্ব একসঙ্গে বলে উঠেছে– “আমরা গর্বিত। আর্টেমিসের জয় হোক।” জয় হোক মানবতায়। জয় হোক অন্বেষণের সেই চিরন্তন স্পৃহায়। সূত্র: নাসা

শনিবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৪ এপ্রিল ২০২৬
তারিখটা গেল ১ এপ্রিল, ২০২৬। ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টারে তখন সন্ধ্যা। আকাশে মেঘ নেই। হঠাৎ বাজলো ঘড়ি। বিকেল ৬টা ৩৫ মিনিট। দূর থেকে শোনা গেল এক বিকট শব্দ। যেন সিংহ গর্জন করছে। নাসার অরিয়ন মহাকাশযানটি ধীরে ধীরে মাটি ছেড়ে উপরে উঠতে লাগল। তার বুকে চার জন যাত্রী– রেইড, ভিক্টর, ক্রিস্টিনা আর জেরেমি।
তারা পেছনে ফেলে আসছেন এই পৃথিবীকে। যেখানে নীল সাগর, সবুজ বন, আর অসংখ্য মানুষের স্বপ্ন। ক্রিস্টিনা জানালা দিয়ে তাকিয়ে মুচকি হাসলেন। বললেন, “এখনো দেখতে পাচ্ছি আমাদের বাড়ি। খুব ছোট দেখাচ্ছে, কিন্তু কতো সুন্দর।”
আর্টেমিস ২-এর কমান্ডার রেইড ওয়াজম্যানের তোলা পৃথিবীর একটি দৃশ্য
দুটো অরোরা। একটু ডান দিকে। একটু বাঁ দিকে। নেচে উঠেছে আকাশে। আর তার নিচে, এক ঝলক ধোঁয়াটে আলো- রাশিচক্রের আলো। রেইড দ্রুত ছবি তুলে ফেললেন। ভিতরে সবাই একসঙ্গে বলে উঠলেন, “বাহ! পৃথিবী তো আজ সাজগোজ করে বসেছে!”
ভিক্টর গ্লোভার একটু অন্য জানালায় তাকিয়ে বললেন, “ওদিকে তো পুরো অন্ধকার। পৃথিবীর পিঠের দিকটা। সেখানে আলো নেই। কিন্তু এই অন্ধকারের জন্যই আমরা এতদূর এসেছি- জানতে, দেখতে, বুঝতে।”তৃতীয় দিন। ৩ এপ্রিল। সকালে জেরেমি হ্যানসেন চিৎকার করে উঠলেন, “ওরে বাবা! চাঁদ!”
সবাই জানালার দিকে ছুটলেন। দূর আকাশে, অরিয়নের সোলার অ্যারের ডগায় লাগানো ক্যামেরা ধীরে ধীরে চাঁদকে ফ্রেমে বন্দী করলো। সাদা-কালো পাথরের সেই দানবটি যেন হাতছানি দিচ্ছে।
ক্রিস্টিনা কক গম্ভীর হয়ে গেলেন। “আমাদের আগে অনেকেই চাঁদ দেখেছে, কিন্তু এত কাছে থেকে কয়জন দেখেছে? এবার আমরা ইতিহাস গড়ব। শুধু পৌঁছনো না, ফিরেও আসব।”
মহাকাশযানের জানালা থেকে পৃথিবী
তখন মহাকাশে অরিয়ন উড়ে চলেছে। চাঁদ যেন ক্রমশ বড় হয়ে আসছে। আর পৃথিবী যেন ক্রমশ ছোট হয়ে যাচ্ছে– এক টুকরো নীল আলো। এই নীল আলোর জন্যই এই অভিযান। এই নীল আলো ফিরিয়ে আনার জন্যই রেইড, ভিক্টর, ক্রিস্টিনা আর জেরেমির এই যাত্রা।
প্রথম ছবি নেমে এসেছে পৃথিবীতে। আর সেটা দেখে গোটা বিশ্ব একসঙ্গে বলে উঠেছে– “আমরা গর্বিত। আর্টেমিসের জয় হোক।” জয় হোক মানবতায়। জয় হোক অন্বেষণের সেই চিরন্তন স্পৃহায়। সূত্র: নাসা

আপনার মতামত লিখুন