সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক

নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস-বিদ্যুৎ চাইলেন ব্যবসায়ীরা


নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
প্রকাশ: ৪ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:৩৩ পিএম

নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস-বিদ্যুৎ চাইলেন ব্যবসায়ীরা
ব্যবসায়ীদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী

দেশে বিনিয়োগ ও ব্যবসা পরিচালনার বিদ্যমান বাধাগুলো কাটিয়ে উঠতে সরকার দুই বছরের একটি সুনির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করেছে। কর-ভ্যাট সংক্রান্ত জটিলতা, উচ্চ সুদহার, বন্দরে পণ্য খালাস এবং নিবন্ধন সমস্যার মতো বিষয়গুলো দ্রুত সমাধানের লক্ষ্যে এই সময়সীমা নির্ধারণ করেছে সরকার। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে দেশে প্রথমবারের মতো ‘বেসরকারিখাত পরামর্শক পর্ষদ’ (প্রাইভেট সেক্টর এডভাইজরি কাউন্সিল) গঠন করা হয়েছে। এই পর্ষদ আগামী দুই বছরের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করবে। 

শনিবার (৪ এপ্রিল) তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী ও দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ীরা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে নেওয়া সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নবগঠিত এই কাউন্সিল প্রতি তিন মাস অন্তর বৈঠক করে সার্বিক অগ্রগতি সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করবেন। আগামী দুই বছরের মধ্যে বিনিয়োগের সকল ‘বটলনেক’ বা বাধা দূর করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই প্ল্যাটফর্মটি নীতিনির্ধারক ও ব্যবসায়ী নেতাদের মধ্যে একটি কাঠামোগত সংলাপের পরিবেশ তৈরি করবে বলে মনে করা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্র জানিয়েছে, পর্ষদের সদস্যদের মধ্যে সরকারপক্ষে রয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু এবং বিনিয়োগ বোর্ডের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী। ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের মধ্যে রয়েছেন, ডিবিএল গ্রুপ, অ্যাপেক্স ফুটওয়্যার, প্রাণ-আরএফএল, প্যাসিফিক জিন্স, বে গ্রুপ, ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালস, রানার গ্রুপ, রাংগস গ্রুপ এবং এসিআই-এর শীর্ষ নির্বাহীরা।

বৈঠকে ব্যবসায়ী নেতারা দেশের শিল্প খাতের বিদ্যমান চ্যালেঞ্জগুলো সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন। তাদের প্রধান দাবি ও আলোচনার বিষয়গুলোর মধ্যে অন্যতম ছিলো জ্বালানি নিরাপত্তা। ব্যবসায়ী নেতারা শিল্পোৎপাদন সচল রাখতে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহের নিশ্চয়তা চেয়েছেন। পাশাপাশি সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারে সরকারি সহায়তার আহ্বান জানিয়েছেন। আর্থিক ও কর সংস্কারের দাবিও জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। তারা ব্যাংক ঋণের উচ্চ সুদহার কমানো এবং এনবিআরের ভ্যাট ও কাস্টমস সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনের ওপর জোর দিয়েছেন। নির্দিষ্ট ব্যবসায়ীদের ওপর চাপ না বাড়িয়ে করের আওতা বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

গভীর সমুদ্রবন্দর ও বিমানবন্দরের কার্যক্রম গতিশীল করা এবং ইকোনমিক জোনের জমি ও ইউটিলিটি সমস্যা সমাধানের দাবিও জোর দিয়ে জানানো হয়েছে ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে। বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য ই-ভিসা চালু এবং বিমানবন্দরে হয়রানি বন্ধের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। 

প্রধানমন্ত্রী ব্যবসায়ীদের সমস্যাগুলো অত্যন্ত ধৈর্য সহকারে শোনেন এবং কিছু বিষয়ের নোট নেন। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ফটকে সাংবাদিকদের সামনে বিস্তারিত তুলে ধরেন। 

তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী অনেক সমস্যার সমাধান ‘অন দ্য স্পট’ বা তাৎক্ষণিকভাবে দিয়েছেন। বাকি সমস্যাগুলো পর্যায়ক্রমে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা হবে। বৈঠকে বন্ধ হয়ে যাওয়া সরকারি ও বেসরকারি কল-কারখানাগুলো পুনরায় চালু করার বিষয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। পুরোনো প্রকল্পগুলো পুনরুজ্জীবিত করে কর্মসংস্থান ও উৎপাদনের গতি বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এছাড়া জ্বালানি সহায়তার বিষয়ে আন্তর্জাতিক মাল্টিলেটারাল সংস্থাগুলো (অনেক দেশ মিলে গঠিত সংস্থা) থেকে সহযোগিতা পাওয়া যাচ্ছে বলেও অর্থমন্ত্রী উল্লেখ করেন। 

বিনিয়োগ নিয়ে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতেই আজ ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বসা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে প্রধানমন্ত্রী শুনেছেন, বিনিয়োগে বাধা কোথায়, ব্যবসায়ীরা বিনিয়োগে কোথায় বাধা পাচ্ছেন, এগুলোর সমাধান উনি (প্রধানমন্ত্রী) করতে চান, শিগগিরই করতে চান।’ 

বৈঠকে অংশ নেওয়া ডিবিএল গ্রুপের চেয়ারম্যান এম এ জব্বার বলেছেন, বৈঠকে রপ্তানি বৃদ্ধি এবং নিজেদের দেশে কাঁচামালে স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়ার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বিশেষ করে ওষুধ শিল্পের এপিআই, অটোমোবাইল, সেমিকন্ডাক্টর, এগ্রো-প্রসেসিং এবং লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং খাতের সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জগুলো নিয়ে ব্যবসায়ীরা তাদের মতামত তুলে ধরেন।

এই বৈঠককে সরকার ও বেসরকারি খাতের মধ্যে একটি নতুন ও কার্যকর সংলাপের সূচনা হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা, যা দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও শিল্পায়নে বড় ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

শনিবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৬


নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস-বিদ্যুৎ চাইলেন ব্যবসায়ীরা

প্রকাশের তারিখ : ০৪ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

দেশে বিনিয়োগ ও ব্যবসা পরিচালনার বিদ্যমান বাধাগুলো কাটিয়ে উঠতে সরকার দুই বছরের একটি সুনির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করেছে। কর-ভ্যাট সংক্রান্ত জটিলতা, উচ্চ সুদহার, বন্দরে পণ্য খালাস এবং নিবন্ধন সমস্যার মতো বিষয়গুলো দ্রুত সমাধানের লক্ষ্যে এই সময়সীমা নির্ধারণ করেছে সরকার। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে দেশে প্রথমবারের মতো ‘বেসরকারিখাত পরামর্শক পর্ষদ’ (প্রাইভেট সেক্টর এডভাইজরি কাউন্সিল) গঠন করা হয়েছে। এই পর্ষদ আগামী দুই বছরের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করবে। 

শনিবার (৪ এপ্রিল) তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী ও দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ীরা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে নেওয়া সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নবগঠিত এই কাউন্সিল প্রতি তিন মাস অন্তর বৈঠক করে সার্বিক অগ্রগতি সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করবেন। আগামী দুই বছরের মধ্যে বিনিয়োগের সকল ‘বটলনেক’ বা বাধা দূর করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই প্ল্যাটফর্মটি নীতিনির্ধারক ও ব্যবসায়ী নেতাদের মধ্যে একটি কাঠামোগত সংলাপের পরিবেশ তৈরি করবে বলে মনে করা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্র জানিয়েছে, পর্ষদের সদস্যদের মধ্যে সরকারপক্ষে রয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু এবং বিনিয়োগ বোর্ডের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী। ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের মধ্যে রয়েছেন, ডিবিএল গ্রুপ, অ্যাপেক্স ফুটওয়্যার, প্রাণ-আরএফএল, প্যাসিফিক জিন্স, বে গ্রুপ, ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালস, রানার গ্রুপ, রাংগস গ্রুপ এবং এসিআই-এর শীর্ষ নির্বাহীরা।

বৈঠকে ব্যবসায়ী নেতারা দেশের শিল্প খাতের বিদ্যমান চ্যালেঞ্জগুলো সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন। তাদের প্রধান দাবি ও আলোচনার বিষয়গুলোর মধ্যে অন্যতম ছিলো জ্বালানি নিরাপত্তা। ব্যবসায়ী নেতারা শিল্পোৎপাদন সচল রাখতে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহের নিশ্চয়তা চেয়েছেন। পাশাপাশি সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারে সরকারি সহায়তার আহ্বান জানিয়েছেন। আর্থিক ও কর সংস্কারের দাবিও জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। তারা ব্যাংক ঋণের উচ্চ সুদহার কমানো এবং এনবিআরের ভ্যাট ও কাস্টমস সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনের ওপর জোর দিয়েছেন। নির্দিষ্ট ব্যবসায়ীদের ওপর চাপ না বাড়িয়ে করের আওতা বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

গভীর সমুদ্রবন্দর ও বিমানবন্দরের কার্যক্রম গতিশীল করা এবং ইকোনমিক জোনের জমি ও ইউটিলিটি সমস্যা সমাধানের দাবিও জোর দিয়ে জানানো হয়েছে ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে। বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য ই-ভিসা চালু এবং বিমানবন্দরে হয়রানি বন্ধের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। 

প্রধানমন্ত্রী ব্যবসায়ীদের সমস্যাগুলো অত্যন্ত ধৈর্য সহকারে শোনেন এবং কিছু বিষয়ের নোট নেন। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ফটকে সাংবাদিকদের সামনে বিস্তারিত তুলে ধরেন। 

তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী অনেক সমস্যার সমাধান ‘অন দ্য স্পট’ বা তাৎক্ষণিকভাবে দিয়েছেন। বাকি সমস্যাগুলো পর্যায়ক্রমে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা হবে। বৈঠকে বন্ধ হয়ে যাওয়া সরকারি ও বেসরকারি কল-কারখানাগুলো পুনরায় চালু করার বিষয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। পুরোনো প্রকল্পগুলো পুনরুজ্জীবিত করে কর্মসংস্থান ও উৎপাদনের গতি বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এছাড়া জ্বালানি সহায়তার বিষয়ে আন্তর্জাতিক মাল্টিলেটারাল সংস্থাগুলো (অনেক দেশ মিলে গঠিত সংস্থা) থেকে সহযোগিতা পাওয়া যাচ্ছে বলেও অর্থমন্ত্রী উল্লেখ করেন। 

বিনিয়োগ নিয়ে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতেই আজ ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বসা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে প্রধানমন্ত্রী শুনেছেন, বিনিয়োগে বাধা কোথায়, ব্যবসায়ীরা বিনিয়োগে কোথায় বাধা পাচ্ছেন, এগুলোর সমাধান উনি (প্রধানমন্ত্রী) করতে চান, শিগগিরই করতে চান।’ 

বৈঠকে অংশ নেওয়া ডিবিএল গ্রুপের চেয়ারম্যান এম এ জব্বার বলেছেন, বৈঠকে রপ্তানি বৃদ্ধি এবং নিজেদের দেশে কাঁচামালে স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়ার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বিশেষ করে ওষুধ শিল্পের এপিআই, অটোমোবাইল, সেমিকন্ডাক্টর, এগ্রো-প্রসেসিং এবং লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং খাতের সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জগুলো নিয়ে ব্যবসায়ীরা তাদের মতামত তুলে ধরেন।

এই বৈঠককে সরকার ও বেসরকারি খাতের মধ্যে একটি নতুন ও কার্যকর সংলাপের সূচনা হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা, যা দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও শিল্পায়নে বড় ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।


সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত