শিক্ষিত বেকার যুবকদের দীর্ঘদিনের দাবির মুখে অবশেষে সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩২ বছর করেছে সরকার। রোববার (৫ এপ্রিল) সংসদে ‘সরকারি চাকরি (সংশোধন) বিল-২০২৬’ পাসের মাধ্যমে এ সিদ্ধান্ত স্থায়ী আইনের রূপ পায়।
কিন্তু এই বয়সসীমা বাড়ানোর পেছনে রয়েছে শিক্ষিত বেকার যুবকদের প্রায় দেড় দশকের সংগ্রাম, আন্দোলন ও ত্যাগের ইতিহাস। সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা বাড়ানোর (মূলত ৩৫ বছর করার) দাবিতে প্রথম আন্দোলন শুরু হয় ২০১২ সালে। যা ধারাবাহিকভাবে গত প্রায় দেড় দশক ধরে চলছে। চাকরিপ্রার্থীরা বয়স বাড়ানোর দাবিতে রাজপথে আন্দোলন করেছেন, অনশন ও আল্টিমেটাম দিয়ে এসেছেন। অনেক সময় বাধার মুখে পড়েছেন। নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। তবে তারা আন্দোলন থেকে পিছু হটেননি।
বর্তমানে সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩০ বছর। এর আগে ১৯৯১ সালে বয়সসীমা ২৭ থেকে ৩০ বছর করা হয়েছিল। সে সময় বাংলাদেশের মানুষের গড় আয়ু ছিল ৫৯ বছর। যা এখন বেড়ে ৭২ বছরের বেশি হয়েছে। অথচ চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা অপরিবর্তিত ছিল।
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হলে বয়সসীমা বাড়ানোর দাবির আন্দোলন নতুন করে জোরালো হয়।চাকরির বয়সসীমা ইস্যুটি কোটা সংস্কার আন্দোলনের অঙ্গ হয়ে ওঠে।‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের’ ব্যানারে তারা রাস্তায় নামেন। ২০২৪ সালের ৭ সেপ্টেম্বর রাজধানীর শাহবাগ মোড় অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন চাকরিপ্রার্থীরা।
প্রতিবেশী দেশগুলোর বয়সসীমা
বাংলাদেশের চেয়ে প্রতিবেশী দেশগুলোর সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা অনেক বেশি। যেমন- ভারতে সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়স সীমা ৩২-৪২ বছর (পদ ও রাজ্য অনুযায়ী), নেপালে ৩৫ বছর (গেজেটেড পদ), শ্রীলঙ্কা য় ৪৫ বছর (২০২০ থেকে)। অথচ বাংলাদেশে তা আটকে ছিল ৩০ বছরে। রোববার জাতীয় সংসদে বিল পাসের মাধ্যমে যা ৩২ বছর করা হয়েছে।
ভারতে সাধারণত কেন্দ্রীয় প্রশাসনিক পদের জন্য সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৩২ বছর। সংরক্ষিত শ্রেণির জন্য আরও ছাড় দেওয়া হয়। নেপালে গেজেটেড পদের জন্য বয়সসীমা ৩৫ বছর। সবচেয়ে বড় উদাহরণ শ্রীলঙ্কা, যারা ২০২০ সালে বয়সসীমা ৩৫ থেকে বাড়িয়ে ৪৫ বছর করে। আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের মতো উন্নত দেশে সরকারি চাকরিতে প্রবেশের জন্য কোনো বয়সসীমা নেই।
চাকরিপ্রার্থীদের মতে, শুধু গড় আয়ু বৃদ্ধিই নয়- বিশ্ববিদ্যালয়ে সেশনজট, কোভিড-১৯ মহামারি ও রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে শিক্ষাজীবনে দীর্ঘসূত্রিতা বয়সসীমা বাড়ানোর জরুরি কারণ। ২০২৪ সালের অক্টোবরে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত কমিটি ৩৫ বছর বয়সসীমা সুপারিশ করলেও সরকার তা ৩২ বছর নির্ধারণ করলো।
চাকরিপ্রার্থীদের মূল দাবি ৩৫ বছর হলেও সরকার বয়সসীমা ৩২ বছর নির্ধারণ করেছে।পাশাপাশি বিসিএস পরীক্ষার সংখ্যাসীমা নির্ধারণ নিয়েও বিতর্ক আছে। অনেকে মনে করেন, বয়সসীমার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার সুযোগ সীমিত করা।
শিক্ষিত বেকার যুবকেরা এখনো মনে করছেন, প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশের বয়সসীমা এখনও অত্যন্ত নিম্নমুখী। ৩২ বছর নয়- তাদের দাবি ৩৫ বছরই হওয়া উচিত।

রোববার, ০৫ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৫ এপ্রিল ২০২৬
শিক্ষিত বেকার যুবকদের দীর্ঘদিনের দাবির মুখে অবশেষে সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩২ বছর করেছে সরকার। রোববার (৫ এপ্রিল) সংসদে ‘সরকারি চাকরি (সংশোধন) বিল-২০২৬’ পাসের মাধ্যমে এ সিদ্ধান্ত স্থায়ী আইনের রূপ পায়।
কিন্তু এই বয়সসীমা বাড়ানোর পেছনে রয়েছে শিক্ষিত বেকার যুবকদের প্রায় দেড় দশকের সংগ্রাম, আন্দোলন ও ত্যাগের ইতিহাস। সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা বাড়ানোর (মূলত ৩৫ বছর করার) দাবিতে প্রথম আন্দোলন শুরু হয় ২০১২ সালে। যা ধারাবাহিকভাবে গত প্রায় দেড় দশক ধরে চলছে। চাকরিপ্রার্থীরা বয়স বাড়ানোর দাবিতে রাজপথে আন্দোলন করেছেন, অনশন ও আল্টিমেটাম দিয়ে এসেছেন। অনেক সময় বাধার মুখে পড়েছেন। নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। তবে তারা আন্দোলন থেকে পিছু হটেননি।
বর্তমানে সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩০ বছর। এর আগে ১৯৯১ সালে বয়সসীমা ২৭ থেকে ৩০ বছর করা হয়েছিল। সে সময় বাংলাদেশের মানুষের গড় আয়ু ছিল ৫৯ বছর। যা এখন বেড়ে ৭২ বছরের বেশি হয়েছে। অথচ চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা অপরিবর্তিত ছিল।
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হলে বয়সসীমা বাড়ানোর দাবির আন্দোলন নতুন করে জোরালো হয়।চাকরির বয়সসীমা ইস্যুটি কোটা সংস্কার আন্দোলনের অঙ্গ হয়ে ওঠে।‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের’ ব্যানারে তারা রাস্তায় নামেন। ২০২৪ সালের ৭ সেপ্টেম্বর রাজধানীর শাহবাগ মোড় অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন চাকরিপ্রার্থীরা।
প্রতিবেশী দেশগুলোর বয়সসীমা
বাংলাদেশের চেয়ে প্রতিবেশী দেশগুলোর সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা অনেক বেশি। যেমন- ভারতে সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়স সীমা ৩২-৪২ বছর (পদ ও রাজ্য অনুযায়ী), নেপালে ৩৫ বছর (গেজেটেড পদ), শ্রীলঙ্কা য় ৪৫ বছর (২০২০ থেকে)। অথচ বাংলাদেশে তা আটকে ছিল ৩০ বছরে। রোববার জাতীয় সংসদে বিল পাসের মাধ্যমে যা ৩২ বছর করা হয়েছে।
ভারতে সাধারণত কেন্দ্রীয় প্রশাসনিক পদের জন্য সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৩২ বছর। সংরক্ষিত শ্রেণির জন্য আরও ছাড় দেওয়া হয়। নেপালে গেজেটেড পদের জন্য বয়সসীমা ৩৫ বছর। সবচেয়ে বড় উদাহরণ শ্রীলঙ্কা, যারা ২০২০ সালে বয়সসীমা ৩৫ থেকে বাড়িয়ে ৪৫ বছর করে। আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের মতো উন্নত দেশে সরকারি চাকরিতে প্রবেশের জন্য কোনো বয়সসীমা নেই।
চাকরিপ্রার্থীদের মতে, শুধু গড় আয়ু বৃদ্ধিই নয়- বিশ্ববিদ্যালয়ে সেশনজট, কোভিড-১৯ মহামারি ও রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে শিক্ষাজীবনে দীর্ঘসূত্রিতা বয়সসীমা বাড়ানোর জরুরি কারণ। ২০২৪ সালের অক্টোবরে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত কমিটি ৩৫ বছর বয়সসীমা সুপারিশ করলেও সরকার তা ৩২ বছর নির্ধারণ করলো।
চাকরিপ্রার্থীদের মূল দাবি ৩৫ বছর হলেও সরকার বয়সসীমা ৩২ বছর নির্ধারণ করেছে।পাশাপাশি বিসিএস পরীক্ষার সংখ্যাসীমা নির্ধারণ নিয়েও বিতর্ক আছে। অনেকে মনে করেন, বয়সসীমার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার সুযোগ সীমিত করা।
শিক্ষিত বেকার যুবকেরা এখনো মনে করছেন, প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশের বয়সসীমা এখনও অত্যন্ত নিম্নমুখী। ৩২ বছর নয়- তাদের দাবি ৩৫ বছরই হওয়া উচিত।

আপনার মতামত লিখুন