সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

২০ মিনিট বন্ধ অধিবেশন

বারবার মাইক-বিভ্রাট, জাতির জন্য কলঙ্কজনক: স্পিকার


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ৫ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:৪১ পিএম

বারবার মাইক-বিভ্রাট, জাতির জন্য কলঙ্কজনক: স্পিকার

জাতীয় সংসদে আবারও মাইক–বিভ্রাট ঘটেছে। এ কারণে রোববার (৫ এপ্রিল) বিকেলে অধিবেশন ২০ মিনিট বন্ধ ঘোষণা করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। এ সময় তিনি বলেন, ‘এভাবে বারবার বিভ্রাটের ঘটনা জাতির জন্য কলঙ্কজনক।’

মাগরিবের নামাজের আগে চিফ হুইপ নূরুল ইসলামের বক্তব্যের সময় হঠাৎ মাইকে সমস্যা দেখা দেয়। সংসদে চারটি বিল পাসের পর চিফ হুইপ বক্তব্য দিতে দাঁড়ান। সরকারি চাকরিতে আবেদনের বয়সসীমা বাড়িয়ে ৩২ বছর নির্ধারণ করে অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা অধ্যাদেশ অনুমোদন বিলে বিরোধী দল ‘হ্যাঁ’ ভোট না দেওয়ায় তিনি সমালোচনা করেন।

এ সময় বিরোধী দল প্রতিবাদ করলেও চিফ হুইপ বক্তব্য চালিয়ে যান। তিনি বলেন, চাকরির জন্য জুলাই অভ্যুত্থান হয়েছে, কিন্তু বিরোধী দল বয়স বৃদ্ধির বিলে সমর্থন না করায় বিস্মিত হয়েছেন।

সরকারি দলের সদস্যরা চিফ হুইপের বক্তব্যকে সমর্থন জানান। দুই পক্ষের হট্টগোলে নূরুল ইসলামের বক্তব্য তখন শোনা যাচ্ছিল না। স্পিকার যখন চিফ হুইপকে বলেন, ‘বক্তব্য শোনা যাচ্ছে না, বসে পড়ুন’, তখন সদস্যরা সমস্বরে বলেন, তারা স্পিকারের কথাও শুনতে পাচ্ছেন না।

স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘তাহলে মুলতবি করে দেই।’ এ পর্যায়ে তিনি মাইক–বিভ্রাটের জন্য ২০ মিনিট ও মাগরিবের নামাজের জন্য ২০ মিনিট- মোট ৪০ মিনিটের জন্য সংসদ অধিবেশন মুলতবি করেন। প্রায় এক ঘণ্টা ১৮ মিনিট পর অধিবেশন শুরু হয়।

এর আগে গত ১২ মার্চ সংসদের প্রথম দিনেও মাইক–বিভ্রাট দেখা দেয়। সেদিন অধিবেশন বন্ধ ছিল প্রায় ৪০ মিনিট।

মাগরিবের নামাজের বিরতির পর অধিবেশন শুরুতেই মাইক–বিভ্রাটের কারণ সংসদকে জানান স্পিকার। তিনি বলেন, দুটি কারণে এই বিভ্রাট ঘটছে। প্রথমত, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় বিক্ষুব্ধ জনতা সংসদের আসবাবপত্র তছনছ করে। দ্বিতীয়ত, সংসদে যে মাইক সিস্টেম স্থাপন করা হয়েছে, তার যন্ত্রপাতির ওয়ারেন্টি বা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পাওয়া যাচ্ছে না।

স্পিকার বলেন, ‘বোঝা যাচ্ছে হেলাফেলার সঙ্গে এই বিশাল কাজটি সম্পন্ন করা হয়েছে। সংসদ কর্তৃপক্ষ সেই কোম্পানির সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। কিন্তু মেরামতে তাদের কোনো আগ্রহ নেই। তারা ক্রমাগত এড়িয়ে যাচ্ছে। স্থানীয় যে কোম্পানি কাজটির সঙ্গে জড়িত ছিল, তারা কখনো পলাতক, কখনো দায়সারাভাবে এড়িয়ে যাচ্ছে।’

তিনি সংসদ সচিবকে তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন। হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ এই হাউস, এই জাতীয় সংসদে এভাবে বারবার বিদ্যুৎ–বিভ্রাট ঘটা- এটা আমাদের জাতির জন্য, রাষ্ট্রের জন্য কলঙ্কজনক।’

প্রসঙ্গত, শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের দিন ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতা সংসদে ঢুকে পড়ে। সে সময় সংসদের বিভিন্ন কক্ষের আসবাবপত্র ও সাউন্ড সিস্টেম ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে মেরামত করা হলেও এখনো শব্দযন্ত্রে বিভ্রাট দেখা যাচ্ছে। এরই মধ্যে হেডফোন ও শব্দের মাত্রা নিয়ে একাধিক সংসদ সদস্য অভিযোগ করেছেন।

স্পিকার আরও বলেন, ‘সংসদ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, আবারও যদি বিদ্যুৎ–বিভ্রাট হয়, ১৫-২০ মিনিটের মধ্যে লুজ কানেকশন প্রতিস্থাপন করে কাজ শুরু করা যাবে। সুতরাং বিভ্রাট দেখা দিলে আবার বিরতি দিতে হতে পারে। অত্যন্ত অসন্তোষজনক একটি পরিস্থিতিতে আমরা সংসদের কার্যক্রম চালাচ্ছি।’ সূত্র: প্রথম আলো।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

সোমবার, ০৬ এপ্রিল ২০২৬


বারবার মাইক-বিভ্রাট, জাতির জন্য কলঙ্কজনক: স্পিকার

প্রকাশের তারিখ : ০৫ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

জাতীয় সংসদে আবারও মাইক–বিভ্রাট ঘটেছে। এ কারণে রোববার (৫ এপ্রিল) বিকেলে অধিবেশন ২০ মিনিট বন্ধ ঘোষণা করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। এ সময় তিনি বলেন, ‘এভাবে বারবার বিভ্রাটের ঘটনা জাতির জন্য কলঙ্কজনক।’

মাগরিবের নামাজের আগে চিফ হুইপ নূরুল ইসলামের বক্তব্যের সময় হঠাৎ মাইকে সমস্যা দেখা দেয়। সংসদে চারটি বিল পাসের পর চিফ হুইপ বক্তব্য দিতে দাঁড়ান। সরকারি চাকরিতে আবেদনের বয়সসীমা বাড়িয়ে ৩২ বছর নির্ধারণ করে অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা অধ্যাদেশ অনুমোদন বিলে বিরোধী দল ‘হ্যাঁ’ ভোট না দেওয়ায় তিনি সমালোচনা করেন।

এ সময় বিরোধী দল প্রতিবাদ করলেও চিফ হুইপ বক্তব্য চালিয়ে যান। তিনি বলেন, চাকরির জন্য জুলাই অভ্যুত্থান হয়েছে, কিন্তু বিরোধী দল বয়স বৃদ্ধির বিলে সমর্থন না করায় বিস্মিত হয়েছেন।

সরকারি দলের সদস্যরা চিফ হুইপের বক্তব্যকে সমর্থন জানান। দুই পক্ষের হট্টগোলে নূরুল ইসলামের বক্তব্য তখন শোনা যাচ্ছিল না। স্পিকার যখন চিফ হুইপকে বলেন, ‘বক্তব্য শোনা যাচ্ছে না, বসে পড়ুন’, তখন সদস্যরা সমস্বরে বলেন, তারা স্পিকারের কথাও শুনতে পাচ্ছেন না।

স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘তাহলে মুলতবি করে দেই।’ এ পর্যায়ে তিনি মাইক–বিভ্রাটের জন্য ২০ মিনিট ও মাগরিবের নামাজের জন্য ২০ মিনিট- মোট ৪০ মিনিটের জন্য সংসদ অধিবেশন মুলতবি করেন। প্রায় এক ঘণ্টা ১৮ মিনিট পর অধিবেশন শুরু হয়।

এর আগে গত ১২ মার্চ সংসদের প্রথম দিনেও মাইক–বিভ্রাট দেখা দেয়। সেদিন অধিবেশন বন্ধ ছিল প্রায় ৪০ মিনিট।

মাগরিবের নামাজের বিরতির পর অধিবেশন শুরুতেই মাইক–বিভ্রাটের কারণ সংসদকে জানান স্পিকার। তিনি বলেন, দুটি কারণে এই বিভ্রাট ঘটছে। প্রথমত, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় বিক্ষুব্ধ জনতা সংসদের আসবাবপত্র তছনছ করে। দ্বিতীয়ত, সংসদে যে মাইক সিস্টেম স্থাপন করা হয়েছে, তার যন্ত্রপাতির ওয়ারেন্টি বা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পাওয়া যাচ্ছে না।

স্পিকার বলেন, ‘বোঝা যাচ্ছে হেলাফেলার সঙ্গে এই বিশাল কাজটি সম্পন্ন করা হয়েছে। সংসদ কর্তৃপক্ষ সেই কোম্পানির সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। কিন্তু মেরামতে তাদের কোনো আগ্রহ নেই। তারা ক্রমাগত এড়িয়ে যাচ্ছে। স্থানীয় যে কোম্পানি কাজটির সঙ্গে জড়িত ছিল, তারা কখনো পলাতক, কখনো দায়সারাভাবে এড়িয়ে যাচ্ছে।’

তিনি সংসদ সচিবকে তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন। হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ এই হাউস, এই জাতীয় সংসদে এভাবে বারবার বিদ্যুৎ–বিভ্রাট ঘটা- এটা আমাদের জাতির জন্য, রাষ্ট্রের জন্য কলঙ্কজনক।’

প্রসঙ্গত, শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের দিন ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতা সংসদে ঢুকে পড়ে। সে সময় সংসদের বিভিন্ন কক্ষের আসবাবপত্র ও সাউন্ড সিস্টেম ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে মেরামত করা হলেও এখনো শব্দযন্ত্রে বিভ্রাট দেখা যাচ্ছে। এরই মধ্যে হেডফোন ও শব্দের মাত্রা নিয়ে একাধিক সংসদ সদস্য অভিযোগ করেছেন।

স্পিকার আরও বলেন, ‘সংসদ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, আবারও যদি বিদ্যুৎ–বিভ্রাট হয়, ১৫-২০ মিনিটের মধ্যে লুজ কানেকশন প্রতিস্থাপন করে কাজ শুরু করা যাবে। সুতরাং বিভ্রাট দেখা দিলে আবার বিরতি দিতে হতে পারে। অত্যন্ত অসন্তোষজনক একটি পরিস্থিতিতে আমরা সংসদের কার্যক্রম চালাচ্ছি।’ সূত্র: প্রথম আলো।


সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত