সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

সেতু আছে সংযোগ সড়ক নেই, আত্রাই পারাপারে নৌকা-বাঁশের সাঁকোই ভরসা


জেলা বার্তা পরিবেশক, নওগাঁ
জেলা বার্তা পরিবেশক, নওগাঁ
প্রকাশ: ৪ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:৫৯ পিএম

সেতু আছে সংযোগ সড়ক নেই, আত্রাই পারাপারে নৌকা-বাঁশের সাঁকোই ভরসা
নওগাঁর মহাদেবপুরে আত্রাই নদের ওপর নির্মিত সেতুর দুই মুখ বেড়া দিয়ে বন্ধ রাখা হয়েছে; নিচে ঝুঁকি নিয়ে বাঁশের সাঁকো পার হচ্ছেন স্থানীয়রা। ছবি : সংবাদ


নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলায় আত্রাই নদের ওপর প্রায় সাড়ে ৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি সেতু নির্মাণ করা হয়েছে। এক বছর আগে সেতুর কাজ শেষ হলেও সংযোগ সড়ক না থাকায় সেটি চালু করা সম্ভব হয়নি।

ফলে সরকারের বিশাল অঙ্কের এই বিনিয়োগ স্থানীয় বাসিন্দাদের কোনো কাজে আসছে না। বাধ্য হয়ে এখনো ঝুঁকি নিয়ে বাঁশের সাঁকো বা নৌকায় নদ পার হতে হচ্ছে কয়েক হাজার মানুষকে।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা যায়, উপজেলার শিবগঞ্জ-গোপীনাথপুর বাজার এলাকায় আত্রাই নদের ওপর ২৫৯ মিটার দীর্ঘ এই সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০২১ সালের মার্চ মাসে। ৩০ কোটি ৫৯ লাখ ৫৮ হাজার টাকা ব্যয়ে সেতুর কাজ পায় ঢাকার ‘ম্যাক্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার’ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ২০২৩ সালের আগস্টে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতায় সেতুর পূর্ব পাশে সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা সম্ভব হয়নি। ফলে এক বছর ধরে সেতুর দুই মুখ বেড়া দিয়ে বন্ধ করে রাখা হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সেতুর পূর্ব পাশে উত্তরগ্রাম ইউনিয়ন এবং পশ্চিমে চান্দাশ ইউনিয়ন। জেলা সদর থেকে প্রায় চার কিলোমিটার দক্ষিণে এই স্থানে একটি খেয়াঘাট রয়েছে। এই পথ দিয়ে মহাদেবপুর ছাড়াও মান্দা, পত্নীতলা ও পোরশা উপজেলার অন্তত চার থেকে পাঁচ হাজার মানুষ প্রতিদিন যাতায়াত করে। বর্ষায় নৌকা আর শুষ্ক মৌসুমে বাঁশের সাঁকোই তাদের পারাপারের একমাত্র ভরসা।

গোপীনাথপুর গ্রামের বাসিন্দা সালমান ফারসি বলেন, ‘বর্ষায় নদী পার হতে নৌকার জন্য ৩০ মিনিট পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়। নদী পার হয়ে ওপারে গিয়ে ছেলে-মেয়েদের পড়াশোনা করাও কষ্টকর। সেতুটি চালু হলে আমাদের দীর্ঘদিনের দুঃখ ঘুচত।’

সতীহাট এলাকার আক্কাস আলী বলেন, ‘ব্রীজ হয়েছে দেখে খুশি হয়েছিলাম, কিন্তু এক বছর ধরে এটি পড়ে আছে। আমাদের এখনো সেই পুরোনো সাঁকো দিয়েই চলাচল করতে হচ্ছে।’

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক আবদুল মজিদ জানান, সেতুর মূল অবকাঠামোর কাজ অনেক আগেই শেষ হয়েছে। কিন্তু পূর্ব পাশে ভূমি জটিলতায় সংযোগ সড়কের কাজ শুরু করা যাচ্ছে না। বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

এ বিষয়ে নওগাঁ জেলা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. বদরুদ্দোজা প্রথম আলোকে বলেন, ‘জমি অধিগ্রহণ নিয়ে কিছুটা জটিলতা থাকায় সংযোগ সড়কের কাজ থেমে আছে। এ কারণে সেতুটি চালু করা যাচ্ছে না। তবে আমরা দ্রুত এই সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছি। আশা করছি, শিগগিরই সেতুটি চলাচলের উপযোগী হবে।’

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

শনিবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৬


সেতু আছে সংযোগ সড়ক নেই, আত্রাই পারাপারে নৌকা-বাঁশের সাঁকোই ভরসা

প্রকাশের তারিখ : ০৪ এপ্রিল ২০২৬

featured Image


নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলায় আত্রাই নদের ওপর প্রায় সাড়ে ৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি সেতু নির্মাণ করা হয়েছে। এক বছর আগে সেতুর কাজ শেষ হলেও সংযোগ সড়ক না থাকায় সেটি চালু করা সম্ভব হয়নি।

ফলে সরকারের বিশাল অঙ্কের এই বিনিয়োগ স্থানীয় বাসিন্দাদের কোনো কাজে আসছে না। বাধ্য হয়ে এখনো ঝুঁকি নিয়ে বাঁশের সাঁকো বা নৌকায় নদ পার হতে হচ্ছে কয়েক হাজার মানুষকে।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা যায়, উপজেলার শিবগঞ্জ-গোপীনাথপুর বাজার এলাকায় আত্রাই নদের ওপর ২৫৯ মিটার দীর্ঘ এই সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০২১ সালের মার্চ মাসে। ৩০ কোটি ৫৯ লাখ ৫৮ হাজার টাকা ব্যয়ে সেতুর কাজ পায় ঢাকার ‘ম্যাক্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার’ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ২০২৩ সালের আগস্টে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতায় সেতুর পূর্ব পাশে সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা সম্ভব হয়নি। ফলে এক বছর ধরে সেতুর দুই মুখ বেড়া দিয়ে বন্ধ করে রাখা হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সেতুর পূর্ব পাশে উত্তরগ্রাম ইউনিয়ন এবং পশ্চিমে চান্দাশ ইউনিয়ন। জেলা সদর থেকে প্রায় চার কিলোমিটার দক্ষিণে এই স্থানে একটি খেয়াঘাট রয়েছে। এই পথ দিয়ে মহাদেবপুর ছাড়াও মান্দা, পত্নীতলা ও পোরশা উপজেলার অন্তত চার থেকে পাঁচ হাজার মানুষ প্রতিদিন যাতায়াত করে। বর্ষায় নৌকা আর শুষ্ক মৌসুমে বাঁশের সাঁকোই তাদের পারাপারের একমাত্র ভরসা।

গোপীনাথপুর গ্রামের বাসিন্দা সালমান ফারসি বলেন, ‘বর্ষায় নদী পার হতে নৌকার জন্য ৩০ মিনিট পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়। নদী পার হয়ে ওপারে গিয়ে ছেলে-মেয়েদের পড়াশোনা করাও কষ্টকর। সেতুটি চালু হলে আমাদের দীর্ঘদিনের দুঃখ ঘুচত।’

সতীহাট এলাকার আক্কাস আলী বলেন, ‘ব্রীজ হয়েছে দেখে খুশি হয়েছিলাম, কিন্তু এক বছর ধরে এটি পড়ে আছে। আমাদের এখনো সেই পুরোনো সাঁকো দিয়েই চলাচল করতে হচ্ছে।’

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক আবদুল মজিদ জানান, সেতুর মূল অবকাঠামোর কাজ অনেক আগেই শেষ হয়েছে। কিন্তু পূর্ব পাশে ভূমি জটিলতায় সংযোগ সড়কের কাজ শুরু করা যাচ্ছে না। বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

এ বিষয়ে নওগাঁ জেলা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. বদরুদ্দোজা প্রথম আলোকে বলেন, ‘জমি অধিগ্রহণ নিয়ে কিছুটা জটিলতা থাকায় সংযোগ সড়কের কাজ থেমে আছে। এ কারণে সেতুটি চালু করা যাচ্ছে না। তবে আমরা দ্রুত এই সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছি। আশা করছি, শিগগিরই সেতুটি চলাচলের উপযোগী হবে।’


সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত