এক যুগেরও বেশি সময় আগে রাজধানীর শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে ‘হত্যাযজ্ঞ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের’ মামলায় গ্রেপ্তার একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির উপদেষ্টামণ্ডলীর সভাপতি শাহরিয়ার কবির কারাগারে ডিভিশন সুবিধা চেয়ে আবেদন করেছেন।
রবিবার আন্তর্জাতিক
অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন
দুই সদস্যের বেঞ্চে এ বিষয়ে দীর্ঘ শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানি শেষে আদালত বিষয়টি বিবেচনায়
নিয়েছেন বলে জানা গেছে।
আদালতে শাহরিয়ার
কবিরের পক্ষে শুনানি করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী পিএম মাহাদী হাসান। শুনানিতে তিনি
তার মক্কেলের সামাজিক মর্যাদা তুলে ধরে বলেন, ‘আমার মক্কেল প্রায় এক বছর সাত মাস ধরে
কারাগারে বন্দি রয়েছেন। তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কারপ্রাপ্ত একজন বিশিষ্ট লেখক ও মর্যাদাপূর্ণ
ব্যক্তি। দেশের কারাবিধি অনুযায়ী একজন বিশিষ্ট নাগরিক হিসেবে কারাগারে বিশেষ সুবিধা
বা ডিভিশন পাওয়ার পূর্ণ যোগ্যতা তার রয়েছে।’
তিনি আরও উল্লেখ
করেন, শারীরিক অবস্থা এবং সামাজিক অবস্থান বিবেচনায় তাকে এই সুবিধা প্রদান করা ন্যায়বিচারের
পরিপন্থী হবে না।
অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষের
প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম এই আবেদনের বিরোধিতা করে বলেন, ‘এই মামলায় দুই মাস আগে
শাহরিয়ার কবিরের বিরুদ্ধে প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট ইস্যু করা হয়েছে। তিনি যদি ডিভিশন পান,
তবে অন্য আসামিরা কেন পাবেন না সেই প্রশ্ন উঠবে। এ ছাড়া আসামিপক্ষের আইনজীবীদের উচিত
ছিলো আগে কারা কর্তৃপক্ষের কাছে এই দাবি জানানো। সেখানে প্রতিকার না পেলে তবেই আদালতে
আসা প্রয়োজন ছিল।’ প্রসিকিউশনের যুক্তি শোনার পর আদালত তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আদেশ দেননি।
আইনজীবী মাহাদী
হাসান সাংবাদিকদের বলেন, “কবি ও সাহিত্যিক শাহরিয়ার কবিরের ডিভিশন চেয়ে আমরা আবেদন
করেছি এবং ট্রাইব্যুনাল গুরুত্বের সঙ্গে আমাদের বক্তব্য শুনেছেন। কারাবিধি অনুযায়ী
তিনি এই সুবিধা পাওয়ার অধিকার রাখেন। আদালত বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েছেন এবং আমরা আশা করছি
পরবর্তীতে এ বিষয়ে ইতিবাচক আদেশ আসবে।”
এদিকে ট্রাইব্যুনাল
এই মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ৭ জুন পরবর্তী দিন ধার্য করেছেন। সকালে
শাহরিয়ার কবির ছাড়াও সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, সাবেক আইজিপি একেএম
শহিদুল হক, মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, সাবেক ডিআইজি মোল্যা নজরুল ইসলাম এবং
আব্দুল জলিল মণ্ডলসহ মোট ছয় আসামিকে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে ট্রাইব্যুনালে
হাজির করা হয়। আদালত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে শুনানি শেষে আসামিদের পুনরায়
কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

রোববার, ০৫ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৫ এপ্রিল ২০২৬
এক যুগেরও বেশি সময় আগে রাজধানীর শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে ‘হত্যাযজ্ঞ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের’ মামলায় গ্রেপ্তার একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির উপদেষ্টামণ্ডলীর সভাপতি শাহরিয়ার কবির কারাগারে ডিভিশন সুবিধা চেয়ে আবেদন করেছেন।
রবিবার আন্তর্জাতিক
অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন
দুই সদস্যের বেঞ্চে এ বিষয়ে দীর্ঘ শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানি শেষে আদালত বিষয়টি বিবেচনায়
নিয়েছেন বলে জানা গেছে।
আদালতে শাহরিয়ার
কবিরের পক্ষে শুনানি করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী পিএম মাহাদী হাসান। শুনানিতে তিনি
তার মক্কেলের সামাজিক মর্যাদা তুলে ধরে বলেন, ‘আমার মক্কেল প্রায় এক বছর সাত মাস ধরে
কারাগারে বন্দি রয়েছেন। তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কারপ্রাপ্ত একজন বিশিষ্ট লেখক ও মর্যাদাপূর্ণ
ব্যক্তি। দেশের কারাবিধি অনুযায়ী একজন বিশিষ্ট নাগরিক হিসেবে কারাগারে বিশেষ সুবিধা
বা ডিভিশন পাওয়ার পূর্ণ যোগ্যতা তার রয়েছে।’
তিনি আরও উল্লেখ
করেন, শারীরিক অবস্থা এবং সামাজিক অবস্থান বিবেচনায় তাকে এই সুবিধা প্রদান করা ন্যায়বিচারের
পরিপন্থী হবে না।
অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষের
প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম এই আবেদনের বিরোধিতা করে বলেন, ‘এই মামলায় দুই মাস আগে
শাহরিয়ার কবিরের বিরুদ্ধে প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট ইস্যু করা হয়েছে। তিনি যদি ডিভিশন পান,
তবে অন্য আসামিরা কেন পাবেন না সেই প্রশ্ন উঠবে। এ ছাড়া আসামিপক্ষের আইনজীবীদের উচিত
ছিলো আগে কারা কর্তৃপক্ষের কাছে এই দাবি জানানো। সেখানে প্রতিকার না পেলে তবেই আদালতে
আসা প্রয়োজন ছিল।’ প্রসিকিউশনের যুক্তি শোনার পর আদালত তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আদেশ দেননি।
আইনজীবী মাহাদী
হাসান সাংবাদিকদের বলেন, “কবি ও সাহিত্যিক শাহরিয়ার কবিরের ডিভিশন চেয়ে আমরা আবেদন
করেছি এবং ট্রাইব্যুনাল গুরুত্বের সঙ্গে আমাদের বক্তব্য শুনেছেন। কারাবিধি অনুযায়ী
তিনি এই সুবিধা পাওয়ার অধিকার রাখেন। আদালত বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েছেন এবং আমরা আশা করছি
পরবর্তীতে এ বিষয়ে ইতিবাচক আদেশ আসবে।”
এদিকে ট্রাইব্যুনাল
এই মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ৭ জুন পরবর্তী দিন ধার্য করেছেন। সকালে
শাহরিয়ার কবির ছাড়াও সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, সাবেক আইজিপি একেএম
শহিদুল হক, মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, সাবেক ডিআইজি মোল্যা নজরুল ইসলাম এবং
আব্দুল জলিল মণ্ডলসহ মোট ছয় আসামিকে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে ট্রাইব্যুনালে
হাজির করা হয়। আদালত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে শুনানি শেষে আসামিদের পুনরায়
কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

আপনার মতামত লিখুন