মালয়েশিয়ার
শ্রমবাজারকে মুষ্টিমেয় কিছু ব্যক্তির জিম্মিদশা
থেকে মুক্ত করে সকল বৈধ
রিক্রুটিং এজেন্সির জন্য উন্মুক্ত করার
জোরালো দাবি জানিয়েছেন সাধারণ
জনশক্তি রপ্তানিকারকরা। ২০১৬ সাল থেকে
শুরু হওয়া ‘সিন্ডিকেট’ প্রথা ২০২৬ সালেও নতুন
কৌশলে ফেরার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ
উঠেছে।
এবার
‘জিরো কস্ট’ বা শূন্য অভিবাসন
ব্যয়ের চটকদার স্লোগান দিয়ে ‘তুরাপ’ (TURAP) নামক নতুন সফটওয়্যার
এবং গ্লোবাল এমপ্লয়মেন্ট ফ্যাসিলিটেশন সেন্টারের মাধ্যমে বাজার কুক্ষিগত করার নীল নকশা
সাজানো হয়েছে বলে দাবি করেছেন
ব্যবসায়ীরা।
রবিবার
রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির
শফিকুল কবির হলে ‘সিন্ডিকেট
বিরোধী বায়রা সদস্যবৃন্দ’ এর ব্যানারে এক
সংবাদ সম্মেলনে এই আশঙ্কার কথা
জানানো হয়।
সম্মেলনে
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, বিগত
কয়েক বছরে মালয়েশিয়াগামী কর্মীদের
পকেট থেকে প্রায় ২৪
হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে
নেওয়া এই অসাধু চক্রটি
এখন বর্তমান সরকারের চোখে ধুলো দেওয়ার
চেষ্টা করছে।
সংবাদ
সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, ২০১৬
সাল থেকে মালয়েশিয়ান শ্রমবাজারটি
মূলত দাতো শ্রী মোহাম্মদ
আমিন নূর এবং বাংলাদেশের
মোহাম্মদ রুহুল আমিন স্বপন, এই
দুই ব্যক্তির ইশারায় নিয়ন্ত্রিত হয়ে আসছে। তারা
বেস্টিনেট, এফডব্লিউসিএমএস ও এসপিপিএ এর
মতো টুলস ব্যবহার করে
হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট
করেছে।
আন্তর্জাতিক
সংস্থা আইএলও এবং আইএমও এর
নানা সমালোচনা সত্ত্বেও বিগত সরকারের উচ্চপর্যায়ের
আশীর্বাদে এই চক্রটি অপ্রতিরোধ্য
ছিল।
ব্যবসায়ীরা
জানান, সরকারিভাবে অভিবাসন ব্যয় ১ লাখ
টাকার নিচে নির্ধারণ করা
থাকলেও সিন্ডিকেটের কারণে প্রত্যেক কর্মীকে ৪ থেকে ৬
লক্ষ টাকা পর্যন্ত গুনতে
হয়েছে এবং এই বিপুল
অর্থের একটি বড় অংশ
বিদেশে পাচার হয়ে গেছে।
সংবাদ
সম্মেলনে তথ্য দিয়ে বলা
হয়, ২০২৪ সালের ৩১
মে মালয়েশিয়ান বাজার বন্ধ হওয়ার পর
হাজার হাজার কর্মী আটকা পড়ে আছে।
এই সংকটকে পুঁজি করে সিন্ডিকেটটি এখন
‘তুরাপ’ নামক একটি নতুন
সফটওয়্যার সামনে এনেছে।
বক্তারা
অভিযোগ করেন, জিরো কস্টের আড়ালে
মাত্র ২৫টি এজেন্সিকে নিয়ে
নতুন সিন্ডিকেট গড়া হচ্ছে। শোনা
যাচ্ছে, এই সিন্ডিকেটের সদস্য
হতে একেকটি এজেন্সির কাছ থেকে ১৫
কোটি টাকা অগ্রিম নেওয়া
হচ্ছে।
একদিকে
সরকারকে ‘জিরো কস্ট’ দেখানো
হচ্ছে, অন্যদিকে পর্দার আড়ালে বিশাল অংকের লেনদেন চলছে।
ব্যবসায়ীদের
মতে, এই পদ্ধতিতে বাজার
উন্মুক্ত হলে কর্মী পাঠানোর খরচ
৬ থেকে ৭ লক্ষ
টাকায় গিয়ে ঠেকবে।
প্রতিবেদনে
জানানো হয়, গত ৯
মার্চ মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ মন্ত্রী বাংলাদেশের হাইকমিশনারকে ডেকে ‘তুরাপ’ সফটওয়্যার গ্রহণের অনুরোধ জানিয়েছেন। এমনকি বাংলাদেশের প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রীও আগামী ১৮ এপ্রিল সিস্টেমটি
পরিদর্শনের জন্য মালয়েশিয়া যাওয়ার
কথা রয়েছে।
ব্যবসায়ীদের
দাবি, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতিকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার
করে সরকারকে বোঝানো হচ্ছে যে, দাতো আমিন
ছাড়া বাজার খোলা সম্ভব নয়।
এছাড়া সিন্ডিকেটের ১০০ সদস্যের বিরুদ্ধে
থাকা মামলা প্রত্যাহারের শর্তও দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
সংবাদ
সম্মেলনে উপস্থিত ব্যবসায়ী নেতারা বলেন, বর্তমানে দেশে ফ্যাসিবাদের অবসান
ঘটে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আমরা বিশ্বাস করি,
সরকার শিয়ালের কাছে মুরগি বর্গা
দেওয়ার মতো কোনো আত্মঘাতী
সিদ্ধান্তে যাবে না। মালয়েশিয়ান
শ্রমবাজারকে কতিপয় লুটেরার হাত থেকে বাঁচানো
না গেলে রেমিট্যান্স প্রবাহ
বাধাগ্রস্ত হবে এবং দেশের
সাধারণ কর্মীরা ঋণের জালে আটকে
পড়বে।
তারা
আরও বলেন, আমরা কোনো নির্দিষ্ট
গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে নয়, বরং সকল
বৈধ এজেন্সির সমান অংশগ্রহণে বাজার
উন্মুক্ত দেখতে চাই। মালয়েশিয়ান কোনো
বেসরকারি সফটওয়্যার নয়, বরং বাংলাদেশ
সরকারের নিজস্ব ডাটাবেজ ও সফটওয়্যার ব্যবহার
করে কর্মী নির্বাচন নিশ্চিত করতে হবে। একইসঙ্গে
২০১৬ থেকে ২০২৪ সাল
পর্যন্ত যারা হাজার হাজার
কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে,
তাদের বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান
তারা।

রোববার, ০৫ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৫ এপ্রিল ২০২৬
মালয়েশিয়ার
শ্রমবাজারকে মুষ্টিমেয় কিছু ব্যক্তির জিম্মিদশা
থেকে মুক্ত করে সকল বৈধ
রিক্রুটিং এজেন্সির জন্য উন্মুক্ত করার
জোরালো দাবি জানিয়েছেন সাধারণ
জনশক্তি রপ্তানিকারকরা। ২০১৬ সাল থেকে
শুরু হওয়া ‘সিন্ডিকেট’ প্রথা ২০২৬ সালেও নতুন
কৌশলে ফেরার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ
উঠেছে।
এবার
‘জিরো কস্ট’ বা শূন্য অভিবাসন
ব্যয়ের চটকদার স্লোগান দিয়ে ‘তুরাপ’ (TURAP) নামক নতুন সফটওয়্যার
এবং গ্লোবাল এমপ্লয়মেন্ট ফ্যাসিলিটেশন সেন্টারের মাধ্যমে বাজার কুক্ষিগত করার নীল নকশা
সাজানো হয়েছে বলে দাবি করেছেন
ব্যবসায়ীরা।
রবিবার
রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির
শফিকুল কবির হলে ‘সিন্ডিকেট
বিরোধী বায়রা সদস্যবৃন্দ’ এর ব্যানারে এক
সংবাদ সম্মেলনে এই আশঙ্কার কথা
জানানো হয়।
সম্মেলনে
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, বিগত
কয়েক বছরে মালয়েশিয়াগামী কর্মীদের
পকেট থেকে প্রায় ২৪
হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে
নেওয়া এই অসাধু চক্রটি
এখন বর্তমান সরকারের চোখে ধুলো দেওয়ার
চেষ্টা করছে।
সংবাদ
সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, ২০১৬
সাল থেকে মালয়েশিয়ান শ্রমবাজারটি
মূলত দাতো শ্রী মোহাম্মদ
আমিন নূর এবং বাংলাদেশের
মোহাম্মদ রুহুল আমিন স্বপন, এই
দুই ব্যক্তির ইশারায় নিয়ন্ত্রিত হয়ে আসছে। তারা
বেস্টিনেট, এফডব্লিউসিএমএস ও এসপিপিএ এর
মতো টুলস ব্যবহার করে
হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট
করেছে।
আন্তর্জাতিক
সংস্থা আইএলও এবং আইএমও এর
নানা সমালোচনা সত্ত্বেও বিগত সরকারের উচ্চপর্যায়ের
আশীর্বাদে এই চক্রটি অপ্রতিরোধ্য
ছিল।
ব্যবসায়ীরা
জানান, সরকারিভাবে অভিবাসন ব্যয় ১ লাখ
টাকার নিচে নির্ধারণ করা
থাকলেও সিন্ডিকেটের কারণে প্রত্যেক কর্মীকে ৪ থেকে ৬
লক্ষ টাকা পর্যন্ত গুনতে
হয়েছে এবং এই বিপুল
অর্থের একটি বড় অংশ
বিদেশে পাচার হয়ে গেছে।
সংবাদ
সম্মেলনে তথ্য দিয়ে বলা
হয়, ২০২৪ সালের ৩১
মে মালয়েশিয়ান বাজার বন্ধ হওয়ার পর
হাজার হাজার কর্মী আটকা পড়ে আছে।
এই সংকটকে পুঁজি করে সিন্ডিকেটটি এখন
‘তুরাপ’ নামক একটি নতুন
সফটওয়্যার সামনে এনেছে।
বক্তারা
অভিযোগ করেন, জিরো কস্টের আড়ালে
মাত্র ২৫টি এজেন্সিকে নিয়ে
নতুন সিন্ডিকেট গড়া হচ্ছে। শোনা
যাচ্ছে, এই সিন্ডিকেটের সদস্য
হতে একেকটি এজেন্সির কাছ থেকে ১৫
কোটি টাকা অগ্রিম নেওয়া
হচ্ছে।
একদিকে
সরকারকে ‘জিরো কস্ট’ দেখানো
হচ্ছে, অন্যদিকে পর্দার আড়ালে বিশাল অংকের লেনদেন চলছে।
ব্যবসায়ীদের
মতে, এই পদ্ধতিতে বাজার
উন্মুক্ত হলে কর্মী পাঠানোর খরচ
৬ থেকে ৭ লক্ষ
টাকায় গিয়ে ঠেকবে।
প্রতিবেদনে
জানানো হয়, গত ৯
মার্চ মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ মন্ত্রী বাংলাদেশের হাইকমিশনারকে ডেকে ‘তুরাপ’ সফটওয়্যার গ্রহণের অনুরোধ জানিয়েছেন। এমনকি বাংলাদেশের প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রীও আগামী ১৮ এপ্রিল সিস্টেমটি
পরিদর্শনের জন্য মালয়েশিয়া যাওয়ার
কথা রয়েছে।
ব্যবসায়ীদের
দাবি, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতিকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার
করে সরকারকে বোঝানো হচ্ছে যে, দাতো আমিন
ছাড়া বাজার খোলা সম্ভব নয়।
এছাড়া সিন্ডিকেটের ১০০ সদস্যের বিরুদ্ধে
থাকা মামলা প্রত্যাহারের শর্তও দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
সংবাদ
সম্মেলনে উপস্থিত ব্যবসায়ী নেতারা বলেন, বর্তমানে দেশে ফ্যাসিবাদের অবসান
ঘটে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আমরা বিশ্বাস করি,
সরকার শিয়ালের কাছে মুরগি বর্গা
দেওয়ার মতো কোনো আত্মঘাতী
সিদ্ধান্তে যাবে না। মালয়েশিয়ান
শ্রমবাজারকে কতিপয় লুটেরার হাত থেকে বাঁচানো
না গেলে রেমিট্যান্স প্রবাহ
বাধাগ্রস্ত হবে এবং দেশের
সাধারণ কর্মীরা ঋণের জালে আটকে
পড়বে।
তারা
আরও বলেন, আমরা কোনো নির্দিষ্ট
গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে নয়, বরং সকল
বৈধ এজেন্সির সমান অংশগ্রহণে বাজার
উন্মুক্ত দেখতে চাই। মালয়েশিয়ান কোনো
বেসরকারি সফটওয়্যার নয়, বরং বাংলাদেশ
সরকারের নিজস্ব ডাটাবেজ ও সফটওয়্যার ব্যবহার
করে কর্মী নির্বাচন নিশ্চিত করতে হবে। একইসঙ্গে
২০১৬ থেকে ২০২৪ সাল
পর্যন্ত যারা হাজার হাজার
কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে,
তাদের বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান
তারা।

আপনার মতামত লিখুন