সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

ইংরেজি শেখানোর উদ্দেশ্য, পড়ানোর ধরন ও মূল্যায়ন


মাছুম বিল্লাহ
মাছুম বিল্লাহ
প্রকাশ: ৪ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:১০ পিএম

ইংরেজি শেখানোর উদ্দেশ্য, পড়ানোর ধরন ও মূল্যায়ন

আমাদের দেশের ইংরেজি পরীক্ষায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রশ্নপত্র, পাবলিক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র, বিসিএসের এবং যে কোন নিয়োগ পরীক্ষার (সামান্য কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া) প্রশ্নপত্র দেখলে কি মনে হয়? প্রশ্নের সঙ্গে ইংরেজি পড়ার বা ইংরেজি বিষয়টিকে আবশ্যিক বিষয় হিসেবে পড়ানোর উদ্দেশের সঙ্গে মিল খুঁজে পাওয়া যায়না। ইংরেজি প্রশ্ন দেখলে মনে হয়, শিক্ষার্থী কিংবা বিসিএস পরীক্ষার্থী অথবা কোন নিয়োগ কর্তৃপক্ষ জানতে চান যে শিক্ষার্থী বা কোন প্রার্থী ইংরেজি ভাষার গঠন প্রণালী বা ব্যাকরণ নিয়ে গভীর গবেষণা করছেন কিনা। আমাদের দরকার ছিল তারা ইংরেজিতে তার নিজ সম্পর্কে, তার চারপাশ সম্পর্কে কিছু বলতে পারে কিনা এবং সেই বিষয়গুলোই ইংরেজিতে লিখতে পারছে কিনা, অন্যের ইংরেজি বল বুঝতে পারে কিনা এবং সেই অনুযায়ী উত্তর দিতে পারে কিনা। সেটি নিশ্চিত করার জন্য ক্লাস ও পরীক্ষা সেই ধরনের হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু আমরা দেখছি তারা সবাই এমন সব বিষয় প্রশ্নে তুলে দেন বা জিজ্ঞেস করেন যার দ্বারা বুঝা যায় যে, শিক্ষার্থী বা প্রার্থী ইংরেজি গ্রামাওে এমফিল করছে কিনা কিংবা পিএইচডি করছে কিনা। এখানে আমি পাবলিক পরীক্ষার কয়েকটি প্রশ্ন এবং ক্যাডেট কলেজে প্রশ্ন দেখলাম। দেখলেই যে কেউ বুঝতে পারবেন এখানে 

কি টেস্ট করতে চাওয়া হয়েছে?

এই অবস্থা শিক্ষার্থীদের ভাষা ব্যবহারকে, ব্যবহার করার অনুশীলনকে যে মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত করছে এবং যে উদ্দেশে এই বিষয়টি পড়ানো হচ্ছে সেই উদ্দেশের ধারে কাছেও নেই। প্রশ্নপত্র এমনভাবে করা হয় তাতে মনে হয়, একজন শিক্ষার্থী ইংরেজি ভাষার ব্যবহার ভালোভাবে আয়ত্ত্ব কওে ফেলেছে সেটি ইতোমধ্যে পরীক্ষিত এবং এখন ভাষায় তার কতটা গভীর দখল আছে সেটি পরীক্ষা করা হয়েছে। সে ভাষার ভেতরের কারণগুলো এবং সম্পর্কগুলো আরও একটু গভীরভাবে জানে কিনা সেগুলো পরীক্ষা করা হচ্ছে। এগুলো করতে গিয়ে শিক্ষার্থীর ভাষা ব্যবহারের দক্ষতা মোটেই বৃদ্ধি পাচ্ছে না। ভাষা নিয়ে যারা গবেষণা করেন তারা হয়তো এসব বিষয় কারণ ও সম্পর্ক বের করে লিপিবদ্ধ করে রাখেন যাতে আরও যারা এসব বিষয় গবেষণা করতে চান তারা রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন যা সাধারণ ইংরেজি শিক্ষক বিশেষ করে যাদের মাতৃভাষা ইংরেজি নয় তাদের জন্য নয় এবং তাদের ব্যক্তি ও সামাজিক জীবনে তেমন কোনো কাজেও আসেনা, আর লক্ষ কোটি শিক্ষার্থীদের এ নিয়ে কোনো কাজও নেই, এতে তাদের কোন উপকারও হয়না। আর এজন্যই রাষ্ট্রীয় খরচে যে বার বছর ধরে বাধ্যতামূলক বিষয় হিসেবে ইংরেজি পড়ানো হচ্ছে তাতে উদ্দেশ্য সফল হচ্ছেনা। যদিও কারিকুলামে লেখা আছে শিক্ষার্থীরা ইংরেজি বিষয়ে নিজেকে স্বতস্ফূর্তভাবে প্রকাশ করতে পারবে, ইংরেজি শুনে বুঝতে পারবে, ইংরেজি নিজে লিখতে পারবে এবং ইংরেজি বিষয় পড়ে বুঝতে পারবে এবং ভেতরকার মেসেজ গ্রহন করতে পারবে। জাতীয়ভাবে আমাদের শিক্ষার্থীদের যে ইংরেজি পড়ানোর উদ্দেশ্য এবং তারা কি অর্জন করবে তার সঙ্গে প্রচলিত মূল্যায়নব্যবস্থা কোনেওভাবেই যায়না। এসব প্রশ্নকেই আমাদের শিক্ষকরা, শিক্ষা সংশ্লিষ্ট অনেকেই (সবাই নয়) বলছেন এ তো চমৎকার প্রশ্ন। কেউ বলছেন, এ প্রশ্ন এত সহজ কেনো? এ গ্রামার তো যে কেউ পারব ইত্যাদি। প্রশ্ন এমনভাবে করতে হবে যাতে শিক্ষার্থীদের আরও চিন্তা করতে হয়, শিক্ষকদের ভীষণভাবে বেগ পেতে হয়। যাতে তারা সহজে বুঝতে না পারে, এখানে দ্যাট কেনো আডজেকটিভ হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে ইত্যাদি। তার মানে উদ্দেশের সঙ্গে কোনো মিল নেই এবং ইংরেজি যারা পড়াচ্ছেন বা বিষয়টি যেভাবে ডিল করছেন তাদের কাছে ইংরেজি পড়ানোর উদ্দেশ্য পরিষ্কার নয়। আমদের বুঝতে হবে, ইংরেজি একটি বাধ্যতামূলক বিষয হিসেবে আমাদের দেশে পড়ানো হয় মূলত বাণিজ্যিক কারণে। কিন্তু প্রশ্নপত্র, পড়ানোর ধরন এবং সবার ভাব-ভঙ্গি দেখে মনে হচ্ছে বাঙালিরা বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বাদ দিয়ে যেন ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্যের ওপর সবার গবেষণা করতে বসেছেন এবং এর কঠিন থেকে কঠিনতর বিষয়গুলো আয়ত্ত্ব তাদের করতেই হবে তবেই না ইংরেজি শেখা হয়ে যাবে! আমাদের সব শিক্ষার্থীদের শেক্সপিয়ার আর ওয়ার্ডসওয়ার্থ ভালোভাবে জানতে হবে, বুঝতে হবে তাদের সাহিত্যের সব বিষয়গুলো গভীরভাবে আয়ত্ব করতে হবে এবং একইভাবে ইংরেজি ভাষার উৎপত্তি, ইতিহাস এর ক্রমবিকাশ, অর্থনীতির সঙ্গে এর সম্পর্ক, সমাজ পরিবর্তন, মানব ইতিহাসের অগ্রগতির সঙ্গে এর সম্পর্ক ইত্যাদি বিষয়গুলো যে সাধারণ সব শিক্ষার্থীদের জানতে হবে তা নয়। আমাদের শিক্ষার্থীদের বাধ্যতামূলক বিষয় হিসেবে ইংরেজি জানতে হবে যাতে তারা বিদেশে চাকরি কিংবা উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করতে গিয়ে বিপদে না পড়েন। সুন্দরভাবে তাদের কাজগুলো ভিন্নভাষী দেশে চালিয়ে আসতে পারেন। আমাদের দেশের বিশাল এক জনগোষ্ঠী মধ্যপ্রাচ্যে চাকরি করেন। তারা না জানেন ইংরেজি, না জানেন আরবী। মধ্যপ্রাচ্যে গিয়ে শুনে শুনে আরবী ভাষা তাদের মধ্যে অনেকেই আয়ত্ব করে ফেলেন এবং চমৎকার ভাবে আরবী ভাষায় কথা বলেন। তারা যদি ইংরেজি ভাষাটিও অনেকটা আয়ত্ব করে যেতে পারতেন তাহলে সেটি হয়তো সোনায় সোহাগা। কারণ তারা শুধুমাত্র শ্রমিক হিসেবে নয়, আরও বেশি বেতনের কাজ করতে পারতেন। আর তাদের কাজ করে অর্থ উপার্জন মানে শুধু তার নিজের উপার্জন নয়, দেশের উপার্জন। কিন্তু এই বিষয়টিকে আমরা বাস্তবে রূপ দিতে পারছিনা। কারণ শিক্ষাজীবনে তাদের শিখিয়েছি নউন কত প্রকার ও কি কি, কোনটি কোন ধরনের নাউন এবং কেনো ইত্যাদি যা মরুভূমির দেশে কিংবা শীতপ্রধান দেশ কোথাও তেমন কাজে লাগছে না। ফলে, তারা আবার অতিরিক্ত পয়সা ও সময় ব্যয় করে বিভিন্ন ধরনের কোচিংয়ে ভর্তি হন ইংরেজি শেখার জন্য। কিন্তু সেই কোচিংগুলোর অবস্থাও তো একই- তারা শেখাচ্ছেন কিছু অনুবাদ, স্বতস্ফূর্তভাবে ভাষা ব্যবহারের কোনো অনুশীলন নেই। দ্বিতীয় একটি কারণ হচ্ছে যারা উচ্চশিক্ষা কিংবা অন্যকোন কাজের জন্য বিদেশে যান তারা যাতে ভালোভাবে ইংরেজি ভাষাভাষী কিংবা অন্যভাষাভাষী দেশে সব কাজ মোটামুটি ভালোভাবে চালিয়ে যেতে পারেন। আমাদের ইংরেজি পড়ানো, ইংরেজির ক্লাস, ইংরেজির সিলেবাস ও মূল্যায়ন সে রকম হওয়া প্রয়োজন। কিন্তু তারা সবাই সারা জীবন ভারব কত প্রকার, কোন শব্দটি একটি বাক্যে কোন ধরনের নাউন এবং কেনো, এবং এগুলো আবার পড়েছেন সব বাংলায় ব্যাখ্যা অর্থাৎ ভাষা শেখার কোন পদ্ধতিতে নয়। জটিল বাক্য কাকে বলে, কেনো বলে, গঠনপ্রণালী কি কি ইত্যাদি। পাবলিক পরীক্ষার প্রশ্ন দেখলেই তো বুঝা যাচেছ প্রায় সবকিছুই এগুলোর মধ্যে সীমাবদ্ধ আর লিখিত একটি অংশ থাকে যা পুরোপুরি ট্রেডিশনাল। আর সেই সুযোগ কিছু শিক্ষক ও কোচিং সেন্টার একটি প্যারাগ্রাফ থেকে কিভাবে অন্য যে কোন প্যারাগ্রাফ লেখা যায় ইত্যাদি কসরত শেখায় শিক্ষার্থীদের। নিজের ভাষা উন্নত করার সঙ্গে এর কোনো মিল নেই। এখনে প্রশ্ন হলো তাদেরকে কি কেউ এসব কথা জিজ্ঞেস করবে কোন বিদেশি কোম্পানিতে কিংবা, বিদেশের মাটিতে কিংবা বিদেশের কোন অফিসে যে কোনটি অ্যাকটিভ ভয়েস, কোনটি নাউন ইন অ্যাপোজিশন ইত্যাদি? তারা বরং দেখবেন আমাদের শিক্ষার্থীরা বা গ্রাজুয়েটরা বিদেশিদের ইংরেজি বলা কতটা বুঝেন, সেইভাবে উত্তর দিতে পারেন কিনা, নিজেও বলে প্রকাশ করতে পারেন কিনা এবং নিজে লিখে প্রকাশ করতে পারেন কিনা।

[লেখক: সাবেক অধ্যাপক, ঘাটাইল ক্যান্টনমেন্ট কলেজ] 

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

শনিবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৬


ইংরেজি শেখানোর উদ্দেশ্য, পড়ানোর ধরন ও মূল্যায়ন

প্রকাশের তারিখ : ০৪ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

আমাদের দেশের ইংরেজি পরীক্ষায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রশ্নপত্র, পাবলিক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র, বিসিএসের এবং যে কোন নিয়োগ পরীক্ষার (সামান্য কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া) প্রশ্নপত্র দেখলে কি মনে হয়? প্রশ্নের সঙ্গে ইংরেজি পড়ার বা ইংরেজি বিষয়টিকে আবশ্যিক বিষয় হিসেবে পড়ানোর উদ্দেশের সঙ্গে মিল খুঁজে পাওয়া যায়না। ইংরেজি প্রশ্ন দেখলে মনে হয়, শিক্ষার্থী কিংবা বিসিএস পরীক্ষার্থী অথবা কোন নিয়োগ কর্তৃপক্ষ জানতে চান যে শিক্ষার্থী বা কোন প্রার্থী ইংরেজি ভাষার গঠন প্রণালী বা ব্যাকরণ নিয়ে গভীর গবেষণা করছেন কিনা। আমাদের দরকার ছিল তারা ইংরেজিতে তার নিজ সম্পর্কে, তার চারপাশ সম্পর্কে কিছু বলতে পারে কিনা এবং সেই বিষয়গুলোই ইংরেজিতে লিখতে পারছে কিনা, অন্যের ইংরেজি বল বুঝতে পারে কিনা এবং সেই অনুযায়ী উত্তর দিতে পারে কিনা। সেটি নিশ্চিত করার জন্য ক্লাস ও পরীক্ষা সেই ধরনের হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু আমরা দেখছি তারা সবাই এমন সব বিষয় প্রশ্নে তুলে দেন বা জিজ্ঞেস করেন যার দ্বারা বুঝা যায় যে, শিক্ষার্থী বা প্রার্থী ইংরেজি গ্রামাওে এমফিল করছে কিনা কিংবা পিএইচডি করছে কিনা। এখানে আমি পাবলিক পরীক্ষার কয়েকটি প্রশ্ন এবং ক্যাডেট কলেজে প্রশ্ন দেখলাম। দেখলেই যে কেউ বুঝতে পারবেন এখানে 

কি টেস্ট করতে চাওয়া হয়েছে?

এই অবস্থা শিক্ষার্থীদের ভাষা ব্যবহারকে, ব্যবহার করার অনুশীলনকে যে মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত করছে এবং যে উদ্দেশে এই বিষয়টি পড়ানো হচ্ছে সেই উদ্দেশের ধারে কাছেও নেই। প্রশ্নপত্র এমনভাবে করা হয় তাতে মনে হয়, একজন শিক্ষার্থী ইংরেজি ভাষার ব্যবহার ভালোভাবে আয়ত্ত্ব কওে ফেলেছে সেটি ইতোমধ্যে পরীক্ষিত এবং এখন ভাষায় তার কতটা গভীর দখল আছে সেটি পরীক্ষা করা হয়েছে। সে ভাষার ভেতরের কারণগুলো এবং সম্পর্কগুলো আরও একটু গভীরভাবে জানে কিনা সেগুলো পরীক্ষা করা হচ্ছে। এগুলো করতে গিয়ে শিক্ষার্থীর ভাষা ব্যবহারের দক্ষতা মোটেই বৃদ্ধি পাচ্ছে না। ভাষা নিয়ে যারা গবেষণা করেন তারা হয়তো এসব বিষয় কারণ ও সম্পর্ক বের করে লিপিবদ্ধ করে রাখেন যাতে আরও যারা এসব বিষয় গবেষণা করতে চান তারা রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন যা সাধারণ ইংরেজি শিক্ষক বিশেষ করে যাদের মাতৃভাষা ইংরেজি নয় তাদের জন্য নয় এবং তাদের ব্যক্তি ও সামাজিক জীবনে তেমন কোনো কাজেও আসেনা, আর লক্ষ কোটি শিক্ষার্থীদের এ নিয়ে কোনো কাজও নেই, এতে তাদের কোন উপকারও হয়না। আর এজন্যই রাষ্ট্রীয় খরচে যে বার বছর ধরে বাধ্যতামূলক বিষয় হিসেবে ইংরেজি পড়ানো হচ্ছে তাতে উদ্দেশ্য সফল হচ্ছেনা। যদিও কারিকুলামে লেখা আছে শিক্ষার্থীরা ইংরেজি বিষয়ে নিজেকে স্বতস্ফূর্তভাবে প্রকাশ করতে পারবে, ইংরেজি শুনে বুঝতে পারবে, ইংরেজি নিজে লিখতে পারবে এবং ইংরেজি বিষয় পড়ে বুঝতে পারবে এবং ভেতরকার মেসেজ গ্রহন করতে পারবে। জাতীয়ভাবে আমাদের শিক্ষার্থীদের যে ইংরেজি পড়ানোর উদ্দেশ্য এবং তারা কি অর্জন করবে তার সঙ্গে প্রচলিত মূল্যায়নব্যবস্থা কোনেওভাবেই যায়না। এসব প্রশ্নকেই আমাদের শিক্ষকরা, শিক্ষা সংশ্লিষ্ট অনেকেই (সবাই নয়) বলছেন এ তো চমৎকার প্রশ্ন। কেউ বলছেন, এ প্রশ্ন এত সহজ কেনো? এ গ্রামার তো যে কেউ পারব ইত্যাদি। প্রশ্ন এমনভাবে করতে হবে যাতে শিক্ষার্থীদের আরও চিন্তা করতে হয়, শিক্ষকদের ভীষণভাবে বেগ পেতে হয়। যাতে তারা সহজে বুঝতে না পারে, এখানে দ্যাট কেনো আডজেকটিভ হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে ইত্যাদি। তার মানে উদ্দেশের সঙ্গে কোনো মিল নেই এবং ইংরেজি যারা পড়াচ্ছেন বা বিষয়টি যেভাবে ডিল করছেন তাদের কাছে ইংরেজি পড়ানোর উদ্দেশ্য পরিষ্কার নয়। আমদের বুঝতে হবে, ইংরেজি একটি বাধ্যতামূলক বিষয হিসেবে আমাদের দেশে পড়ানো হয় মূলত বাণিজ্যিক কারণে। কিন্তু প্রশ্নপত্র, পড়ানোর ধরন এবং সবার ভাব-ভঙ্গি দেখে মনে হচ্ছে বাঙালিরা বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বাদ দিয়ে যেন ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্যের ওপর সবার গবেষণা করতে বসেছেন এবং এর কঠিন থেকে কঠিনতর বিষয়গুলো আয়ত্ত্ব তাদের করতেই হবে তবেই না ইংরেজি শেখা হয়ে যাবে! আমাদের সব শিক্ষার্থীদের শেক্সপিয়ার আর ওয়ার্ডসওয়ার্থ ভালোভাবে জানতে হবে, বুঝতে হবে তাদের সাহিত্যের সব বিষয়গুলো গভীরভাবে আয়ত্ব করতে হবে এবং একইভাবে ইংরেজি ভাষার উৎপত্তি, ইতিহাস এর ক্রমবিকাশ, অর্থনীতির সঙ্গে এর সম্পর্ক, সমাজ পরিবর্তন, মানব ইতিহাসের অগ্রগতির সঙ্গে এর সম্পর্ক ইত্যাদি বিষয়গুলো যে সাধারণ সব শিক্ষার্থীদের জানতে হবে তা নয়। আমাদের শিক্ষার্থীদের বাধ্যতামূলক বিষয় হিসেবে ইংরেজি জানতে হবে যাতে তারা বিদেশে চাকরি কিংবা উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করতে গিয়ে বিপদে না পড়েন। সুন্দরভাবে তাদের কাজগুলো ভিন্নভাষী দেশে চালিয়ে আসতে পারেন। আমাদের দেশের বিশাল এক জনগোষ্ঠী মধ্যপ্রাচ্যে চাকরি করেন। তারা না জানেন ইংরেজি, না জানেন আরবী। মধ্যপ্রাচ্যে গিয়ে শুনে শুনে আরবী ভাষা তাদের মধ্যে অনেকেই আয়ত্ব করে ফেলেন এবং চমৎকার ভাবে আরবী ভাষায় কথা বলেন। তারা যদি ইংরেজি ভাষাটিও অনেকটা আয়ত্ব করে যেতে পারতেন তাহলে সেটি হয়তো সোনায় সোহাগা। কারণ তারা শুধুমাত্র শ্রমিক হিসেবে নয়, আরও বেশি বেতনের কাজ করতে পারতেন। আর তাদের কাজ করে অর্থ উপার্জন মানে শুধু তার নিজের উপার্জন নয়, দেশের উপার্জন। কিন্তু এই বিষয়টিকে আমরা বাস্তবে রূপ দিতে পারছিনা। কারণ শিক্ষাজীবনে তাদের শিখিয়েছি নউন কত প্রকার ও কি কি, কোনটি কোন ধরনের নাউন এবং কেনো ইত্যাদি যা মরুভূমির দেশে কিংবা শীতপ্রধান দেশ কোথাও তেমন কাজে লাগছে না। ফলে, তারা আবার অতিরিক্ত পয়সা ও সময় ব্যয় করে বিভিন্ন ধরনের কোচিংয়ে ভর্তি হন ইংরেজি শেখার জন্য। কিন্তু সেই কোচিংগুলোর অবস্থাও তো একই- তারা শেখাচ্ছেন কিছু অনুবাদ, স্বতস্ফূর্তভাবে ভাষা ব্যবহারের কোনো অনুশীলন নেই। দ্বিতীয় একটি কারণ হচ্ছে যারা উচ্চশিক্ষা কিংবা অন্যকোন কাজের জন্য বিদেশে যান তারা যাতে ভালোভাবে ইংরেজি ভাষাভাষী কিংবা অন্যভাষাভাষী দেশে সব কাজ মোটামুটি ভালোভাবে চালিয়ে যেতে পারেন। আমাদের ইংরেজি পড়ানো, ইংরেজির ক্লাস, ইংরেজির সিলেবাস ও মূল্যায়ন সে রকম হওয়া প্রয়োজন। কিন্তু তারা সবাই সারা জীবন ভারব কত প্রকার, কোন শব্দটি একটি বাক্যে কোন ধরনের নাউন এবং কেনো, এবং এগুলো আবার পড়েছেন সব বাংলায় ব্যাখ্যা অর্থাৎ ভাষা শেখার কোন পদ্ধতিতে নয়। জটিল বাক্য কাকে বলে, কেনো বলে, গঠনপ্রণালী কি কি ইত্যাদি। পাবলিক পরীক্ষার প্রশ্ন দেখলেই তো বুঝা যাচেছ প্রায় সবকিছুই এগুলোর মধ্যে সীমাবদ্ধ আর লিখিত একটি অংশ থাকে যা পুরোপুরি ট্রেডিশনাল। আর সেই সুযোগ কিছু শিক্ষক ও কোচিং সেন্টার একটি প্যারাগ্রাফ থেকে কিভাবে অন্য যে কোন প্যারাগ্রাফ লেখা যায় ইত্যাদি কসরত শেখায় শিক্ষার্থীদের। নিজের ভাষা উন্নত করার সঙ্গে এর কোনো মিল নেই। এখনে প্রশ্ন হলো তাদেরকে কি কেউ এসব কথা জিজ্ঞেস করবে কোন বিদেশি কোম্পানিতে কিংবা, বিদেশের মাটিতে কিংবা বিদেশের কোন অফিসে যে কোনটি অ্যাকটিভ ভয়েস, কোনটি নাউন ইন অ্যাপোজিশন ইত্যাদি? তারা বরং দেখবেন আমাদের শিক্ষার্থীরা বা গ্রাজুয়েটরা বিদেশিদের ইংরেজি বলা কতটা বুঝেন, সেইভাবে উত্তর দিতে পারেন কিনা, নিজেও বলে প্রকাশ করতে পারেন কিনা এবং নিজে লিখে প্রকাশ করতে পারেন কিনা।

[লেখক: সাবেক অধ্যাপক, ঘাটাইল ক্যান্টনমেন্ট কলেজ] 


সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত