রংপুর বিভাগীয় শহরসহ পুরো জেলায় জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। ফিলিং স্টেশনগুলোতে ভোর থেকে লাইন ধরে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও তেল মিলছে না। পেট্রলপাম্পগুলো কখন তেল পাওয়া যাবে, সে বিষয়েও নিশ্চিত করে কিছু জানাতে পারছে না।
ফলে গ্রাহকদের মাঝে চরম ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে। তেলের অভাবে সড়কে মোটরসাইকেলসহ হাজার হাজার যানবাহনের চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।
ফিলিং স্টেশন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ডিপোগুলোতে মাত্র দুই-তিন দিনের জ্বালানি মজুত আছে। এরপর সরবরাহ স্বাভাবিক হবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। বর্তমানে ডিপো থেকে রেশনিং পদ্ধতিতে জ্বালানি তেল সরবরাহ করায় কোনো পাম্পেই দুই-তিন ঘণ্টার বেশি তেল দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। গ্রাহকেরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও চাহিদামতো তেল পাচ্ছেন না। অনেক ক্ষেত্রে ২০০ টাকার বেশি তেল দেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
শনিবার (৪ এপ্রিল) সকাল থেকে রংপুর মহানগরীর অর্ধশতাধিক ফিলিং স্টেশনের মধ্যে মাত্র একটি বাদে কোথাও জ্বালানি তেল পাওয়া যায়নি। সরেজমিনে বিভিন্ন পাম্প ঘুরে দেখা যায়, অধিকাংশ স্থানেই ‘তেল নেই’ লেখা সংকেত ঝুলছে।
কর্মচারীরা জানিয়েছেন, পার্বতীপুরসহ বিভিন্ন ডিপোতে তেল আনতে ট্যাংক-লরি পাঠানো হয়েছে, কিন্তু সেগুলো কখন ফিরবে তা নিশ্চিত নয়।
মহানগরীর বাংলাদেশ ব্যাংক মোড় এলাকার একটি ফিলিং স্টেশনে দেখা গেছে দুই মাইল দীর্ঘ মোটরসাইকেলের লাইন। ওই পাম্পের ব্যবস্থাপক সোলায়মান আলী বলেন, ‘আমাদের দৈনিক চাহিদা চার হাজার লিটার, কিন্তু ডিপো থেকে দেওয়া হচ্ছে দুই হাজার লিটার। দুপুরের মধ্যেই তেল শেষ হয়ে যাওয়ায় শত শত মোটরসাইকেল ফিরে যাচ্ছে।’
সালেক পেট্রলপাম্পের ব্যবস্থাপক আশরাফ জানান, তাদের স্বাভাবিক চাহিদা পাঁচ হাজার লিটার হলেও সরবরাহ করা হচ্ছে মাত্র দুই হাজার লিটার। একই চিত্র শাপলা চত্বর এলাকার ইউনিক ট্রেডার্সেও। সেখানকার কর্মচারী রিপন বলেন, এক দিন পরপর পেট্রল ও অকটেন পাওয়া যাচ্ছে। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ অনেক কম হওয়ায় এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক পাম্পের ব্যবস্থাপক জানান, জ্বালানি তেলের সংকট থাকলেও সরকার ও ডিপো কর্তৃপক্ষ তা স্বীকার করতে চাইছে না। সংকট না থাকলে কেন রেশনিং পদ্ধতিতে তিন ভাগের এক ভাগ তেল সরবরাহ করা হচ্ছে—এমন প্রশ্নও তোলেন তাঁরা।
ফিলিং স্টেশন মালিক সমিতির যুগ্ম সম্পাদক আশফাক মাহতাব বলেন, ‘কখন কোন পাম্পে তেল দেওয়া হবে, সে বিষয়ে কোনো আগাম তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না। পুরো প্রক্রিয়ায় চরম সমন্বয়হীনতা চলছে।’
রংপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) রমিজ আলমদাবি করেছেন, জ্বালানি তেলের কোনো সংকট নেই এবং প্রশাসন সার্বিক বিষয়ে নজর রাখছে।
এদিকে তেলের পাম্পগুলোতে যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা এড়াতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
কর্তব্যরত উপপরিদর্শক (এসআই) মমতাজ উদ্দিন জানান, পাম্পগুলোতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় পুলিশ কাজ করছে।
আপনার মতামত লিখুন