কুমিল্লা নগরীর জাঙ্গালিয়া কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকায় পাশাপাশি রাখা রয়েল সার্ভিস পরিবহনের তিনটি এসি বাস আগুনে পুড়ে গেছে। রোববার (৫ এপ্রিল) দুপুরে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া না গেলেও মালিকপক্ষের দাবি, আগুনে তাদের প্রায় ২ কোটি ১০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।
টার্মিনালের শ্রমিক ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রয়েল সার্ভিসের তিনটি বাস দীর্ঘদিন ধরে সেখানে পরিত্যক্ত অবস্থায় রাখা ছিল। আজ দুপুরে হঠাৎ বাসগুলোতে একসঙ্গে আগুন লাগে। ধোঁয়া দেখে স্থানীয়রা ফায়ার সার্ভিসে খবর দেন। প্রথমে কুমিল্লা ইপিজেড ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ও পরে নগরী থেকে আরও একটি ইউনিট এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
শ্রমিকদের দাবি, এসব পরিত্যক্ত বাসের ভেতরে মাদকাসক্তরা আড্ডা দেয়। তবে এটি মাদকাসক্তদের ফেলে দেওয়া আগুন নাকি পরিকল্পিত নাশকতা, তা নিয়ে রহস্য সৃষ্টি হয়েছে। হঠাৎ এমন অগ্নিকাণ্ডে টার্মিনাল এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
কুমিল্লা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সহকারী পরিচালক মো. ইদ্রিস বলেন, তিনটি বাসে একসঙ্গে আগুন লাগার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো জানা যায়নি। বাসগুলো সচল ছিল না এবং সেখানে কোনো মেরামতের কাজও চলছিল না। তদন্তের পর আগুনের প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
রয়েল কোচ সার্ভিসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম খান বলেন, গত ৫ আগস্টের পর কাউন্টার নিয়ে মালিকানা জটিলতায় বাসগুলো একজনের হেফাজতে ছিল। আগুনে বাস তিনটি পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। এ ঘটনায় সদর দক্ষিণ মডেল থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। তিনি দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
সদর দক্ষিণ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সিরাজুল মোস্তফা বলেন, ‘অগ্নিকাণ্ডের কারণ এখনো নিশ্চিত নয়। আমরা অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
আপনার মতামত লিখুন