সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

বাগেরহাটে প্রভাবশালী ঘের মালিকদের দৌরাত্ম্য, ঝুঁকিতে ৮ হাজার একর বোরো ধান


প্রতিনিধি, বাগেরহাট
প্রতিনিধি, বাগেরহাট
প্রকাশ: ৫ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:৩৫ পিএম

বাগেরহাটে প্রভাবশালী ঘের মালিকদের দৌরাত্ম্য, ঝুঁকিতে ৮ হাজার একর বোরো ধান
বাগেরহাটে ৮ হাজার একর বোরো ধান রক্ষার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেন কৃষকেরা। ছবি : সংবাদ

বাগেরহাটে লোনা পানি নিয়ন্ত্রণ বাঁধের অবৈধ গেট দিয়ে পানি প্রবেশ করিয়ে শত শত কৃষকের উঠতি ফসলের ক্ষতি করার অভিযোগ উঠেছে প্রভাবশালী চিংড়ি ঘের মালিকদের বিরুদ্ধে। এই ঘটনার প্রতিকার এবং বোরো ধান রক্ষার দাবিতে শনিবার (৪ এপ্রিল) বাগেরহাট প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন ও সামনের সড়কে মানববন্ধন করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা।

বাগেরহাট সদর উপজেলার ডেমা ও কাড়াপাড়া ইউনিয়নবাসীর পক্ষ থেকে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে বলা হয়, প্রভাবশালী ঘের ব্যবসায়ীরা রাতের আঁধারে বাঁধের অবৈধ গেট দিয়ে নোনা পানি ঢোকানোর ফলে অন্তত ৮ হাজার একর জমির ধান নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। কৃষকদের অভিযোগ, মাছ চাষের জন্য জোরপূর্বক স্লুইসগেটগুলো খুলে দেওয়া হচ্ছে। এতে অনেক ধান ইতিমধ্যে নষ্ট হয়ে গেছে।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, নোনা পানি প্রবেশের বিষয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষকে আগে জানানো হলেও কোনো কার্যকর প্রতিকার পাওয়া যায়নি। উপায়ান্তর না দেখে রাজপথে নামতে বাধ্য হয়েছেন তারা।

কৃষকদের এই দাবির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাবেক কার্যনির্বাহী সদস্য বেলাল হোসেন অপু বলেন, ‘এখানকার অধিকাংশ মানুষ কৃষিনির্ভর। কিন্তু মুষ্টিমেয় প্রভাবশালী ব্যক্তি চিংড়ি চাষের জন্য লোকালয়ে নোনা পানি প্রবেশ করাচ্ছেন। এতে কৃষকেরা সর্বস্বান্ত হচ্ছেন। দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ জরুরি।’

কৃষক আরাফাত হোসেন জানান, প্রতি বিঘা জমিতে ধান চাষে তাদের ৮ থেকে ১২ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। এক মাসের মধ্যেই ধান পাকার কথা। এখন নোনা পানি ঢুকলে সব শেষ হয়ে যাবে।

কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বাগেরহাট জেলায় চলতি মৌসুমে ১ লাখ ৬৮ হাজার ১৭১ একর জমিতে বোরো চাষ হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে স্থানীয় কৃষক এস এম আরাফাত হোসেন সংবাদকর্মীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন মোল্লা আব্দুর রব, ফজলে রাব্বি, নাজমুস হাসান, গোলাম মওলা, রবিউল ইসলাম প্রমুখ।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

রোববার, ০৫ এপ্রিল ২০২৬


বাগেরহাটে প্রভাবশালী ঘের মালিকদের দৌরাত্ম্য, ঝুঁকিতে ৮ হাজার একর বোরো ধান

প্রকাশের তারিখ : ০৫ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

বাগেরহাটে লোনা পানি নিয়ন্ত্রণ বাঁধের অবৈধ গেট দিয়ে পানি প্রবেশ করিয়ে শত শত কৃষকের উঠতি ফসলের ক্ষতি করার অভিযোগ উঠেছে প্রভাবশালী চিংড়ি ঘের মালিকদের বিরুদ্ধে। এই ঘটনার প্রতিকার এবং বোরো ধান রক্ষার দাবিতে শনিবার (৪ এপ্রিল) বাগেরহাট প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন ও সামনের সড়কে মানববন্ধন করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা।

বাগেরহাট সদর উপজেলার ডেমা ও কাড়াপাড়া ইউনিয়নবাসীর পক্ষ থেকে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে বলা হয়, প্রভাবশালী ঘের ব্যবসায়ীরা রাতের আঁধারে বাঁধের অবৈধ গেট দিয়ে নোনা পানি ঢোকানোর ফলে অন্তত ৮ হাজার একর জমির ধান নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। কৃষকদের অভিযোগ, মাছ চাষের জন্য জোরপূর্বক স্লুইসগেটগুলো খুলে দেওয়া হচ্ছে। এতে অনেক ধান ইতিমধ্যে নষ্ট হয়ে গেছে।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, নোনা পানি প্রবেশের বিষয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষকে আগে জানানো হলেও কোনো কার্যকর প্রতিকার পাওয়া যায়নি। উপায়ান্তর না দেখে রাজপথে নামতে বাধ্য হয়েছেন তারা।

কৃষকদের এই দাবির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাবেক কার্যনির্বাহী সদস্য বেলাল হোসেন অপু বলেন, ‘এখানকার অধিকাংশ মানুষ কৃষিনির্ভর। কিন্তু মুষ্টিমেয় প্রভাবশালী ব্যক্তি চিংড়ি চাষের জন্য লোকালয়ে নোনা পানি প্রবেশ করাচ্ছেন। এতে কৃষকেরা সর্বস্বান্ত হচ্ছেন। দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ জরুরি।’

কৃষক আরাফাত হোসেন জানান, প্রতি বিঘা জমিতে ধান চাষে তাদের ৮ থেকে ১২ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। এক মাসের মধ্যেই ধান পাকার কথা। এখন নোনা পানি ঢুকলে সব শেষ হয়ে যাবে।

কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বাগেরহাট জেলায় চলতি মৌসুমে ১ লাখ ৬৮ হাজার ১৭১ একর জমিতে বোরো চাষ হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে স্থানীয় কৃষক এস এম আরাফাত হোসেন সংবাদকর্মীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন মোল্লা আব্দুর রব, ফজলে রাব্বি, নাজমুস হাসান, গোলাম মওলা, রবিউল ইসলাম প্রমুখ।


সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত