সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সে তারুণ্যের জয়গান

শুরু হলো ষষ্ঠ ইয়াং সায়েন্টিস্ট কংগ্রেস


প্রকাশ: ৪ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:১৪ পিএম

শুরু হলো ষষ্ঠ ইয়াং সায়েন্টিস্ট কংগ্রেস

আগামীর জ্ঞানভিত্তিক ও উদ্ভাবননির্ভর বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি কমপ্লেক্সে শুরু হয়েছে দুই দিনব্যাপী ‘ষষ্ঠ ইয়াং সায়েন্টিস্ট কংগ্রেস ২০২৬’।

শনিবার (৪ এপ্রিল) বাংলাদেশ একাডেমি অব সায়েন্সেস আয়োজিত এই আসরের এবারের মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘তরুণ বিজ্ঞানীদের জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা’ (Young Scientists for Artificial Intelligence)।
দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের তরুণ প্রাণদের মেধা ও উদ্ভাবনী শক্তিকে কাজে লাগিয়ে চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলাই এই কংগ্রেসের মূল লক্ষ্য। দুই দিনব্যাপী এই আয়োজনে তরুণ বিজ্ঞানীরা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে তাঁদের সর্বশেষ গবেষণা, বৈশ্বিক সম্ভাবনা এবং নতুন নতুন উদ্ভাবনী ধারণা তুলে ধরবেন।
​অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে উদ্বোধন করেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, তরুণ বিজ্ঞানীদের অংশগ্রহণে আয়োজিত এই কংগ্রেস দেশের বৈজ্ঞানিক অগ্রযাত্রাকে আরও ত্বরান্বিত করবে।
তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান বিশ্বে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি শুধু অর্থনৈতিক উন্নয়নের চালিকাশক্তি নয়, বরং এটি জাতীয় নিরাপত্তা, টেকসই উন্নয়ন ও মানবকল্যাণের অন্যতম প্রধান ভিত্তি।
মন্ত্রী আরও যোগ করেন, সরকার একটি জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গড়তে STEM শিক্ষার প্রসার, গবেষণাকে বাজারজাতকরণ এবং স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।
তরুণ বিজ্ঞানীদের আগামীর নেতা সম্বোধন করে তিনি বলেন, গবেষণা ও সৃজনশীলতার মাধ্যমে আপনাদেরই দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে হবে; বিদেশের উচ্চশিক্ষা শেষে অর্জিত জ্ঞান যেন দেশের মাটিতে কাজে লাগানো হয়, সেই আহ্বানও জানান তিনি।
​বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, সরকার দেশে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে একটি ‘জাতীয় এআই ইনস্টিটিউট’ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছে।
তিনি জানান, ডেটা নিরাপত্তা নিশ্চিত করে কৃষি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতে এআই এর কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিতে সমন্বিত নীতিমালা তৈরির কাজ চলছে। পাশাপাশি ন্যানোটেকনোলজি ও সেমিকন্ডাক্টর খাতের উন্নয়নেও সরকার কাজ করছে উল্লেখ করে তিনি ‘ইনোভেশন টু মার্কেট’ বা উদ্ভাবনকে সরাসরি বাজারের সঙ্গে সংযুক্ত করার গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানে আরেক বিশেষ অতিথি বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মামুন আহমেদ বলেন, আমরা আজ এমন এক যুগে বাস করছি যেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আমাদের জীবন ও কর্মক্ষেত্রকে পুরোপুরি বদলে দিচ্ছে। বাংলাদেশের মেধাবী তরুণ বিজ্ঞানীরাই এই পরিবর্তনের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
​বাংলাদেশ একাডেমি অব সায়েন্সেসের ভাইস প্রেসিডেন্ট প্রফেসর ড. জেড এন তাহমিদা বেগমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই উদ্বোধনী পর্বে স্বাগত বক্তব্য দেন কংগ্রেসের চেয়ারপারসন মেজর জেনারেল (অব.) প্রফেসর ড. এ এস এম মতিউর রহমান।
এছাড়া অনুষ্ঠানের সূচনা বক্তব্য প্রদান করেন একাডেমির সেক্রেটারি প্রফেসর ড. ইয়ারুল কবির। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা শিক্ষক, গবেষক এবং প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের উপস্থিতিতে মুখরিত এই কংগ্রেসে আগামী ৫ এপ্রিল পর্যন্ত বিভিন্ন কারিগরি সেশন, গবেষণা উপস্থাপনা ও প্রযুক্তি প্রদর্শনী চলবে। এই আয়োজন তরুণ বিজ্ঞানীদের মাঝে গবেষণার স্পৃহা জাগিয়ে তোলার পাশাপাশি ডিজিটাল বাংলাদেশের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে এক নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

শনিবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৬


শুরু হলো ষষ্ঠ ইয়াং সায়েন্টিস্ট কংগ্রেস

প্রকাশের তারিখ : ০৪ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

আগামীর জ্ঞানভিত্তিক ও উদ্ভাবননির্ভর বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি কমপ্লেক্সে শুরু হয়েছে দুই দিনব্যাপী ‘ষষ্ঠ ইয়াং সায়েন্টিস্ট কংগ্রেস ২০২৬’।

শনিবার (৪ এপ্রিল) বাংলাদেশ একাডেমি অব সায়েন্সেস আয়োজিত এই আসরের এবারের মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘তরুণ বিজ্ঞানীদের জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা’ (Young Scientists for Artificial Intelligence)।
দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের তরুণ প্রাণদের মেধা ও উদ্ভাবনী শক্তিকে কাজে লাগিয়ে চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলাই এই কংগ্রেসের মূল লক্ষ্য। দুই দিনব্যাপী এই আয়োজনে তরুণ বিজ্ঞানীরা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে তাঁদের সর্বশেষ গবেষণা, বৈশ্বিক সম্ভাবনা এবং নতুন নতুন উদ্ভাবনী ধারণা তুলে ধরবেন।
​অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে উদ্বোধন করেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, তরুণ বিজ্ঞানীদের অংশগ্রহণে আয়োজিত এই কংগ্রেস দেশের বৈজ্ঞানিক অগ্রযাত্রাকে আরও ত্বরান্বিত করবে।
তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান বিশ্বে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি শুধু অর্থনৈতিক উন্নয়নের চালিকাশক্তি নয়, বরং এটি জাতীয় নিরাপত্তা, টেকসই উন্নয়ন ও মানবকল্যাণের অন্যতম প্রধান ভিত্তি।
মন্ত্রী আরও যোগ করেন, সরকার একটি জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গড়তে STEM শিক্ষার প্রসার, গবেষণাকে বাজারজাতকরণ এবং স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।
তরুণ বিজ্ঞানীদের আগামীর নেতা সম্বোধন করে তিনি বলেন, গবেষণা ও সৃজনশীলতার মাধ্যমে আপনাদেরই দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে হবে; বিদেশের উচ্চশিক্ষা শেষে অর্জিত জ্ঞান যেন দেশের মাটিতে কাজে লাগানো হয়, সেই আহ্বানও জানান তিনি।
​বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, সরকার দেশে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে একটি ‘জাতীয় এআই ইনস্টিটিউট’ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছে।
তিনি জানান, ডেটা নিরাপত্তা নিশ্চিত করে কৃষি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতে এআই এর কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিতে সমন্বিত নীতিমালা তৈরির কাজ চলছে। পাশাপাশি ন্যানোটেকনোলজি ও সেমিকন্ডাক্টর খাতের উন্নয়নেও সরকার কাজ করছে উল্লেখ করে তিনি ‘ইনোভেশন টু মার্কেট’ বা উদ্ভাবনকে সরাসরি বাজারের সঙ্গে সংযুক্ত করার গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানে আরেক বিশেষ অতিথি বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মামুন আহমেদ বলেন, আমরা আজ এমন এক যুগে বাস করছি যেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আমাদের জীবন ও কর্মক্ষেত্রকে পুরোপুরি বদলে দিচ্ছে। বাংলাদেশের মেধাবী তরুণ বিজ্ঞানীরাই এই পরিবর্তনের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
​বাংলাদেশ একাডেমি অব সায়েন্সেসের ভাইস প্রেসিডেন্ট প্রফেসর ড. জেড এন তাহমিদা বেগমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই উদ্বোধনী পর্বে স্বাগত বক্তব্য দেন কংগ্রেসের চেয়ারপারসন মেজর জেনারেল (অব.) প্রফেসর ড. এ এস এম মতিউর রহমান।
এছাড়া অনুষ্ঠানের সূচনা বক্তব্য প্রদান করেন একাডেমির সেক্রেটারি প্রফেসর ড. ইয়ারুল কবির। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা শিক্ষক, গবেষক এবং প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের উপস্থিতিতে মুখরিত এই কংগ্রেসে আগামী ৫ এপ্রিল পর্যন্ত বিভিন্ন কারিগরি সেশন, গবেষণা উপস্থাপনা ও প্রযুক্তি প্রদর্শনী চলবে। এই আয়োজন তরুণ বিজ্ঞানীদের মাঝে গবেষণার স্পৃহা জাগিয়ে তোলার পাশাপাশি ডিজিটাল বাংলাদেশের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে এক নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত