সারাদেশে আশঙ্কাজনক হারে ছড়িয়ে পড়ছে সংক্রামক ব্যাধি হাম। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন স্থানে হামে আক্রান্ত হয়ে এবং উপসর্গ নিয়ে আরও ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ল্যাব পরীক্ষায় হাম নিশ্চিত হওয়া রোগীর মৃত্যু হয়েছে ২ জনের।
গত ১৫ মার্চ থেকে
রোববার সকাল ৮টা পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন
মোট ১১৩ জন, আর ল্যাবে নিশ্চিত হওয়া রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৭ জনে। লাফিয়ে লাফিয়ে
বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যাও; বর্তমানে সন্দিগ্ধ রোগীর সংখ্যা সাড়ে সাত হাজার ছাড়িয়ে গেছে।
এমন পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত টিকাদান কর্মসূচির
উদ্বোধন করলেও গাজীপুরে তাকে রোগীর স্বজনদের তীব্র বিক্ষোভের মুখে পড়তে হয়েছে।
২৪ ঘণ্টার ভয়াবহ
চিত্র ও পরিসংখ্যান
মহাখালী স্বাস্থ্য
অধিদপ্তরের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে ৯৭৪ জন নতুন হাম রোগী
শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ৫৪ জনের শরীরে হামের ভাইরাসের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়া গেছে।
গত ১৫ মার্চ থেকে সকাল পর্যন্ত সারাদেশে মোট নিশ্চিত হওয়া হাম রোগীর সংখ্যা ৯২৯ জন।
একই সময়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৫৪৭০ জন রোগী।
বিভাগীয় পরিসংখ্যানে
দেখা গেছে, ঢাকা বিভাগে আক্রান্তের হার সবচেয়ে বেশি, যেখানে রোগীর সংখ্যা ৩৪৯২ জন।
এছাড়া চট্টগ্রামে ১৯৫ জন, রাজশাহীতে ১২৪ জন, খুলনায় ৮২ জন, সিলেটে ৪৬ জন, বরিশালে ৪৯
জন এবং রংপুরে ৩৭ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছেন। মৃত্যুর তথ্যে দেখা গেছে, খুলনা বিভাগ
ও কুষ্টিয়া জেলায় এ পর্যন্ত ৫ জন করে সন্দিগ্ধ হাম রোগীর মৃত্যু হয়েছে।
গাজীপুরে প্রতিমন্ত্রীর
গাড়ি আটকে বিক্ষোভ
হামের প্রকোপ মোকাবিলায়
দেশব্যাপী টিকাদান কর্মসূচির অংশ হিসেবে গাজীপুরের সদর উপজেলার ভাওয়াল মির্জাপুর ইউনিয়নে
কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত। তবে দুপুরে তিনি
যখন গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিদর্শনে যান, তখন হাসপাতালের
প্রবেশমুখে শতাধিক রোগীর স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দা ‘সচেতন গাজীপুরবাসী’ ব্যানারে তার
গাড়ি আটকে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। বিক্ষোভকারীরা হাসপাতালের অনিয়ম, চিকিৎসকদের অনুপস্থিতি,
অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ এবং প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদির অভাব নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। পরিস্থিতি
উত্তপ্ত হয়ে উঠলে প্রতিমন্ত্রী গাড়ি থেকে নেমে তাদের বক্তব্য শোনেন এবং যথাযথ তদন্তের
আশ্বাস দেন।
বিশেষজ্ঞের সতর্কবার্তা
ও পরামর্শ
বর্তমান সংকট নিয়ে
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. মুশতাক হোসেন অত্যন্ত সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি
বলেন, “হামের রোগীদের যাতে কোনো ধরনের জটিলতা না হয়, সেদিকে বিশেষ নজর দিতে হবে। যে
সব স্থানে আক্রান্তের হার বেশি বা ‘হটস্পট’ এলাকা, সেখানে দ্রুত আক্রান্তদের জন্য পৃথক
ওয়ার্ড করে চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে হবে। সুস্থ শিশুদের দ্রুত টিকার আওতায় আনতে হবে।”
গ্রাম-গঞ্জের রোগীদের
চিকিৎসা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আক্রান্তদের উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক
চিকিৎসা দিতে হবে। অপ্রয়োজনে সবাইকে রাজধানী বা বড় শহরে রেফার করলে হাসপাতালগুলো থেকেই
সংক্রমণ আরও ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি থাকে।”
প্রতিমন্ত্রী
ও চিকিৎসকদের বক্তব্য
বিক্ষোভের মুখে
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত বলেন, “উত্থাপিত অভিযোগগুলো অত্যন্ত গুরুত্বের
সঙ্গে নেওয়া হবে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত ব্যবস্থা
নেওয়া হবে। দেশের প্রতিটি শিশুকে টিকার আওতায় এনে নিরাপদ ভবিষ্যৎ গড়তে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ
এবং টিকার কোনো ঘাটতি নেই।”
অন্যদিকে, জেলা
ড্যাবের সভাপতি ডা. আলী আকবর পলান অভিযোগগুলো নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। শহীদ
তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক মো. আমিনুল ইসলাম জানান, জানুয়ারি
থেকে এ পর্যন্ত হামে আক্রান্ত ৮৯ জন শিশু সেখানে ভর্তি হয়েছে, যার মধ্যে ৪৯ জন সুস্থ
হয়ে বাড়ি ফিরেছে এবং বর্তমানে চিকিৎসাধীন আছে ৪৬ জন।
সংশ্লিষ্ট জেলা
সিভিল সার্জন কার্যালয় জানিয়েছে, গাজীপুরে ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী প্রায় ২৮ হাজার শিশুকে
টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে হাসপাতালগুলোর অব্যবস্থাপনা আর রোগ
ছড়িয়ে পড়ার আতঙ্কে অভিভাবক মহলে এখনো চরম উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। গ্রাম ও শহরের
হাসপাতালগুলোতে সকাল থেকেই উদ্বিগ্ন মা-বাবাদের ভিড় বাড়ছে, যা পরিস্থিতিকে আরও স্পর্শকাতর
করে তুলছে।

সোমবার, ০৬ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৫ এপ্রিল ২০২৬
সারাদেশে আশঙ্কাজনক হারে ছড়িয়ে পড়ছে সংক্রামক ব্যাধি হাম। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন স্থানে হামে আক্রান্ত হয়ে এবং উপসর্গ নিয়ে আরও ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ল্যাব পরীক্ষায় হাম নিশ্চিত হওয়া রোগীর মৃত্যু হয়েছে ২ জনের।
গত ১৫ মার্চ থেকে
রোববার সকাল ৮টা পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন
মোট ১১৩ জন, আর ল্যাবে নিশ্চিত হওয়া রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৭ জনে। লাফিয়ে লাফিয়ে
বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যাও; বর্তমানে সন্দিগ্ধ রোগীর সংখ্যা সাড়ে সাত হাজার ছাড়িয়ে গেছে।
এমন পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত টিকাদান কর্মসূচির
উদ্বোধন করলেও গাজীপুরে তাকে রোগীর স্বজনদের তীব্র বিক্ষোভের মুখে পড়তে হয়েছে।
২৪ ঘণ্টার ভয়াবহ
চিত্র ও পরিসংখ্যান
মহাখালী স্বাস্থ্য
অধিদপ্তরের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে ৯৭৪ জন নতুন হাম রোগী
শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ৫৪ জনের শরীরে হামের ভাইরাসের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়া গেছে।
গত ১৫ মার্চ থেকে সকাল পর্যন্ত সারাদেশে মোট নিশ্চিত হওয়া হাম রোগীর সংখ্যা ৯২৯ জন।
একই সময়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৫৪৭০ জন রোগী।
বিভাগীয় পরিসংখ্যানে
দেখা গেছে, ঢাকা বিভাগে আক্রান্তের হার সবচেয়ে বেশি, যেখানে রোগীর সংখ্যা ৩৪৯২ জন।
এছাড়া চট্টগ্রামে ১৯৫ জন, রাজশাহীতে ১২৪ জন, খুলনায় ৮২ জন, সিলেটে ৪৬ জন, বরিশালে ৪৯
জন এবং রংপুরে ৩৭ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছেন। মৃত্যুর তথ্যে দেখা গেছে, খুলনা বিভাগ
ও কুষ্টিয়া জেলায় এ পর্যন্ত ৫ জন করে সন্দিগ্ধ হাম রোগীর মৃত্যু হয়েছে।
গাজীপুরে প্রতিমন্ত্রীর
গাড়ি আটকে বিক্ষোভ
হামের প্রকোপ মোকাবিলায়
দেশব্যাপী টিকাদান কর্মসূচির অংশ হিসেবে গাজীপুরের সদর উপজেলার ভাওয়াল মির্জাপুর ইউনিয়নে
কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত। তবে দুপুরে তিনি
যখন গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিদর্শনে যান, তখন হাসপাতালের
প্রবেশমুখে শতাধিক রোগীর স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দা ‘সচেতন গাজীপুরবাসী’ ব্যানারে তার
গাড়ি আটকে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। বিক্ষোভকারীরা হাসপাতালের অনিয়ম, চিকিৎসকদের অনুপস্থিতি,
অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ এবং প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদির অভাব নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। পরিস্থিতি
উত্তপ্ত হয়ে উঠলে প্রতিমন্ত্রী গাড়ি থেকে নেমে তাদের বক্তব্য শোনেন এবং যথাযথ তদন্তের
আশ্বাস দেন।
বিশেষজ্ঞের সতর্কবার্তা
ও পরামর্শ
বর্তমান সংকট নিয়ে
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. মুশতাক হোসেন অত্যন্ত সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি
বলেন, “হামের রোগীদের যাতে কোনো ধরনের জটিলতা না হয়, সেদিকে বিশেষ নজর দিতে হবে। যে
সব স্থানে আক্রান্তের হার বেশি বা ‘হটস্পট’ এলাকা, সেখানে দ্রুত আক্রান্তদের জন্য পৃথক
ওয়ার্ড করে চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে হবে। সুস্থ শিশুদের দ্রুত টিকার আওতায় আনতে হবে।”
গ্রাম-গঞ্জের রোগীদের
চিকিৎসা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আক্রান্তদের উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক
চিকিৎসা দিতে হবে। অপ্রয়োজনে সবাইকে রাজধানী বা বড় শহরে রেফার করলে হাসপাতালগুলো থেকেই
সংক্রমণ আরও ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি থাকে।”
প্রতিমন্ত্রী
ও চিকিৎসকদের বক্তব্য
বিক্ষোভের মুখে
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত বলেন, “উত্থাপিত অভিযোগগুলো অত্যন্ত গুরুত্বের
সঙ্গে নেওয়া হবে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত ব্যবস্থা
নেওয়া হবে। দেশের প্রতিটি শিশুকে টিকার আওতায় এনে নিরাপদ ভবিষ্যৎ গড়তে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ
এবং টিকার কোনো ঘাটতি নেই।”
অন্যদিকে, জেলা
ড্যাবের সভাপতি ডা. আলী আকবর পলান অভিযোগগুলো নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। শহীদ
তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক মো. আমিনুল ইসলাম জানান, জানুয়ারি
থেকে এ পর্যন্ত হামে আক্রান্ত ৮৯ জন শিশু সেখানে ভর্তি হয়েছে, যার মধ্যে ৪৯ জন সুস্থ
হয়ে বাড়ি ফিরেছে এবং বর্তমানে চিকিৎসাধীন আছে ৪৬ জন।
সংশ্লিষ্ট জেলা
সিভিল সার্জন কার্যালয় জানিয়েছে, গাজীপুরে ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী প্রায় ২৮ হাজার শিশুকে
টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে হাসপাতালগুলোর অব্যবস্থাপনা আর রোগ
ছড়িয়ে পড়ার আতঙ্কে অভিভাবক মহলে এখনো চরম উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। গ্রাম ও শহরের
হাসপাতালগুলোতে সকাল থেকেই উদ্বিগ্ন মা-বাবাদের ভিড় বাড়ছে, যা পরিস্থিতিকে আরও স্পর্শকাতর
করে তুলছে।

আপনার মতামত লিখুন