বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দাবি করেছেন, শেখ মুজিবুর রহমানের নির্দেশে মুক্তিযুদ্ধ সংঘটিত হয়নি।
তিনি বলেন, ‘শেখ মুজিবুর রহমানের নির্দেশে মুক্তিযুদ্ধ সংঘটিত হয়নি, সে সময় তিনি পাকিস্তানে বন্দি ছিলেন। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পরিকল্পনায় এবং সর্বাধিনায়ক এম এ জি ওসমানীর নেতৃত্বে যুদ্ধ পরিচালিত হয়েছিল।’
শনিবার (৪ এপ্রিল) সকালে হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার তেলিয়াপাড়া চা বাগানে ‘ঐতিহাসিক তেলিয়াপাড়া দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মির্জা ফখরুল এসব কথা বলেন। জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ইউনিট কমান্ড এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
মির্জা ফখরুল আরও বলেন, তেলিয়াপাড়া থেকেই মূলত রণকৌশল নির্ধারণের মাধ্যমে মহান মুক্তিযুদ্ধের সূচনা হয়েছিল। এখান থেকেই সেক্টর ভাগ করে দেশের বিভিন্ন স্থানে পাক-হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ পরিচালিত হয়।
এ সময় তিনি দাবি করেন, আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস তুলে না ধরে বরং বিকৃত ইতিহাস উপস্থাপন করেছে।
বক্তব্যে বিএনপি মহাসচিব বেগম খালেদা জিয়াকে বাংলাদেশের ‘প্রথম নারী মুক্তিযোদ্ধা’ হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়া বোরকা পরে তার দুই শিশু সন্তানকে নিয়ে ঢাকা চলে গিয়েছিলেন এবং মুক্তিযুদ্ধে অবদান রেখেছেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান, প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন, হবিগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও হুইপ আলহাজ্ব জি কে গউছ, হবিগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য এস এম ফয়সল, হবিগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ডা. আবু মনসুর সাখাওয়াত হোসেন জীবন, চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম, জেলা প্রশাসক ড. জি এম সরফরাজ এবং পুলিশ সুপার তারেক মাহমুদসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
হবিগঞ্জ জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ইউনিট কমান্ডের আহ্বায়ক গোলাম মোস্তফা রফিকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তারা তেলিয়াপাড়া দিবসের ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরেন। ১৯৭১ সালের ৪ এপ্রিল এই তেলিয়াপাড়া বাংলোতেই দেশের জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তারা একত্রিত হয়ে মুক্তি বাহিনী গঠন ও যুদ্ধের পরিকল্পনা করেছিলেন।
আপনার মতামত লিখুন