কুমিল্লার সেন্ট্রাল মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী অর্পিতা নওশিনের মৃত্যুর ঘটনায় গঠিত স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের তদন্ত কমিটি সরেজমিন অনুসন্ধান শুরু করেছে।
রোববার (৫ এপ্রিল) দিনভর কমিটির সদস্যরা মেডিকেল কলেজ ক্যাম্পাস, ছাত্রী হোস্টেল ও সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল পরিদর্শন করেন। তবে কার্যক্রম শেষে গণমাধ্যমের সঙ্গে কোনো কথা না বলেই তারা স্থান ত্যাগ করেছেন।
অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, আজ সকাল সাড়ে ১১টার দিকে তিন সদস্যের এই কমিটি কলেজে পৌঁছায়। তারা ঘটনাস্থল ঘুরে দেখার পাশাপাশি কলেজ প্রশাসন, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন। কমিটির আহ্বায়ক স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (চিকিৎসা শিক্ষা) অধ্যাপক ডা. রুবীনা ইয়াসমিন। অন্য সদস্যরা হলেন অধ্যাপক ডা. জোবায়দা সুলতানা ও সদস্যসচিব ডা. মুহাম্মদ আবদুল কাদের।
অনুসন্ধান চলাকালে নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন শিক্ষার্থী বলেন, একটি নির্দিষ্ট বিষয়ে বারবার অকৃতকার্য হওয়ায় অর্পিতা দীর্ঘদিন ধরে মানসিক চাপে ছিলেন। তারা কলেজের একাডেমিক মূল্যায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। এ ছাড়া তদন্তের নিরপেক্ষতা নিয়েও কিছু শিক্ষার্থী সংশয় প্রকাশ করেছেন।
অর্পিতার ভাই শাহরিয়ার আরমান বলেন, ‘আমার বোন কিছুটা চাপা স্বভাবের ছিল। সে মাঝেমধ্যে কলেজের অ্যানাটমি বিভাগের শিক্ষক ডা. মনিরা জহিরের আচরণ নিয়ে কথা বলত। প্রথম বর্ষ থেকেই সে মানসিক চাপে ছিল। আমরা এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার বা ইনসাফ চাই।’
অভিযোগের বিষয়ে জানতে অ্যানাটমি বিভাগের শিক্ষক ডা. মনিরা জহিরের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি। মুঠোফোনে একাধিকবার কল দিলেও তিনি সাড়া দেননি।
কুমিল্লার সদর দক্ষিণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল মোস্তফা জানান, এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে।
দিনভর অনুসন্ধান শেষে তদন্ত কমিটির সদস্যরা সাংবাদিকদের কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। পরে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের উপপরিচালক (শৃঙ্খলা) ও কমিটির সদস্যসচিব ডা. মুহাম্মদ আবদুল কাদের বলেন, শিক্ষার্থী ও শিক্ষকসহ সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
খুলনা শহরের দক্ষিণ টুটপাড়া এলাকার বাসিন্দা আনোয়ার হোসেনের মেয়ে অর্পিতা নওশিন সেন্ট্রাল মেডিকেল কলেজের ১৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন। এক ভাই ও এক বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন ছোট।
আপনার মতামত লিখুন